| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইস্রায়েল ও খোজা ইস্রায়েল সরহদ : অসিত দাস

Reporter
অসিত দাস / ৪৫৮ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

ইহুদি-পার্সি বংশোদ্ভূত যে আর্মেনীয় বণিক ভারতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৌভাগ্যের সূচনা করেন ও দিল্লির দরবার থেকে কলকাতায় ইংরেজের হয়ে গ্র্যান্ড ফরমান আনতে মুখ্য ভূমিকা নেন, সেই খোজা ইস্রায়েল সরহদের (Khoja Sarhad Israeli) সমাধি কোথাও খু্ঁজে পাওয়া যায় না। শুধু আমাদের মত শখের ইতিহাসবিদরাই নয়, বিখ্যাত আর্মেনীয় ঐতিহাসিক মেসরোভ জ্যাকব শেথও (Mesrovb Jacob Seth) তন্ন তন্ন করে খু্ঁজে কোথাও পাননি সরহদের সমাধি।

মাদ্রাজ আর্মেনিয়ান চার্চে একজন সরহদ-পদবিধারী ব্যক্তির সমাধি আছে, এটা তিনি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। তবে মৃত্যুকাল লেখা ছিল ১৭০১। এটা খোজা ইস্রায়েল সরহদের সময়কালের সঙ্গে মিলছে না। মেসরোভ শেথ এটিকে সরহদের পিতার সমাধি ভেবে নিয়েছেন। তিনি অনেক অনুসন্ধান চালিয়েও বাংলার আর্মেনীয় চার্চগুলিতে (কলকাতা, সৈদাবাদ, চুঁচুড়া) সরহদের সমাধি পাননি। তাই তিনি ধরে নিয়েছেন সরহদ শেষ বয়সে পারস্যের আর্মেনিয়ান উপনিবেশ নিউ জুলফার ইস্ফাহানে ফিরে যান। যদিও এটি অনুমানমাত্র, ইস্ফাহানে সরহদের সমাধি খু্ঁজে পাননি কোনও গবেষক।

খোজা ইস্রায়েল সরহদ যে একজন অগ্রগণ্য আর্মেনীয় বণিক ছিলেন, তা সকলেই লিখেছেন। তার সঙ্গে তিনি ছিলেন দোভাষী ও দূত। একাজে আর্মেনীয়দের দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। মূলত তাঁর বাণিজ্য ছিল বাংলা ও গোয়ায়। ইংরেজরা সাম্রাজ্যবিস্তারের জন্যে তাঁকে তিনটি ক্ষেত্রে কাজে লাগায়।

১) ১৬৮৮-তে সরহদকে তাঁর মামা খোজা ফানুস কালান্দারের সঙ্গে লন্ডনে পাঠানো হয়। সেখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জোসিয়া চাইল্ডের সঙ্গে আলোচনায় তাঁদের মধ্যে কলকাতা তথা ভারতে আর্মেনীয়দের খ্রিস্টানধর্ম পালনে উৎসাহদানের জন্যে একটি চুক্তি সই হয়। যে শহরে ৪০জন বা তার বেশি আর্মেনীয় খ্রিস্টান ধর্ম পালন করে, তাদের জন্যে একটি কাঠের গির্জা ও সাত বছরের জন্যে বার্ষিক ৫০ পাউন্ড দেওয়া হবে, এই মর্মে চুক্তি হয়।

২) ১৬৯৮ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কলকাতা, সুতানুটি, গোবিন্দপুর — গ্রাম তিনটির খাজনা আদায়ের সত্ত্ব কেনার জন্যে মুঘল ফৌজদার জৈনুদ্দিন খাঁ ও সেনাপতি জবরদস্ত খাঁর কাছে পাঠানো হয় তাঁকে। তাঁর দৌত্যে বরফ গলে। গ্রাম তিনটি ইংরেজের কব্জায় আসে।

৩) এবার আসল কাজ। ১৭১৪-১৫য় কলকাতার বুকে পাকাপাকিভাবে ব্যবসাবাণিজ্যের অধিকার পাওয়ার জন্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জন সার্মানের (John Surman) নেতৃত্বে খোজা সরহদ ও আর তিনজনকে দিল্লির সম্রাট ফারুখশিয়ারের কাছে পাঠায়।

সরহদ ফারসি ভাষা খুব ভালো জানায় ও ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনায় অগাধ পাণ্ডিত্য থাকায় তাঁকে নির্বাচিত করে ইংরেজ প্রশাসন। দিল্লিতে গিয়ে সম্রাটকে পারিতোষিক ও স্বর্ণমুদ্রায় তুষ্ট করে তাঁরা গ্র্যান্ড ফরমান আদায় করেন। এই কাজে সরহদের ভূমিকাই মুখ্য ছিল। সেখানে কিছুকাল কাটিয়ে সার্মান, ডাঃ হ্যামিলটন ও অন্যরা ফিরে এলেও সরহদ কিন্তু আর ফিরে আসেননি কলকাতায়। পথিমধ্যে সূর্যগড়ে ডাঃ হ্যামিলটন অসুস্থ হয়ে পড়েন ও মৃত্যুকালীন উইল তৈরি করেন ১৭১৭য়।

খোজা ইস্রায়েল সরহদের কলকাতায় না ফেরার কারণটা কী?

এর দুটি কারণ থাকতে পারে। সম্রাট ফারুখশিয়ারের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় সেখানে নিজের ব্যবসার সুবিধার্থে থেকে যেতে পারেন। আর একটি কারণ হল, ফরমানপ্রাপ্তির জন্যে ইংরেজরা সরহদকে যে অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল, তা তাঁকে দেওয়া হয়নি। ফলে সরহদের পক্ষে দিল্লি, আগ্রা, গোয়া ও সুরাটের ব্যবসায়ীদের কাছে নিজের ধারদেনা শোধ করা সম্ভব হয়নি। তাই দিল্লিতেই  থেকে যেতে হয় তাঁকে। ১৭১৫-র পর থেকে কলকাতার সেরেস্তার কাগজপত্রে তাঁর কোনও উল্লেখ নেই আর।

এবার দিল্লির ব্যবসায়ীমহলে তিনি সক্রিয়তা বাড়ান। মুঘল সম্রাট ফারুখশিয়ারের সঙ্গে বন্ধুত্ব কাজে লাগিয়ে তিনি দিল্লির কারবার চালিয়ে যান। সুরাটে ছিল কাকার বাড়ি। গোয়ায় নিজের ব্যবসা। এইভাবে একজন বিজনেস টাইকুন হয়ে দিল্লি-আগ্রাতে ১৭৩৯ পর্যন্ত বাস করেন। কারণ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৭৪০-এর আগে তাঁর দেহান্ত হয়। তাঁর মৃত্যুর দিনক্ষণ পাওয়া যায় না কোথাও। খুঁজে পাওয়া যায় না তাঁর সমাধিও। তবে জাতে খ্রিস্টান হওয়ায় অনুমান করা যায় আগ্রা বা দিল্লির আর্মেনীয় সমাধিক্ষেত্রে তিনি সমাহিত হয়েছিলেন। আগ্রার আর্মেনীয় চার্চে ১৬১১ সাল থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সমাধি খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু ১৭০৭ থেকে ১৭৭৪ পর্যন্ত কোনও সমাধি নেই। মনে করা হয়, ওই সময় আগ্রা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় বলে আর্মেনীয়রাও মুঘলের সঙ্গে দিল্লিতে চলে যায়। আগ্রায় এই সময়কালে কোনও আর্মেনীয় ছিল না। আগ্রায় মারা গেলে এখানে কবর থাকার সম্ভাবনা ছিল। আবার দিল্লিতে ১৭৩৮-১৭৩৯ নাগাদ মারা গেলে দিল্লির আর্মেনীয় চ্যাপেলে তাঁর সমাধি পাওয়ার কথা ছিল। যেহেতু ১৭১৩য় দিল্লির আর্মেনীয় চ্যাপেল গড়ে ওঠে। এখানেও সমস্যা। ১৭১৩য় তৈরি হলেও প্রথম প্রাপ্ত সমাধি ১৭৮৭ তে। কেন না নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করে দিল্লিতে লুটপাঠ, ভাঙচুর চালিয়ে আর্মেনীয় চার্চের বেশিরভাগটাই ভেঙে দেন। ধ্বংস হয় খোজা ইস্রায়েল সরহদের সমাধিটিও।

এবার ডিটেলসে আসা যাক।

১৭১৫ সালে কলকাতার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যালয় থেকে জন সার্মানের নেতৃত্বে একটি দলকে দিল্লির মুঘল সম্রাট ফারুখশিয়ারের দরবারে পাঠানো হয় ব্যবসাবাণিজ্যের পাকাপোক্ত বন্দোবস্তর গ্র্যান্ড ফরমান আনার জন্য। জন সার্মানের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন-১) খোজা ইস্রায়েল সরহদ (Khoja Sarhad Israeli), ২) ডাঃ হ্যামিল্টন (Dr hamilton), ৩) জন প্র্যাট (John Henry Pratt), ৪) বার্কার (Barker), ৫) স্টিফেনসন (Stephenson)।

এর মধ্যে খোজা সরহদ ছিলেন ছিলেন ফারসিভাষায় তুখোড়।

দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দিল্লির আর্মেনিয়ান চার্চের যাজক ফাদার স্টিফেনাস তাঁদের বস্ত্র ও পোশাক দিয়ে বরণ করেন। খোজা মানুর নামে এক দিল্লিবাসী আর্মেনীয় বণিক খোজা সরহদকে নিয়ে সম্রাট ফারুখশিয়ারের (Farrukhsiyar) কাছে যান। ফারসিভাষায় তাঁদের মধ্যে হার্দিক আলাপ-আলোচনা হয়। ইংরেজরা ছিলেন নির্বাক দর্শক। তাঁরা কেউ ফারসি জানতেন না।

গ্র্যান্ড ফরমান বা মহাসনদ নিয়ে ইংরেজরা কলকাতায় ফেরেন ১৭১৭য়। কিন্তু খোজা ইস্রায়েল সরহদ এই দলের সঙ্গে আর ফেরেন না। দিল্লিতেই থেকে যান। এইখান থেকেই ইতিহাস নীরব খোজা সরহদ বিষয়ে। বিশিষ্ট আর্মেনীয় ইতিহাসবিদ মেসরোভ জ্যাকব সেথ জানিয়েছেন সরহদ পারস্যের ইস্ফাহানে ফিরে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি নিশ্চিত নন। এইখান থেকে আমার গবেষণা শুরু। দিল্লিতে দুটি কারণে তিনি থেকে যেতে পারেন। সেখানে খোজা মানুরের সহায়তায় তিনি নিজস্ব ব্যবসা চালিয়ে যান। ইংরেজরা আর্থিক চুক্তিভঙ্গ করে ছিল তাঁর সঙ্গে। যে অর্থ তাঁর পাওয়ার কথা ছিল ফরমান আদায়ের কাজে, তা তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি ধারদেনা করেন ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যেতে। এইভাবে তাঁর ব্যবসা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দিল্লির আর্মেনিয়ান চার্চের ফাদার স্টিফেনাস ছিলেন তাঁর বন্ধু। সেখানেই সমাহিত হন তিনি। ১৭৩৯ এ পারস্যসম্রাট নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করেন। তখন আর্মেনিয়ান চার্চটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সরহদের সমাধিও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সুতরাং সরহদের কবর দিল্লির আর্মেনিয়ান চার্চেই হয়েছিল, ঐতিহাসিক মেসরোভ জ্যাকব সেথের দেওয়া পারস্যের আর্মেনীয় উপনিবেশ ইস্ফাহানে ফিরে যাওয়ার তত্ত্ব এক্ষেত্রে খাটে না।

মনে রাখা দরকার, খোজা ফানুস কালান্দার (Khoja Fanus Kalandar) আর খোজা ইস্রায়েল সরহদ ছিলেন দুই বিশিষ্ট আর্মেনিয়ান মার্চেন্ট, সম্পর্কে কাকা-ভাইপো বা মামা-ভাগ্নে। সতেরো-আঠারো শতকের এই দুই দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী আর্মেনিয়ানের সাহায্য নিয়ে ইংরেজ তার রাজত্ব বিস্তার করেছিল ভারতভূমিতে। কালান্দার ছিলেন সুরাটের(ঢাকাতেও ছিলেন কিছুদিন) বাসিন্দা, সরহাদ ছিলেন চুঁচুড়া-কলকাতার। ১৬৮৮-তে (কলকাতায় জোব চার্নক পাকাপাকিভাবে আসার ২ বছর আগে) দুজনে ভারত থেকে লন্ডনে যান ব্রিটিশ ‘গভর্নর’ জোসিয়া চাইল্ডের (Josiah Child) সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে। চুক্তিটির বিষয় ছিল জাহাজের মাধ্যমে ব্যবসা ও আর্মেনিয়ানদের ভারতে ধর্মাচরণ। ১৭১৫-এ দিল্লির সম্রাট ফারুকশিয়ারের দরবারে সর্মান এমব্যাসীর সদস্য হিসেবে যান খোজা ইস্রায়েল সরহদ। গ্র্যান্ড ফর্মান আদায় করে ছাড়েন।

দুজনেই ছিলেন ঝানু মধ্যস্থতাকারী ও দূত। আশ্চর্যজনকভাবে দু-জনের সমাধিই ভারতের কোনও আর্মেনিয়ান চার্চে পাওয়া যায় না। বিশিষ্ট আর্মেনিয়ান ঐতিহাসিক তথা প্রত্নতাত্ত্বিক মেসরোভ জ্যাকব শেথ লিখেছেন, দুজনেই হয়ত পারস্যের নিউজুলফার আর্মেনিয়ান উপনিবেশে ফিরে যান শেষজীবনে। সেখানেই মারা যান ও সমাহিত হন। আর একটি কথাও লিখেছেন, হয়তো খোজা ফানুস কালান্দারের কবর থাকতে পারে ইংল্যান্ডের কোনও আর্মেনিয়ান সেমেট্রিতে।

আবার বলি, খোজা ইস্রায়েল সরহদ এক ইতিহাস-প্রসিদ্ধ আর্মেনীয় বণিক ও দোভাষী তথা মধ্যস্থতাকারী। প্রথমে চুঁচুড়া ও পরে কলকাতায় থাকতেন। ১৬৮৮তে ইংরেজের সঙ্গে ধর্মাচরণ-সংক্রান্ত চুক্তি করেছিলেন লন্ডনে গিয়ে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা খোজা ফানুস কালান্দার। আর ১৭১৭য় জন সর্মানের সঙ্গে দিল্লিতে সম্রাট ফারুখসিয়ারের কাছে গিয়েছিলেন দোভাষী ও এজেন্ট হিসেবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এ বঙ্গে  বাণিজ্যের ফরমানপ্রাপ্তির অন্যতম হোতা ছিলেন। এহেন খোজা সরহদের সমাধি বঙ্গের কোনও আর্মেনীয় চার্চে নেই। ভারতের অন্য কোথাও নেই। বিখ্যাত আর্মেনীয় ঐতিহাসিক মেসরোভ জ্যাকব সেথ লিখেছেন, হয়ত তিনি শেষজীবনে পারস্যের আর্মেনীয় উপনিবেশ ইস্পাহানে ফিরে গিয়েছিলেন ও সেখানেই মারা যান। যদিও সেখানে তাঁর কোনও সমাধি নেই।

আমার মনে হয় শেষদিন পর্যন্ত তিনি কলকাতাতেই ছিলেন। কাজ উদ্ধারের পর ইংরেজরা আর্মেনীয়দের ছুঁড়ে ফেলে দিত। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা সেকালের ও একালের’ বইয়ে এইদুটি খবর পাচ্ছি। ইংরেজদের সেরেস্তা থেকেই পাওয়া। মনে হয় ঋণের দায়ে জর্জরিত সরহদকে ইংরেজরাই গুমখুন করেছিল। দেহ সরিয়ে দিয়েছিল অন্যত্র।

হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা সেকালের ও একালের’ বইটি থেকে ‘ঋণগ্রস্ত সরহদ নিজের মালপত্র যাতে সরাতে না পারে তার জন্যে সরহদের বাড়িতে ইংরেজশাসক দুজন পেয়াদা বসিয়েছিল, সরহদ ঋণশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোম্পানিকে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়।’

এবার একটি ইংরেজি প্রবন্ধ থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি দেওয়া দরকার। তখনকার দিনে কলকাতা ও সন্নিহিত অঞ্চলে আর্মেনিয়ানদের হালহদিশ দেবে এই লেখাটি। মূলত চুঁচুড়াকেন্দ্রিক আর্মেনিয়ানরাই কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও উপনিবেশ গড়ে তোলে।

On 10 th January, 1727, an armenian priest stationed in remote Dutch outpost of Chinsura (Chichra or Չիչրա in Julfa dialect and Chuchura in Bengali) named Ter Harut‘iwn wrote a lengthy missive to his superior in Julfa lamenting the melancholy decline of his parish’s erstwhile flourishing Armenian mercantile elite and the rapid rise of a new community 35 kilometers to the south. “Let it be known,” Ter Harut‘iwn wrote to primate David Vardapet, “there are only three well to do people [left] here who have money in their hands. The others are all bereft of any means.” Most, it seems, had accepted the invitation of Job Charnock who established an English East India Company outpost to the south of the Dutch in 1690. Of those who had remained, the wealthiest according to Ter Harut‘iwn was a middle-aged merchant and once a lowly “commenda” agent named Agha Nazar Hakob Jan who had arrived from Julfa in 1707 with hardly anything in his pocket save for a partnership contract with his wealthy capitalist master known as a coja (Khwāja in Persian Խոջա in Armenian) giving him a line of credit to trade with on his behalf for a measly portion of the profits. Nazar had managed his master’s money so parsimoniously that hardly seventeen years had passed from the time he first landed in India when he become one of the wealthiest Armenians in all of the subcontinent. As a token of what sociologist Pierre Bourdieu would later describe as “symbolic capital,” Nazar had done what all sensible merchants driven by a combination of piety and shrewd business acumen would do: he built a luxurious church on an Armenian burial ground in the newly established English outpost that would soon become the jewel in the British Crown and one of the greatest metropolises in the world. Nazar does not appear to have moved to this new metropolis himself, for all indications are that he lived the better part of his early days in India in the Dutch settlement to the north. So much so that he was considered a “local” there by the parish priest, whose letter has survived in the archives of the All Savior’s Cathedral in Julfa, Isfahan (see image below). “It is he who established the Calcutta Armenian church,” writes Ter Harut‘iwn, adding that the he had “spent seven thousand rupees on this church and built the edifice with his own money.” Had Chinsura not had an Armenian church as early as 1695, it is likely that Nazar would have built one there. The date of the establishment of his church, appropriately called the Holy Nazareth Armenian Church was 1724.

উপরিউক্ত চিঠিটি চুঁচুড়ার আর্মেনিয়ান চার্চের যাজক Ter Harut’iwn পারস্যের নিউ জুলফায় তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আর্মেনিয়ান ভাষায় লিখেছিলেন।

খোজা ইস্রায়েল সরহদের ইস্রায়েল-কানেকশনের কথা কিছু জানা যায় না। নামের মধ্যে ইস্রায়েল থাকায় তাঁকে ইহুদি-বংশোদ্ভূত বলে ধরা হয়। তবে ইস্রায়েল থেকে কবে নাগাদ তাঁর পিতৃপুরুষ পারস্যে তথা ভারতবর্ষে এসেছিলেন, সেবিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

পরিশেষে জানাই, খোজা ইস্রায়েল সরহদের আর একটি সম্ভাব্য সমাধির কথা। ঐতিহাসিক মেসরোভ জ্যাকব শেথ যে  সরহদ-পদবিধারীর সমাধি দেখেছিলেন মাদ্রাজ আর্মেনিয়ান চার্চে, যাঁর সমাধিফলকে মৃত্যুসাল ছিল ১৭০১, সেটাই খোজা ইস্রায়েল সরহদের নয় তো? অনেক সময় জুলফা-সাল আর ইংরেজি সালের হিসেবে যথেষ্ট গোলমাল থাকে। ১৭০১ না হয়ে যদি সালটি ১৭৪১ হত, তবে হিসেব মিলে যায়। ৪১এর ৪ এর একটি গোলক অদৃশ্য হলে, তাকে ০১এর মতই লাগে। ১৭৪১ হয়ে যায় ১৭০১। যাকে বাবার সমাধি বলে ভেবেছিলেন মেসরোভ, তাই হয়তো শেষাবধি ছেলেরই সমাধি বলে নির্ধারিত হয়। সেমেট্রির পাথরে কালের ক্ষয় কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাপার।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev