শুভ বড়দিন! আজ ২৫ ডিসেম্বর— খ্রিষ্টানদের বড়দিন। খ্রিষ্টান সমাজের আনন্দের দিন। ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে আপনাদের এ আনন্দে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের উপস্থিতি দ্বারা খ্রিষ্টান সমাজ খুশি হবে। বড়দিন নিয়ে লিখতে বসলে অনেক বিষয় চিন্তায় আসে। বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্টানদের সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত বড়দিন যেহেতু যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন, তাই যীশুকে নিয়ে লেখার কোনো শেষ নেই।
খ্রিষ্টান ধমের্র ইতিহাসে যীশু খ্রিষ্টের ঈশ্বরত্ব ও মানবত্ব নিয়ে বেশ আলোচনা, শিক্ষা ও লেখালেখি চলে আসছে। আর বিশ্বের সব মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। যদি প্রশ্ন করি, কোনটি সহজ? যীশুর ঈশ্বরত্ব বিশ্বাস করা নাকি তার মানবত্ব বিশ্বাস করা? প্রশ্নটিকে ঘুরিয়েও করা যেতে পারে— কোনটি সহজ? যীশুর ঈশ্বরত্ব প্রমাণ করা নাকি তার মানবত্ব প্রমাণ করা? হতে পারে বেশির ভাগ মানুষ মনে করবেন যে, তার ঈশ্বরত্ব বোঝা ও প্রমাণ করা কঠিন। তাহলে কেন তার মানবত্ব প্রমাণ করা ও বোঝা সহজ? যীশু তাদের কাছে এবং আমাদের কাছে মানুষ, তাই তার মানবত্ব থাকবে এ তো স্বাভাবিক বিষয়। এ বিশ্বের মধ্যে তাকে শুধু সামান্য মানুষ নয়, অলৌকিক কাজ সম্পাদনকারী অতুলনীয় ও অসাধারণ মানুষ হিসেবে অনেকেই বিশ্বাস করেন। সাধারণ খ্রিষ্টানরা যীশুর বিষয়ে এর চেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন। এটি তাদের বাইবেল মতে ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্তভুর্ক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার পরেও আলোচনা ও সমালোচনা থেমে নেই। এ লেখায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, তার মানবত্ব প্রমাণ করা, বোঝা ও গ্রহণ করা ঈশ্বরত্বকে বোঝা ও গ্রহণ করার মতো কঠিন বিষয়। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, যখন তার মানবত্ব নিয়ে আলোচনা করছি, তার ঈশ্বরত্বকে অস্বীকার করছি না। কেননা, তিনি ঈশ্বর-মানব। তিনি সবসময়ের জন্যই ঈশ্বর ও মানুষ।
কেন যীশুর মানবত্ব বোঝা কঠিন? ছোট করে বলতে হয় যে, যেহেতু বাইবেল মতে তিনি পূর্ব অস্তিত্বশীল, তিনি নিজে যেমন দাবি করেছেন, তিনি আদি ও অন্ত, প্রথম ও শেষ, তাই তিনি তার মানবত্বে অনন্তকালীন। যদিও কোনো কোনো খ্রিষ্টানও বাইবেল সঠিকভাবে না বোঝার কারণে মনে করেন, যীশু খ্রিষ্টের মানবত্ব মাত্র ৩৩ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাইবেলের সহজ শিক্ষাগুলো অনুসরণ করতে পারলেই বিশ্বাস করাটা সহজ হতে পারে যে, যীশু পূর্ব অস্তিত্বশীল।
যিনি আগে থেকেই বিদ্যমান, তিনি যদি ইতিহাসের কোনো এক সময়ে বাইবেলের নতুন নিয়ম অনুসারে ‘কাল সম্পূর্ণ হলে’ ঈশ্বর কতৃর্ক প্রেরিত হন, তা বুঝতে কঠিন হওয়া স্বাভাবিক। আবার মানুষ হিসেবেই বা তিনি কেমন করে এ পৃথিবীতে আসার আগে বিদ্যমান থাকতে পারেন? কোথায় তিনি ছিলেন? স্বর্গে ঈশ্বরের কাছে? নাকি তিনি এ পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে ৩৩ বছরের জন্য আসার আগেও মানুষ হিসেবে কাজ করেছেন? বাইবেলে তার পৃথিবীতে আগমনের আগেকার কাজের নজির ও প্রমাণ আছে। অথবা যদি আমরা চিন্তা করি, তিনি এখন কোথায় আছেন অথবা কী হিসেবে আছেন? তিনি যদিও সব সময়ের জন্য অবিরতভাবে এ পৃথিবীতে এখন নেই, তাই বলে কি তিনি মানুষ হিসেবে নেই? তার মানবত্ব কি হারিয়ে গেছে? যীশু খ্রিষ্ট কবর থেকে পুনরুত্থানের পরে ৪০ দিন-রাত এ পৃথিবীতে ছিলেন। মানুষ হিসেবেই ছিলেন। তারপরে তিনি স্বর্গে আরোহণ করেছেন।

ঈশ্বর তাকে স্বগের্ তুলে নিলেন। তিনি যখন আবার এ পৃথিবীতে আসবেন, তখন তিনি মানুষ হিসেবেও আসবেন। এ জন্য আগেই বলেছি, যিনি পূর্ব অস্তিত্বশীল, তার মানবত্ব বোঝা কঠিন।
নতুন নিয়মের যোহন পুস্তকের ১ অধ্যায় ১-৩ ও ৪ পদে লেখা আছে— ‘আদিতে বাক্য ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ্বর ছিলেন। যিনি আদিতে ঈশ্বরের কাছে ছিলেন। সবই তার দ্বারা হয়েছিল, যা হয়েছে, তার কিছুই তাকে ছাড়া হয়নি। আর সেই বাক্য মাংসে মূর্তিমান হলেন এবং আমাদের মধ্যে প্রবাস করলেন, আর আমরা তার মহিমা দেখলাম, যেমন পিতা থেকে আগত এক জাতের মহিমা; তিনি অনুগ্রহে ও সত্যে পূর্ণ।’ বাইবেলের এই স্থানে বেশ পরিষ্কার যে, যীশু ঈশ্বর, কিন্তু তিনি মানুষও হলেন। তিনি কি ঈশ্বরের সৃষ্টি? বাইবেলের উত্তর হচ্ছে ‘না’। এ পদে আমরা দেখি যে, যীশু সৃষ্টিকর্তা। তিনি সৃষ্ট নন। তবে মানুষ হিসেবে আসার জন্য তিনি তার মা মরিয়মের গর্ভের মধ্যদিয়ে এলেন। শিশু অবস্থা থেকে তিনি পরিপূর্ণ ও পূণার্ঙ্গ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলেন। সে জন্য যীশুর আগমন এক অলৌকিক ঘটনা। অন্য সব মানুষের জন্মের মতো তার জন্ম হয়নি। তার জন্মের জন্য মানুষের কোনো কিছু করার ছিল না। যীশুর মা মরিয়ম ঈশ্বরের আদেশ পালন করেছেন। তিনি মরিয়মের গর্ভের মধ্য দিয়ে না এলে তার মানবত্ব বোঝা আরও কঠিন হতো এবং খ্রিষ্টান ধর্ম আরও কঠিন হতো। আমাদের পক্ষে বিশ্বাস করাও কঠিন হতো। ঈশ্বর যে মানুষ হিসেবে আসতে পারেন, মানুষ হিসেবে আসার জন্য তার আরও অনেক পথ থাকতে পারত; তিনি অন্য কোনোভাবেও এ পৃথিবীতে আসতে পারতেন; কিন্তু মানুষের যেরকম জন্ম হয়, তিনি সেভাবে এলেন, তবে মানুষের সন্তান সৃষ্টি করার বা জন্মদানের কোনো ক্ষমতা দিয়ে নয়। যীশু নিজ অধিকারে এলেন।
কীভাবে তিনি অনন্তকালীনভাবে পূর্ব অস্তিত্বশীল থাকার পরেও মানুষ হিসেবে এ পৃথিবীতে এলেন? আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যীশু মানুষ হিসেবে এ পৃথিবীতে আগমনের আগে কীভাবে আমাদের অগোচরে ছিলেন? মানুষ হিসেবেও তিনি ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় নিরাকার ছিলেন। তিনি সাকার হলেন এক নাগাড়ে ৩৩ বছরের জন্য, আবার ৪০ দিনের জন্য। আমরা তার এ সময়কার বিষয়ে সামান্য পরিমাণ জানি। যতটুকু বাইবেলে লেখা আছে, ততটুকু জানি। আবার ততটুকুরও সবটুকু বুঝতে পারি না। কীভাবে ঈশ্বর হয়েও এবং অনন্তকালীন মানুষ হয়েও কিছু সময়ের জন্য মানুষ হিসেবে এ পৃথিবীতে এলেন? এ জন্য ক্ষমতা ও কতৃর্ত্ব প্রয়োজন। বাইবেল মতে তিনি যেহেতু ঈশ্বর, তার পক্ষেই এ ধরনের অবস্থান নেয়া সম্ভব। নতুন নিয়মের মধ্যে যোহন লিখেছেন— ‘আমরা তার মহিমা দেখিলাম’। যীশুর বাপ্তিস্মাদাতা যোহন বলেছেন, ‘উনি সেই ব্যক্তি, যার বিষয়ে আমি বলেছিলাম, আমার পশ্চাৎ এমন এক ব্যক্তি আসছেন, যিনি আমার অগ্রগণ্য হলেন; কেননা, তিনি আমার পূর্বে ছিলেন’ (নতুন নিয়ম যোহন ১ অধ্যায় ৩০ পদ)। ঈশ্বরের পক্ষে সবই সম্ভব। বাইবেল মতে মানুষের পক্ষে অসাধ্য, কিন্তু ঈশ্বরের পক্ষে সবই সাধ্য। এমনকি মানুষের কল্পনা ও বোঝার অতিরিক্ত কিছু করাও ঈশ্বরের পক্ষে সম্ভব। আমরা যা যা বিশ্বাস করি, তার সবটুকু কি বুঝে বিশ্বাস করি? আবার আমরা কোনো কিছু না বুঝে ও না দেখেও কি বিশ্বাস করি না? আমাদের বিশ্বাসের সবটুকু কি প্রমাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব? কিন্তু ঈশ্বরের পক্ষে সবই সম্ভব। ঈশ্বরের এমন ক্ষমতা আছে যে, তিনি মানুষ হিসেবে এ পৃথিবীতে আসবেন আর ঈশ্বরও থাকবেন। এমন নয় যে, আমি কোনো কিছু বুঝতে না পারলে, তা সত্য নয়।
কেন ঈশ্বর মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে এলেন? প্রথমত, যীশু ঈশ্বর সম্পর্কে মানুষকে জানাতে এসেছেন। ঈশ্বর যে বাস্তব ও সত্য, তা তিনি দেখাতে এসেছেন। আসল সত্য সম্পর্কে জ্ঞান দিতে তিনি এসেছেন। যীশুর এ পৃথিবীতে আসা নাস্তিকদের জন্য এবং ধর্ম সম্পর্কে সত্যবিমুখ মানুষের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। কেননা, যীশু এসে ঈশ্বরকে প্রকাশ করেছেন। যীশু বলেছেন, কেবল তিনি ঈশ্বরকে দেখেছেন এবং তিনি পিতার কোলে ছিলেন, তাই তার সাক্ষ্য সত্য।
দ্বিতীয়ত, যীশু পতিত মানবজাতিকে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলন করিয়ে দিতে এসেছেন। মানুষের পাপের কারণে মানুষ ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন। ঈশ্বরকে পাওয়ার যখন কোনো পথ ছিল না, তখন যীশু এসে মানুষকে ঈশ্বরের সঙ্গে পুনরায় মিলিয়ে দিলেন এবং উভয়ের সম্পকের্র পুনঃস্থাপন ঘটল।
নতুন নিয়মের ১ তীমথিয় ২ : ৫ পদে লেখা আছে- ‘কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন; ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থও আছেন, তিনি মানুষ, খ্রিষ্ট যীশু, তিনি সবার জন্য মুক্তির মূল্যরূপে আপনাকে প্রদান করেছেন।’ যীশুর ঈশ্বরত্ব ও মানবত্ব না থাকলে এ কাজ করা সম্ভব ছিল না। কেননা, যিনি ঈশ্বর ও মানুষ, তিনিই পারেন মানুষকে তার সঙ্গে এক করে দিতে। যীশু মানুষকে সাহায্য করতে এসেছেন। তাই তাকে মানুষ হতে হয়েছে। কেননা, মানুষ না হলে তিনি মানুষের জন্য বাস্তবভাবে কিছু করবেন কীভাবে? নতুন নিয়মের ইব্রীয় ২ অধ্যায় ১৪-১৮ পদে লেখা আছে- ‘ভালো, সেই সন্তানরা যখন রক্তমাংসের ভাগী, তখন তিনি নিজেও তদ্রূপ তার ভাগী হলেন; যেন মৃতু্য দ্বারা মৃতু্যর কতৃর্ত্ববিশিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থাৎ দিয়াবলকে শক্তিহীন করেন এবং যারা মৃতু্যর ভয়ে যাবজ্জীবন দাসত্বের অধীন ছিল, তাদের উদ্ধার করেন। কারণ তিনি তো দূতগণের সাহায্য করেন না, কিন্তু আবরাহামের বংশের সাহায্য করছেন। অতএব, সব বিষয়ে আপন ভ্রাতৃগণের তুল্য হওয়া তার উচিত ছিল, যেন তিনি প্রজাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য ঈশ্বরের কাজে দয়ালু ও বিশ্বস্ত মহাযাজক হন। কেননা, তিনি নিজে পরীক্ষিত হয়ে দুঃখভোগ করেছেন বলে পরীক্ষিতদের সাহায্য করতে পারেন।’ মানুষকে সাহায্য করতে তিনি মানুষের স্তরে এলেন।
তৃতীয়ত, যীশু মানুষ হিসেবে নম্রতা ও বাধ্যতা দেখাতে এবং সে বাধ্যতার মধ্যদিয়ে মানুষের মুক্তির পথ করে দিতে এসেছেন। দেখুন নতুন নিয়মের ফিলিপীয় ২ অধ্যায়ের ৬-১১ পদ। লেখা আছে— ‘ঈশ্বরের স্বরূপবিশিষ্ট থাকতে তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে সমান থাকা ধরে নেয়ার বিষয় জ্ঞান করলেন না, কিন্তু আপনাকে শূন্য করলেন, দাসের রূপ ধারণ করলেন, মানুষের সাদৃশ্যে জন্মিলেন এবং আকারে প্রকারে মানুষবৎ হয়ে আপনাকে অবনত করলেন; মৃত্যু পর্যন্ত, এমনকি, ক্রুশীয় মৃতু্য পর্যন্ত আজ্ঞাবহ হলেন। এই কারণ ঈশ্বর তাকে অতিশয় উচ্চ পদান্বিতও করলেন, এবং তাকে সেই নাম দান করলেন- যা সমুদয় নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ; যেন যীশুর নামে স্বর্গ মর্ত্য পাতাল নিবাসীদের সমুদয় জানু পাতিত হয়, এবং সমুদয় জিহ্বা স্বীকার করে যে, যীশু খ্রিষ্টই প্রভু, এইরূপে পিতা ঈশ্বর যেন মহিমান্বিত হন।’ চতুর্থত, যীশুকে মানুষ হিসেবে এসে প্রমাণ করা দরকার ছিল যে, তিনি রক্ত-মাংসের মানুষ হয়েও কখনো কোনো পাপ করেননি। বাইবেলে তাকে দ্বিতীয় আদম বলা হয়েছে— যিনি কোনো পাপ করেননি, যদিও তার সামনেও প্রলোভন ও পরীক্ষা এসেছিল। ঈশ্বরের কাছে মানুষকে পাপহীন করার জন্য এ পৃথিবীতেই এক সমাধান দরকার ছিল। আর সে সমাধান সমাপ্ত হয়েছে। কেননা, ঈশ্বরই মানুষ হিসেবে এসে প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের পাপহীন থাকা সম্ভব এবং উচিতও। কেননা, ঈশ্বরের কাছে এর চেয়ে আর কোনো বিকল্প পথ ছিল না, যেখানে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে এবং ঈশ্বরের পক্ষে মানুষের করণীয় সব পালন করে মানুষের জন্য কোনো পথ সৃষ্টি করতে সব মানুষই ব্যর্থ। সে জন্য যখন যীশুতে ঈশ্বর ও মানুষ এক হন, একসঙ্গে বাস করেন, তখন আমরা শিখি যে, আমাদের সঙ্গে ঈশ্বর কী ধরনের সম্পর্ক দাবি করেন, আর আমরা সে দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। যীশুতে ঈশ্বর ও পাপহীন মানবত্ব এমন এক সহভাগিতা ও মিলন- যা ঈশ্বর ও আমাদের মধ্যকার সম্পর্কের আদর্শ। পঞ্চম কারণটিও অন্য কারণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আর তা হচ্ছে ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য বলিদান দরকার। পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর ইসরাইল জাতিকে পশুবলির ব্যবস্থা দিয়েছিলেন। তবে ঈশ্বর এও বলে দিয়েছিলেন যে, তিনি পশুর রক্তে সন্তুষ্ট নন, পশুবলিতে তার সন্তোষ নেই। তাহলে তিনি কী চান? তিনি নিদোর্ষ রক্ত চান। আর তাই যোহন বাপ্তাইজক যীশুকে দেখে বলেছিলেন, ‘ওই দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার নিয়ে যান’। নতুন নিয়মের ইব্রীয় ১০ অধ্যায় ১৯-২০ পদে লেখা আছে- ‘অতএব, হে ভ্রাতৃগণ, যীশু আমাদের জন্য তিরস্কারিণী দিয়ে, অর্থাৎ আপন মাংস দিয়ে, যে পথ সংস্কার করেছেন, আমরা সেই নতুন ও জীবন্ত পথে, যীশুর রক্তের গুণে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে সাহসপ্রাপ্ত হয়েছি।’ যীশুর মানুষ হিসেবে আগমন সবার জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনুক।
রেভারেন্ড এডওয়ার্ড আইয়ুব লেখক ও ধর্মতত্ত্ববিদ