সিপিআইএম-এ এত বছর ধরে একটা রেওয়াজ ছিল ৫ আগস্ট মুজাফ্ফর আহমেদের জন্মদিন পালন ছাড়া আর কোনও নেতার জন্মদিন পালন করা হবে না। ১৯৬৩ সাল থেকে অবিভক্ত সিপিআই ভাঙনের মুখে ১৯৬৩ সালের ৫ আগস্ট মুজাফ্ফর আহমেদ-এর জন্মদিন প্রথম পালিত হয়। রামমোহন লাইব্রেরী হলে সেই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তখনও সিপিআই আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙেনি। কিন্তু দলের মধ্যে যারা ডাঙ্গে বিরোধী ছিলেন তারাই কাকাবাবুর জন্মদিন পালনে উদ্যোগী হন। ওই সভার প্রধান সংগঠক ছিলেন দু-জন। গনেশ ঘোষ এবং সমর মুখার্জী। সমর মুখার্জীর ছদ্মনাম ছিল পৃথ্বীরাজ। এদেরকে তখন পুলিশ খুঁজছিল। এরা বলেছিলেন, দলের ভেতরে সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কাকাবাবুর জীবনী তুলে ধরার দরকার। তাই কাকাবাবুর জন্মদিন পালন করতে চাইছি। পরের বছর সিপিআইএম তৈরি হয়। তারপর থেকে এই দল শুধু কাকাবাবুর জন্মদিনই প্রকাশ্যে পালন করে।
সাধরনত ৫ আগস্ট মহাজাতি সদনে বিরাট সভা হয় সকালে রক্তদান কর্মসূচি হয়। এছাড়া আর কোনও নেতার জন্মদিন পালন হতো না। ১৩ জুলাই প্রমোদ দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট একটি আলোচনা সভার আয়োজন করতো। জ্যোতি বসুর জন্মদিন ৮ জুলাই। পার্টির তরফ থেকে কিছু করা হতো না। সুভাষ চক্রবর্তী ও রমলা চক্রবর্তী পথের পাঁচালী ব্যানারে ওইদিন সকালে ইন্দিরাভবনের সামনে অনুষ্ঠান করতেন। কেন নেতাদের জন্মদিন সাড়ম্বরে পালন করা হবে না এই নিয়ে সিপাআইএম-এ অনেকে প্রশ্ন করতেন। এবছরের বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই দেখাগেল বরফ গলেছে। দলের রাজ্যকমিটির অধীন জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ ট্রাস্ট নিউটাউনে অনুষ্ঠান করে। নিউটাউনে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ৫ কোটি টাকা দিয়ে ৫ একর জমি কিনেছিল এই ট্রাস্ট। সেখানেই সেন্টার তৈরি হবে। এদিন বিমান বসু-সহ সিপিআইএম নেতারা ওখানে গাছের চাড়া পুঁতে ও সেন্টারের সাইন বোর্ড লাগান, পরে রবীন্দ্রতীর্থে একটি আলোচনা সভা হয়। সেই আলোচনা সভার সভাপতি ছিলেন বিমান বসু। সেখানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব অমিত কিরণ দেব, প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রেস সচিব সরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বসু সকলেই জ্যোতি বসুর জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন।
ওইদিনই বিকেলে দক্ষিন কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হলে একটি সভার আয়জন করেন কান্তি গাঙ্গুলি। ‘বিকল্প আছে’ এই সংগঠনের নামেই কান্তি গাঙ্গুলি এই সভার আয়োজন করেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই সভায় সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ী, পার্থ দে, তন্ময় ভট্টাচার্য-সহ সিপিআইএম-এর অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন আজিজুল হক, সমীর পুততুন্ডু প্রমুখ। শুক্রবার ৯ জুলাই গণশক্তিতে দেখা যাচ্ছে জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালনের খবর ঢালাওভাবে প্রচারিত হয়েছে। কাকাবাবুর জন্মদিন ছাড়া আর কারুর জন্মদিন পালন করা যাবে না এই নিয়ম অলিখিতভাবে উঠে গেল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, সিপিআইএম যে নতুন রণকৌশল পথ ও নতুন ভাবনায় চালিত হচ্ছে সেটা বোঝা গেল। ২০২১ সালের ৮ জুলাই জ্যোতি বসুর ১০৮তম জন্মদিনে।