করোনা নিয়ে খবরের মধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য খারাপ খবর। স্বল্প সঞ্চয়ে টাকা রেখে সুদ পেয়ে যাঁরা সংসার চালান, সেই গরিব, মধ্যবিত্তদের পেটে আবার লাথি মারল মোদী সরকার। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথম কোয়ার্টারে সুদের হার অনেকটাই কমিয়ে দিয়ে।
স্বল্প সঞ্চয়ে বিভিন্ন মেয়াদি ডিপোজিটে ১ থেকে ১.৪ শতাংশ সুদের হার কমানো হয়েছে। যেমন- ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদের টাইম ডিপোজিটে সুদের হার ৬.৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদের ক্ষেত্রে ৭.৭ শতাংশের পরিবর্তে সুদ মিলবে ৬.৭ শতাংশ।

৫ বছরের রেকারিং ডিপোজিটে সুদের হার ৭.২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.৮ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রবীণ নাগরিকদের সঞ্চয়েও কাঁচি চালিয়েছে মোদী সরকার। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সেটিংস স্কিমের সুদের হার ৮.৬ শতাংশ থেকে ৭.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মান্থলি ইনকাম অ্যাকাউন্টে সুদের হার ৭.৬ শতাংশ থেকে ৬.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সুদের হার ৭.৯ শতাংশের পরিবর্তে ৬.৮ শতাংশ করা হয়েছে। কিষাণ বিকাশ পত্র ম্যাচিওরের সময়সীমা ১১৩ মাস থেকে বেড়ে হয়েছে ১২৪ মাস। কেন না, কেভিপিতে সুদের হার ৭.৬ শতাংশ থেকে ৬.৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সুদের হার ৮.৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৭.৬ শতাংশ।
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদের হার ৭.৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের পর পিপিএফে এত কম সুদের হার কখনও হয়নি।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ করোনা পরিস্থিতিতে রাস্তায় নেমে এখন করা সম্ভব নয়। তবে নেটিজেনরা ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। এমন কটাক্ষ কেউ কেউ করেছেন, ব্যাঙ্কের পর স্বল্প সঞ্চয়েও সুদের হার যেভাবে কমানো হলো তাতে করোনা চলে গেলে আরও বেশি মানুষ মারা যাবেন!