জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
একবিংশ কিস্তি
আপনি অনেক দিন আমায় কোনও কেস দেন নি, দিলেন দিলেন, এতো শর্ট টাইমে।
হ্যাঁ। কেসটা আপনি ট্যাকেল করতে পারবেন। আর ঠিক মতো করতে পারলে আপনার প্রমোশন হয়ে যেতে পারে।
আপনি যখন বলছেন, আমি রিক্স নেব।
তাহলে আপনারা ঘুঁটিগুলো একটু নাড়াচাড়া করে নিন।
সে নিচ্ছি।
এখুনি একবার চলে আসুন, বাড়ির ঠিকানা লিখে নিন।
বলুন।
বললাম।
আপনি আগে এখানে থাকতেন না!
আপাতত আছি।
একবারে আমার নাকের ডগায়!
একলা আসবেন। কেউ যেন সঙ্গে না আসে।
আমি আধাঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি। দু-দশ মিনিট এদিক ওদিক হলে ক্ষমা ঘেন্না করে নেবেন।
ফোনটা কেটে দিলাম।
ইনি কে? চিনতে পারলাম না। দাদা বললো।
একটা ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ইষ্টার্ন জোনের চিফ।
ছোটো চা নিয়ে এসো। আমি আর পারছি না। দাদা বললো।
বাথরুম কাছে আছে চলে যাও। তোমার তো টেনসন হলে পায়খানা পায়। বড়োমা বললো।
বড়োমার কথায় সবাই কম বেশি হাসছে। মল্লিকদা কোনও কথা বলছে না। গ্যাঁট হয়ে বসে আছে। ছোটোমা এতক্ষণে আমার কোল থেকে মাথা তুলে উঠলো। নিচে গেল চা আনতে। দাদা সত্যি সত্যি বাথরুমে গেল।
মিত্রা ঠায় কাঁধে মাথা দিয়ে বসে আছে।
আমি আবার ইসলামভাইকে ফোন করলাম।
বল অনি।
খোঁজ পেলে?
না।
তোমায় মল ফোন করেছিল?
হ্যাঁ। বললো তারাতারি ডিসিসান দিতে।
কি বললে?
অনেক টাকার অফার দিচ্ছে।
কি করবে?
ভাবছি।
আমি ঘুঁটি সাজিয়ে নিয়েছি। কাজ শুরু করে দিয়েছি। কোনটা চাও টাকা না জীবন।
তুই আমাকে মেরে দিবি?
অনি কোনও দিন কাউকে মারে না তুমি জান। আর ইসলামভাইকে সে কোনওদিন মারবে না বরং ইসলামভাই সে ভুল করতে পারে।
ইস অনি আজ শুক্রবার, আমাদের জুম্মাবার, তুই একথা বলতে পারলি!
তুমি জানো ভালো করে, অনি যেখানে হাত দেবে, তার শেষ দেখে ছাড়বে। এর প্রমাণ তুমি মেরিনাদির সময় পেয়েছো।
ওই একটা ব্যাপারে আমি সারাজীবন তোর কাছে ঋণী থাকব।
ইসলামভাইয়ের গলাটা ভারি ভারি শোনাল।
বলো কি করতে চাও?
তুই বল আমায় কি করতে হবে?
তুমি মলকে ফোন করে বলে দাও, বিকেল পর্যন্ত ওর কাছে রাখতে। আমি সাসপেক্ট করছি এই মুহূর্তে অতীশবাবু, দিবাকর, সুনিতদার বাড়িতে আছে।
তুই সত্যি গুরুদেবে। খবরটা তুই পেলি কোথায়?
আমার পীরসাহেব এখন মাথার ওপর বসে আছে। ও আমাকে বলে দিল, এও বললো, আমি এই মুহূর্তে কোনও অন্যায় কিংবা ভুল কাজ করবো না।
তুই বল আমায় কি করতে হবে, আমি তোর গোলাম।
আমার বাড়ি চলে এসো।
কোথায়, তোর ফল্যাটে?
না। দাদার বাড়িতে। আর শোনো ট্যাক্সি নিয়ে আসবে। দূরে ছেড়ে দেবে, রিক্সা করে আসবে, মেসিন সঙ্গে রাখবে।
আমাকে নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। আমি ঠিক পৌঁছে যাব।
দাদা বাথরুম থেকে কখন এসে ইজি চেয়ারে বসেছে খেয়াল করিনি।
দাদার দিকে তাকিয়ে বললাম, এবার তোমায় একটা সাহায্য করতে হবে।
বল কি করতে হবে।
ছোটোমা চা নিয়ে এলো। মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম, তোর হাতের ঠান্ডা ভাবটা এবার গরম হয়েছে। টেনসন অনেকটা হজম করেছিস। ওঠনা ছোটোমার সঙ্গে একটু কাজ কর। নির্জীবের মতো ঠায় বসে আছিস কেন। আমি কি মরে যাচ্ছি। এমন ভাবে বসে আছিস…।
মিত্রা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে, নড়েচড়ে বসলো।
বড়োমার দিকে তাকিয়ে বললাম, কতক্ষণ দাঁড়াবে, একটু বসো। এবার বুঝতে পারছো আমি কি করতে যাচ্ছি?
একটু একটু বুঝছি।
বসো। সব বোঝাব।
তোর কি এগুলো মুখস্ত ছিল?
কি!
তুই পড়া মুখস্তর মতো কাজ করছিস।
হেসে ফললাম।
জানো বড়োমা ঘা খেতে খেতে নিজে ঘেয়ো কুত্তা হয়ে গেছি, ওই যে ভজুকে দেখতে পাচ্ছ, ও আমার অনেক এরকম কাজের সাক্ষী। দেখো ওর কোনও মুভমেন্ট নেই।
দাদার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমি যা যা বলছি তুমি এতক্ষণ শুনলে, তুমি ফোন করে এই ঘটনাটা জানতে চাইবে।
কাকে?
ভবানীভবনে ফোন করো, জানতে চাও আমাদের ওই থানার কথা বলে এই রকম কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা, ঘটলে ওরা কি সাসপেক্ট করছে। তোমার পরিচয় দিয়ে ফোন করবে।
তাহলে তোদের ওখানকার এসপিকে ফোন করি।
এই তো তোমার মাথা কাজ করতে শুরু করেছে। বাকিটা তোমায় বলতে হবে না। তারপর তোমার জেলা সভাধিপতিকে বলে দাও, অনাদির গায়ে যেন হাত না পড়ে। অমূল্য দায়টা ওর ঘারে চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলে কেরিয়ার বুমেরাং করতে চাইছে। নিরঞ্জনবাবু তোমার কাছের লোক।
ওটা ও পারবে না, আমি ফোন করবো। ওকে এসপিকে ফোন করতে বল। বড়োমা বললো।
আমি বড়োমার দিকে তাকালাম, একটু অবাক হলাম। আমার চোখের কথা বড়োমা পড়ে ফেললো।
ভাবছিস বড়োমার সঙ্গে নিরঞ্জনের পরিচয় কি করে হলো?
হাসলাম।
তুই আমার কাছে কনফেস করেছিস, আমিও তোর কাছে কনফেস করবো।
মিত্রা সকলকে চা এগিয়ে দিল। ভজু ছোটোমার পেছনে। ট্রে ধরে দাঁড়িয়ে।
অমিতাভদা এসপিকে ফোন করলো। উনি খবরের সত্যতা স্বীকার করলেন। বললেন, সাসপেক্ট করছি মার্ডার, ছেলেটি বেপাত্তা, ওর বাবা-মাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আচ্ছা।
এখন খবর করবেন না, আপনি দুপুরের দিকে একবার ফোন করুণ, আমি ডিটেলসে বলতে পারবো।
কেন, কোনও পলিটিক্যাল ইসু আছে নাকি?
সেরকম একটা গন্ধ পাচ্ছি। ছেলেটি ওখানকার লোকাল পঞ্চায়েতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ওকে ইন্ট্রোগেট করেছেন।
করেছি। দিবাকর বলে ছেলেটা নাকি আপনার অফিস নিয়েও কি গন্ডগোল করেছে কানাঘুষ শুনতে পাচ্ছি।
সেই জন্যই আপনার থেকে বিষয়টা জানতে চাইছি, আমার অফিসের কেউ এর মধ্যে জড়িয়ে পরেছে কিনা।
কি করে বলি বলুন, কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়, কিছুই বলতে পারছি না।
ঠিক আছে।
আপনার কাছে কোনও খবর থাকলে যদি একটু হেল্প করেন।
দুপুরে কথা হবে।
অরিজিন্যাল ব্যাপারটা বুঝলে।
বুঝলাম, তোর দূরদৃষ্টি অনেক বেশি।
দাও দেখি নিরঞ্জনকে ধরে, মুখপোড়ার পার্টিকরা বের করছি।
থামো থামো তাড়াহুড় করছো কেন। অনি কি বলে শোনো।
থামো, নাক টিপলে দুধ বেড়োয় ও কি বলবে আমাকে।
আমি মুখ টিপে হেসে ফেললাম।
দাদা ফোনটা ডায়াল করে দিল।
হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গেই বড়োমা ঝাঁজিয়ে উঠলো।
কে রে নিরঞ্জন?
হ্যাঁ দিদি আমি, তুমি এত সকালে!
মুখপোড়া কোনও খবর রাখিস, আমি এখানে বসে তোদের সব খবর রাখি।
বাবাঃ তুমি তো এই সাত সকালে খুব ফায়ার মনে হচ্ছে, দাদার সঙ্গে কিছু….।
মরন, তোর দাদার সঙ্গে হতে যাবে কেন।
তাহলে!
তোর ওপর রাগ হচ্ছে।
আমার ওপর! বলো কি হুকুম আছে।
তোর ওখানে কে একটা খুন হয়েছে।
আমার এখানে! না।
ওই অনিদের গ্রামে।
হ্যাঁ। সেরকম একটা খবর পেলাম। বাবাঃ তুমি তো সাংবাদিক হয়ে গেছ।
আমি আজ ওখানে যাব বলে ঠিক করেছিলাম, যেতে পারছি না। অনাদি না কে তোর অনিদের গ্রামের পঞ্চায়েত তাক নাকি ফাঁসান হচ্ছে, তোর অমূল্য না কে সে এটা করছে।
না না তুমি ভুল শুনেছ।
তোর কাছ থেকে আমি খবর নেব, আমি পঁচিশ বছর সাংবাদিকের ঘর করছি।
জানি, তুমি এসো, আমি এসকর্টের ব্যবস্থা করছি।
তার আর দরকার পরবে না, শোন অনাদির যদি কিছু হয়, অনিকে বলবো তোকে আচ্ছা করে দিতে, মনে রাখিস।
না না তোমার পায়ে পরি অনিকে কিছু বলো না। ও আগুন ওর বায়োডাটা আমার কাছে আছে। ও ভিজে বেড়াল, ওতো আমার বাপ গো, আমার গদি খেয়ে নেবে। তুমি চাও তোমার ভায়ের গদি চলে যাক।
তাহলে কি করবি?
তোমায় কথা দিচ্ছি অনাদির গায়ে কেউ হাত দিতে পারবে না।
মনে থাকে যেন। আর কাল আমার সঙ্গে এসে দেখা করবি।
ঠিক আছে। আমি কথা দিলাম।
বড়োমা আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।
কিরে তোর মতো কথা বলতে পারলাম।
আমি বড়োমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ রাখলাম।
বাইরে গাড়ির আওয়াজ পেলাম। বুঝলাম সন্দীপ এলো।
ভজুর দিকে তাকাতে ভজু বেরিয়ে গেল ওদের সঙ্গে করে ওপরে নিয়ে এলো।
সবার মুখ থম থমে, ফুল টেনসনে আছে।
ছোটোমা ভজু বেরিয়ে গেল।
মিত্রাকে বললাম ফোনটা দে।
তোর! না আমার?
আমার।
তোর হাতে।
সরি।
মিত্রা মুচকি হাসল।
দ্বীপায়ন।
হ্যাঁ দাদা।
আমার ফোন থেকে কয়েকটা জিনিস সন্দীপের ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে নাও। তারপর সব বলছি।
আমি ওকে ফাইলগুলো দেখিয়ে দিলাম।
দ্বীপায়ন ল্যাপটপটা টেবিলে রেখে কাজ শুরু করলো।
ভজু মিঃ মুখার্জীকে সঙ্গে করে ওপরে নিয়ে এলেন।
সবার সঙ্গে ওনাকে পরিচয় করিয়ে দিলাম।
উনি বললেন আমার কি সৌভাগ্য। আজ কার মুখ দেখে সকালে উঠেছিলাম। এরকম মান্যগণ্য মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হলো। ম্যাডামের নাম আমি অনেক শুনেছি, চাক্ষুষ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আজ আপনার কৃপায় সেই সৌভাগ্য হলো।
হাসলাম।
উনি দাদা, বড়োমার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন। মল্লিকদার সঙ্গে করমর্দন করলেন।
চা এলো।
সন্দীপকে বললাম, আমার খাম দে।
সন্দীপ ব্যাগ থেকে সব বার করলো।
এক নম্বর খামটা মিঃ মুখার্জীর হাতে দিয়ে বললাম, চা খেতে খেতে লেখাটা আপনি পড়ুন। সব ডাটা পাবেন। নোট করে নিন। আপনি বুঝে যাবেন আপনার কাজ কি। আর এর সঙ্গে একটা ফাউ দেব।
মিঃ মুখার্জী চা খেতে খেতে পড়া শেষ করে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।
কালকের কাগজে এটা বেরলে ঝড় উঠে যাবে সরকারে।
আপনার।
এ কাজ আমি করতে পারলে, সত্যি বলছি অনিবাবু আমার ইনক্রিমেন্ট বাগিয়ে ছারবো। এতো বড় কেস, আপনি হাতে রেখে দিয়েছেন এতদিন।
আর একটা কথা শুনুন। আমার অফিসের একটা স্টাফের এ্যাড্রেস আপনাকে দিচ্ছি, যেটা ফাউ বললাম। সেইটাও এই মওকায় ঢু মেরে দিন। সেখানে একজন খুনিকে আপনি পেয়ে যাবেন।
বলছেন কি?
আমি তার ছবি আপনাকে দেখিয়ে দিচ্ছি।
সন্দীপের দিকে তাকিয়ে বললাম, সন্দীপ হয়ে গেছে?
দ্বীপায়ন আমার দিকে তাকিয়ে বললো। অনিদা একটু এদিকে এসো।
আমি কাছে গেলাম, মিত্রা বুঝে গেছে। আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।
দ্বীপায়ন আমায় ইশারায় বললো, এটা।
আমি বললাম, এটাই জীবন্ত দলিলরে পাগল। গুছিয়ে রাখবি। কারুর কাছে নেই।
দ্বীপায়ণ আমার দিকে তাকাল। চোখে বিষ্ময়!
ওই প্রিয়েডে জোর করে ওর মোবাইল থেকে সব কিছু কপি করার সময় চলে এসেছে।
দ্বীপায়ন হাসছে।
মেয়েটা কাল মারা গেছে, পুলিশ বলছে সুইসাইড, আমি প্রমাণ করে দেব সুইসাইড নয় মার্ডার। আমার ইচ্ছে ছিল আজ যাব না। কিন্তু কথা দিয়েছি বড়োমাদের। আমাকে যেতে হবে।
তুই থাকলে ভালো হতো। সন্দীপ বললো।
মিত্রা, তোর একটা কাপর-সায়া-ব্লাউজ সিঁদুরকৌট আর গোটা কয়েক চুড়ি নিয়ে আয়।
মিত্রা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল।
সন্দীপ আমার হাত দুটো ধরে ফেলেছে।
সরি, সরি আর হবে না। আমি করে ফেলতে পারবো।
মিত্রা ফিক করে হেসে ফেললো।
মেনাবোতল এনে দেব।
দাদা আছে। সন্দীপ দাঁত চিবচ্ছে।
থাকুকু।
মিঃ মুখার্জীকে কাছে ডেকে নিলাম। এই সেই ছেলে এর নাম দিবাকর, আর এই সেই ব্যাক্তি এর নাম সুনিত। এর সঙ্গে আপনি একেও পাবেন এ হচ্ছে অতীশ। অপারেশন হয়ে গেলে আমাকে একবার জানাবেন। আর একটা কথা, জীবনে কোনওদিন এরা যেন ভেতর থেকে বাইরে বেরতে না পারে। সেইভাবে কেশ সাজাবেন।
আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনাকে কথা দিলাম।
দেরি করবেন না, আপনার কাজে লেগে পরুন।
মিঃ মুখার্জী সকলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে চলে গেলেন। আমি একবারে সিঁড়ির মুখ পর্যন্ত ওনাকে এগিয়ে দিলাম। বারান্দা দিয়ে আসার সময় দেখলাম মিঃ মুখার্জীর গাড়ি গেটের বাইরে চলে গেল।
আমি সন্দীপের কাছে গেলাম, ছবিগুলো সাজিয়ে দিলাম। মনে পরে গেল মিত্রা ফাংশনের ছবি তুলেছিল। ওর দিকে তাকিয়ে বললাম।
তুই সেইদিন ফাংশনের ছবি তুলেছিলি না।
হ্যাঁ।
তোর মনেপড়ে তুই দেবা আর শেলির ছবি তুলেছিলি কিনা।
মনেপড়ছে না। সেটা ওই অবস্থায় আছে এখনও দেখা হয়নি।
কোথায় তোর ক্যামেরা।
নিচে, ব্যাগের মধ্যে।
নিয়ে আয়।
এতক্ষণে খেয়াল পরলো সেই ছেলে দুটোর দিকে।
ওরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে ফ্যাল ফ্যাল করে। আমি দেখে হেসে ফেললাম। বড়োমার দিকে তাকিয়ে বললাম, ভজুকে বলোনা কচুরী জিলিপি আনতে।
তোর খিদে পায়! ছোটোমা বললো।
এখন পাচ্ছে।
যাচ্ছি।
আমি এগিয়ে গেলাম, সেই রাতের পর তোমাদের সঙ্গে দেখা হলো।
দাদাকে তোমার কথা প্রতিদিন জিজ্ঞাসা করি।
দাদা বলেছেন। তোমাদের কেন ডেকেছি বলো?
তুমি বলো, যা বলবে তাই করবো।
খুব রিক্সের কাজ।
পারবো। দুজনেরি চোখেমুখে কনফিডেন্টের ছায়া।
পারবে?
তুমি বলোনা অনিদা।
ঠিক আছে বলছি।
দাদার দিকে তাকালাম, দাদা একমনে লেখাটা পড়ছে। বিরক্ত করলাম না।
মিত্রা ক্যামেরা নিয়ে এলো।
আমি সন্দীপকে বললাম, দেখ সেদিন এখানে ফাংসনের কিছু ছবি তোলা আছে। তার মধ্যে এদের দুজনের ছবি পাস কিনা।
ওরা দেখতে আরম্ভ করলো, সত্যি সত্যি পেয়ে গেল, এমনকি দেবা-শেলীর জয়েন্ট ছবিও পেয়ে গেল। সন্দীপের মুখটা চক চক করে উঠলো। কালকে আমাদের ফ্রন্ট পেজটা এক্সক্লুসিভ হবে।
দাদা আমার লেখা থেকে মুখ তুললো। বড়োমা চায়ের ট্রে হাতে ঢুকলো। মিত্রা দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল।
ভজু কোথায়?
নিচে।
দেখেছো ছেলের কান্ড। একেবারে এ্যাটমবোম।
ছোটো ছোটো ছেলেগুলো আছে, নাহলে তোমার থোঁতা মুখ একবারে ভোঁতা করে দিতাম। বড়োমা বললো।
দাদা বড়োমার দিকে কেমনভাবে যেন তাকিয়ে। মুচকি মুচকি হাসছে।
তোমার পড়া হয়েছে?
হ্যাঁ।
কেমন বুঝছো?
তোর প্ল্যান ঠিক আছে। কিন্তু ডকুমেন্টস, ডকুমেন্টস ছাড়া এ লেখা ছাপব না।
দিচ্ছি। বড়োমা।
বড়োমা আমার দিকে তাকাল।
তুমি একটু রান্নাঘরে যাও।
কেন!
তোমার রান্নাঘরের ওপরে যে দেয়াল আলমাড়িটা আছে, পাল্লাটা খুলবে। ডান দিকে হাত দেবে দেখবে দুটো রোল আছে, ব্রাউন কাগজে মোড়া।
আমি ওপরে উঠবো কেমন করে।
ভজুকে বলো পেরে দেবে।
তোর ডকুমেন্টস রান্নাঘরে! দাদা বলে উঠলো।
তাহলে কোথায় রাখব? তোমার আলমাড়িতে?
বড়োমা একবার তাকাল দাদার দিকে, চোখের চাহুনিতেই সব বুঝিয়ে দিল।
দাদা হাসতে হাসতে চায়ে চুমুক দিল। বড়োমা বেরিয়ে গেল।
মল্লিকদার দিকে তাকিয়ে বললাম, নিস্তব্ধে সব বসে বসে দেখলে এতক্ষণ, কাজটা ঠিকঠাক ভাবে কো-অর্ডিনেট করে বার করবে।
আমাদের ফটোগ্রাফার পাঠাবি না। মল্লিকদা বললো।
এই দুটোর যে কোন একজন ফটো তুলবে। তাও ক্যামেরায় না, মোবাইলে। ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম, কিরে পারবি না তোরা।
ওরা মাথা দোলাল। পারবে।
সন্দীপকে বললাম, তোদের হয়েছে, দেরি করছিস কেন। আমার হাতে সময় নেই। এবার একটা ছোট্ট মিটিং করতে হবে।
হ্যাঁ আমরা রেডি।
ভজু কচুরির ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকলো।
কিরে তুই, বড়োমা-ছোটোমা কোথায়?
নিচে। তোমায় একবার ডাকছে। ভজুর চোখ ভারি ভারি। কেমন যেন ছল ছল করছে।
মিত্রাকেও দেখতে পেলাম না। সেই যে ক্যামেরাটা রেখে নিচে চলে গেল। আর ওপরে আসে নি। কেমন খটকা লাগলো। বুঝলাম নিচে কিছু একটা হয়েছে।
তোরা কাজ কর, আমি একটু আসছি।
হন হন করে শিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম।
বড়োমার ঘরে ঢুকতে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম তার জন্য আমি কখনও কোনওদিন মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আমি কোনওদিন স্বপ্নেও কল্পনা করিনি এরকম একটা দৃশ্য আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। খাবার টেবিলের সামনে ইসলামভাই ছোটোমাকে জড়িয়ে ধরে ঝড় ঝড় করে কাঁদছে। ছোটোমাও কাঁদছে ইসলামভাইকে জড়িয়ে ধরে। বড়োমা ছোটোমার মাথায় হাত বোলাচ্ছে। বড়োমার চোখদুটো জবা ফুলের মতো লাল।
আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আমি কেমন যেন হেয়ে গেছি। স্থানুর মতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমাকে ওইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিত্রা আমার কাছে এগিয়ে এলো। ভজু আমার ঠিক পেছনে। মনে হচ্ছে এই ব্যাপারটা নিচে নিস্তব্ধে ঘটে গেছে। কেউ জানে না।
মিত্রা আমার হাতটা ধরে কাঁধে মাথা রাখল। মিত্রাও কাঁদছে।
ভজুর দিকে ফিরে তাকালাম, ভজুও চোখ মুছছে।
ইসলামভাইকে আমি আজও পর্যন্ত এইভাবে কাঁদতে দেখিনি।
মেরিনাদি মারা যাওয়ার পর যখন ফিরে এসেছি, আমাকে দেখে চোখ দুটো ছল ছল করেছে, কিন্তু সেইভাবে কাঁদেনি। অনেক কাছ থেকে ওকে দেখেছি। হয়তো ওর টিমের অনেকেরই ওকে ওইভাবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। এতো ঝড় ঝাপটা ওর ওপর দিয়ে গেছে। তবু ওর চোখে কোনওদিন জল দেখিনি।
মেরিনাদির মৃত্যুর মুহূর্তে ওকে দেখিনি। তখন আমি বাইরে ছিলাম। ফিরে আসার পর আমাকে নিয়ে মেরিনাদিকে যেখানে মাটি দেওয়া হয়েছিল, নিয়েগেছিল। হাত ধরে শুধু বলেছিল, তোর দিদি চলেগেল। কথাটা বলার সময় গলাটা সামান্য ভারি হয়েছিল।
এটা তুই নিউজ করিস না। সব গজব হয়ে যাবে।
আমি কথা রেখেছিলাম।
তবে কারুর কারুর স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আইনের বাঁধনে যখন ইসলামভাইকে জড়ানোর চেষ্টা হলো। আমি কলম ধরতে বাধ্য হয়েছিলাম।
মেরিনাদিকে নিয়ে আমি ধারাবাহিক ভাবে খুব সুন্দর একটা ফিচার লিখে ছিলাম।
আমার লেখা নিয়ে সেই সময় খুব হইচই হলো চারদিকে। ইসলামভাই-এর উকিল আমাকে কোর্টে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করেছিলেন। আম যা সত্যি তাই বলেছিলাম।
ইসলামভাই বেকসুর খালাস পেয়েছিল।
আমার উত্তরণ মেরিনাদি-ইসলামভাই-এর হাত ধরে।
সেই সময় মেরিনাদি ফাঁক পেলেই আমার কাছে প্রায়ই আসতো। অনেক কথা বলতো। একদিন কথায় কথায় ইসলামভাই-এর সম্বন্ধে অনেক কথা বলেছিল। ইসলামভাইও আমাকে নিজের সম্বন্ধে অনেক গল্প বলেছে। ও পাক্কা পাঠান বংশের ছেলে।
আমাকে শুনিয়েছিল খান, সৈয়দ, মোগল, পাঠান এই চার ভাই-এর গল্প। দারুন বলেছিল। তখনই বুঝেছিলাম ইসলামভাই-এর পেছনেও একটা সুন্দর ইতিহাস আছে। উপযাচক হয়ে কখনও জানতে চাই নি। বার বার আমায় বলতো, অনি আমি যখন থাকব না, আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখিস।
বড়োমা এগিয়ে এলো। চোখ দুটো ভিঁজে কাদা হয়েগেছে। ধরা গলায় বললো, ভেতরে আয়। তুই নিজেই পীরসাহেব, এটা জানিস না।
আমার সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। আমার অঙ্ক কিছুতেই মেলাতে পারছি না। কাছে এসে দেখলাম ছোটোমা-ইসলামভাই দুজনের চোখ বন্ধ। চোখের কোল বয়ে অনবরতো জল গড়িয়ে পরছে। মুখটা দুমড়ে মুচড়ে একাকার।
ছোটো, চোখ খোল অনি এসেছে। বড়োমা বললো।
ছোটোমা মাথা দোলাচ্ছে।
দেখ ও তোকে মা বলে ডাকে। সব শোনার পর ও তোকে মেনে নেবে।
না না দিদি ও আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না। ছোটোমা কান্নায় ভেঙে পরলো।
কি বলছিস তুই! তুই ওর ছোটোমা।
সব শুনলে আজ থেকে আমাকে আর ছোটোমা বলে ডাকবে না।
আমি বলছি, তুই শোন।
না দিদি না।
আমার মাথাটা কেমন গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা আমি আর ওখানে দাঁড়ালাম না। বড়োমাকে বললাম, দাঁড়াও আমি একটু ওপর থেকে আসছি।
ছুটে ওপরে চলে এলাম। দেখলাম দাদা, সন্দীপ, মল্লিকদা কথা বলছে। একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে বুঝলাম ওপরে সবাই ঠিক আছে। নিচের গন্ধ ওপরে আসে নি। সন্দীপকে বললাম, কিরে তোদের হলো।
সব ঠিকঠাক করে নিয়েছি।
দাদাকে বললাম, তুমি এবার বলো স্টোরিটা কি ভাবে সাজাবে।
দাদা দাদার মতো বলে গেল। মল্লিকদা মল্লিকদার মতামত দিল। সন্দীপকে বললাম তোর কিছু বলার আছে। সন্দীপ চুপচাপ থাকল। আমি টেবিলের ওপর থেকে কাগজ পেন বার করলাম। ড্রইং করে বুঝিয়ে দিলাম। কোথায় ছবি ইনসার্ট হবে। কোথায় দিবাকরের লেখাটা যাবে। কিভাবে দিবাকরের সঙ্গে মলের লেখাটা টুইস্ট করা হবে। কালকের প্রথম পেজটা সম্বন্ধে আমি কি ছবি দেখতে চাইছি সেটা ওদের ভালো করে বুঝিয়ে দিলাম।
ভজু সনাতনবাবুকে নিয়ে এলো আমার ঘরে।
এতো দেরি!
