লকডাউন পরবর্তী সময়ে কর্মহীন হয়েছেন দেশের ১.৫ মিলিয়ন মহিলা। জানাচ্ছে, ‘স্টেট অফ ইন্ডিয়াজ লাইভলিহুড রিপোর্ট’। সম্প্রতি নাবার্ডের চেয়ারম্যান জি আর চিন্তালা রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে গ্রামীণ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের ওপর। দরিদ্র পরিবার থেকে আসা এই মহিলাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল তাদের পরিবার। এরা এমন কিছু বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন যে অন্য জায়গায় দ্রুত কাজ পেয়ে যাবেন। আচমকা কর্মহীনতায় সঙ্কটে পরে গেছেন তাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষজন। এটা ঘটনা যে কোভিড পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি কর্মহীন হয়েছেন তরুণরা। কিন্তু তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি, কাজের খোঁজে তারা অন্যত্র যেতেও পারেন। কিন্তু গ্রামীণ মহিলাদের একটা বড় অংশের সেই সুযোগটুকুও নেই।

রিপোর্ট বলছে, কর্মরত গ্রামীণ মহিলাদের ৭১ শতাংশ কোভিড পরবর্তী সময়ে কর্মহীন হয়েছেন। সেক্ষেত্রে পুরুষদের অনুপাত ৫৯ শতাংশ। এমনিতেই গত বছর কর্মহীন হয়েছেন মোট ৬.৩ মিলিয়ন মানুষ। তার ২৩ শতাংশই গ্রামীণ মহিলা বলে এই রিপোর্টে বলা হয়েছে। অবশ্য পরবর্তী সময়ে অবস্থার একটু উন্নতি হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাল ফিরছে বাজারের। ২০২১ এর অগাস্টের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩২ শতাংশ। পুরুষদের এক তৃতীয়াংশ এবং মহিলাদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এখনও বেকার।

কর্মহীনতার এই ফারাক গ্রামের তুলনায় শহরে আরও বেশি। শহরে ৬৭ শতাংশ পুরুষই কাজে যাচ্ছেন, সেই তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা অনেক কম। কাজে যাচ্ছেন মাত্র ৯.৪ শতাংশ মহিলা। এই অবস্থা ফেরার কোন আভাস এখনও দেখা যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার মুখেই আসছে কোভিডের একেকটি নতুন ঢেউ। এখন যেমন ওমিক্রন নিয়ে আশঙ্কা শুরু হওয়ার সময় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামি জুনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

নাবার্ডের চেয়ারম্যান চিন্তালার মতে, প্যানডেমিকের সময় অভিবাসী শ্রমিকদের জোর করে গ্রামে ফেরানোর ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। লোকে কর্মহীন হয়েছেন এবং দিন চালানোর মত সঞ্চয়ও তাদের ছিল না। এই পরিস্থিতি যাতে আবার না হয় তার জন্য গ্রামাঞ্চলে সুস্থায়ী এবং সহায়ক জীবিকার ব্যবস্থা করতেই হবে। কোভিডকালেই বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের তাঁত ও হস্তশিল্প ক্ষেত্র। অথচ এক্ষেত্রে অগ্রগতির সূচনা হয়েছিল ঠিক তার আগেই। এখন আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করলে সুদিন ফিরবে। নাবার্ডের বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামি দিনে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ক্ষেত্র হবে উন্নয়নের চালিকা শক্তি।