| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ১৮৮৬ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

একাদশ কিস্তি

অনাদি ধরেই বললো, কি হয়েছে বল।

তুই কোথায়?

কাজ গোছাছি।

মানে?

মেলার চারিদিকে নজরদারি বারালাম।

ঠিক আছে। চিকনা কোথায়?

ও মেলার বাইরে আছে।

আচ্ছা। শোন তুই একবার মিত্রার কাছে যা, ওখানে দিবাকর আছে।

ওর পেছনে পাশে চার পাঁচজন আছে।

তুই গিয়ে মিত্রার সঙ্গে বোস ওর সঙ্গে খেজুরে গল্প কর। আমার সম্বন্ধে যা তা বল। কালকের শ্মশানের গল্প কর। আমি দিবাকরকে এইমাত্র শ্মশানের গল্প দিয়েছি। ওর মুখটা লক্ষ্য রাখবি তাহলে সব ধরতে পারবি। ও কিছুক্ষণের মধ্যে মেলা থেকে বেরিয়ে যাবে বলছে। ওকে যে ভাবেই হোক তুলে আনবি আমার কাছে। মিত্রা যেন একটুও বুঝতে না পারে।

ঠিক আছে। তুই পাঁপড় ভাজা জিলিপি খাবি?

খাব। মিত্রার জন্য নিয়ে যা। চিকনা কোথায় এখন?

বললাম তো, মেলার বাইরেটা সামলাচ্ছে।

ওর ফোন বন্ধ, মনে হয় মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ নেই।

ঠিক আছে দেখছি।

বাসু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তোকে কত চিন্তা করতে হয়। এখন মনে হচ্ছে তোর প্রেমকরা উচিত, বিয়ে করা উচিত নয়।

হেসে ফেললাম। কেন?

বিয়ে করলে বউকে সময় দিবি কখন—

তোর বউ মেলায় এসেছে।

এসেছে।

দেখালি না।

সময় পেলাম কোথায়। আশা মাত্রই যা ঝড় শুরু হলো।

মিত্রার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে পারতিস এক ফাঁকে।

গেছিলাম। আলাপ করিয়ে দিয়েছি।

ভালো করেছিস।

ফোনটা বেজে উঠলো। মিত্রার ফোন।

এখনও এলি না।

আসছি। এতটা পথ হেঁটে যেতে হবে।

অনাদি পাঁপড় আর জিলিপি নিয়ে এসেছে।

খা।

তুই না এলে খাব না।

পাগলাম করিস না, ওরা মন খারাপ করবে।

কালকে তোর শ্মশানে যাবার গল্প শুনছি।

হাসলাম।

আচ্ছা এই মেলা ছেরে তোর শ্মশানে যেতে ভালো লাগল।

মা-বাবার কথা ভেবে মনটা খুব খারাপ লাগল। তাই চলে এলাম।

সরি,—আমি না জেনে তোকে হার্ট করলাম। তুই ধীরে সুস্থে আয়।

ফোনটা কেটে দিলাম। কিছু ভালোলাগছে না। চল স্কুল ঘরের বারান্দায় গিয়ে বসি। আমি, বাসু ইস্কুল ঘরের বারান্দায় এসে বসলাম। এখান থেকে মেলেটাকে দেখা যাচ্ছে কিন্তু কি হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

চিকনার ফোন। সরি গুরু। আমি ব্যবস্থা করেছি। তবে মনে হয় কাজ হবে না। নীপাদের নাচ শেষ হলো। ম্যাডাম গ্রীনরুমের দিকে যাচ্ছে। দিবাকর হেসে হেসে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলছে, শুয়োরের বাচ্চা আবার হাত মেলাচ্ছে। অনাদি ওর কাঁধে হাত রেখেছে। ঠিক আছে বস, বুঝতে পেরেছি, আর মিনিট দশেক। রাখি।

বাসু আমার দিকে তাকাল।

কিরে আমি কি বাইরে গিয়ে বসবো?

বোস। আমি এখানে আছি জানাবি না। তুই অনাদি আগে ফেশ কর। তারপর ওকে এখানে নিয়ে আয়। আমি মোবাইল অফ করছি।

আচ্ছা।

সিগারেটের প্যাকেটটা দিয়ে যা।

বাসু সিগারেটের প্যাকেটটা দিয়ে বেরিয়ে গেল।

মাথা গরম করলে চলবে না। যা হবার তা হয়ে গেছে, এখন কাজ উদ্ধার করতে হবে।

হঠাৎ চেঁচামিচির শব্দ। বাইরে উঁকি মারলাম।

এই জ্যোৎস্না রাতেও পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। দিবাকরের কলার ধরে হির হির করে টেনে আনছে ওরা। হয়তো দু-চার-ঘা দিয়েও দিয়েছে। দিবাকারের সঙ্গে জোর ধস্তা-ধস্তি চলছে। চিকনার গলা শুনতে পেলাম।

বেশি বাড়াবাড়ি করবি না। আমার পরিচয় তোকে নতুন করে দেবার নেই। কেটে টুকরো টুকরো করে মালঞ্চের জলে ভাসিয়ে দেব। মাছের খাবার হয়ে যাবি।

আমার বুকটা দুরু দুরু করে উঠলো। এ কি বলছে চিকনা!

অনাদি ঠান্ডা মাথায় শুধু বলছে। তোকে যেখানে নিয়ে যাচ্ছি সেখানে চল। সব বুঝতে পারবি।

কাছাকাছি এসে অনাদি বাসুকে জিজ্ঞাসা করলো, অনি কোথায়? আমি দেখতে পাচ্ছি বাসু অনাদিকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে সব বলছে। অনাদি ঘাড় নাড়ছে। অনাদি একবার ইস্কুল বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল। তারপর ঘাড় নাড়ল।

টেস্ট রিলিফের বাঁধের ওপর ওরা বসেছে। প্রায় মিনিট পাঁচেক ধরে কি কথা হলো বুঝতে পারলাম না। কোনও চেঁচামেচি নেই। দিবাকর অস্বীকার করছে মনে হয়। বাসু এগিয়ে আসছে স্কুল বাড়ির দিকে। বুঝতে পারলাম আমার সঙ্গে কথা বলবে। বাইরে বেরিয়ে এলাম।

তুই বল কি করবো।

ও সব অস্বীকার করছে?

হ্যাঁ।

এক কাজ কর। ওর মোবাইলটা রেখে দে। আর আজ ওকে বাড়ি যেতে দিবি না। ওকে এখানে কোথাও নজর বন্দি করে রাখ। কাল ৯টায় আমার ঘরে নিয়ে আয়। তারপর দেখি কি করা যায়।

আচ্ছা।

আমার কথা মতো কাজ হলো। এক চোট চেঁচামেচি হলো। তারপর কয়েকজন দিবাকরকে নিয়ে চলে গেল। আমি তাদের চিনতে পারলাম না। চেহারা দেখে খুব ভালো ছেলে মনে হচ্ছে না।

অনাদি এলো।

তুই সত্যি মহান।

কেন?

এই মোবাইলটা নিয়ে কি করবো।

আছে। অনেক কাজ আছে। সঞ্জু কোথায়?

বাসুর ফোন বেজে উঠলো। বাসু আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ম্যাডাম।

কথা বল।

কি হয়েছে ম্যাডাম?

আমি নীপা।

বলো।

চিকনাদাকে ফোন করলাম, ধরে ছেড়ে দিল। ওখানে কিসের চেঁচামিচি হচ্ছে বাসুদা।

চিকনা মোবাইল বার করে দেখে, কল হয়ে পরে আছে।

সব্বনাশ, এক হাত জিভ বার করে ফোনটা কাটল।

কই কিছু হয়নি!

হয়েছে। তুমি মিথ্যে বলছো। এইতো চিকনাদার মোবাইল অফ হলো।

সত্যি নীপা, তুমি বিশ্বাস করো।

অনিদা কোথায়? ওর মোবাইল স্যুইচ অফ কেন?

বলতে পারবো না, ওতো তোমাদের কাছে গেল।

না। অনিদার কিছু হয়েছে। চিকনাদা কাকে মারছিল?

চিকনা কাউকে মারেনি!

না। তুমি সত্যি কথা বলো। চিকনাদা বার বার অনিদার নাম করছিল কেন। অনিদার কি হয়েছে। আমি প্রচন্ড চেঁচামিচির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমি এখানে তোমাদের কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। তোমরা কোথায়?

