আগামী ২৮ মে ইন্টারন্যাশনাল মেনস্টুয়াল হাইজিন ডে। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ বিধায়ক ডা. বিবেক গুপ্তার সাহায্যে ও সানমার্গ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় উক্ত দিবস পালন করবে ১৪৪টি ওয়ার্ড জুড়ে। উত্তর কলকাতার বিধায়ক তথা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীত ঘোষ জানান,— “এটি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিধায়ক বিবেক গুপ্তার নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই কলকাতায় এই কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার ১ নম্বর, ৩ নম্বর, ৪ নম্বর ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই বিষয়ে সচেতনতা মূলক শিবির করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক সীমানার মহিলারা এই শিবিরে অংশ নিয়েছেন।” ডঃ তপন মুখোপাধ্যায় মেনস্টুয়াল হাইজিন ডে-র গুরুত্ব উল্লেখ করে জানালেন,— “সারা বিশ্ব জুড়ে ওয়াস ইন্ডিয়া সংস্থা ২৮ মে মেনস্টুয়াল হাইজিন ডে হিসেবে পালন করে আসছে। ওয়াস ইন্ডিয়া মূলত জার্মানের একটি এনজিও। ওয়াস শব্দের প্রথম অক্ষর ডব্লিউ-র অর্থ ওয়াটার, যার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে সেফ ডিঙ্কিং ওয়াটার। এবং শেষের দুটি শব্দ এস ও এইচ-এর মাধ্যমে ‘স্যানিটেশন’ ও ‘হাইজিন’ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পুরো শব্দ টির অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘সেফ ড্রিংকিং ওয়াটার স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন।’
প্রসঙ্গত, সারা বছরের বিভিন্ন দিন আমরা বিভিন্ন রকমের অসুখের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে থাকি। যেমন ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালন করা হয়। ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এডস ডে, ৭ এপ্রিল ওয়াল্ড হেল্থ ডে ইত্যাদি। অর্থাৎ সারা বছরের বিভিন্ন দিন নির্দিষ্ট করা আছে বিভিন্ন অসুখের জন্য। কোভিড পরিপেক্ষিতে ১৫ অক্টোবর ‘ওয়াল্ড হ্যান্ড ওয়াসিং ডে’ বিশেষ তাৎপর্যবহ। কোভিডের আগেও এটা ছিল, কোভিডের পরেও এটি আছে। কিন্তু হাত পরিষ্কার রাখার প্রয়োজনীয়তাটি আমরা বেশি মাত্রায় উপলব্ধি করতে পেরেছি কোভিড পরবর্তী সময়। একই ভাবে ২৮ মে দিনটি মেনস্টুয়াল হাইজেনিক ডে হিসেবে পালিত হয়। ২০২২ সালে উক্ত দিনটির থিম ‘উই আর কমিটেড’। এর মাধ্যমে বোধানো হচ্ছে মহিলাদের ঋতুচক্রের সময় তাঁরা যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পারেন তার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। এই সংক্রান্ত বিষয়ে একটি তথ্য বলতেই হচ্ছে, ২০১৮ সালে একটি হিন্দি ছবি তৈরি হয়েছিল উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে, নাম ‘প্যাড ম্যান’। পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি বেস্ট ন্যাসনাল এ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল। মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কলকাতা পুরসভা প্রাথমিক পর্যায়ে ইনফেকশন থেকে আরম্ভ করে এই সংক্রান্ত বিষয়ে যে সমস্ত অসুখ হবার সম্ভাবনা থাকে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে বিশেষ সচেষ্ট। এর মাধ্যমে মহিলাদের কোয়ালিটি অফ লাইফ আরও উন্নত হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের বিশ্বাস। কী ভাবে পালন করা হবে উক্ত দিন? ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, আজকের দিনে স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য মহিলাদের মাসিক ঋতুচক্র বিষয়টি। প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে এর সচেতনতা খুব বেশি করে দরকার। ডা. বিবেক গুপ্তার সহযোগিতায় এই বছর প্রথম কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ২৮ তারিখে উক্ত দিবস আমরা পালন করতে চলেছি। আগামী দিনের জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি, বছরে অন্তত ১২টি দিন এই বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার সারা কলকাতা জুড়ে আমরা করব।’

সাংসদ শান্তনু সেন জানান, ‘অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা মেনস্টুয়াল হাইজিন নিয়ে সচেতন থাকেন না। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ এখন থেকে এই বিষয়ে মহিলাদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে আরো আধুনিকতা আনবে। এই কাজের জন্য কলকাতা পুরসভা সমগ্র দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।বিধায়ক তথা ডা. বিবেক গুপ্তা জানান, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা। তিনি সবসময় আমাদের উপদেশ দেন মহিলাদের জন্য অভিনব কিছু করতে। তাঁর কথা শীরধার্য করে গত বছর জোড়াসাঁকো অঞ্চলের বস্তি এলাকায় ঘুরে আমরা অনুভব করি মহিলাদের মধ্যে ‘পিরিয়ড’ সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা খুবই কম। তারা অনেকেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না। অনেকে হয়ত টাকা দিয়ে তা কিনতেও পারেন না। ওই সময় আমরা এক প্রকল্প গ্রহণ করি যার নাম “কথাটি প্রত্যেক মাসের”। আমরা পরে ভাবি এটা যদি সারা কলকাতায় করা যায় তাহলে আরো অনেক বেশি মহিলা উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেরণাতে এই কাজে আমরা সামিল হই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৬ হাজার স্যানিটারি ন্যাপকিন প্যাকেট কর্পোরেশনের মাধ্যমে আমরা বিনামূল্যে বন্টন করব। ভবিষ্যতে আমরা স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির মেশিনও ক্রয় করব প্রতি ওয়ার্ডের জন্য।
অতীন ঘোষের সুযোগ্য কন্যা সমাজসেবী প্রিয়দর্শিনী ঘোষ জানান, ‘মহিলাদের মাসিক সমস্যা নিয়ে আমাদের লক্ষ হলো তিনটি পর্যায়ে কাজ করার। প্রথম পর্যায়ে আমরা অস্বাস্থ্যকর কাপড় বর্জন করে এবং পুরনো অভ্যাস ভুলে বিনামূল্যে দেওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। দ্বিতীয়ত, আমরা কর্মশালার দ্বারা মহিলাদের এই বিষয়ে শিক্ষিত তথা সচেতন করে তুলছি। তৃতীয়ত, আমরা স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির মেশিন কিনে এলাকার মহিলাদের মাধ্যমে প্যাড তৈরি করে অল্প মূল্যে তা সকল শ্রেণীর মহিলার হাতে পৌঁছে দিতে চাইছি। আশা করছি আগামী দিনে আমরা সফল হতে পারব।’