মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখলেও প্রধানমন্ত্রী কথা রাখতে পারেননি। বর্ধমানে বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল রেশন নিয়ে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, রাজ্যের ৯ কোটি ৯৬ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে চাল দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ৫ কেজি করে চাল দেবেন, দিচ্ছেন। এর বাইরেও যাঁদের কার্ড নেই তাঁদের জিআরের চাল দেওয়া হচ্ছে। আরকেএসওয়াই ১ ও ২ কার্ডধারীদের ৫ কেজি করে বিনামূল্যে চাল দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে রেশনে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলা ছাড়া অন্য কোনও রাজ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। পাঁচ ধরনের কার্ডে কে কী পরিমাণে রেশন পাবেন তা দোকানে টাঙানো থাকবে লিখিত আকারে। প্রতি মাসে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে রেশনে। বাংলার চাল যদি ১০০ পায় তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো চালের গুণমান ৭০-৮০-র বেশি নয়। জ্যোতিপ্রিয় আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এক কেজি করে ডাল দেওয়ার কথা বলেও কথা রাখতে পারলেন না। ওঁদের নেতারা এতো কুৎসা করেন, ডাল নিয়ে কিছু বলুন! বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণামতো ডাল দিতে গেলে মাসে ১৪৪৫০ মেট্রিক টন ডাল লাগে। যে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে ডাল দেওয়া হয় সিঙ্গুরের কাছে তাদের অফিস। তারা জানিয়েছে, ডাল এসেছে ১৮৪৭ মেট্রিক টন, ফলে তা ওরা দিতে পারছে না। এই তো অবস্থা!

জ্যোতিপ্রিয় বলেন, অনেকের কার্ড জিপিওতে আটকে ছিল। ওরা ধাপে ধাপে দিচ্ছে। তবে কার্ডের নম্বরেই কুপন দেওয়া হয়েছে। আটা যাঁরা নেবেন তাঁরা ১৫ দিন অন্তর নিন, এই সময় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়া কাম্য নয়। বারকোড দেখিয়ে যাঁরা রেশন দাবি করছেন তাঁদের বলি, বারকোড রেশন কার্ড নয়। ইচ্ছামতো আবেদন করলেই হবে না, কে কোন ভাগে পড়বেন তা আগে যাচাই করা হয়। একবার ৬০০টি আবেদন দেখছিলাম, দেখি ৫৮২ জন শিক্ষক ২ টাকা কেজি চালের কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন! এদিনের বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক বিজয় ভারতী, কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার, পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। ছিলেন রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, রেশনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা খাদ্যসামগ্রী বিলি করছেন। বর্ধমানে আমার গ্রামের মানুষদের জন্য আমিও চাল, ডাল, আলু পাঠিয়েছি।