তুমি বিশ্বাস করো।

দেখো মিত্রাদি মন খারাপ করছে। ও সব শুনেছে। আমার খুব খারাপ লাগছে।

তুমি পাঁচ মিনিট সময় দাও আমরা যাচ্ছি।

আচ্ছা। ঠিক পাঁচ মিনিট।

চিকনার দিকে ফিরে রাম খিস্তি দিয়ে বললো, মোবাইলটা বন্ধ করতে পারিসনি।

সত্যি বলছি তখন উদম কেলাচ্ছিলাম দিবাকে। অনেক দিন হাতের সুখ করিনি, অনেক রাগ জমে ছিল। বিশ্বাস কর খেয়াল ছিল না, শুয়োরের বাচ্চার কি গরম, আমায় থানা দেখাচ্ছে।

আমি চিকনার কথায় কান দিলাম না। সঞ্জুকে বললাম, তুই আমার একটা উপকার কর। ওর মোবাইলে যা আছে আমার মোবাইলে কপি কর।

দাঁড়া কপি কর বললেই হবে, মালটা আগে দেখি।

অনাদি আমার দিকে তাকল, বুঝলো দিবাকরের সেট নিয়ে আমি কি করবো।

সেটটা ওর হাতে দিল।

আরে শালা এই সেট পেল কোথা থেকে! এ তো ই সিরিজের মাল। ওর এলজির মাল ছিল। আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বললো। তুই জানলি কি করে ওর সেট থেকে কপি করা যাবে?

কাল সব বলবো।

সঞ্জুর দিকে তাকালাম।

তুই কপি করে নিয়ে আয়। অনাদি, বাসু, আমি এগিয়ে যাচ্ছি। তোরা পেছনে আয়।

আচ্ছা।

বাসুর দিকে তাকিয়ে বললাম, নীপাকে একবার ফোন কর, ওরা কোথায় আছে?

বাসু ফোন করলো। বললো স্টেজের সামনে আছে।

আমরা তিনজনে এলাম। মিত্রা, নীপা ছাড়াও আরও চার, পাঁচ জন মেয়ে দাঁড়িয়ে। মিত্রা মুখটা ঘুরিয়ে নিল। নীপা গম্ভীর। কথা বলছে না।

আমার মুখের দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে। যেন ভেতর পর্যন্ত দেখে ফেলবে।

আমি লজ্জা-সরমের মাথা খেয়ে কাছে গিয়ে মিত্রার কাঁধে হাত রাখলাম। রাগ করিস না, তুই….।

একবারে কথা বলবি না।

মাথাটা নিচু করে নিল।

তুই তোর মতো এনজয় করলি। আমি আমার মতো এনজয় করলাম। কত স্বপ্ন ছিল….। গালাটা ধরে গেল, মাথা নিচু করলো।

দুজনে একসঙ্গে এনজয় করতে পারলাম না। ওর চোখের পাতা ভারি হয়ে এলো।

আমি ওর থুতনিটা ধরে তুললাম, এই তো আমি চলে এসেছি, চল। মিত্রা মাথা তুললো।

ওর ভাসা ভাসা চোখের ভাষা বদলে গেল।

তোর কি হয়েছে! মুখটা এরকম লাগছে কেন!

কোথায়?

না তোর কিছু একটা হয়েছে!

তুই বিশ্বাস কর।

তোর মুখ বলছে কিছু একটা হয়েছে!

নীপা আমার দিকে তাকাল। তারপর চিকনার দিকে। চিকনাদা।

চিকনা ত ত করছে, বিশ্বাস কর কিছু হয়নি।

অনাদিদা।

অনাদি মুখ ঘুরিয়ে নিল।

ওখানে ভাকু নিয়ে একটা….। চিকনা বললো।

ভাকু মানে! মিত্রা নীপার দিকে তাকাল।

নীপা মিত্রার কানে কানে কি বললো, মিত্রা মুচকি হাসল।

এখানে এসেও তোর গন্ডগোল করার ইচ্ছে হলো?

না মানে….আমরা তিনজনে মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি।

চিকনার মালটা খেয়ে গেছে। যাক এই যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গেলাম।

সবাই মিলে ঘণ্টা খানেক মেলায় মজা করে ঘুরলাম। ছোলার পাটালি, পাঁপড়, ছোলাসেদ্ধ, জিলিপি। কখনও নীপা ব্যাগ থেকে টাকা বার করে দাম মিটিয়েছে। কখনও মিত্রা দিয়েছে।

আমার পারদপক্ষে কোনও খরচ হলো না।

চিকনা নীপার পেছনে সব সময় টিক টিক করে গেল। মাঝে মাঝে সঞ্জু আর চিকনার দ্বৈরথ হলো। একবার চিকনা তো কাঁচা কাঁচা খিস্তিই দিয়ে দিল সঞ্জুকে। মিত্রা ফিক করে হেসে ফেললো। তারপর মিত্রার অনুরোধে, চিকনা আর সঞ্জু নীপা আর মিত্রাকে ভাকু কি জিনিস দেখাতে নিয়ে গেল। ডাবুর বোর্ড দেখিয়ে নিয়ে এলো।

বাড়ি ফিরলাম রাত প্রায় বারোটার সময়।

মিত্রা, নীপা এগিয়ে গেল, অনাদিকে বললাম, কাল সকাল সাড়েনটায় হাজির করিস।

তোকে ভাবতে হবে না।

হ্যাঁরে ওরা আবার ছেলেটাকে মারধোর করবে না?

আরে না না, ওর বাড়িতেই নিয়ে গেছে। কাল নিয়ে আসবে।

শালা মাঝখান দিয়ে কালকের পার্টিটা নষ্ট হয়ে গেল। চিকনা বললো।

কিচ্ছু নষ্ট হয়নি। কালকেই হবে। এবার পাওয়ার গেম খলবো। কালকে দেখতে পাবি।

সঞ্জুর দিকে তাকিয়ে বললাম, সব কপি করেছিস ঠিক ঠিক করে।

হ্যাঁ।

একটু থেমে।

গুরু একটা ভুল কপি হয়ে গেছে।

কি বল!

শেলির সঙ্গে দিবাকরের একটা সেক্স সিন লোড হয়ে গেছে। কিছুতেই ডিলিট করতে পারছি না।

অনাদি হেসে বললো, শালা এতক্ষণ বলিসনি কেন?

বলার সময় দিলি কোথায়? কি হারামী ছেলে দেখেছিস ই-সিরিজের মাল হাতে পেয়েই ধান কুটে দিয়েছে।

আমি সঞ্জুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম।

অনাদি মোবাইলটা তোর কাছে রেখে দে। অবশ্যই খোলা রাখবি। সব ফোন রিসিভ করবি। কোনও কথা বলবি না। এই ফোনের রেকর্ডিং থেকে আরও মশলা পাব। আর কাল অতি অবশ্যই মোবাইলটা নিয়ে আসবি।

অনাদি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। ওরা চলে গেল।

নীপা আজ আমাদের ঘর ছেড়ে দিয়েছে। নীপা বলেছে, ওবাড়িতে শোবে। ঘড়টা টিপ টপ করে গোছান। একটা নতুন চাদর পাতা হয়েছে। নীপা ওবাড়ি থেকে মিত্রাকে এবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেল।

অনিদা নিচটা বন্ধ করে দিয়ে যাও।

আমি নিচে গিয়ে খিল দিলাম।

নীপা চলে গেল।

আমি ওপরে এলাম।

মিত্রা চুল আঁচড়াচ্ছে। আমি খাটের ওপরে বসে ওকে লক্ষ্য করছি। সেই থেকে মিত্রা গরম খেয়ে রয়েছে। মুখে হাসিখুশি থাকার একটা অভিনয় করে যাচ্ছে।

কিরে এবার নাইট গাউন পরবো? না কাপর পরেই থাকব।

আমি কোনও কথা বললাম না।

চুপ করে আছিস কেন?

কি বলবো বল।

এখানে তুই যা বলবি তাই হবে।

আমি উঠে গেলাম। জানি মান ভাঙাতে আমাকেই হবে। কাছে গিয়ে পেছন থেকে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলাম। মিত্রার হাত থমকে গেল। আমার মুখের দিকে কট কট করে ঘার ঘুরিয়ে তাকাল।

আমার গায়ে হাত দিবি না।

ওকে আরও শক্ত করে কাছে টেনে নিলাম। কানের লতিতে জিভ ছোঁয়ালাম।

এতো রাগ করলে চলে। কতো লোক আমাদের দিকে জুল জুল করে চেয়ে আছে দেখেছিস?

বুঝতে আর কার বাকি আছে শুনি—

কেন! কারা কারা বুঝতে পেরেছে?

সবাই। এমনকি আজ তোর ওই বন্ধুটা কি যেন নাম, দিবাকর না কি, সেও কথা প্রসঙ্গে তোর সঙ্গে আমার একটা এ্যাফেয়ার আছে, সেটা বলে দিল।

আমার চোয়াল শক্ত হলো। চোখের ভাসা বদলে গেল। মিত্রা বুঝতে পেরেছে। হাত দুটো আস্তে আস্তে আলগা হয়ে ওর শরীর থেকে খসে পরলো।

কিরে বুবুন!