ছোটোবাবু আমার একটা সংসার আছে।
বসুন।
ছেলে দুটোর দিকে তাকিয়ে বললাম, সকালে যিনি এসেছিলেন, তিনি এই দুটো ঠিকানায় যাবেন। তোমরা দুজনে দুটো বাড়ি ফলোআপ করবে। নিউজ আমার সলিড চাই। ডিটেলসে, তোমরাই লিখবে, কালকে ফার্স্ট পেজে বাই নেমে তোমাদের নিউজ যাবে, এটা মনে রাখবে।
দ্বীপায়নের দিকে তাকিয়ে বললাম, বাড়ি গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে এখুনি অফিসে যাও। আজকের ফার্স্টপেজের দায়িত্ব তোমার। তোমায় যদি আর্টডিরেক্টর কিছু বলেন, আমায় ফোন করতে বলবে। দাদা, মল্লিকদা টোটাল ব্যাপারটা কো-অর্ডিনেট করবে।
তোমরা এখুনি বেরিয়ে যাও, কাজ শুরু করো। আমি মানিপার্টস থেকে সন্দীপের হাতে পাঁচটা একহাজার টাকার নোট দিয়ে বললাম, এটা রাখ, বাকিটা অফিস থেকে বিল করে নিয়ে নিবি।
ছেলেদুটোকে ডাকলাম, এই শোনো আজ সারাদিন অফিসের গাড়ি ব্যাবহার করবে না।
ওরা মাথা দোলাল।
সন্দীপ তুইও না। শেষ কথা আমার কাজ চাই এটা মাথায় রাখবি। কেউ আমায় ফোন করবি না। আমি তোদের ফোন করবো।
ছেলে দুটোর দিকে তাকালাম।
তোমাদের কোনও প্রবলেম হলে সন্দীপকে ফোন করবে, দাদা কিংবা মল্লিকদাকে বিরক্ত করবে না।
আচ্ছা। ওরা বেরিয়ে গেল।
আমি সনাতনবাবুর দিকে তাকালাম। সমস্ত ঘটনা বললাম, তিনটে শোকজের নোটিস লিখে ফেলুন, একটা সুনিতদার নামে, একটা কিংশুকের নামে, একটা অতীশবাবুর নামে। অফিসে গিয়ে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন। কি লিখতে হবে বলে দিতে হবে।
না।
ডকুমেন্টস আমি দেব।
অফিস থেকে কখন ম্যাসেঞ্জার যাবে দাদাকে বলে দেব। দাদা আপনাকে বলে দেবেন।
ওরকম ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
আমি কিছু বুঝলাম না।
অফিসে দাদার সঙ্গে কথা বলবেন, দাদা বুঝিয়ে দেবে। তারপর আর বেশি বুঝতে যাবেন না। বিপদে পরে যাবেন। এখন যা বলে যাচ্ছি অন্ধের মতো ফলোআপ করুণ।
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
এবার আপনি আসুন, অফিসে গিয়ে আগে কাজগুলো সেরে ফেলুন।
সনাতনবাবু চলে গেলেন।
দাদাকে বললাম দ্যাখো, আমার ফোন বন্ধ থাকবে। তুমি আমাকে পাবে না। মিত্রাকেও পাবে না। বড়োমার ফোনে ফোন করবে। আমি পর্শুদিন ফিরে আসব। তোমার ওপর একটু চাপ আসতে পারে।
আমি ঠিক সামলে দেব।
মল্লিকদা তুমি কিন্তু দাদার পাশে পাশে থাকবে। একটু কিছু বেচাল দেখলেই আমাকে জানাবে। আর বেশিরভাগ সময় আমার ঘারে বন্ধুক রাখবে।
ঠিক আছে।
তোমরা নিচে যাও, সকাল থেকে তোমাদের অনেক টেনসন দিলাম।
নারে অনি তুই যে খেলা খেললি, এটা একটা মানুষকে খুন করার থেকেও বেশি।
আমি মল্লিকদার মুখের দিকে তাকালাম।
এটা বিশ্বাস করো?
নিশ্চই।
দাদারা নিচে চলে গেল।
আমি দরজা বন্ধ করলাম। একটা সিগারেট ধরিয়ে, অনাদিকে ফোন করলাম।
গুরু সত্যি তুই বড় খেলোয়াড়।
কেন?
যে পুলিশ তোর সঙ্গে কথা বলার আগে আমাকে চমকাচ্ছিল, এখন দেখি আমাকে তেল দিচ্ছে।
হাসলাম।
অমূল্য কি করছে?
কাল থেকে মাতব্বরি করছিল, এখন হাওয়া। তোরা কখন রওনা হচ্ছিস?
সকাল থেকে অনেক টেনসন গেল, এবার রওনা হবো।
তোর আবার কিসের টেনসন।
আছে।
তুই ছোটো কাজ করে পথ দেখালি। আমি একটা বড় কাজ সেরে ফেললাম।
নে বাসুর সঙ্গে কথা বল।
বল বাসু।
কখন বেরচ্ছিস।
এই এবার বেরব।
চিকনাকে খবর দিয়েছিস?
হ্যাঁ।
দিবাকরের বাবা-মা দুজনকে এ্যারেস্ট করেছে?
হ্যাঁ।
দিবাকরের খবর কিছু পেয়েছিস?
না।
তুই ওখান থেকে একটু দূরে সরে যা।
দাঁড়া। একটু চুপ থেকে বাসু বললো, অনি।
বল।
তুই ফোনটা কাট, আমি আমার ফোন থেকে তোকে ডায়াল করছি।
আচ্ছা।
কিছুক্ষণ পর বাসু ডায়াল করলো।
বল।
অনেক কথা শুনছি, ও নাকি কলকাতায় কোথায় লুকিয়ে আছে।
শেলি কি প্রেগনেন্ট ছিল?
পুলিশ জানে না, আমরা জানতাম।
কি করে?
দিবাকর কানা সামন্তর কাছে মাঝে গেছিল খালাস করার জন্য।
তাই!
হ্যাঁ।
শেলি রাজি হয়নি। কয়েকদিন ধরেই গন্ডগোল চলছে। অনাদি একটা সমাধান করতে চেয়েছিল। দিবাকরকে অমূল্য ব্যাক করলো।
আমি হাসলাম।
দরজাটা খট খট করে উঠলো।
ঠিক আছে, আমি গিয়ে শুনবো।
দরজাটা খুললাম, ইসলামভাই-ছোটোমা সামনে দাঁড়িয়ে, পেছনে মিত্রা-বড়োমা। তার পেছনে দাঁড়িয়ে ভজু। অমিতাভদা, মল্লিকদাকে দেখতে পেলাম না। বুঝলাম তারা ব্যাপারটা জেনেছে।
ইসলামভাই আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, আমাকে বুকে জড়িয়ে নিল।
তুই আমাকে ক্ষমা কর অনি।
কেন?
