আরামবাগ লোকসভা ভোটের শেষ প্রচারে কামারপুকুরে তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ইসবার ইন্ডিয়া জোটকা সরকার। কংগ্রেস ও সিপিএমকে একটি ভোটও দেবেন না। আমরা একাই একশো। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায় বলেন, একের পর এক উন্নয়নের জোয়ার রাজ্য জুড়ে। বাদ যায়নি আরামবাগ। আমরা কামারপুকুরে উন্নয়ন করে দিয়েছি। দাসপুর থেকে মেচেদা হয়ে জয়রামবাটি-কামারপুকুর হয়ে বর্ধমান নতুনগ্রাম, মোড়গ্রাম হয়ে উত্তরবঙ্গে আপনাদের জন্য দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের বিকল্প একটা রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। ৮৯০ কোটি টাকার এই প্রকল্প এর মধ্যেই উদ্বোধন করে গেছি।
গোঘাট-১ নম্বর ব্লকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। গোঘাটে পিতলের বাসনের ক্লাসটার হয়েছে। আপনারা জানেন, আরামবাগে বন্যা সমস্যা আছে। এজন্য ২৭০০ কোটি টাকার একটা পরিকল্পনা করেছি। ৪০ লক্ষ মানুষ বন্যা থেকে রক্ষা পাবেন। মাস্টার প্ল্যানের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। ৬১১ কোটি টাকা দিয়ে চাঁপাডাঙ্গা-আরামবাগের দুইলেনের রাস্তা চার লেন করা হয়েছে। কামারপুকুর ও জয়রামবাটীর এই জায়গাগুলো আরও উন্নত হয়ে যাবে। এখানে পর্যটনক্ষেত্রের আরও উন্নয়ন হবে মনে রাখবেন।
খানাকুলে রাজা রামমোহন রায়ের যে বাস্তুভিটা আছে আমরা তার সংস্কার করে দিয়েছি। তারকেশ্বর হরিপাল থেকে শুরু করে হুগলি থেকে শুরু করে সিঙ্গুর থেকে শুরু করে সব জায়গায় কাজ হয়েছে। বলাগড়ে সবুজ পার্ক করে দেওয়া হয়েছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সব সাধু সমান হয় না। সব স্বজন সমান হয় না। বহরমপুরে একজন মহারাজ আছেন। কার্তিক মহারাজ। ভারত সেবা সংঘকে খুব শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু যে লোকটা তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টকে বসতে দেবে না বলে, সেই লোকটাকে সাধু বলে মনে করি না।

আসানসোলে একটা রামকৃষ্ণ মিশন আছে। রামকৃষ্ণ মিশনকে কি হেল্প করিনি? সিপিএম যখন খাবার বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি পুরো সমর্থন দিয়েছিলাম। দিল্লি থেকে নির্দেশ আসে বিজিপিকে ভোট দেয়ার জন্য। রামকৃষ্ণ মিশনকে সবাই সম্মান করে শ্রদ্ধা করে। মনে রাখবেন স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িটাই থাকতো না। আপনাদের এই মেয়েটা যদি বেঁচে না থাকতো। এই প্রসঙ্গে বাগবাজারে নিবেদিতার বাড়ির প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
প্রার্থী মিতালি বাগের সম্বন্ধে তিনি বলেন, আরামবাগে যে মেয়েটি আপনাদের প্রার্থী হয়েছে ও বাগদী বাড়ির একটি সাধারণ ঘরের মেয়ে। বিজেপি উচ্চবর্ণের মানুষদের যতটা পাত্তা দেয় নিম্নবর্ণর মানুষকে ততটাই দুচ্ছাই করে। আমি করি না। ওকে ভোট দিন।
আরামবাগে আজই প্রচারের শেষদিন ছিল। কানায় কানায় ভর্তি ছিল জনসভা। উন্নয়নকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আক্রমন করেছেন বিজেপিকে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন লক্ষ্মীর ভান্ডার, বৃদ্ধভাতা, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী যেমন চলছে তেমনি চলবে। জিতলে একশো দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার টাকা তিনি দিল্লি থেকে আদায় করে আনবেন। এরপরই তিনি এখান থেকে বিষ্ণুপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।