না, কিছু না।

মিত্রা ঘুরে দাঁড়াল।

কি হয়েছে বল। তুই ওর নামটা শুনে ওই রকম করলি কেন!

বললাম তো কিছু নয়।

মিত্রা আমার গলা জড়িয়ে ধরলো। তোর কিছু একটা হয়েছে। সেই কোলড্রিংকস খাওয়ার পর থেকেই তোর কোনও পাত্তা নেই। তোর মধ্যে যে একটা দিলখোলা হাসিখুশি মানুষ সব সময় লুকিয়ে থাকে, তাকে আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে নিয়ে কোনও ব্যাপার!

না।

তাহলে?

পরে বলছি।

বিছানায় ফিরে গেলাম। একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছিল। মিটসেফের কাছে এলাম। সিগারেটের প্যাকেটে হাত দিতেই, মিত্রা হাতটা চেপে ধরলো। চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিল, এখন খাবি না।

প্যাকেটটা রেখে চলে এলাম। বিছানায় এসে জানলার পাল্লাটা পুরো হাট করে খুলে দিলাম। আজকে চাঁদের আলোর ঝাঁঝ অনেক বেশি। নিওন আলোকেও হার মানায়। গাছের মগ ডালের পাতাগুলোও পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। চারিদিকে অবিশ্রান্ত ঝিঁ ঝিঁ পোকার তারস্বর ডাক। এক স্বপ্নিল পরিবেশ তৈরি করেছে।

বুবুন—

ফিরে তাকালাম।

মিত্রা ব্রা আর শায়া পরে আমার দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে।

একটু কাছে আয়।

বিছানা ছেড়ে উঠে ওর কাছে গেলাম।

হুকটা খুলে দে।

আমি নিচু হয়ে ওর ব্রার হুকটা খুলে দিলাম। বুক থেকে ব্রাটা খসে পরলো। ও ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ওর নরম বুক আমার বুকে। বকের মতো গলা উঁচু করে আমার ঠোঁটের কাছে ঠোঁট নিয়ে এলো। আমি ওর ঠোঁটে ঠোঁট রাখলাম।

খোলা চুলে একটা ক্লিপ লাগিয়েছে। হাল্কা একটা পারফিউমের গন্ধ ওর শরীর থেকে ছড়িয়ে পরছে। চোখ আবেশে বন্ধ। আমি ওর মুখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছি। আজ ঠিক মন চাইছে না। তবু মিত্রাকে ফিরিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে না। ও বলাকার মতো নীল আকাশে ডানা মেলতে চায়। দেখতে গেলে, জীবনে ও কিছু পায়নি। আবার সব পেয়েছে। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে আমার দিকে তাকাল। ওর শরীরটা ইষদ উষ্ণ। চোখ দুটো সামান্য ঘোলাটে।

আমার বুকে ও ঠোঁট ছোঁয়াল। ইশারায় বললো। চল বিছানায় যাই।

আমি ওর কথা মতো বিছানায় এলাম। ও আমাকে বিছানায় ঠেলে ফেলে দিয়ে বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পরলো।

ফোনটা বেজে উঠলো।

আমি বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম মিটসেফের দিকে। ফোনটা তুলে নিলাম। সন্দীপ।

বল।

সব এই মুহূর্তে ঠিক ঠাক আছে। রাত দশটা পর্যন্ত সনাতনবাবুর ঘরে ক্যাচাল হয়েছে। তারপর ওরা হালে পানি না পেয়ে দান ছেড়ে দিয়েছে। শুনলাম, ম্যাডাম নাকি সনাতনবাবুকে যে পাওয়ার দিয়েছেন সেটা সনাতনবাবু শো করাতেই ওরা চুপ চাপ হয়ে গেছে।

সব ঠিক ঠাক ছেড়েছিস?

হ্যাঁ। আজকে মনে হচ্ছে টাইমলি বেরবে।

কাল এগারোটার পর একবার অফিসে আসবি। লাস্ট আপডেট নেব।

ঠিক আছে। গুড নাইট।

গুড নাইট।

ফোনটা রাখলাম।

মিত্রা আমার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। ও বুঝতে পেরেছে কোনখান থেকে ফোন এসেছে। আফটার অল বিজনেসটা বোঝে। ডান হাতটা মাথায় দিয়ে বিছানায় হেলে পরেছে, নিরাভরণ উদ্দাম বুকটার দিকে চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে নিলাম।

আমি কাছে গিয়ে ওর পাশে বসলাম। ও একটু সরেগেল, আমি ওর পাশে শুলাম, ও আমার বুকে উঠে এলো।

ফোনটা অফিস থেকে এসেছিল?

মিথ্যে কথা বলতে পারতাম। বললাম না। ঘাড় দুলিয়ে বললাম, হ্যাঁ।

কে।

আমার একজন ইনফর্মার।

সামথিংস হেপেন, মনে হচ্ছে তুই খুব অফ মুডে আছিস?

ওকে কাছে টেনে নিলাম। কপালে একটা চুমু খেয়ে বললাম, সব বলবো তোকে। এখন একটু তোকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।

না। তুই কষ্ট পাবি আরি আমি আনন্দ করবো তা হয় না। সেই আনন্দটা পরিপূর্ণ নয়।

ঠিক আছে সব বলার পরে আমাকে ফিরিয়ে দিবি না।

ও আমাকে চুমু খেয়ে বললো, তোকে কোনও দিন ফিরিয়ে দিয়েছি। সব কষ্টের মধ্যেও তুই যখনই ডেকেছিস আমি চলে এসেছি।

উঠে গিয়ে মোবাইলটা নিয়ে এলাম।

ওকে পঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত সব বললাম। মোবাইল থেকে রেকর্ডিংগুলো সব শোনালাম। এমনকি দিবাকরের মোবাইল থেকে যে রেকর্ডিং কপি করেছিলাম, তাও শোনালাম।

মিত্রার চোখর রং বদলে যাচ্ছে। ওর শরীরের ভাষা বদলে যাচ্ছে। সব শোনার পর মিত্রা রুদ্রমূর্তি ধরলো। চেঁচামেচি শুরু করে দিল।

এখুনি আমি কলকাতায় যাব। রবীনকে ফোন কর। এতবড়ো সাহস স্কাউন্ড্রেলগুলোর। ওরা সাপের পাঁচ পা দেখেছে। এক একটাকে লাথি মেরে দূর করে দেব। ওরা ভাবে কি মিত্রা বাঁজা মেয়ে।

এই নিশুতি রাতে ওর গলা গোঁ গোঁ করে উঠল।

কাকারা জেগে উঠলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে, আমি ওর মুখ চেপে ধরলাম। ওকে থামিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তুই ছাড় বুবুন, সব কটাকে দূর করবো।

বাধ্য হয়ে বিছানায় জোড় করে শুইয়ে ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম। রাগে ও ফুলে ফুলে উঠছে। তারপর ঝড় ঝড় করে কেঁদে ফেলল। আমার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুলে ফুলে কেঁদে উঠছে। ওর ফোঁপানি কিছুতেই থামাতে পারছি না।

আমার জন্য তোকে কতো অপমান সইতে হলো। তোর এই ছোট্ট বুকে কতো ব্যাথা তুই গোপন করে আজ সন্ধ্যায় আমাকে আনন্দে ভাসিয়ে দিলি। নিজে এক কোনে পরে থাকলি, কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দিলি না। কেন তুই এরকম করলি বল। আমি কি তোর কেউ নয়। আমাকে তুই কেন জানালি না।

মিত্রা কেঁদে চলেছে চোখ বুঁজিয়ে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। ওর উদ্দাম শরীরটা আজ কোনও নেশা জাগাচ্ছে না। পূব আকাশে ভোরের আলোর ক্ষীণ পরশ লেগেছে।

মিত্রা।

উঁ।

চল দীঘাআড়ি থেকে ঘুরে আসি।

ও আমার মুখের দিকে তাকাল। চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল, চোখের কোল দুটো কেঁদে কেঁদে ফুলিয়ে ফেলেছে।

ওঠ। ঝপ করে কাপর পরে নে। ঘুরে আসি, দেখবি মনটা ভালো লাগবে। খোলা আকাশের নিচে বসে অনেক কিছু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মিত্রা উঠে পরলো। কাপর পরে নিল। দুজনে বাড়ির দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে এলাম।

তোর মোবাইলটা নিয়েছিস?

হ্যাঁ।

চল।

আমরা দুজনে বেড়িয়ে এলাম। খামারে এসে একবার পেছন ফিরে তাকালাম। না কেউ আমাদের দেখছে না। সবাই ঘুমচ্ছে।

মিত্রা আমাকে জড়িয়ে ধরে হাঁটছে। খামার পেরিয়ে বড়মতলার কাছে এসে দাঁড়ালাম। এখনও আকাশে জ্যোৎস্না আছে। কিন্তু সূর্যের আলোও ফুটে উঠছে। আমার কাছে সব চেনা দৃশ্য। মিত্রার কাছে নয়। ও যেন সব গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে। অনাদির বাড়ি ছাড়িয়ে যখন ফাঁকা মাঠটায় এসে পরলাম তখন পূব দিক লাল হয়েছে।

ইস ক্যামেরাটা আনলে ভালো হতো। 

মোবাইলে তোল।

দাঁড়া।

ও পূব আকাশের দিকে মোবাইলের ক্যামেরাটা ঘুরিয়ে ঠিক করলো। সবুজ ধান খেতে শিশিরের পরশ। কেউ কেউ এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। ও প্রায় পাঁচ সাত মিনিট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছবি তুললো।

বুবুন এদিকে আয়।

আমি কাছে গেলাম। তুই এটা ধর। আমি ধরলাম। ও ছুটে ধান খেতে নেমে পরলো।

আমি বললাম, বেশি দূর যাস নি। সবে ধানগাছগুলোর বুকে দুধ এসেছে নষ্ট হয়ে যাবে।

ও আমার কথা মতো বেশি দূর গেল না। মনের খেয়ালে নানা পোজ দিল। আমি ধরে আছি। কাছে এসে আমার কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে আমার গালে গাল ঘসে ক্যামেরা তাক করলো। একবার চকাত করে চুমুও খেল। রেকর্ডিং সেভ করে ক্যামেরা অফ করলো।

চল। আর কতটা?

ওই তো দেখা যাচ্ছে।

আবার হাঁটা। ধান খেতের মাঝখান দিয়ে শরু আইল পথে আমরা এসে পৌঁছলাম। মিত্রা দু-চারবার হোঁচোট খেল। আমাকে জাপ্টে ধরলো। কখনও খুনসুটি করলো। আমি আমার সেই চেনা জায়গায় এলাম।

ওআও। মিত্রার মুখ দিয়ে এক অদ্ভূত শব্দ বেরিয়ে এলো।

কি হলো!

এতো সুন্দর জায়গা আমি আগে কখনও দেখিনি। বিশ্বাস কর বুবুন। একবার ছুটে দীঘির পারে চলে গেল তারপর ছুটে এসে আমার বুকে ঝাঁপিয়ে আদর করে নাচতে আরম্ভ করলো। যেন ময়ূরী আকাশে কাল মেঘ দেখে পেখম তুলে নাচতে শুরু করেছে।

তুই সেদিন এখানে বসেছিলি!

হ্যাঁ।

তোর টেস্ট আছে।

বলছিস।

তুই পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছিস?

আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। মনের সুখে ও কল কল করে যাচ্ছে।

দাঁড়া রেকর্ডিং করি।

আবার মোবাইল চালু। মিত্রা আস্তে আস্তে দূরে চলে যাচ্ছে। আমি নিমগাছের একটা নরম ডাল ভেঙে দুটো দাঁতন বানালাম।

হঠাৎ বুবুন বুবুন চিৎকারে ফিরে তাকালাম। মিত্রা রুদ্ধশ্বাসে দৌড়চ্ছে। আমি দৌড়ে ওর কাছে গেলাম। ও আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরলো।

কামার শালের হাপরের মতো ওর বুক ওঠা নামা করছে। আমার বুকে মুখ লুকিয়েছে। হাত দিয়ে ওই দিকটা দেখাল। দেখলাম কয়েকটা শেয়াল ল্যাজ নারতে নারতে চলে গেল।

মিত্রা তখনও আমাকে ছাড়ে নি। ওর আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা হাতের বাঁধন কেমন আল্গা হয়ে যাচ্ছে। বুঝলাম নিশ্চই কিছু একটা হয়েছে।

মিত্রা….মিত্রা। ওর গালে আস্তে করে থপ্পর মারলাম। তবু ওর চোখ বন্ধ।

আমি পাঁজা কোলা করে তুলে এনে ওকে ঘাসের বিছানায় শুইয়ে দিলাম। তখনও ওর বুক ওঠানামা করছে। চোখ বন্ধ।

আমি ওর বুকে কান পাতলাম। লাবডুব শব্দের তীব্রতা একটু কমে এসেছে।

আমি দীঘির বুকে ভেসে থাকা পদ্মপাতা ছিঁড়ে তাতে করে জল নিয়ে এলাম। ওর চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলাম। জলের স্পর্শে ও চোখ মেলে তাকাল। মুচকি হেসে আমাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খেল। আস্তে করে কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো।

কেমন ভয় পাইয়ে দিলাম বল। খুব আদর খেতে ইচ্ছে করছিল।

হাসলাম। ওগুলো শেয়াল। ও আবার চোখ বন্ধ করলো।

দাঁত মাজবি না। আমি দাঁতন বানিয়ে রেখেছি।

মিত্রা চোখ খুললো, উঠতে ইচ্ছে করছে না। তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে থাক।

শিশিরের জলে কাপর ভিঁজে গেল যে।

যাক। এরকম ভেঁজা কজনের ভাগ্যে ঘটে।

দাঁত মেজে চল, একজনের বাড়িতে গিয়ে একটা সারপ্রাইজ দিই।

কার বাড়িতে?

সে বলবো না। গেলে দেখতে পাবি।

সেই শয়তানটার বাড়িতে।

ওই নামটা উচ্চারণ করে এই মুহূর্তটা নষ্ট করিস না।

সরি।

দাঁতন নিয়ে দুজনে দাঁত মাজলাম। দীঘির টল টলে কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে মুখ ধুলাম, মিত্রার আঁচলে মুখ মুছলাম।

কটা বাজে বলতো? মিত্রা জিজ্ঞাসা করলো।

আমি মোবাইলের ঘরিটা দেখে বললাম, ছটা দশ।

মাত্র! মিত্রার চোখে বিষ্ময়।

আমরা এখানে অনেকক্ষণ এসেছি?

হুঁ।

কখন বেরিয়েছি বাড়ি থেকে?

চারটে হবে।

আজ দু-জনে সারারাত ঘুমলাম না। কি করবি, কিছু ভাবলি?

সব ভেবে রেখেছি। ঘরে চল সব জানতে পারবি।

ঠিক আছে চল।

বাঁধ থেকে নেমে এসে ধানখেতের মাঝখান দিয়ে সরু আইলপথ ধরলাম।

ধানের শিষের বুকে সকালে যে বিন্দু বিন্দু শিশিরের ছোঁয়া দেখেছিলাম, নরম রোদের স্পর্শে এখন উধাও। দুজনে হেঁটে চলেছি সামনের দিকে।

টেস্ট রিলিফের ছোট্ট বাঁধটা পেরিয়ে, মেঠো রাস্তা ধরে অনাদির বাড়ির কাছে এলাম। সেই এক দৃশ্য অনাদির বাচ্চা দুটো খামারে ধুলো মেখে খেলা করছে। আজকে ও দুটোকে দেখতে ভালো লাগছে। মিত্রা আমার হাত দুটো চেপে ধরে বললো, দেখ, বাচ্চা দুটো কি কিউট।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম।

আজ অনাদিকে ডাকতে হলো না। কাঞ্চন বেরিয়ে এসে একমাথা ঘোমটা দিয়ে আমাকে আর মিত্রাকে একটা ঢিপ করে প্রণাম করলো। ভেতরে চলো, ওকে ডেকে দিচ্ছি। এই তো ভোরে ঘুমলো কোথায় কি ঝামেলা হয়েছে।

মিত্রা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। ওর চোখের ভাষা বুঝতে পারলাম।

কাঞ্চন, অনাদির স্ত্রী।

আমার হাত ছেড়ে ও কাঞ্চনকে জড়িয়ে ধরলো।

ওই দুটো অনাদির….।

মাথা দোলালাম।

এইবার ওকে ধরে রাখা মুশকিল হলো ছুটে গিয়ে বাচ্চা দুটোকে কোলে তুলে চটকাতে লাগল। বাচ্চা দুটো প্রথমে একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে। তারপর ভ্যা করে কেঁদে উঠলো।

মিত্রা ওদের ছেড়ে দিল। ভেতর থেকে কাকার গলা পেলাম, কে গো বৌমা।

অনিদা।

কাকা চেঁচামিচি শুরু করে দিল।

খামার থেকেই চেঁচিয়ে উঠলাম, তোমায় ব্যস্ত হতে হবে না।

ভেতরে আয়।

যাচ্ছি।

কাকা পায়ে পায়ে খামারে বেরিয়ে এলো। এই মেয়েটা কে? চিনতে পারলাম না।

এ হচ্ছে সেই।

কাকা এগিয়ে এসে মিত্রার গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

বেশ দেখতেরে অনি।

তোমার পছন্দ?

খুব ভালো।

মিত্রা এবার ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে।

আমাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করল প্রণাম করবো, আমি বললাম না।

কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে বললাম, একটু চা বসাও, আর কত্তাকে ডাকো।

কাঞ্চন ভেতরে চলে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে অনাদি বেরিয়ে এলো চোখ মুছতে মুছতে।

কিরে। নিশ্চই ম্যাডামকে তোর পাগলামোর সঙ্গী করেছিস?

মিত্রা হাসছে।

মাথা নিচু করে ওদের বাড়ির বারান্দায় এলাম।

মিত্রা দড়ির দোলনা দেখে অবাক। আমাকে বললো, একবার বসিয়েদে একটু দুলি।

চল।

ওকে বসিয়ে দিলাম। ও বাচ্চা মেয়ের মতো কিছুটা দুলে নিল।

দুলতে দুলতেই চোখ পড়ে গেল সামনের দিকে।

ওটা কি?

ঢেঁকি।

কি হয়?

ধান ভাঙা হয়। চিঁড়ে তৈরি হয়।

চল একটু ঢেঁকিতে দাঁড়াই।

মিত্রা দোলনা থেকে উঠে এলো।

আমি হাসছি। অনাদিও হাসছে।

কেমনভাবে চিঁড়ে তৈরি হয় ওকে বোঝালাম। ঢেঁকিতে কিভাবে ধান ভাঙা হয় দেখালাম। ও একবার ঢেঁকির ওপর উঠে দাঁড়াল।

বুবুন ওটা কি?

দোলনা। অনাদি বললো।

দোলনা! সেটা কি কাজে লাগে?

কাল স্যারের বাড়িতে ঠাকুর নমস্কার করেছেন?

হ্যাঁ।

আমাদের এই খামারে বছরে একবার অষ্টমপ্রহর হয় তখন ওই দোলায় করে ঠাকুরকে নিয়ে এসে তুলসী মঞ্চে বসানো হয়।

কীর্তন?

অনাদি মাথা দুলিয়ে হাসছে।

এটা কি, ওটা কি, ওর প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমার আর অনাদির প্রাণ ওষ্ঠাগত। না দেখা জিনিসগুলো প্রাণ ভরে লুটে নিতে চাইছে।

বাইকের আওয়াজ পেলাম। বাইরে তাকালাম। চিকনা আর বাসু। আমি পায়ে পায়ে খামারে বেরিয়ে এলাম।

কিরে এতো সকালে!

চিকনা খিস্তি দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু মিত্রার দিকে চোখ পড়তে থেমে গেল।

সারারাত নিজেও ঘুমবি না, কাউকে ঘুমতেও দিবি না।

ওর দিকে তাকালাম। বোঝার চেষ্টা করলাম।

সকাল বেলা শ্মশানের হাওয়াও খাওয়ালি।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। বাসু হাসছে।

একবার পেছন ফিরে মিত্রার দিকে তাকালাম। আপন মনে দোলায় দুলছে।

অনাদি বেরিয়ে এলো। ওদের দুজনকে দেখে একটু অবাক হলো।

কিরে?

কি আবার। সারা মহল্লা খুঁজে শেষে এখানে এসে পেলাম।

অনাদি অবাক হয়ে তাকিয়ে চিকনার মুখের দিকে।

তাও ম্যাডামের শাড়িটা দীঘাআড়ি থেকে চোখে পরলো বলে। শালা সকালের শ্মশানটাও দেখা হয়ে গেল ওর জন্য।

শ্মশানে গেছিলি, কেন! আবার কে মারা গেল?

কেউ মরে নি নিজেই মরে গেছিলাম, সঙ্গে বাসুকেও প্রায় মেরে দিয়েছিলাম।

কেন!

অনিকে জিজ্ঞাসা কর।

অনাদি আমার মুখের দিকে তাকল। আমি মাথা নিচু করে আছি।

বাসু অনাদিকে বললো, কাল সারারাত ওরা দুজনে ঘুমোয়নি। মিত্রা ভীষণ চেঁচামিচি করেছে। নীপাও ঘুমায়নি। ওদের সব কথা শুনেছে। ও ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে। ওরা বেরিয়ে আসতে, নীপা চিকনাকে ফোন করেছিল। নীপা ভীষণ কান্নাকাটি করছে।

অ্যাঁ।

বাধ্য হয়ে চিকনা ওই কানা রাতে আমার কাছে আসে। আমি প্রথমে গাড়িটা লক্ষ্য করি। না গাড়িটা ঠিক আছে। তখনি বুঝলাম ওরা চলে যায়নি। এখানেই কোথাও আছে। প্রথমে দুজনে মিলে হারু জানার কালায় যাই, ওখান থেকে শ্মশানে, তারপর দীঘাআড়ি। ওখানে এসে মিত্রার শাড়িটা লক্ষ্য করে চিকনা। আমায় দেখায়। আমি বলি হ্যাঁ। ওখান থেকে তোর বাড়িতে এলাম।

মিত্রা তখনো দোলায় দুলছে, বাচ্চাদুটোর সঙ্গে মনে হয় ভাব জমিয়ে নিয়েছে। দুটোই দেখছি ওর কোলে।

চল ভেতরে চল।

দাঁড়া নীপাকে একবার ফোন করি। যে মেয়েকে কোনওদিন কাঁদতে দেখিনি, তাকে কাল কাঁদতে শুনে মাথা খারাপ হয়ে গেছিল। চিকনা বললো।

মিত্রাকে কিছু বলিস না। ও খুব আপসেট আছে।

তোকে আর জ্ঞান দিতে হবে না। ওগুলো বুঝতে ঘটে বুদ্ধি লাগে না। বাসু বললো।

হাসলাম।

হাসিস না।

চিকনা নীপাকে ফোন করে সব জনাল।

আমরা অনাদির বাড়ির দাওয়ায় বসলাম।

চা এলো। সঙ্গে নারকেলকোড়া ঘি দিয়ে মুড়ি মাখা। মিত্রা দোলনা ছেড়ে আমাদের পাশে এসে বসলো। চিকনা একবার তাকাল মিত্রার দিকে।

কাল খুব ভালো ঘুম হয়েছে মনে হচ্ছে, চোখের কোল দুটো ফোলা ফোলা।

মিত্রা মাথা নিচু করলো। আপনাদের খুব কষ্ট দিলাম।

আপনি নয়, তোমাদের খুব কষ্ট দিলাম। চিকনা বললো।

মিত্রা হেসে ফেললো, ফ্যাকাসে হাসি।

হাসলেন বটে কিন্তু কালকে পুকুর ঘাটে যখন পরে যাচ্ছিলেন, তারপর অনিকে জাপ্টে ধরে আমাদের দিকে তাকিয়ে যে হাসিটা ঝেড়েছিলেন, সেরকম নয়।

চিকনা এমন ভাবে কথা বললো মিত্রা সারাটা শরীর দুলিয়ে খিল খিল করে হেসে উঠলো।

এইবার ওই হাসির সঙ্গে এই হাসিটা মিললো।

আমরা মরে যাইনি ম্যাডাম। অনি যেমন আপনার। আমাদেরও।

জানি। আমি কালকের সব ঘটনা শুনলাম ওর মুখ থেকে।

আমাদের খপ্পরে পরা খুব সহজ, বেরনো খুব কঠিন। আপনি কিছু ভাববেন না। অনাদির দিকে ঘুরে তাকিয়ে, হ্যাঁরে মুড়ি কি বাড়ন্ত?

অনাদি এমন ভাবে তাকাল, চিকনা হেসে ফেললো।

খিদে লেগেছে।

খা-না, টিনটা বসিয়ে দেব।

ম্যাডাম লজ্জা পাবে। গাঁয়ের ছেলে, খাওয়া তো দেখেনি, বিড়াল ডিঙতে পারবে না।

মিত্রা হাসছে।

ওদিকের খবর।

রাতে সঞ্জুর জিম্মায় চলে গেছে। সব ঠিক আছে। ম্যাডাম যখন বলবে হাজির করে দেব।

সঞ্জুর জিম্মায় মানে! অনাদি বললো।

কাল রাতে কিছু একটা হয়েছিল। সঞ্জু আমায় ফোন করলো। আমি বললাম চেলাকাঠ দিয়ে পিঠ গরম করে দে, তোর ওখানে নিয়ে গিয়ে রাখ।

মিত্রা চিকনার কথায় হেসে ফেললো।

হাসবেন না ম্যাডাম ওই শা….।

চিকনা একহাত জিভ বার করে ফেললো। সরি।

কালকে মেলার মজাটাই নষ্ট হয়ে গেছে। ওকে এতো সহজে ছেড়ে দেব ভাবছেন।

এখন কোথায়? অনাদি জিজ্ঞাসা করলো।

সঞ্জুর বাড়িতে।

ঠিক আছে।

তোরা কি চিন্তা করলি? অনাদি আমার দিকে তাকিয়ে বললো।

আমি ভেবে রেখেছি। মিত্রাকে বলিনি। বাড়িতে গিয়ে বলবো। মোবাইলটায় ফোন এসেছিল?