তুই সব জেনেও এতদিন বলিসনি।
আমি কি জানি বলো, যা তোমাকে বলিনি।
আমার সম্বন্ধে।
তোমার সম্বন্ধে আমি কিছুই জানি না।
আমায় ভজু এখুনি বললো, তুই বল ভজু সব মিথ্যে বলেছে।
ভজু তোমায় মিথ্যে বলেনি, আবার সম্পূর্ণ সত্যি বলেনি।
ও যা বললো।
যতটুকু লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেছিল, সেই টুকু বলেছে।
তাহলে তুই এতদিন আমাকে বলিসনি কেন। আমায় বিশ্বাস করিস না।
তুমিই একদিন বলেছিলে ইসলামভাই, অনি বড় হতে গেলে তোর দুটো হাতকেও বিশ্বাস করবি না। আমি কি অন্যায় করেছি বলো?
তোর সঙ্গে পারবো না।
তুমি কোনওদিন হারতে জান না। বলেছিলে, পাঠানরা জঙ্গের ময়দানে নয় জেতে না হলে প্রাণ দেয়। তাহলে এই কথা বলছো কেন?
তোর মনে আছে!
হ্যাঁ।
তুই বললে আমি তোর পায়ে আমার মাথাটা কেটে ফেলে দিতে পারি।
কোনও কথার উত্তর দিলাম না। ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
বড়োমার তোমাকে দেখার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। এই ভাবে তোমাকে দেখাতে চাইনি। ঘটনাটা ঘটে গেল। কি করবো বলো।
তুই আমার দিদিকে আর মা বলে ডাকবি না।
এ কথা তোমাকে কে বললো?
দিদি বলছে।
দেখো ইসলামভাই ছোটোমা যেদিন আমাকে জোর করে বলেছিল, তুই আমার সম্বন্ধে জানতে চাইবি না, জানতে চাইলে আমার থেকে কেউ বেশি কষ্ট পাবে না। সেদিন থেকে আমি ওই চ্যাপ্টারটা ক্লোজ করে দিয়েছি। যেহেতু আমার ছোটোমা। মাকে কোনওদিন আমি কষ্ট দিতে পারবো না।
ছোটোমা আমাকে জাপ্টে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
আমি কিছুক্ষণ নিশ্চলের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম।
ছোটোমা আমার এখানের কাজ শেষ। এবার বেরতে হবে।
আমি যাব না।
যেতে তোমাকে হবে ছোটোমা।
আমার গলার কাঠিন্যে কেউ যেন ওদের গালে একটা কোষে থাপ্পর কষালো। আমার দিকে সবাই অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমার আরও কিছু কাজ বাকি আছে। তোমাকে তার সাক্ষী থাকতে হবে। তোমরা চেয়েছিলে অনি তোমাদের বলেকয়ে সব কাজ করুক। আমার এই কাজকর্ম সম্বন্ধে তোমাদেরও কিছু বলার থাকতে পারে।
তোর কাছে আমি কোনওদিন আর কিছু জানতে চাইব না।
কেন জানতে চাইবে না?
ছোটোমা চুপ করে রইলো।
তাহলে তুমি আমাকে তোমার ছেলে হিসাবে স্বীকার করছো না।
ছোটোমা আমাকে জড়িয়ে ধরে ঝর ঝর করে কাঁদছে।
যাও তোমরা নিচে যাও আমি ইসলামভাই-এর সঙ্গে কিছু কথা বলে নিচে যাচ্ছি। পনেরো মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে যাব। দেরি হয়ে গেছে। কচুরি, জিলিপি, তরকারি সঙ্গে নিয়ে নেবে। গাড়িতে বসে খাব।
ওরা নিচে চলে গেল। আমি দরজা বন্ধ করলাম।
ইসলামভাই আমার পা জড়িয়ে ধরলো।
এটা কি করছো! আমি ইসলামভাই-এর হাতদুটো ধরে ফেললাম।
আমি বে-জাত তুই আমার থেকে ছোটো কিন্তু তোর মন অনেক বড়ো।
আমি চুপ করে রইলাম।
জানিস অনি তোর জন্য আমার দিদিকে ৩০ বছর পর ফিরে পেলাম। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।
আমি ইসলামভাইকে হাত ধরে তুললাম, ইসলামভাই আমার থেকেও লম্বা।
বল তুই আমায় কি করতে হবে।
আমার কাজ শেষ, তোমার কাজ শুরু করতে হবে।
আমি দাদার মুখ থেকে নিচে সব শুনলাম, আমার জন্য কিছু বাকি রাখিসনি তুই।
আছে। তোমাকে তিনটে অপসন দিচ্ছি তুমি বেছে নাও।
বল।
এক তুমি কলকাতা ছেড়ে এখুনি চলে যাও, দুই তুমি আমার সঙ্গে এখুনি চলো, তিন তুমি দামিনীমাসির কাছে গিয়ে থাকো।
কেন বল!
মল তোমাকে ছারবে না। ও রাজস্থানী। একটা মরণ কামড় দেবে। সেটা যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে, আমার মন বলছে আজকের মধ্যে।
মনে হচ্ছে আজকে প্রথম তোর ইসলামভাই-এর পা দুটো সামান্য কাঁপছে।
ও তোমার এ্যান্টি অবতারকে ফিট করতে পারে।
তোর কথা মানছি। অবতার একাজ করতে ভয় পাবে।
তুমি ভাবছো কি করে। আমি যদি বরে দিয়ে রাজা খেতে পারি ও পারবে না কেন। সকাল থেকে তুমি কোনও রেসপন্স করো নি। যদিও খেলা শুরু হয়ে গেছে।
এ খেলার পরও তুই বলছিস ও করবে?
শেষ ঝুঁকিটা ও নেবে। আমাকে আরও সাতদিন সময় দিতে হবে।
তুই বল কি করবো।
আমার কাছে থাকাটা তোমার সবচেয়ে বেশি সেফ।
তুই কি তোর সঙ্গে আমায় যেতে বলছিস।
হ্যাঁ।
একটা মেসিন ছাড়া, আমি কিছু নিয়ে আসিনি।
আমি তোমাকে এই মুহূর্তে ছাড়তে চাইছি না।
আমাকে পনেরমিনিট সময় দে।
ঠিক আছে। বাড়ির বাইরে যাবে না। যা কিছু এখানে পৌঁছে দিতে বলো। যে ভাবে তুমি এসেছো সেই ভাবে।
ভজুকে নিয়ে চল।
তাই হবে। তোমার রাজত্ব কে সামলাবে।
রতনকে বলেছি।
তোমার ফোন।
এটা আমার পার্সোনাল ফোন। কাজেরটা রতনের কাছে আছে।
দেরি করবো না। বেরিয়ে পড়তে হবে।
ঠিক আছে। তুই যা বললি তাই হবে।
নিচে চলে এলাম।
দাদাকে সব বললাম।
দাদা বললো, তোকে ভবতে হবে না, তুই যা।
মল্লিকদা আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছে না।
অপরাধী অপরাধী মুখ করে বসে আছে। আমি কাছে গেলাম।
ভেটকি মাছের মতো বসে আছো কেন?
আমার দিকে তাকিয়ে মরা হাসি হাসল।
তুমি কি ছোটোমাকে ছারতে চাইছ না?
না না তুই নিয়ে যা। সারা জীবন অনেক কষ্ট পয়েছে। আমি ওকে কিছু দিতে পারিনি।
তুমি দিতে না পার তার ছেলে দিয়েছে, তুমি তাতে খুশী নও?
মল্লিকদা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমায় জড়িয়ে ধরল।
জানিস অনি আজ সকাল থেকে তোর লড়াইটা আমাকে বেঁচে থাকার ইন্সপিরেসন দিয়েছে। কালকে এক জায়গায় গেছিলাম, তুই গেলি না।
আবার বক বক করে, পেটে কিছু কথা থাকে না। বড়োমা খেঁকিয়ে উঠলো।
মিত্রা হাসলো।
ছোটোমা গম্ভীর।
আমি জানি।
তুই জানিস!
তোমাদেরটা না। আর একজনেরটা। সে তোমাদেরটা বলেনি। বলেছে যার যারটা সে বলবে।
বড়োমা মিত্রার দিকে তাকাল।
না-গো বড়োমা মিথ্যে কথা বলেছে। বানিয়ে বানিয়ে বলছে।
আর দেরি করা যাবে না। পৌনে-ন-টা বাজলো।
রবীন সব গোছগাছ করে নিয়েছে। ঝাক্কাস একটা গাড়ি নিয়ে এসেছে। ইসলামভাই তার কাজ এরই মধ্যে সেরে ফেলেছে। সবাই উঠে বসলাম। দাদাকে মল্লিকদাকে প্রণাম করে আমি সামনের সিটে বসলাম। বড়োমারা তিনজন মাঝের সিটে। বড়োমা মাঝখানে ছোটোমা, মিত্রা দুই জানলার ধারে। পেছনে ইসলামভাই ভজু। মিত্রা ঠিক আমার পেছনে।
সবাই চুপচাপ। আমি রাস্তার দু-পাশ ভালোকরে দেখতে দেখতে চললাম। কারুর মুখে কোনও কথা নেই। যে যার জানলার দিকে মুখ করে বসে আছে। সেকেন্ড হুগলি ব্রিজ দিয়ে গাড়ি কোনা বাইপাস হয়ে বম্বে রোডে এসে পড়লো। ভেতরে হাল্কা এসি চলছে।
বম্বে রোডে এসে আমি প্রথম কথা বললাম, বড়োমা।
বল।
আমার কচুরী?
মিত্রাকে জিজ্ঞাসা কর।
রাক্ষুসী, সব খেয়ে নিয়েছিস?
যাঃ ও কথা বলতে হয়। ছোটোমা বললো।
ভিউইংগ্লাস দিয়ে দেখতে পাচ্ছি, ইসলামভাই মুখে ওর্ণা চাপা দিয়েছে।
তুই আজ নির্ঘাত পায়খানা করবি। কাল থেক খেয়ে যাচ্ছিস। চারটে কচুরী তাও লোভ সামলাতে পারলি না।
চারটে না দশটা।
এ্যাঁ বলিস কি। আমি পিছন ফিরলাম।
তোর একটুও লজ্জা করে না?
তুই সকাল থেকে খুন-জখম-মল নিয়ে পরে রইলি, ভাবলাম ধাবায় বসে বেশ জমপেশ করে খাব, তা না বড়োমা কচুরী জিলিপি আনো। খিদে পেয়েছে, খেয়ে নিয়েছি।
তোর একটুও মনে হলো না, বুবুন খায় নি ওর জন্য এটলিস্ট দুটো রাখি।
খাওয়ার সময় মনে ছিল না। খাওয়া শেষ হতে মনে পরলো, তুই খাসনি।
ওদের হাসাহাসিতে রবীন পর্যন্ত হেসে ফেললো।
তুই আমায় বলছিস কেন, আমি একা খেয়েছি নাকি, তুই ছাড়া সবাই খেয়েছে।
তোর মতো।
না সবাই একটা একটা খেলো। ভজুকে বল না, কিপ্টার মতো নিয়ে এসেছিল কেন।
নাগো অনিদা, বড়োমা ৫০টা আনতে বলেছিল আমি এনেছি।
৫০টার মধ্যে তুই ১০ পিস। মানে ২০ পার্সেন্ট। ক্ষমা দে। সত্যি তোর পেট।
কয়েকদিন হলো বুঝলি খিদেটা বেরে গেছে।
বুঝেছি।
আর বক বক করতে হবে না, তুই এই বিস্কুটের প্যাকেটটা নে। বড়োমা বললো।
বড়োমা পুরোটা!
ভিউইং গ্লাস দিয়ে দেখলাম বড়োমা মিত্রার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
বুবুন তুই কি ভালো ছেলেরে, তুই তো সবাইকে দিয়ে খাস তাই না, তুই একলা খেতে পারিস না। দে আমাকে, সবাইকে ভাগ করে দিচ্ছি।
সবাই মুচকি মুচকি হাসছে।
বড়োমা।
বল।
একটা কাজ করবে।
কি কাজ?
নিরঞ্জনবাবুকে একটা ফোন করো। বলো আমাদের সঙ্গে যেন কালকে নয়, আজকে যেতে। তোমার ফোন থেকে করো।
আচ্ছা।
বিস্কুটের প্যাকেট আর আছে।
পেছনে দিতে বলছিস।
হ্যাঁ।
দিয়েছি। মিত্রাকেও দিয়েছি একটা প্যাকেট। ছোটো নিরঞ্জনকে ধরে দে।
মিত্রার দিকে তাকালাম, ও চোখ বন্ধ করে দুষ্টুমির ইশারা করলো।
হাসলাম।
তুই কিন্তু আমার সামনে বসে আছিস, দেবো চুলের মুটি ধরে।
দাঁড়া বাপু তোরা।
ছোটোমা ফোনটা বড়োমার দিকে এগিয়ে দিল। ধরো।
কেরে নিরঞ্জন। ….শোন আমি এখন ….কোথায় ….অনি ….তুই আমাদের সঙ্গে যাবি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আয় ….শোন যা বলছি কর ….ঠিক আছে ….মেরুন কালারের গাড়ি ….দাঁড়াবাপু দিচ্ছি ….বলে দিচ্ছে।
ছোটোমা রবীনকে ফোনটা দিল রবীন গাড়ির নম্বরটা বলে দিল।
কটা বাজে বলতো। আমি বললাম।
দেখ সামনের দিকে ঘড়ি আছে, তুই কানা।
সত্যি ঘড়ি আছে, দেখলাম, ১০টা বাজে।
ইসলামভাই-এর ফোনটা বেজে উঠলো।
আমি তাকালাম।
আসলাম আলেকম….এ্যাঁ কি বলছিস!….তুই ওখানে সেঁটে যা….আমাকে টাইম টু টাইম খবর দিবি….।
রবিন গাড়ি সাইড কর। রবিন একটু এগিয়ে গিয়ে গাড়ি সাইড করলো।
আমি গাড়ি থেকে নামলাম, মিত্রাকে বললাম, তুই ফ্রন্ট সিটে যা।
আমি পেছনে গিয়ে বসলাম।
ইসলামভাই আমার দিকে তাকাল।
তোর কথাই ঠিক। সাতদিন টাইম চেয়েছিলি। হলো না।
কি হলো না।
নিজে সুইসাইড করেছে। তোর ছেলেপুলেরা পাক্কা কাজ করছে। সত্যি অনি মাথা থেকে একটা বোঝা নামিয়ে দিলি তুই।
ইসলামভাই আমার হাতটা ধরলো, ছোটোমা পেছন দিকে তাকাল, হাসলো কিন্তু প্রাণ নেই। খুব আস্তে কথা হচ্ছে, বড়োমা পর্যন্ত শোনা যাবে।
বড়োমার ফোনটা বেজে উঠলো। বড়োমা নম্বরটা দেখে বললো।
দেখতো ছোটো কি বলে, মরন ফোন করার আর সময় পেলে না।
আঃ বড়োমা গাল দিও না, আমি দাদাকে বলেছি তোমার ফোনে ফোন করতে।
সেটা আগে বলবি তো।
আমি বড়োমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ধরলাম।
হ্যালো।
অনি।
হ্যাঁ বলো।
শোন তোর সেই মিঃ মুখার্জী ফোন করেছিল।
কি বললো।
কাজ হয়ে গেছে।
দু-বাড়িতেই।
হ্যাঁ। ওদের এ্যারেস্ট করেছে।
আর।
একটা বাজে ব্যাপার হয়েগেল।
কি।
মল নাকি সুইসাইড করেছে।
এটা তোমায় কে বললো, মিঃ মুখার্জী না অন্য কেউ।
আমাদের ওই বাচ্চা ছেলেটা, যাকে তুই কভার করতে পাঠালি।
মনে হচ্ছে ঠিক খবর পায় নি, আমি তোমায় একটু পরে ফোন করবো।
লেখাটার এ্যাঙ্গেল তাহলে বদলাতে হবে।
একটু দাঁড়াও পরে বলছি।
ঠিক আছে। আমি তোর বড়োমার ফোনেই তাহলে ফোন করব।
হ্যাঁ। মল্লিকদা ঠিক আছে।
খবর শুনে খুব খুশি।
আমাকে ফোন করে একটা থ্যাঙ্কস দিতে বলো।
নে কথা বল।
কি সাহেব কেমন বুঝছো?
আমি আবার সাহেব হলাম কবে থেকে!
আমি হাসছি।
একখান গেরো উদ্ধার হলো।
হ্যাঁ। আর একটা গেরো আছে। সেটা বলে আসি নি, তোমার তখন মন ভালো ছিল না।
সকাল থেকে কি সব ঘটে গেল।
তুমি বলো, আমি যা করেছি ভুল করেছি।
একবারে না, আমি তোকে সম্পূর্ণ সাপোর্ট করি। কি বলছিলি বল।
এটা তোমায় দায়িত্ব দিচ্ছি, তুমি পালন করবে, দাদা পারবে না।
বল।
একবারে গলার স্বর নামিয়ে নিলাম।
আজ অনেকে দাদার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। আগে তোমার সঙ্গে তারা কথা বলবে—
তারপর দাদার কাছে পাঠাব।
বুঝলে দাদার কাছে পাঠাবে। নাহলে গেট থেকে ভাগিয়ে দেবে। নিচে বলে দাও, আজ তোমরা ব্যস্ত। সন্দীপকেও এ কথা বলে দাও। আর একটা কথা।
বল।
মিঃ ব্যানার্জী আজ দাদার সঙ্গে দেখা করতে আসবে—
ছোটোমা, বড়োমা পেছন ফিরে তাকাল। ওরা গোগ্রাসে আমার কথা গিলছে।
কেন?
ও একটা মিউচুয়ালের অফার নিয়ে আসবে।
কি বলছিস তুই!
পরের কোপটা ওর ওপর পরবে। ও সেটা জানে। বহুত শেয়ানা লোক। গন্ধ পেয়ে যাবে। কি বলে শুনে যাও। তোমার কাছে অতটা জারিজুরি করতে পারবে না। দাদার পায়ে হাতে ধরে ফেলবে। উনি সব পারেন।
কি বলবো।
দিন পনেরো সময় নেবে, অনির সঙ্গে আগে কথা বলি তারপর, কাটিয়ে দাও।
নাও ছোটোর সঙ্গে কথা বলে মন ভালো করো।
ছোটোকে ফোনটা দিলাম। ছোটো ভ্রু বাঁকিয়ে আমার দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ ফোনে কথা হলো, হাসাহাসি হলো। কথা শেষ হতে বড়োমাকে ফোনটা দিল।
হ্যাঁরে অনি। বড়োমা বললো।
ডাক্তার এর মধ্যে এলো কি করে?
ছিলোই তো।
এটা তুই আগে বলেছিলি?
দিদিগো ও একটা জিনিস। পাইথন আগে শিকারটা ধরে। যে শিকারটা ধরলো তার মুখটা প্রথমে নিজের মুখে পুরে নেয়, কিছুটা দম নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে গিলে খায়। আমি ওই সময় ওকে খুব ভালো জাজ করেছিলাম। ইসলামভাই বললো।
ঠিক বলেছো ভাই। হ্যাঁরে তোর এই মিশনে আর কটা আছে। ছোটোমা বললো।
জানিনা।
ন্যাকামো করিসনা। তুই সব জানিস।
বিশ্বাস করো।
দিদি তুমি ওর পেট থেকে বার করতে পারবে না। দেখলে না, আজ থেকে আট বছর আগের কথা আমি আজ জানলাম।
বড়োমা আমার দিকে তাকাল, তুই এখানে এসে বোস।
কেন।
বোসনা। দরকার আছে।
আমি পেছনের সিট থেকে টপকে মাঝের সিটে গিয়ে দুজনের মাঝখানে বসলাম। মিত্রা একবার পেছন ফিরে তাকাল। আমি হাসলাম।
রবিন সামনে ধাবা পরবে।
হ্যাঁ।
খিদে লেগেছে, দাঁড় করাস।
তুই কি ভালোরে।
খারাপ কোনদিন ছিলাম?
আমার দিকে তাকাল, কি খাওয়াবি?
আমার পকেটে পয়সা নেই, তোর কাজ করলাম, খাওয়াবি তুই।
হুঁ। মুখ ঘুরিয়ে নিল।
বড়োমার দিকে হেলে পরলাম। বলো তোমার প্রশ্নটা কি?
ডাক্তার এর মধ্যে ভিরলো কি করে।
ডাক্তার ভিরেই ছিল। মিত্রা সব বলেছে নাকি তোমায়। আমাকেও বলেনি। উদ্ধার করতে হচ্ছে। এরা সব লতায় পাতায় জড়িয়ে রয়েছে। আগাছাও কিছু আছে।
বড়োমা আমার দিকে তাকাল, চোখে চোখ মনিদুটো স্থির। সকাল থেকে বড়োমাকে অনেক বেশি বোঝদার মনে হচ্ছে। ঝটপট সব ধরে ফেলছে। আগে কখনও বড়োমার পারফরমেন্স এরকম দেখিনি।
তুই ঠিক বলছিস।
তোমাকে অন্ততঃ ভুল বলবো না।
কি করবি?
সেটা তোমায় বলবো না, কাজ শেষ হলে জানতে পারবে।
ঠিক আছে। বলতে হবে না।
বড়োমা মুখ ঘুরিয়ে নিল। আমি বড়োমাকে জড়িয়ে ধরলাম, তুমি রাগ করো না। এখনও সময় হয়নি। সময় হলেই তোমাকে জানাব।
দাদা ধাবায় ঢুকবো?
ঢোকাবে মানে! ওকে জিজ্ঞাসা করতে হবে নাকি? মিত্রা চেঁচিয়ে উঠলো।
আমরা এসে গেছি? আমি বললাম।
হ্যাঁ।
তাহলে ঢোকা।
রবীন গাড়িটা ঘুরিয়ে নিয়ে একটা সাইডে গাড়িটা রাখলো।
আমরা সবাই একে একে নামলাম।
বড়োমা আমাকে ধরে বললো।
দাঁড়া পা-টা বড্ডো ধরে গেছে।
ভজু বড়োমার পায়ের কাছে বসে পরলো। একটু ঝাড়াঝাড়ি করে টিপে দিল। বড়োমা আমার কাঁধে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে ভেতরে এলো। আমরা সবাই একটা কেবিনে বসলাম। ভজু বললো, অনিদা আমি খাটে, ভজুর সাথে সাথে রবিনও বললো।
আমরা সবাই বসলাম। মিত্রা চেঁচিয়ে উঠলো, বুবুন আলুপরটা, চিকেন ফ্রাই, মটর পণির।
ইসলামভাই ছোটোমার দিকে তাকাল, ইশারায় কি কথা হলো। ইসলামভাই বুঝেছে আমার চোখ এড়ায় নি।
বড়োমা তোমারটা বলো।
কিরে ছোটো সবার জন্য এক থাকুক।
ছোটোমা মাথা দোলাল।
আমি ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
আমার কোনও ফ্যাসিনেসন নেই, ম্যাডাম যা বললো তাই বলে দে।
ছেলেটাকে ডেকে বলে দিলাম একটু তারাতারি করিস ভাই।
আচ্ছা।
বড়োমা হাত ধোবে না। মিত্রা বললো।
তুই যা তারপর যাচ্ছি।
মিত্রা উঠে বেসিনের কাছে চলেগেল।
ফোনটা অন করলাম, পর পর অনেকগুলো মিস কল দেখলাম। মিঃ মুখার্জীর নম্বরটাও দেখলাম এর মধ্যে আছে। মিঃ ব্যানার্জীও এর মধ্যে চারবার ফোন করেছে। আমার পাশে বড়োমা বসে আছে। কনুইয়ের গোঁতা মারলাম।
বড়োমা আমার দিকে তাকাল।
মিঃ ব্যানার্জীর নম্বরটা দেখালাম। বড়োমার চোখেমুখে বিষ্ময়ের ছোঁয়া।
ইসলামভাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মুচকি হাসল।
আমি সন্দীপকে ফোন করলাম।
হ্যালো। অপর প্রান্ত থেকে সন্দীপের গলা ভেসে এলো।
লেটেস্ট নিউজ বল।
সব কাজ সেরে সবে মাত্র অফিসে ঢুকলাম।
দাদা কোথায়?
দাদা দাদার ঘরে, মল্লিকদা মল্লিকদার টেবিলে।
তুই কোথায়?
প্রচুর খিদে পেয়েছিল, ক্যান্টিনে এসেছি।
ছেলেদুটো?
পাশেই আছে।
ঠিকঠাক কাজ করেছে।
তোর চোখ আছে অনি।
আমি ভয়েজ অন করলাম রেকর্ডিং চালু করলাম।
ছোটো করে ডিটেলস দে।
তোর কথা মতো সব কাজ হলো। একটা খারাপ খবর আছে।
বল।
শালা মরেও মরেনি, মরলে ভালো হতো।
ইসলামভাই আমার দিকে তাকিয়ে গোগ্রাসে গিলছে।
ছোটো না বড়ো।
বড়ো।
কেন?
চেষ্টা করেছিল। মুখার্জী চালু। হাত ধরে ফেলেছে। উডল্যান্ডে নিয়ে গেছে। মাছি গলতে পারবে না।
বেঁচে আছে?
লাস্ট আপডেট, মুখার্জী বলছে বাঁচালাম বটে। ডাক্তার কোনও গ্যারেন্টি দিচ্ছে না।
কোমা না সেনস্লেস?
সেটা মুখার্জী বলেনি।
তুই ফোন করে জেনে নে।
তোকেই একমাত্র বলবে।
ঠিক আছে, লেখাটা গোছা আমি ফোন করবো।
মিত্রা টেবিলের দিকে হেঁটে আসছে। ফোনটা কেটে দিলাম। খাবার এলো। ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম। ইসলামভাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
খাওয়া শুরু করলাম।
মিত্রা চেয়ারে বসে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।
সব খেতে পারবি?
আমি আমার মতো খাব, তুই খা না।
তোর অনেক খিদে, আমার থেকেও।
তোর খাওয়া আমার খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। দেখছো বড়োমা, তুমি কিছু বলো।
আচ্ছা আচ্ছা তুই খা।
বড়োমা আমার দিকে তাকাল, এবার কি করবি।
চোখে চোখ রেখে বললাম, গলাটা আস্তে।
আমাকে কিছু করতে হবে না, মুখার্জী তার প্রয়োজন মতো ওকে রাখবে।
তোর কি মনে হচ্ছে?
ভেন্টিলেশনে রেখেছে।
তুই বুঝলি কি করে?
সন্দীপকে বলেনি আমি জানি। এখানে বসেই বলছি। মুখার্জীর ফাইল তৈরি হয়েগেলেই, ভেন্টিলেশন খুলে দেবে। দেখলে না সন্দীপ কি বললো। মাছি গলতে পারবে না। ম্যাক্সিমাম সাত দিন।
বড়োমা আমার দিকে তাকিয়ে।
এমনকি বড়োমা তোমায় একটা কথা আগাম বলে রাখছি। তুমি মিলিয়ে নিও। এ্যাকচুয়েলি ওদের সঙ্গে চলাফেরা করে যেটুকু বুঝেছি।
বড়োমার চোখের পাতা পড়ছে না।
ইসলামভাই যে আমার সঙ্গে আছে এটাও মুখার্জীর কাছে খবর আছে।
সেকিরে!
তুমি বলবে, তা সত্ত্বেও তুই ইসলামকে নিয়ে এলি কেন?
হ্যাঁ!
কলকাতায় থাকা এই মুহূর্তে ওর পক্ষে সেফ নয়। জিজ্ঞাসা করো ইসলামভাইকে, আমি বলেছি কিনা।
বড়োমা ইসলামভাই-এর দিকে তাকাল। ইসলামভাই মাথা নিচু করে বসে আছে।
ইসলামভাই-এর নেটওয়ার্ক থেকে ওদের নেটওয়ার্ক আরও বেশি স্ট্রং। আমি দুটো নেটওয়ার্ক দেখেছি। তাই আমার নেটওয়ার্ক আরও বেশি স্ট্রং হওয়া উচিত।
বড়োমা আমার কথা শুনে থ।
তুমি বলছো আমি কি করে অবলীলায় তোমায় গল্পের মতো এসব বলছি?
হ্যাঁ!
আমি দাবা খেলি। দাবার বোর্ডে ৬৪ ঘর। আমি একটা চাল দিয়ে ৫০টা পড়ের চাল মনে রাখতে পারি। আমার অপনেন্ট কি চাল দিলে আমি কি চাল দেব। মানে ১০০টা চাল আমায় মনে রাখতে হয়। ইসলামভাই ৩২টা পারে। মুখার্জী ৪০টার বেশি পারে না। তাই এদের থেকে আমি এগিয়ে।
কিন্তু এইটা ভেবো না, আমি মিঃ মুখার্জী বা ইসলামভাইকে ছোটো করছি। আজকের চালটা আমি ঘোড়ার চাল দিয়েছি। একটা ঘোড়া একটা ঘরে বসে আটঘর ব্লক করে রাখে। আমি আমার দুটো ঘোড়া দিয়েই ১৬ ঘর বেঁধে রেখেছি। এরপর গজ নৌকা তো আছেই ওগুলো হাতের পাঁচ। আমি আজ তাই করেছি।
কি বলছিস অনি! বড়োমার চোখ গোল্লা গোল্লা।
আমি কখনও এরকম করে ভাবি নি? ইসলামভাই বললো।
আমি জানি। জানি বলেই তোমার সামনে বড়োমা, ছোটোমাকে বলছি। ছোটোমা তোমার নাম শুনেছে। দেখেনি, তুমি যে ছোটোমার ভাই সেটাও আজ জানলাম। আমি আট বছর আগে মেরিনাদির মুখ থেকে কি জেনেছি সেটা ভুলে যাও। পাস্ট ইজ পাস্ট।
বড়োমা বিষ্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে। মিত্রার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ছোটোমার চোখ স্থির। মিত্রা একটু দূরে বসেছিল প্লেটটা নিয়ে বড়োমার পেশে চলে এলো।
বেশ তো ছিলি এখানে এলি কেন?
তোর কি।
থাক শুনুক। ওর বোঝার দরকার আছে। বড়োমা বললো।
মল তার স্টেটমেন্টে ইসলামভাই-এর নাম জড়াবে। অবশ্য যদি জ্ঞান থাকে। তাই ওকে খোঁজা খুঁজি হবে। আমার সঙ্গে থাকলে ওকে ধরা অতো সহজ হবে না। ইসলামভাইকে আমার কাছে রেখে মিঃ মুখার্জীকে একটা বার্তাই পৌঁছে দেওয়া।
ইসলামভাই এখন আমার পকেটে আছে। আমার পকেটে তুমি হাত দিও না। বেশি নড়াচড়া করলে তোমারও বিপদ আছে। তোমাকে যেমন সোহাগ করছি, শাসনও করতে জানি।
বড়োমা আমার মাথায় হাত রাখল।
ভাবছ নাক টিপলে দুধ পড়ে একটা বাচ্চা ছেলে এরকম পাকা পাকা কথা বলছে কি করে?
কি জান বড়োমা দারিদ্রতা। অভাবের কোনও জাত নেই, ধর্ম নেই।
আমার একটা প্রিয়েড এরকম কেটেছে। তখন আমি দারিদ্রতার আগুনে পুরে অভাবের কাঠকয়লা তৈরি হয়েগেছিলাম। কিন্তু দেখ আমার সব ছিল। কোনও অভিভাবক ছিল না। নিজেই নিজের অভিভাবাক ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগাচ্ছি।
এরপর তুমি বলবে, ওরা কি তোর কোনও ড্র ব্যাক জানে না? জানে। একটাই ড্রব্যাক। আমার এই পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই। মাস খানেক পড়ে ওরা জানবে আমার কিছু রিলেসন তৈরি হয়েছে। এবার তাদের ওরা ডিস্টার্ব করবে। আমাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করবে। যেমন তুমি, ছোটোমা, মিত্রা এখন এই মুহূর্তে আমার কাছের লোক। তোমাদের ওপর ওদের নজর পড়েছে।
তুই মাথায় রাখিস অনি তোর কথা যদি সত্যি হয় তাহলে ইসলামভাই-এর থেকে হিংস্র আর কেউ হবে না।
এটা তোমার রাগের কথা ইসলামভাই।
কেন বলছিস?
ওরা গেইজ করছে, তারপর একটু নাড়াচাড়া দেবে। তুমি বলো ইসলামভাই তুমি যার সঙ্গে টক্কর নিতে যাবে তার ক্ষমতা কতটা তুমি মেপে নেবে না।
অবশ্যই।
তুমি মলের সঙ্গে টক্কর নিতে পারোনি। কমপ্রোমাইজ করেছ। এছাড়া তোমার কোনও উপায় ছিল না। এতে তোমার ক্ষতি হয়েছে। হয়নি?
হ্যাঁ, হয়েছে।
আমি কমপ্রোমাইজ করিনি। সরাসরি হিট করেছি। কেন? অফিসের মিটিং-এর দিন ও আমাকে ভালো করে মেপেছে। ওর মতো মাল আমাকে অতো সহজে নিজের শেয়ার সই করে দেবে এটা নট আ জোক। এরপর আমি ওকে দুটো বার্তা পাঠিয়েছি। তাতে বুঝিয়ে দিয়েছি তুমি বেশি বারাবারি করলে তোমার আয়ু ওখানেই শেষ। ও কিন্তু আমার পরীক্ষা নিয়েছে। আমি সেই পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি।
তোমার কাছে আমি কতোদিন গেছি?
সাতদিন।
এরপরও তোমার মনে হয়নি, আমি একটা আঘাত করতে পারি মলকে। এবং মল সেটা মেনে নিতে বাধ্য।
শেষদিন সেটা বুঝেছিলাম।
কেন তুমি প্রথম দিন বুঝতে পারোনি?
সেদিন তোকে এতোটা সিরিয়াস দেখিনি।
দেখ ইসলামভাই আজ বলছি। আমি প্রথমদিনও সিরিয়াস ছিলাম। শেষদিনও সিরিয়াস থেকেছি। শেষদিনে হয়তো আমার উগ্রতা আমার চোখে মুখে ফুটে বেরুচ্ছিল, তাই তুমি ধরতে পেরেছিলে, তাই তো?
হ্যাঁ।
তোমার এ ভুল হলো কেন! হওয়ার কথা নয়। সেই সময় অনি তোমার কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায়নি। এটা একটা সিরিয়াস ব্যাপার।
আমি ঠিক ততটা গুরুত্ব দিইনি?
এইটা তোমার মাইনাস পয়েন্ট।
সবাই চুপ। মিত্রার দিকে তাকালাম।
আর কিছু নিবি?
তোর চিকেন ফ্রাইটা তুলে দে।
আমি প্লেটটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম।
মিত্রা হাসছে। খেতে খেতেই বললাম।
আমি এখন আইনের জটিল ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে একটু পড়াশুন করছি।
তুই আর কতো পড়বি, তন্ত্র পরবি, আইন পরবি। মিত্রা ফুট কাটলো।
ছাগল। চিকেনটা দিলাম ভালো করে খা।
দেখছো বড়োমা—
তুই তন্ত্র পড়িস? বড়োমা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
(আবার আগামীকাল)
Puro golpo ta kothai pabo