রাষ্ট্রসংঘের মতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া মানুষের নিরাপত্তা ও সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা এবং তথ্যের প্রবাহের বিরুদ্ধে আঘাত। এটা গণতন্ত্রের বিরোধী। এর আগে পৃথিবীর বহু দেশের সরকার যখন তখন এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে। এবার রাষ্ট্রসংঘের একটা রিপোর্টে দেখালো একটি সরকার কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞার সাহায্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্যকে মানুষের নাগালের বাইরে করে দেয়। সরজমিন প্রতিবেদন কিংবা লাইভ ভিডিও দেখা এবং শেয়ার করা বা খবর দেখা এর ফলে ব্যহত হয় বলেই রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অভিমত।
এই নিষেধাজ্ঞার একটি নির্দিষ্ট চরিত্র রয়েছে। সাধারণত কোন নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা নির্বাচনের ফল প্রকাশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে হঠাৎই জারি হয়ে যায় নিষেধাজ্ঞা, বস্তুত সঙ্কুচিত হয় মানবাধিকার। এ ধরণের নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক অভিঘাতও কম নয়। রাষ্ট্রসংঘ প্রকাশিত রিপোর্টটির নাম – ইন্টারনেট শাটডাউনসঃ ট্রেন্ডস, কজেস, লিগ্যাল ইমপ্লিকেশন অ্যান্ড ইমপ্যাক্টস অন এ রেঞ্জ অফ হিউম্যান রাইটস।

এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে অশান্তি কম হয়নি। ২০১১-তে মিশরে প্রথম ইন্টারনেট শাটডাউনের দিনটি ছিল হত্যা এবং ধরপাকড়ের ঘটনায় রীতিমত রক্তাক্ত। ২০১৬ থেকে ২১ অবধি বিশ্বের ৭৪টি দেশে ৯৩১ বার ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে মূলত শাসকরা চাননি বলেই। ১২টি দেশে এই সময়কালে ১০ বারেরও বেশি বন্ধ হয়েছে ইন্টারনেট। তবে এশিয়া ও আফ্রিকাতেই এই ঘটনা সবথেকে বেশি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্টটি।
ভারতেই তো ইতিমধ্যে ১০৬বার ইন্টারনেট স্তব্ধ হয়েছে। ডিজিটাল রাইট অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, ‘অ্যাকসেস নাউ’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে কমপক্ষে ৮৫বার বন্ধ হয়েছে ইন্টারনেট। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলির হিসেবে ভারতে ইন্টারনেট বন্ধের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে। ভোটের সময়ও আমাদের দেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে বহুবার। হিংসা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণেও ভারত সহ বহু দেশে ইন্টারনেট স্তব্ধ হয়েছে।

বিশ্বব্যাঙ্কের মতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার চাপ পড়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর। ২০২১ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মায়ানমার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার জন্য ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার। এই পরিষেবা বন্ধের চাপ পড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, সংবাদ সরবরাহ সবকিছুর ওপর। আন্তর্জালেই তো এখন আবদ্ধ সমাজ। তবে জাতীয় স্বার্থ কিংবা বড় হিংসাত্মক ঘটনা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহত করতে হলে ইন্টারনেট বন্ধ করা ছাড়া অনেক সময় আর কোন উপায় থাকেনা। অসীম শক্তিশালী এই মাধ্যম, ভুল কাজে তা ব্যবহার করলে ক্ষতির পরিমাণও ব্যাপক। ইতিমধ্যেই আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি।