শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের জন্মস্থান হুগলির কামারপুকুরে অম্বুবাচীর দিন থেকে মহা উৎসাহে শুরু হলো কাঁঠাল মেলা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁঠাল বিক্রেতারা এসে পশরা সাজিয়েছেন এই মেলায়। স্থানীয় এবং দূর দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড় ও চোখে পড়ার মতো। করোনা অতিমারির জেরে দু-বছর তেমনভাবে মেলা হয়নি। তাই এই বছরে একটু বাড়তি উৎসাহ তো থাকছেই এখানকার মানুষের মনে।

বিশেষ করে এই এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই কাঁঠাল মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ অম্বুবাচীর দিনটিকে তাঁরা জামাইষষ্ঠী হিসাবে পালন করেন। এই উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে উপস্থিত হন মেয়ে-জামাইয়ের দল। এখানকার আদিবাসী সমাজের রীতি অনুযায়ী জামাই খাতির এর অন্যতম উপকরণ হলো পাকা কাঁঠাল। এই ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেন না শশুর মশাইরাও। তাই কাঁঠাল মেলা থেকে পেল্লাই সাইজের কাঁঠাল ঘাড়ে করে বাড়ি ফেরার দৃশ্য এখানে খুবই পরিচিত।

মেলায় আসা শ্রীমন্ত টুডু অবশ্য বললেন, “এবার কাঁঠালের দাম একটু বেশি। তাতে কি? সব জিনিসেরই তো দাম বাড়ছে। জামাইয়ের পাত ভর্তি কাঁঠাল থাকবে না তা কি হয়?” মুর্শিদাবাদ থেকে আসা কাঁঠাল বিক্রেতা সেখ সাইফুদ্দিন এর বক্তব্য, “করোনার জন্য দু-বছর আসিনি। এই বছরে যতটা আশা করেছিলাম এখনো তা হচ্ছে না। দেখা যাক কি হয়?”

প্রায় মাসখানেক ধরে চলবে এই মেলা। পাকা কাঁঠালের গন্ধে মম করবে সারা এলাকা। খাদ্য রসিক মানুষজন ঘুরঘুর করবে মেলার আশেপাশে। শ্রী রামকৃষ্ণদেব নিজেই বলতেন, ‘রসেবসে রাখিস মা’ তা না হলে কি আর কাঁঠালের নামেই এক মাস ধরে একটি মেলা চলতে পারে!