বহু। এই তো ভোর বেলা পর্যন্ত। কানের কাছে খালি টেঁ টেঁ।

নিয়ে আয়।

ওইটা দেখেছিস। চিকনা বললো।

হারামী। কথাটা বলেই অনাদি জিভ কাটলো। মিত্রা মাথা নিচু করে হাসছে।

হটকেক। চিকনা বললো।

অনাদি ভেতরে চলে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোনটা নিয়ে এলো। আমার হাতে ফোনটা দিল।

মিত্রা বাসুকে কি যেন ইশারা করলো। বাসু উঠে পড়লো। মিত্রাও উঠে পড়লো।

ওরা একটু দূরে চলে গেল।

আমি ফোনটা অন করে কল লিস্ট দেখলাম। চম্পকদা, সুনিতদা, অতীশবাবুর ফোন। এই তিনটে নাম দেখলাম সেভ করা আছে। বাকিগুলো বুঝতে পারলাম না। অনাদিকে বললাম, একটু কাগজ কলম নিয়ে আয়। অনাদি নিয়ে এলো আমি নাম্বারগুলো নোট করলাম টাইমগুলো নোট করলাম। অনাদিকে বললাম, ওকে সাড়ে ন-টায় নিয়ে আয়। আমি দশটায় মিটিং কল করছি অফিসে।

কোন অফিসে?

কলকাতায়। আমার অফিসে।

যাবি কি করে?

যাব না এখান থেকেই টেলি-কনফারেন্সে করবো।

ইচ্ছে ছিল সকলের সামনে ওর মুখোশ খুলবো।

ওটা করতে যাস না। আফটার অল আমাদের বন্ধু।

আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।

একটু ভাবতে দে।

ওকে এবার গ্রাম ছাড়া করবো। অনাদি বললো।

আমি ওকে না বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু বললাম না।

খামারে মিত্রা বাসুকে কিছু একটা বলছে বাসু মাথা দোলাচ্ছে।

মিত্রা ওখানে কি করছে বল তো বাসুর সঙ্গে! অনাদি বলে উঠল।

তোর কি। চিকনা বললো।

কি করছে জানিস? আমি বললাম।

কি?

নিশ্চই কোনও খেলনার দোকান খুঁজছে এই সাতসকালে। অথবা ক্যাটবেরি কিংবা চকলেট।

মনগড়া কথা বলিস না। চিকনা বললো।

তুই ওদের কথা শুনে এসে আমায় বল।

যদি না হয় কি দিবি?

তোকে অনেক কিছু দেব। ধরে রাখতে পারলে জীবনে আর কিছু করতে হবে না।

চিকনার চোখ চকচক করে উঠলো, ঠিক।

হ্যাঁ।

চিকনা উঠে গেল, আমি অনাদিকে কাল রাতের সমস্ত ঘটনা সংক্ষেপে বললাম।

অনাদির চোখে-মুখে কাঠিন্যতা ফুটে উঠলো। তোর ধৈর্য আছে অনি। তোর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। শালাকে এমন দেব না, এবার তুই দেখবি।

না অনাদি। ছোটো থেকে আমরা একসঙ্গে বড় হয়ে উঠেছি। আবার বলছি, আমরা একে অপরের বন্ধু। ওকে শোধরাবার ব্যবস্থা করতে হবে। চেষ্টা করে দেখি না।

তুই মহান হতে চাইছিস।

না। জীবনে কিছু পাইনি।

একটু থামলাম।

আমার থেকে তুই এটা ভালো জানিস। অনেক দিন এমন হয়েছে কাকার সঙ্গে অভিমান করে তোর বাড়িতে এসে পান্তা খেয়ে দুজনে মিলে এক সঙ্গে স্কুলে গেছি। কেন? কাকার পয়সা ছিল না? না আমার বাবার কিছু কম ছিল?

আজ আমার কাছে সবাই ভালো। দিবাকর পরের ছেলে। কাকাকে আমি কোনওদিন পর ভাবিনি। থাক ওসব কথা, চলে আয়। আমি দিবাকরের সঙ্গে একটু কথা বলে নেব।

অনাদি মাথা নিচু করে আছে।

আমায় ক্ষমা করিস। আমি না জেনে তোকে….।

ছার ওসব কথা, একটা সিগারেট দে।

অনাদি উঠতে যাচ্ছিল, চিকনা এলো। গুরু তুমি অন্তর্যামী।

সিগারেটের প্যাকেটটা আগে বার কর। অনাদি বললো।

দিলি মাঝখানে টুকে।

প্যাকেটটা আগে বার কর, অনি চাইছে।

আগে বললি না কেন?

চিকনা সিগারেটের প্যাকেটটা বার করলো। একটা সিগারেট নিয়ে ধরালাম, বল।

তোর কথাই ঠিক। তুই কি করে জানলি একটু শেখা।

মানুষকে ভালোবাসতে হবে। নিঃস্বার্থ ভাবে।

বিদ্যেটা শিখতে হবে।

বাসু কি বলছে?

বেলায় ব্যবস্থা করে দেবে। ম্যাডাম বলছে এখুনি। এই নিয়ে ক্যাচাল।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম, ওকে ইশারায় ডাকলাম, মিত্রা কাছে এলো।

বাসু ঠিক বলছে। চল অনেক কাজ। ও যখন সাড়ে ন-টার সময় আসবে, তখন সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। গ্রামের ঘরে এতো সকালে কে দোকান খুলবে বল।

ঠিক।

আমি বলছি দেখবি বাসু ঠিক নিয়ে যাবে।

বাসু হাসছে।

আমরা দুজনে ফিরে এলাম।

চিকনা, বাসু বললো রেডি হ ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবে।

আমাদের দূর থেকে আসতে দেখে নীপা এগিয়ে এলো। খামারে এসে দাঁড়িয়েছে। চোখের কোলে কে যেন একপোঁচ কালি লেপে দিয়েছে।

কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে মেয়েটার বয়স দশবছর বেড়ে গেছে।

মিত্রার বুকে মুখগুঁজে ফুলে ফুলে কেঁদে উঠলো। আমি নীরবে দাঁড়িয়ে আছি। মোবাইলের ঘড়িটা দেখলাম, সাড়ে সাতটা বাজে।

নীপা কিছু একটা ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পেরেছে। কি ঘটেছে বুঝে উঠতে পারছে না।

মিত্রা, নীপার মুখটা তুলে বললো, আমার একটুতে মাথা গরম হয়ে যায়। তোর অনিদার মাথাটা বরফের মতো ঠান্ডা। তাইতো ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছি। তোর কোনও চিন্তা নেই। দেখিস আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

মিত্রা, নীপার চোখ মুছিয়ে দিল।

এখন আর ও বাড়িতে যাব না। কাকারা কিছু জানে না তো?

নীপা মাথা দুলিয়ে বললো, না।

তুই একটু চা নিয়ে আয়। মিত্রা বললো।

আর কিছু খাবে না?

কি করেছিস?

আলু ভেজেছি। একটু মুড়ির সঙ্গে মেখে দেব।

যা নিয়ে আয়।

দু-জনে ওপরে এলাম। মিত্রাকে আমার প্ল্যানের সমস্ত ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললাম। ওর চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তুই কি বলছিস!

আমি যা বলছি তাই কর। মিত্রা ফোন তুলে নিল, ভয়েস অন করে রেকর্ডিং চালু করে দিলাম।

সনাতনবাবু হ্যালো করে উঠলেন।

অফিসের খবর কি?

ম্যাডাম আর বলবেন না। অফিসের অবস্থা ভালো নয়।

কেন?

এই কদিনে এরা সবাই মালিক হয়ে গেছে।

কারা?

চম্পকবাবু, সুনিতবাবু। আর্ট ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন। কাকে বাদ দিই বলুন।

আপনি কি করছেন?

