জঙ্গলমহলের শিল্প ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সকলের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জঙ্গলমহল উৎসব। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিষয়ক দফতরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ঝাড়গ্রাম শহরের ননীবালা বিদ্যালয়ের মাঠে এ বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে সপ্তম জঙ্গলমহল উৎসব। এই মেলার আয়োজক পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ। পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, গ্রামীণ শিল্প ও কৃষ্টি সংস্কৃতির জন্য সরকারি সমস্ত মেলা উৎসব হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহল এ বছরের জঙ্গলমহল উৎসব নিয়ে আশঙ্কায় ছিল। এবছরও ২০ থেকে ২৭ জানুয়ারি রাজ্যস্তরের জঙ্গলমহল উৎসব সুরু হলো। প্রতি বছর এই উৎসবে প্রায় ৮ হাজার শিল্পী অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এঁদের বেশিরভাগই জঙ্গলমহলের লোকশিল্পী।

সপ্তম জঙ্গলমহল উৎসবের সূচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ডা. উমা সরেন। বিধায়ক চুড়ামনি মাহাত, দুলাল মূর্মূ, খগেন্দ্র নাথ মূর্মূ-সহ একাধিক বিশিষ্ট জনরা। সারা মাঠ ব্যাপী জঙ্গল মহলের বিভিন্ন লোকশিল্পীরা তাদের শিল্পী কলা প্রদর্শিত হচ্ছে। সরকারের সমস্ত দপ্তরের স্টলের পাশাপাশি গ্রামীণ হাটও রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। যেখানে স্থানীয় কুটির শিল্পের সম্ভার তুলে ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ স্টলে। কয়েক হাজার মানুষের রুজি রোজগারের এক পীঠস্থান এই মেলা। আট দিন ধরে চলবে এই মেলা।

অনুষ্ঠানে জঙ্গলমহলের মূলবাসী আদিবাসী সম্প্রদায়ের চাং, রণপা, পাতা, পাইক, ভাদু, ঝুমুর, বাউল, টুসু গান প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জঙ্গলমহল প্রাঙ্গনে রয়েছে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলা ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের সুদৃশ্য প্যাভিলিয়ন। এই উৎসব মূলত ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলাকে নিয়ে। এখানকার আদিবাসী অধ্যুষিত জেলার মানুষের সমাজ সংস্কৃতি, হস্তশিল্প তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জায়গার মানুষ তাদের পসরা নিয়ে এসেছেন। ডোকরা থেকে শুরু করে কাঠের কাজ, বাঁশের কাজ মাদুরের কাজ প্রদর্শিত হচ্ছে এবং বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের স্টল যেমন কৃষি, উদ্যান, মৎস্য, স্বাস্থ্য, গ্রাম উন্নয়ন ইত্যাদি দফতর রয়েছে। ২০-২৭ তারিখ পর্যন্ত এই মেলা চলবে।
ছবি : অনুপম পাল