আমি কি করবো বলুন। কথা শুনলে বলা যায়। এরা কিছুই মানছে না। বিশেষ করে সুনিতবাবু। আমি কিছু বলতে পারছি না। উনি আপনার আত্মীয়।

ঠিক আছে। আমি টেলি কনফারেন্সে আজ এগারটার সময় মিটিং করবো। সব ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজারদের থাকতে বলবেন। সবাইকে সাড়ে দশটার মধ্যে অফিসে হাজির হতে বলুন। আমার ঘরে বসাবেন। আর শুনুন, সব রেকর্ডিং করবেন।

ঠিক আছে ম্যাডাম।

আমি ঠিক এগারোটার সময় ফোন করবো। আপনার মোবাইলে।

আচ্ছা ম্যাডাম।

নীপা আলুভাজা মেখে মুড়ি-চা নিয়ে এলো। আমার দিকে কিছুতেই তাকাচ্ছে না। আমি খাটে পা ঝুলিয়ে হাতের ওপর হেলান দিয়ে একটু পেছনে হেলে বসে আছি। মিত্রা আমার পাশে খাটের ওপর। নীপা মুড়ির বাটিটা খাটের ওপর রেখে আমার পায়ের কাছে বসে। আমার কোলে মাথা রেখে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো। প্রথমটায় ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরেছিলাম।

আমায় ক্ষমা করো অনিদা।

আমি ওর মাথায় হাত রাখলাম।

কেন, বলো।

আমি তোমাকে না জানিয়ে চিকনাদাকে ফোন করেছিলাম। তুমি বিশ্বাস করো, আমার মাথাটা তখন কাজ করছিল না।

দূর, এসব নিয়ে অ্যাতো কেউ ভাবে।

মিত্রাদি তোমার ওপর ওই রকম রেগে যেতে পারে, আমি ভাবতে পারিনি।

রাগটাও মানুষের একটা ধর্ম।

কই তুমি কখনও রেগে যাও নি?

আমি বোকা। বোকারা কখনও রাগতে পারে?

এমন ভাবে কথাটা বলে ফেললাম, এই সিচুয়েশনেও নীপা কাঁদতে কাঁদতে হেসে ফেললো। মিত্রা হেসে বিছানায় গড়িয়ে পরে।

তুই হাসছিস না কাঁদছিস। মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম।

কেন হাসছি।

আমি ভাবলাম তুইও কাঁদছিস।

নীপা উঠে গিয়ে মিত্রার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।

দুজনেই হাসিহাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে। মুড়ির বাটি থেকে একমুঠো মুড়ি মুখে তুলে নিলাম। ঘন ঘন কালকের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

কিরে কি ভাবছিস?

মিত্রার দিকে তাকালাম।

ভাবছি সকাল থেকে বাথরুম করলি না। তোর বাথরুম পায় নি?

পেয়েছে। তুই মুখ পাত।

মিত্রাদি তুমি না কি।

তোর অনিদা যেরকম, সেরকম উত্তর না দিলে বিপদে পরবি।

কালকের পর তোকে….।

বুবুন খারাপ হয়ে যাবে।

নীপা চোখ পিট পিট করছে, তার মানে!

কি, বলবো?

প্লিজ বুবুন।

ঠিক আছে।

তাহলে ওটা করবি।

হ্যাঁ। না না না….।

ওরা দুজনেই হেসে উঠলো।

ওরা সবাই ঠিক সময়ে এসেছে। দিবাকরও এসেছে। আমার মুখে কোনও বিকার নেই। আমার বন্ধু বান্ধবরা প্রায় সকলেই জেনেছে। ঘরে এখন লোক দাঁড়াবার জায়গা নেই। আরও দু-চারজন নতুন মুখ দেখতে পেলাম। আমি চিনতে পারলাম না। বুঝলাম অনাদির চাল। অনাদি কারুর সঙ্গেই আলাপ করাল না।

দিবাকর এসেই কাঁদুনি গাইতে আরম্ভ করেছে।

আমি দিবাকরকে ভালো মুখে সবকথা স্বীকার করে নিতে বললাম, ও কিছুতেই স্বীকার করবে না। বার বার এক কথা অনাদি ওকে প্ল্যান করে ফাঁসিয়েছে।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম, মিত্রা মুচকি মুচকি হাসছে।

কিছু বুঝছিস?

মিত্রা মাথা দোলাল।

ও কালকে তোর পাশে বসে, তোর সঙ্গে রসিয়ে রসিয়ে গল্প করেছে। কলকাতায় ওটা রেকর্ডিং হয়েছে। তাও বলছে ওকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তুই বিশ্বাস কর অনি।

তুই কাল মিত্রার সঙ্গে কি কথা বলেছিস, তার রেকর্ডিং শুনবি।

দিবাকর এবার মাথা নিচু করলো।

এরপরও তুই বলবি তোকে ফাঁসান হয়েছে। তুই কাল আরও অনেক কিছু বলেছিস। আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো আঘাতটা আমি তোর কাছ থেকে কাল পেয়েছি।

তুই একবার পার্মিশন দে অনি, দেখ পাঁচমিনিটের মধ্যে কিমা বানিয়ে দেব। চিকনার চোখ মুখের চেহারা বদলে গেছে। সঞ্জু, চিকনার পাশে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে।

আমি তোর পায়ে ধরছি তুই আমাকে বাঁচা। দিবাকর আমার পা ধরে ফেললো।

দিবাকরের ফোনটা বেজে উঠলো। আমি চিকনার হাত থেকে মোবাইলটা নিলাম। দেখলাম সুনিতদার নম্বর। ভয়েস অন করে দিবাকরের হাতে দিলাম। তোর হবু বস ফোন করেছে। রেসপন্স কর। নাহলে চিকনার কথাটা মনে রাখিস। একবারে বেগড় বাই করবি না। খুব সাধারণ ভাবে কথা বলবি। যেভাবে গত চারদিন ধরে কথা বলে আসছিস। সঞ্জু রেকর্ডিংটা টিপে দে।

সঞ্জ রেকর্ডিংটা অন করে দিল।

হ্যালো হ্যালো।

বলুন।

তোমার খবর কি? কালকে সেই রাত দশটায় লাস্ট নিউজ দিলে তারপরে কি হলো বলো?

কোনও খবর নেই, তাই দিইনি।

গলাটা এত ভারী কেন? কেউ জানতে পেরেছে নাকি?

আমি দিবাকরের দিকে তাকালাম, হাতের ইশারা করলাম।

না।

কালকে থেকে কতবার তোমায় ফোন করেছি, চম্পকবাবু করেছে, অতীশবাবু করেছে।

ফোনটা প্রবলেম করছিল।

লেটেস্ট খবর কি বলো?

ভালো নয়।

আমি দিবাকরের দিকে কটকট করে তাকালাম।

কেন!

কাল রাতে এখান থেকে ওরা চলে গেছে।

তারমানে! কোথায় গেছে খোঁজ নাও।

কি করে নেব। আমাকে বলে গেছে নাকি।

কোথায় আবার যাবে আমার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগে ম্যাডামের কথা হয়েছে। ওরা গাড়ি করে কোথায় যাচ্ছে মনে হয়।

কাছাকাছি দীঘা আছে, ওরা হয়তো দীঘা গেছে।

দ্যাটস রাইট এটা ঠিক বলেছো। তুমি পাত্তা লাগাও। টাকার জন্য চিন্তা করো না। যা লাগে আমি দেবো। যদি বোঝো, এখুনি একটা গাড়ি ভাড়া করে চলে যাও।

ঠিক আছে।

রবিনকে পেলে।

না।

ওরা কিন্তু রবিনকে নিয়ে যায়নি। ম্যাডাম গাড়ি চালাচ্ছে।

ও।

রবিনের বাড়ি তোমাদের পাশের গ্রামে। একবার পাত্তা লাগাও। ওকে আমার খুব দরকার। অনিটা খুব ধুরন্ধর ছেলে, মিত্রাকে দিয়ে যদি কিছু সই সাবুদ করিয়ে নেয় সব কেঁচে যাবে।

মিত্রা ফিক করে হেসে ফেললো। আমি ওর মুখ টিপে ধরলাম।

শোনো, তুমি কনফার্ম খবরগুলো নিয়ে আজ কোলকাতায় চলে এসো। তোমার এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার রেডি করে রেখেছি।

হবে না। এখানে একটা কাজ পড়ে গেছে।

এমা, ম্যাডামের সঙ্গে আমার কথা হলো আমি সব বললাম। উনি ভয়ে কাবু। আরে কিছু হোক ছাই না হোক মান-সম্মানের একটা ব্যাপার আছে। ওই রকম একটা ফালতু ছেলের সঙ্গে ঢলানি। এই ফাঁকে আমি আমার কাজ গুছিয়ে নিলাম। বাধ্য হয়ে উনি সব মেনে নিলেন। আমি অনির জায়গায় তোমায় বসাব। তুমি যে কি উপকার করলে। আরে হুঁ হাঁ করছো না কেন?

দিবাকর আমার দিকে তাকাল। আমি ইশারা করলাম। কথা তারাতারি শেষ করতে।

আপনার কথা শুনছি। ঠিক আছে কিছুক্ষণ পর আপনাকে ফোন করছি।

এনি নিউজ।

হলে বলবো। রাখছি।

সঞ্জু দিবাকরের হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে রেকর্ডিংটা সেভ করলো।

আমি বললাম লাস্ট রেকর্ডিংটা আমার মোবাইলে ট্রান্সফার কর।

মিত্রা মুখ নিচু করে বসে আছে।

এবার বল দিবাকর। তোর আর কিছু বলার আছে।

দিবাকর হাঁউ মাউ করে কেঁদে উঠলো।

চিকনা ওকে প্রায় মেরেই দিচ্ছিল, সঞ্জু ধরে ফেললো।

দিবাকর আমার পা জড়িয়ে ধরলো, আমায় বাঁচা অনি।

যে বাসুকে আমি এই কদিনে রাগতে দেখিনি। সব সময় আমার পাশে ছায়ার মতো থেকেছে। হঠাৎ ও দিবাকরের গালে একটা থাপ্পর মেরে বসলো।

বাসুর এই ব্যাবহারে ঘর ভর্তি লোক অবাক হয়ে গেল।

চিকনা চেঁচিয়ে উঠলো। তোর ওই স্যাকরার ঠুকঠাকে হবে না। আজই ওর ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি। দেখবি শরীর গরম হয়ে গেছে।

এতক্ষণ তুই মিথ্যে কথা বলছিলি কেন? তুই ম্যাডামকে কতটুকু চিনিস? বাসু বললো।

আমি ওদের দিকে তাকালাম।

অনাদি একে একে সবার সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিল।

ওদের লোকাল কমিটির ভদ্রলোক বললেন, আপনার কথা অনেক শুনেছি আজ চাক্ষুষ দেখলাম।

আমি হাতজোড় করে নমস্কার করলাম।

আমার দেখাদেখি মিত্রাও নমস্কার করলো।

পাঁচ বছর পর নিজের গ্রামে এসেছি। রথেরমেলা গত দশবছর দেখিনি। ভেবেছিলাম কাল রথ টানবো। হলো না।

নানা চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধছে। মিত্রার দিকে তাকালাম। ও আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। দিবাকার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছছে। ওকে দেখে মায়া হচ্ছে, আবার রাগও হচ্ছে। না বুঝে ও যে কতো বড়ো ক্ষতি করলো, ও নিজেই জানে না। লোভ মানুষকে কত নিচে নিয়ে যেতে পারে দিবাকর তার একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মনে মনে ঠিক করলাম দিবাকরকে একটা সুযোগ দেব। দেখিনা যদি শুধরে যায়।

কটা বাজে?

এগারটা পাঁচ। বাসু বললো।

দিবাকরের দিকে তাকালাম, তুই চুপচাপ থাকবি না হলে মুখ-হাত-পা বেঁধে ওখানে ফেলে রাখবো।

দিবাকর কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো, আমি তোর পায়ের কাছে বসবো।

নীপা আমার পাশে এসে বসলো। ও আমার হাতটা চেপে ধরে আছে। ও এই অনিদাকে দেখেনি। মুখ চোখ শুকিয়ে কাঠ। ও ঠিক ঠাহর করতে পারছে না, ব্যাপারটা কি ঘটছে।

অনাদিকে বললাম, ওনাদের সবাইকে নিয়ে তুই একটু নিচে যা।

অনাদি আমার ইশারা বুঝতে পরলো। অর্ধেক ঘড় সঙ্গে সঙ্গে খালি হয়ে গেল।

ঘরে থাকল চিকনা, দিবাকর, সঞ্জু, বাসু, নীপা।

মিত্রার দিকে তাকালাম।

ঘরে পিন পরলে শব্দ হবে। সবাইকে বললাম চুপ চাপ থাকবি। কোনও কথা বলবি না। মিত্রা যা বলেছি খুব ঠান্ডা মাথায় শোন, কখনই উত্তেজিত হবি না। মনে রাখবি এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে মা-বাবা-ভাই-বোন-আত্মীয়-স্বজন বলে কিছু নেই। ব্যাপারটা এইরকম, আই এম কোরাপ্ট বাট গুড এ্যাডমিনিস্ট্রেটর।

আমার কথা শুনতে শুনতে মিত্রার চোখে মুখের চেহারা বদলে গেল। এটা সবাই লক্ষ করলো।

দিবাকর যদি বাঁচতে চাস কোনও আওয়াজ করবি না। তোর মোবাইলটা কোথায়?

চিকনা এগিয়ে দিল। দিবাকরের দিকে তাকিয়ে বললাম, ইশারায় কাজ করবি।

তুই যা বলবি তাই করবো।

ঠিক আছে।

মিত্রা ডায়াল করতেই ও প্রান্ত থেকে সনাতনবাবুর গলা ভেসে এলো।

হ্যাঁ ম্যাডাম।

সবাই এসেছেন?

হ্যাঁ ম্যাডাম।

নাম বলুন কে কে এসেছেন?

সনাতনবাবু ওপ্রান্ত থেকে সবার নাম বললেন।

সবার নাম নোটকরে সই করিয়ে নেবেন।

ঠিক আছে ম্যাডাম।

সুনিতবাবু?

হ্যাঁ ম্যাডাম।

কাগজের খবর কি?

সব ঠিক আছে।

কি রকম ঠিক?

আপনি যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে গেছিলেন সেই ভাবে চলছে।

তাই নাকি? আমার কাছে যে অন্য খবর আছে।

না ম্যাডাম একটু ঝামেলা হয়েছিল, অমিতাভবাবু আর মল্লিকবাবুর সঙ্গে।

কি নিয়ে?

আপনি আস্তে বারন করেছিলেন, আমি সেটা বলতেই বললো কাগজ দেখি।

আপনি কি বললেন?

কাগজ দেখাতে পারিনি, আপনি মৌখিক ভাবে বলেছিলেন আমায়।

সনাতনবাবু কি বললেন?

উনি বললেন আপনি যা ভালো বুঝবেন করবেন, তারপর ম্যাডাম এলে ডিসিশন হবে।

আমার কাছে সেরকম কোনও খবর নেই। বরং কাগজের বাইরের খবর নিয়ে আপনারা বেশি মাতামাতি করেছেন।

না ম্যাডাম।

সময় মতো কাগজ বেরচ্ছে?

হ্যাঁ ম্যাডাম।

গত কাল ছাড়া প্রতিদিন কাগজ সেকেন্ড ট্রেন ধরেছে।

কে বলেছে ম্যাডাম আপনি একবার তার নাম বলুন।

সনাতনবাবু।

হ্যাঁ ম্যাডাম, সুনিতবাবু যা বলছেন তা ঠিক নয়। গতকাল এক মাত্র ঠিক টাইমে কাগজ গেছে। আর যায় নি।

আপনি কি করছিলেন?

এ্যাকচুয়েলি ম্যাডাম….।

আপনাকে কাজের জন্য পয়সা দেওয়া হয়? মিত্রা ঝাঁঝিয়ে উঠলো।

হ্যাঁ ম্যাডাম।

আপনাকে যে পাওয়ার দিয়ে এসেছিলাম তা ইউটিলাইজ করেছেন।

এরা ঠিক….।

সুনিতবাবু?

হ্যাঁ ম্যাডাম।

কজনকে চাকরির লোভ দেখিয়েছেন?

একজনকেও না।

মিত্রা কথা বলে চলেছে।

আমি দিবাকরের ফোন থেকে রিং করলাম। সুনিতদার ফোন বেজে উঠেছে।

ম্যাডাম আমার একটা ফোন এসেছে।

মিত্রা নম্বরটা বললো, এই নম্বর থেকে?

চুপচাপ।

কি সুনিতবাবু চুপচাপ কেন, নম্বরটা ঠিক বললাম না ভুল বললাম। কথা বলছেন না কেন?

হ্যাঁ ম্যাডাম।

আপনার মামা ব্যাপারগুলো জানেন?

না।

ওকে ফোন করুণ, আর বলুন আমাকে এখুনি ফোন করতে। শুনুন আপনি আমার টেলি-কনফারেন্স শেষ হলে অফিস থেকে বেরিয়ে যাবেন। আগামী শুক্রবার আমার ঘরে মিটিং। আপনি প্রেজেন্ট থাকবেন। সেদিন যা বলার বলবো। এদের সামনে আর বললাম না।

ম্যাডাম, আমার কিছু কথা বলার ছিল।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev