| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ২১০৫ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

৫৭ নং কিস্তি

বাথরুম থেকে বেরতেই দেখলাম দুই বোন খাটে বসে বসে কথা বলছে।

আমি আবার বাথরুমের ভেতরে ঢুকে গেলাম।

উঃ লজ্জাশীলা নারী। ইসিতা বললো।

আয় আয় চলে আয়, আর লজ্জা পেতে হবে না। মিত্রা বললো।

বাথরুমের গেট থেকে মুখ বার করে হাসলাম।

মিত্রা মুখ টিপে হাসছে।

তোর কীর্তি কলাপ শুনছিলাম ওর মুখ থেকে।

দে দে, তাড়াতাড়ি গেঞ্জিটা দে, শরীর ঢাকি।

একিরে তুই বিয়ে করা বৌকে কি বলে সম্বোধন করলি।

তুই বুঝবি না। দারুণ মজা।

দাঁড়া আমি মাকে গিয়ে বলছি।

শোধরাতে পারবি না।

আমি গেঞ্জিটা পরলাম। জাঙ্গিয়াটা পরতে গিয়ে ওদের দিকে তাকালাম।

মিত্রা ফিক করে হেসে ফেললো।

আমরা কেউ দেখবো না।

আমার আপত্তি নেই, ভয় না পেলেই হলো।

কি শয়তান রে, শালি বসে আছে। ইসি বললো।

আমি টেবিলের কাছে গেলাম।

দেখে পর, কারটা পরছিস। ইসিতা চোখ পাকিয়ে বললো।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম।

গল্প হয়ে গেছে?

মিত্রা হাসছে। সদ্য কালকের ঘটনা, না বলে পারি।

বেশ বেশ। মাথায় রাখিস, ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় শোধবোধ করে দেব।

রেডি হলাম। আজও নতুন পাজামা পাঞ্জাবী। বেশ লাগছে। ঘন ঘন নতুন নতুন পোষাক।

এটা কার স্পনসর?

মিত্রা আমার দিকে তাকাল।

জ্যেঠিমনি।

তারমানে!

এটা অনেক দিন আগে কেনা হয়েছিল। মানুষটা তৈরি হয়নি, তাই ভাঙা হয়নি।

সেই জন্য ন্যাপথালিনের গন্ধ।

মাথা দিয়ে পাঞ্জাবীটা গলালাম।

চোখ নাচিয়ে বললাম, কি ইসিতা ম্যাডাম।

ইসি খাট থেকে উঠে এলো। আমি পাঞ্জাবীর বোতাম লাগাচ্ছিলাম। ইসি আমার হাত সরিয়ে পাঞ্জাবীর বোতাম লাগাতে লাগাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফললো।

কি হলো ম্যাডাম। এটা ঠিক নয়। অনি অনির কাজ করেছে।

মিত্রা উঠে এলো।

দিদিভাই কাঁদিস না।

তোকে আমি সকালে অনেক নোংরা কথা বলেছি।

ওটা আমার প্রাপ্য ছিল ইসি। নাহলে তোদের নিয়ে আসতে পারতাম না।

তুই আগে কেন বললি না?

তুই সেই পরিবেশ দিসনি। আমি সাড়ে ছ-ঘণ্টা তোদের বাড়িতে ছিলাম। তাগিদ আমার, আমাকে পরিবেশ রচনা করতে হলো। আমার মনে হয় তুই পুরো শুনিসও নি।

ইসি মাথা দোলাচ্ছে। শোনে নি।

আমি অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি, বর্তমান আর ভবিষ্যতকে নিয়ে চলি। এবার ছাড়, নাহলে চোখ বন্ধ করে এখানে সেখানে হাত দিয়ে ফেলবো। ভাববো মিত্রা জড়িয়ে ধরেছে। সকাল থেকে কিছু খাওয়াস নি। শুধু ভালমন্দ গাল দিয়েছিস মনে মনে।

ইসি কোমরে একটা চিমটি কাটলো।

মিত্রা হাসছে।

ইসি হাসতে হাসতে চোখ মুছলো।

টাওয়েলটা দিয়ে মুখটা মুছে নে।

মিত্রা চিরুণি এগিয়ে দিল। চুল আঁচরালাম। চুলে চিরুনি চলে না। এবার সময় করে কাটতে হবে।

তিনজনে নিচে নেমে এলাম। খুব হই হই হচ্ছে। পিকুবাবুকে দেখলাম কনিষ্কদের টেবিলের সামনে। বটা চেঁচিয়ে উঠলো।

অনি এসে গেছে এবার ঝেড়ে দে।

কেন, না বললে পেটের ভাত হজম হচ্ছে না। নীরু দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে উঠলো।

তখন থেকে তোরা খেওখেয়ি করছিস, কি হয়েছে বলতো। ছোটোমা বললো।

দাঁড়িয়ে যাও, এবার নীরুর আর একটা পর্দা ফাঁস। বটা বললো।

কনিষ্ক হাসছে।

ইসিতা, মিত্রা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।

এগুলোর সঙ্গে ইসির আলাপ করিয়ে দিয়েছিস?

হ্যাঁ।

আমি কিন্তু খেতে খেতে উঠে যাব ছোটোমা।

নীরু চেঁচাচ্ছে, সকলে হাসছে।

কেন তোরা ওর পেছনে লাগছিস বলতো। ছোটোমা আবার বললো।

তাহলে একটা এক্সক্লুসিভ মিস করবে।

ছোটোমা কনিষ্কর দিকে তাকাচ্ছে। মিটি মিটি হাসছে।

আচ্ছা বড়ো ম্যাডাম।

কনিষ্ক ইসিতার দিকে তাকাল।

না বলছি, একবারে বলবি না। নীরু আবার চেঁচিয়ে উঠলো।

নীরুর কথায় সকলে হাসছে।

তাহলে অনির প্রোগ্রাম ক্যানসেল। কনিষ্ক বললো।

নীরু চুপ করে গেল।

কিরে বলবি তো অনির প্রোগ্রাম ক্যানসেল, না তোরটা বলবো।

অনির প্রোগ্রাম হবে তো? নীরু লজ্জা লজ্জা ভাবে বললো।

আমি কথা দিচ্ছি, হবে।

কিরে তোরা কি শয়তান, অনির নাম করে….। ছোটোমা বললো।

ছোটোমা তুমি সাক্ষী রইলে। নীরু বললো।

কনিষ্ক হাসছে। আমিও হাসছি।

ব্যাপারটা কি রে? আমি বললাম।

মিত্রা আমার হাতটা ধরেছে। টিনারা তাকিয়ে কনিষ্কর দিকে। ফিক ফিক করে হাসছে।

আঙ্কেল মিষ্টিটা দাও। পিকু বলে উঠলো।

ইসি হো হো করে হেসে ফেললো।

দাঁড়া ব্যাটা দিচ্ছি। কনিষ্ক বললো।

কিরে শেষ পর্যন্ত তোকে….! আমি বললাম।

আর বলিস না। প্রথমে নীরুকে ঝামেলা করছিল, তারপর আমার কাছে চলে এসেছে। ম্যাডাম আপনি একটু এদিকে আসুন।

কনিষ্ক, ইসির দিকে তাকিয়ে বললো।

ইসি এগিয়ে গেল।

মিত্রা আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো। নীরুর অবস্থা খারাপ। তাকিয়ে দেখ।

কেন রে!

আপনি ওই ভদ্রলোককে চিনতে পারছেন। কনিষ্ক, নীরুকে দেখিয়ে বললো।

আমি ব্যাপারটা ধরতে পেরে গেলাম।

হো হো করে হেসে ফেলেছি।

সবাই আমার দিকে তাকিয়ে। ঘরের মধ্যে আমিই একা হাসছি।

তুই একেবারে আমাকে চাটবি না। নীরু আমার দিকে কট কট করে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো।

তার মানে! মিত্রা আমার হাত ধরে। চোখে জিজ্ঞাসা।

দেখেছিস সমঝদারকে লিয়ে ইশারা ভি কাফি। কনিষ্ক বললো।

ইসি আমার দিকে তাকিয়ে।

কিরে অনি!

তুই নীরুকে চিনতে পারছিস না?

না।

বছর চারেক আগে দেখেছিস। কচি কচি দেখতে ছিল তখন, সেই জন্য চিনতে পারছিস না।

নীরুর দিকে তাকালাম।

কিরে নার্সিংহোম না হাসপাতাল?

মিত্রা আমার হাতটা ধরে খিল খিল করে হেসে আমার গায়ে ঢলে পরলো।

দেখলি, দেখলি কনিষ্ক, এবার অনি মালটা রসিয়ে রসিয়ে ঝারবে। নীরু চেঁচিয়ে উঠলো।

মিত্রা ইসির কানে কানে ফিস ফিস করছে।

ইসি হো হো করে হেসে উঠলো।

তুই সব গজব করে দিলি। নীরু গজ গজ করছে।

কনিষ্ক, বটা হাসছে।

সোনাবাবা, রসোগোল্লা খাওয়া হয়েছে। কনিষ্ক, পিকুকে বললো।

আরও জরে সবাই হেসে উঠলো।

মিত্রার কাছ থেকে এবার সবার কাছে সংবাদটা পৌঁছে গেছে।

তখন ও আরও রোগা ছিল। হাসতে হাসতে ইসি বললো।

কেন মোটা হলে ভালো লাগতো। আমি বললাম।

দেখবি রে শয়তান। ইসি এগিয়ে এলো আমার কাছে।

নীরু এটা তোর কতো নম্বর।

নীরু লজ্জা পেয়ে গেছে।

পার্সোনালি তিন নম্বর।

খবরটা ঘর ময় রাষ্ট্র হয়ে গেছে। সবাই হাসছে।

বরুণদা খেতে খেতে নীরুর কাছে উঠে এলো।

সত্যি নীরুবাবু সেদিন আপনি না থাকলে, আমি ইসি আর পিকুকে ফিরে পেতাম না।

বরুণদা একেবারে গদোগদো।

আমি ঘরথেকে বেরিয়ে গেলাম। যাওয়ার সময় নীরুর দিকে তাকিয়ে বললাম। ওপরে চল কিমা বানাব।

কনিষ্ক, আমার কিছু হলে তুই দায়ী থাকবি, মাথায় রাখিস।

সকলে নীরুর কথায় হাসা হাসি করছে।

ঘর থেকে বারান্দায় এলাম। চারিদিকে লোকজন। দাদাদের দেখলাম লনে একটা ছাতার তলায় বসে গল্প করছে। সঙ্গে উনা মাস্টার, কাকা, ডাক্তারদাদা।

পায়ে পায়ে পেছন দিকে গেলাম।

দেখলাম ইসলামভাই রান্নার লোকেদের সঙ্গে কথা বলছে। কাছে যেতে বললো, কিরে খাওয়া হয়েছে?

না।

আর কখন খাবি, তিনটে বেজে গেল।

এবার বসবো। তুমি খেয়েছো?

বড়দি জোর করে খাইয়ে দিয়েছে। তুই আজ আর একটা দিদিকে এনে হাজির করলি। এটাই তোর সকাল থেকে উঠে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল?

হাসলাম।

সেই জন্য সকালে উঠে দৌড়লি।

তোমায় কেউ কিছু বলেনি?

সবে শুরু করেছিল, ডাক্তারদাদা ধমক মারল। সবাই থেমে গেল। না হলে পিণ্ডি একবারে চটকে দিত।

আমি হাসছি।

হাসিস না। তুই কেশ করবি আমাকে তার ঝাল পোহাতে হয়। এই খবরটা কি পর্শু সারারাত কালেকসন করেছিস?

তোমায় কে বললো?

তুই সারারাত জাগলি, এমনি এমনি, তা হয়?

হেসেফেললাম।

সেই জন্য কালকে তোকে বাধা দিইনি। না হলে জেগে বসে থাকতাম। তোর কালকের মুখ আর এ্যাকসনের দিনের মুখের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিল।

বাবা! তুমিও দেখছি এখন মুখ দেখে বিচার করতে শিখে গেছ।

আগে একটু একটু পারতাম তোর পাল্লায় পড়ে এখন পুরো জেনে ফেলতে হচ্ছে। তারপর ডাক্তারদাদা সাহায্য করছে।

সাগির, অবতার, কবিতা, লক্ষ্মীকে দেখতে পাচ্ছিনা।

কবিতা ভেতরে কোথাও আছে। ওরা তিনজনে আর একটু পরে আসবে।

রতন, আবিদ?

সকাল থেকে ছিল। একবার বললো খোঁজ খবর নেব অনিদার।

নিতে বলতে পারতে?

ওরা খোঁজ নিলেও তোকে পেত না।

আমি হাসছি।

ইসলামভাই আমার পেটে একটা খোঁচা মারল। তুই এখন ওয়েস্ট বেঙ্গলের ডন।

তাহলে ইসলামভাই কি?

অনির চেলা।

মাথায় রাখবে।

ওই দেখ, তোকে মামনি ডাকছে।

পেছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম মিত্রা, ইসলামভাইকে ইশারা করছে আমাকে পাঠাবার জন্য।

যাই, তুমি কাজ শেষ করো।

আমি এগিয়ে এলাম। মিত্রা দাঁড়িয়ে আছে। কাছে আসতে বললো।

এক থাপ্পর।

আবার কি করলাম।

মাথায় শুধু ফিচলে বুদ্ধি।

আমি হাসছি।

পিকু, নীরুর হাতে ডেলিভারি তুই বুঝলি কি করে?

কনিষ্কর কথার ভাঁজে। দেখলি না নীরু কিরকম লজ্জা পাচ্ছিল।

শালা ওপরে চলুক ওকে দেখাচ্ছি।

কেন ও কি অন্যায় করলো।

তুই বুঝবি না।

তোকে এমন দেব না। আমি কিছু বুঝি না, না।

তাহলে জিজ্ঞাসা করছিস কেন। ওটা মেয়েদের ব্যাপার নয়, ছেলেদের।

এখনও আশ মিটছে না।

মেটে, তুই বল। নীরুর চোখ দিয়ে দেখা হয়ে যাবে।

দাঁড়া আমি দিদিভাইকে বলছি।

বলিস না, কোথায় কি হয়ে যাবে।

তোকে একবারে খেয়ে ফেলবো।

বাকি কি রেখেছিস।

পায়ে পায়ে চলে এলাম, ঘরে ঢুকতেই দেখলাম কনিষ্ক, বটা কোমরে টাওয়েল জড়িয়েছে।

কিরে টাওয়েল পরেছিস?

তোদের খাইয়ে দিই। না হলে দেরি হয়ে যাবে।

বড়োমা পার্মিশন দিয়েছে।

দেয়নি, জোগাড় কেরে নিলাম। মাসি একটু ঝামেলা করছিলো। নীরু ধমক দিলো।

নীরু ধমক দিলো!

বলছি কি, দেখনা রান্না ঘরে গিয়ে, একবার উঁকি মার।

দখি টিনা, মিলি, অদিতি সকলে লেগে পরেছে। মৈনাক, দেবা পাতা পাতছে।

তাড়াতাড়ি খা। একটা ছোটো প্রোগ্রাম আছে।

আবার কি?

দেখতে পাবি।

তোরা মনে হচ্ছে আবার কিছু ঘোটালা পাকাচ্ছিস।

দেবা হাসছে।

আমরা সবাই একসঙ্গে বসলাম। আজ দেখছি কয়েকটা এক্সট্রা টেবিল ঘরে ঢুকেছে। সবাই এক সঙ্গে বসলাম। খাওয়া শুরু করলাম। সুরো এসে পাতের সামনে দাঁড়াল। মিটি মিটি হাসছে।

কিরে! তোর আবার কি হলো?

আমার পাতের দিকে জুল জুল করে তাকিয়ে।

তোমার একটা ঠ্যাং দাও।

আমার ঠ্যাং!

ওই হোল, মুরগীর।

ওকিরে এখুনি একপেট খেলি। বৌদি চেঁচিয়ে উঠলো।

মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম।

কনিষ্কদা, বৌদির জন্য আর একটা দিচ্ছে, তুমি ওটা দাও না। সুরো হাসছে।

আমি সুরোর মুখে তুলে দিলাম। সুরো নাচতে নাচতে চলে গেল। ইসি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ফিক ফিক করে হাসছে।

নীপা একটা বাটি নিয়ে এগিয়ে এলো।

একবারে ওকে দিবি না। আদর না। মিত্রা খেঁকিয়ে উঠলো।

আমি ঠিক বুঝে ওঠার আগেই বড়োমা বলে উঠলো।

ওরকম করিস না। ওর জন্য কতোদূর থেকে বয়ে এনেছে সুরোদি সেটা বল।

আমি হাসছি, মিত্রার দিকে তাকিয়ে আছি।

একবারে তাকাবি না, চোখ গেলে দেব। তোর জন্য সুরোমাসি চিংড়িমাছের মোলা আর টক নিয়ে এসেছে। এতো খেয়েও আস মিটছে না।

আমি হাসছি।

কনিষ্ক। মিত্রা চেঁচিয়ে উঠলো।

কি হলো ম্যাডাম।

কনিষ্ক সামনে এসে দাঁড়াল।

নীপার হাত থেকে বাটিটা নাও।

কেন!

নাওনা, আমি বলছি।

নীপা হাসছে।

সুরোমাসি এগিয়ে এলো।

ও মিত্রা যেটুকু আছে আমি সবাইকে ভাগ করে দিচ্ছি।

আগে দাও, তারপর ওর বাটি বসবে। কতো খায়। মিত্রা মুখ ভেঙচে বললো।

জ্যেঠিমনি এতক্ষণ শুনছিল কিছু বুঝতে পারছিল না। এইবার হেসে ফেললো।

তুই কি সব সময় ওর সঙ্গে এরকম করিস। জ্যেঠিমনি মিত্রার দিকে তাকাল।

তুমি জানো না ও কিরকম তেঁদড়। সুরোমাসি কারুর জন্য নিয়ে আসে নি। শুধু বুবুনের জন্য নিয়ে এসেছে।

তুই তো তখন খেলি। ছোটোমা হাসতে হাসতে বললো।

একটুখানি টেস্ট করেছি।

অতোটা খেলি। ওটা টেস্ট!

ছোটোমার কথাকে পাত্তাই দিলো না মিত্রা।

কনিষ্ক তুমি তো পাওনি। একটু টেস্ট করো।

সুরোমাসি মাটির খাবরি রান্নাঘর থেকে নিয়ে এলো। সবাইকে একটু একটু দিল।

কনিষ্ক মুখে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। মার্ভেলাস, কি টেস্টরে অনি।

নীরু, বটা রান্নাঘর থেকে ছুটে এলো।

হাগুড়ে। কনিষ্ক গম্ভীর হয়ে বললো।

তুই খেলে দোষ নেই, আমি খেলেই হাগুড়ে। নীরু বললো।

হাসাহাসি চলছে।

জ্যেঠিমনি একবার মুখে দিয়ে দেখো। মিত্রা বললো।

এটা অনিদা স্পেশাল। মিলি বললো।

ওখানে গেলে এই দিয়ে এক জাম পান্তা খায়। মিত্রা বললো।

তুই খাস না। ছোটোমা বললো।

আমার বাটি টেবিলে রাখা মাত্র বটা, নীরু, মিলি, টিনা, অদিতি, দেবা, মৈনাক সবাই হাত মারলো। আমি হাসছি।

কিরে তোরা সবাই খেয়ে নিলে ও খাবে কি!

বৌদি থাক না, আমি অনেক খেয়েছি।

আ-মোলো যা, ধর্মপুত্র যুধিষ্টির। বড়োমা এমন ভাবে বললো হাসির ঢেউ উঠলো।

বড়োমা আমরা খেলেই অনির খাওয়া হয়ে যাবে। কনিষ্ক আঙুল চাটতে চাটতে বললো।

ইসি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। ব্যাপারটা এরকম তুই পারিসও বটে। তোকে যতো দেখছি, তত অবাক হচ্ছি।

ওরা তিনজনে একদিকে। তারপাশে বৌদি। আমি বড়োমা, ছোটোমা, দামিনীমাসি।

তুই কি মেয়ে এতো টক খাস। ইসি বললো।

এতে তবু পোঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা সরষের তেল পরে নি। পরলে দেখতিস। টকাস করে জিভ দিয়ে আওয়াজ করলো মিত্রা।

সবাই হাসছে।

নীরু এগিয়ে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো আমাকে।

তোর আবার কি হলো। আমি বললাম।

বটা, নীরুকে একটা ঝেড়ে দে তো। কনিষ্ক চেঁচিয়ে উঠলো।

দাঁড়া না, এই মালটা খাওয়ার জন্য ওর ওখানে যেতে হবে না।

তোর চেম্বার?

রাখ তোর চেম্বার।

সবাই হাসছে।

ও নীরু ওকে ছাড় বেচেরা সকাল থেকে কিছু খায়নি। বৌদি বললো।

কর্পোরেশনের প্রচুর জল টেনেছে। ওই জন্য খিদে পায়নি।

নীরুর কথা বলার ঢঙে সবাই হাসছে।

বড়োমা।

কিরে।

নীরু ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে বড়োমার পাতে।

নীরু চোখ গেলে দেবো। একবারে তাকাবে না। মিত্রা চেঁচালো।

নীরু মিটি মিটি হাসে।

দেবো। একটু অপেক্ষা কর। বড়োমা বললো।

এতো খেয়ো না সোনা। অনেক রাত পর্যন্ত টানতে হবে। কনিষ্ক, নীরুর পিঠে হাত দিয়ে বললো।

বটা সত্যি সত্যি এগিয়ে এলো।

বড়োমা এটা ঠিক হচ্ছে না। তুমি বটাকে কিছু বলো। এতো অত্যাচার সহ্য হয়। নীরু বললো।

তুই তুলবি, আমি খাবো। বটা বললো।

তার মানে! হাঁস ডিম পারবে খাবে দারোগা।

এবার হাসি আরও জোরে। জ্যেঠিমনি খাওয়া থামিয়ে দিয়েছে। হাসছে।

দিদি খাওয়া থামিয়ে লাভ নেই, এটা নিত্যকার ব্যাপার। ছোটোমা বললো।

বুঝতে পারছি তোমাদের দুজনের খুব কষ্ট। জ্যেঠিমনি হাসতে হাসতে বললো।

কষ্ট মানে, মাঝে মাঝে এদের জ্বালায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। ছোটোমা বললো।

মিত্রা নিজের পাত ছেড়ে উঠে এসে আমার পেছনে দাঁড়াল। বড়োমা একবার আমার দিকে তাকাল। ইসারায় কথা বললো, কিরে?

আমি হেসে ইসারায় বললাম। যেটুকু চিংড়ি মাছের মোলা পরে আছে নেবে।

বড়োমা হেসে ফেললো।

কিরে কি নালিশ করছিস বড়োমাকে। মিত্রা কট কট করে উঠলো।

কিছু না।

আমি দেখলাম তুই বড়োমাকে ইশারা করলি।

আমি ওর দিকে তাকালাম। তুই বাটিটা নিবি, আমার ভালো লাগছে না খেতে।

কি ভালোরে তুই। আমার গালটা টিপে মিত্রা ছোঁ মেরে বাটিটা তুলে নিল।

বড়োমা মিত্রার দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে।

বুঝলি মিত্রা। বৌদি বললো।

বলো।

অনি ইশারা করে এই কথাটা বলছিল।

ও বলুক।

আমি উঠে দাঁড়ালাম।

দেখলাম বটা, নীরু, কনিষ্ক মিত্রাকে ঘিরে ধরেছে।

বাটিটা আজ আর মাজতে হবে না। ছোটোমা বললো।

আমি হাসতে হাসতে বেসিনে গিয়ে মুখ ধুলাম।

বৌদি চেঁচিয়ে বললো তুই ওপরে যা আমরা যাচ্ছি।

বুঝলাম আমার কপালে আজ শনি লেখা আছে।

আমি দামিনীমাসির কাপরে হাতটা মুছে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। বেরোবার সময় ছোটোমার গলা শুনতে পেলাম, তোর পকেটে রুমাল নেই।

গলার শব্দ শুনে একবার পেছন ফিরে তাকালাম, দেখলাম দামিনীমাসি হাসছে।

বারান্দায় এসে দেখলাম বাসু, সঞ্জু, চিকনা, অনাদি কথা বলছে। আমাকে দেখে সঞ্জু হাসলো।

কিরে কোথায় ছিলি এতক্ষণ, দেখতে পাই নি।

ওই তো পেছনে ছিলাম।

চিকনা, সঞ্জু সত্যি কথা বলছে?

একটু জল মেশানো আছে। অনাদি বললো।

হ। চিকনা হাসছে।

সঞ্জু কট কট করে তাকাচ্ছে চিকনার দিকে।

শিঁড়ি দিয়ে উঠতে আরম্ভ করলাম। ওরা আমার পেছনে।

মিনতি কোথায়রে সঞ্জু, দেখতেই পাচ্ছি না?

বড়োমার ঘরে।

কি করছে?

কি করে বলবো।

তুই দেখ গিয়ে। ওর দায়িত্ব এখন তোর।

চিকনা জোড়ে হেসে উঠলো। অনাদিও হাসছে।

ঘর চ, জুতায় ছাল খিঁচবো।

এবার আমি হেসে ফেললাম, সঞ্জু একেবারে গাঁইয়া ভাষা মুখ থেকে বার করে ফেলেছে।

আয়।

ঘরে ঢুকতেই চিকনা সিগারেটের প্যাকেট এগিয়ে দিল। আমি একটা বার করে নিয়ে ওর হাতে দিলাম। চিকনা পকেটে ঢুকিয়ে নিল।

কিরে!

ওরা সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। একমাত্র তুই আর আমি খাই।

সঞ্জু হাঁটু দিয়ে চিকনাকে গোঁতা দিল।

আমি সিগারেট ধরালাম।

অনি সব জেনে ফেলেছে। বাকিটুকু অনিকে বলে দেব।

বল না, বল। ওখানে গিয়ে পানা পুকুরে জাঁকাবো।

আমি হাসছি।

কিরকম খেলি?

বার বার খেতে ইচ্ছে করছে।

চিকনার কথায় বাসু হাসছ।

সেই যে পর্শুদিন থেকে খাওয়া শুরু করেছিস, থেমেছিস। বাসু বললো।

থামবো কেন, অনির বে বলে কথা, প্রাণভরে খেয়ে যাব।

তোর পেট থেকে সব টেনে বার করবো। সঞ্জু বললো।

অনি আর টানিস না এবার দে, আমি সঞ্জু দুজনকে টানতে হবে।

কেন আর সিগারেট নেই, সঞ্জুকে একটা দে।

ভাগা ভাগি।

তুই তো অনাদিকে একটা দিলি না।

পকেটটা দেখ ইসলামদা দিয়েছে। রেখে দিয়েছে। পঞ্চায়েত না, ওখানে গিয়ে ফুটানি মারবে।

আমি হাসছি।

ওখানে গিয়ে যদি হামবড়ক্কি দেখিয়েছিস। আন্দোলন করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেব। এবার অনিমেষদা আছে বুঝলি।

চিকনার কথায় অনাদি, বাসু এতোজোড়ে হেসে ফেললো মিত্রা, মিলিরা পর্যন্ত চলে এলো। আমি হাসির চোটে খাটে বসে পরেছি। অনাদি বাসু তখনও হাসছে।

মিত্রা ভেতরে ঢুকলো।

কিরে এতো হাসির চোট কিসের।

চিকনা গম্ভীর হয়ে বললো। একটা ছোটো করে দিলাম, তাতেই অনি কুপোকাত।

তার মানে!

আমি তখনও হাসছি।

কি রে বলবি তো।

আমি হাসতে হাসতেই বললাম চিকনাকে জিজ্ঞাসা কর।

চিকনা লজ্জা পেয়ে বললো, যাঃ বার বার বলা যায়।

এমনভাবে বললো, এবার মিত্রা মিলি হেসে ফেললো।

আসতে আসতে সকলে ঘরে এসে জড়ো হলো। ঘর ভড়ে গেল। যে যার মতো বসলো।

সবার হাতেই কিছু না কিছু জিনিসপত্র। আমি বুঝলাম ব্যাপারটা।

সবাই মিত্রার হাতে দিল সব। বেশ মজা লাগছে। জ্যেঠিমনির মুখে সকালের কালো মেঘ আর নেই।

ইসিতা এগিয়ে এলো।

পিকু কোথায়?

নীচে।

কি করছে।

কতো দাদাই বলতো, খেলছে। এই নে তোর বরুণদা তোকে এটা দিয়েছে।

কি এটা।

খুলে দেখ।

আমি কাগজে মোড়া প্যাকেট খুলতেই ছবিটা বেরিয়ে এলো। সকালে যে ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে আমি আমার কথা বলেছি। বরুণদার দিকে তাকিয়ে হাসলাম।

মিত্রাকে ছবিটা দিলাম। ওর চোখটা ছল ছল করে উঠলো।

না ম্যাডাম না, আজ এসব কিছু হবে না। কনিষ্ক চেঁচিয়ে উঠলো।

বৌদিও একটা ফটো ফ্রেম আমার হাতে দিলো। আমি মৃদু হেসে বৌদির দিকে তাকালাম।

তুমি এ ছবি পেলে কোথায়!

বৌদি হাসছে।

যার কাছে ছিলো তার কাছ থেকে নিয়ে এসে তৈরি করেছি।

আমি মাথা নীচু করলাম, জানো বৌদি স্যারের কাছে যাওয়া হয়নি।

আজ আসবে।

স্যার আসবেন!

ছবিটা মিত্রার হাতে দিলাম।

মিত্রা ছবিটা দেখে আমার দিকে তাকাল।

কোন ইয়ারের ছবি চিনতে পারিস?

আর চিনতে হবে না, এই খাতাটা নে এবার শুরু কর।  বৌদি খাতাটা এগিয়ে দিল।

ওই ছবিতে বসে যেটা করে ফার্স্ট হয়েছিলি। কনিষ্ক চেঁচিয়ে উঠলো।

ছবিটা মিত্রার হাত থেকে ইসিতার হাতে গেল, জ্যেঠিমনি, বরুণদাও দেখল। আসতে আসতে সবার হাতে চলে গেল। সবার চোখেই বিষ্ময়। মিলি দৌড়ে এসে বৌদিকে জড়িয়ে ধরলো।

জানো বৌদি সে বছর আমরা সবে ইলেভেনে ভর্তি হয়েছি। আমি, অদিতি, টিনা মাঠে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম কি শ্রুতি নাটক শুনবো। অনিদার গলা শুনে দৌড়ে অডিটোরিয়ামে চলে এসেছিলাম। পনেরো মিনিটের ডুয়েট, নিস্তব্ধ হলঘর, আমরা সব যেন গিলে খাচ্ছিলাম দুজনকে।

সারা ঘর নিস্তব্ধ। মিলির কথা শুনছে।

টানা দুমিনিট হাততালি। আমরা সবাই চেঁচিয়ে উঠেছিলাম থ্রি চিয়ার্স ফর অনিদা, থ্রি চিয়ার্স ফর মিত্রাদি। ইন্টার কলেজ কমপিটিশনে আমাদের কলেজ ফার্স্ট।

আমি মিলির দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে।

ওর স্বতঃস্ফূর্ততা আমাকে যেন সেই দিনের অডিটেরিয়ামে নিয়ে গেল। আমি যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম আমি, মিত্রা স্টেজে বসে আছি। দুজনের ডুয়েটে চলছে কচ দেবযানী শ্রুতি নাটক। কেউ কাউকে এক তিলার্ধ মাটি বিনাযুদ্ধে সেদিন ছেড়ে দিইনি।

কিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছিস, শুরু কর শুরু কর। কনিষ্ক এগিয়ে এলো।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম। ওর চোখ বলছে ওর ইচ্ছে আছে। হাসলাম।

বুড়ী বয়সে এখনও শখ আছে।

তার মানে! বৌদি বলে উঠলো।

তুই ওকে বুড়ী বলছিস। তাহলে তুই কি? বৌদি চেঁচিয়ে উঠলো।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম।

ওই কারণে দামিনীমাসির ওখানে রাখা ভাঙা বাক্স থেকে খাতটা বার করে এনেছিলি।

মিত্রা মাথা নীচু করে হাসছে।

কনিষ্ক খাতাটা মিত্রার হাতে দিল।

তুই শুরু কর। মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম।

সবটা পারবো না একটুখানি করবো।

এরা মানবে।

মানবে।

আমি শুরু করলাম।

কচঃ               দেহো আজ্ঞা, দেবযানী, দেবলোকে দাস

                করিবে প্রয়াণ। আজি গুরুগৃহবাস

                সমাপ্ত আমার। আশীর্বাদ করো মোরে

                যে বিদ্যা শিখিনু তাহা চিরদিন ধরে

                অন্তরে জাজ্জ্বল্য থাকে উজ্জ্বল রতন,

                সুমেরুশিখর শিরে সূর্যের মতন

                                    অক্ষয়কিরণ।

দেবযানীঃ                 মনোরথ পুরিয়াছে

                পেয়েছ দুর্লভ বিদ্যা আচার্যের কাছে,

                সহস্রবর্ষের তবে দুঃসাদ্য সাধনা

                সিদ্ধ আজি, আর-কিছু নাহি কি কামনা,

                ভেবে দেখো মনে মনে।

…..    …….    ……    …….    ……

দেখলাম মিত্রা আর কনটিনিউ করছে না।

আমি খাতা থেকে মুখ তুললাম। ও মাথা দোলাচ্ছে। ওর চোখ চিক চিক করছে। বুঝলাম এটা দুঃখের অশ্রু নয়, অনন্দের অশ্রু। মিলিরা এসে জড়িয়ে ধরলো মিত্রাকে। দেখলাম দরজার সামনে দাদা, মল্লিকদা, কাকা, উনা মাস্টার, ডাক্তারদাদা।

বিস্ময় চোখে আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে। ছোটোমা দৌড়ে দরজার কাছে এগিয়ে গেল। ডাক্তারদাদার হাত ধেরে ভেতরে আনলো। পেছন পেছন সবাই।

বাবাঃ, অনিবাবু যে আবৃত্তি টাবৃত্তি করেন এটা জানতাম না।

আমরাও জানতাম না। বৌদির আনা ছবিটা দেখে জানলাম।

ছোটোমা ফটো ফ্রেমটা এগিয়ে দিলো ডাক্তারদাদার হাতে।

কলেজ লাইফের ছবি, এই দুটোর, দেখুন চিনতে পারেন কিনা?

ডাক্তারদাদা দেখে হেসে ফেললেন।

কিরে কনিষ্ক তোরা জানতিস?

আমাদের কলেজের ফেস্টেও এইটা করে ওরা প্রথম হয়েছিল। তখন অনি-মিত্রা জুটির একটা কদর ছিল সব কলেজে।

কিগো এডিটর বান্ধবীকে কিছু বলো। সকাল থেকে অনেক বকছিলে।

মরণ। ও আবার কি বলবে গা।

বড়োমার কথায় ঘর ভর্তি লোক হাসে।

আমায় কিছু বলতে হলো? দাদা, ডাক্তারদাদার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর ভাবে বললো।

ডাক্তারদাদা মাথা দোলাচ্ছে। হাসছে।

বটা একটা বিশাল কিছু নিয়ে ঘরে ঢুকলো।

নীরু এগিয়ে গেলো। দে দে অনিকে আমাদের উপহার।

দাঁড়া স্যার তুলে দেবে ওর হাতে। কনিষ্ক বললো।

আমি কেন বাবা, তোদের জিনিষ তোরা দে। ডাক্তারদাদ বললো।

না স্যার, এটা আপনি আমাদের হয়ে অনির হাতে তুলে দিন।

তারমানে! নিশ্চই এমন কিছু আছে যার জন্য অনির কাছে মার খেতে পারিস।

তা আছে।

আমি নীরুর দিকে তাকিয়ে আছি।

রাতের খাওয়াটা খেয়ে নিই, তারপর তুই কিমা করিস।

নীরুর কথায় সবাই হাসছে।

ডাক্তারদাদা এগিয়ে এসে কাগজে মোড়া ল্যামিনেট করা ফটোটা দিল। বুঝলাম এটা নিশ্চই আমার কোনও ফটো।

কাগজটা খুলেই আমি হেসে ফেললাম। ছোটোমা উঁকি মেরে আরও জোরে হেসে উঠলো।

আ মোলো ও ছোটো তুই অমন ভাবে হাসিস কেন। বড়োমা বলে উঠলো।

ছোটোমা কোনও কথা বলে না শুধু হাসে।

কি ছোটোমা কেমন দিয়েছি বলো? নীরু বললো।

ছোটোমা আমার হাত থেকে নিয়ে সবার দিকে ফটোটা ঘুরিয়ে দিল। জ্যেঠিমনির দিকে তাকিয়ে বললো, দেখুন তো দিদি এই ওঝাটাকে চিনতে পারেন কিনা।

জ্যেঠিমনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে হাসতে শুরু করলো।

ঘরের সবাই হাসছে। এমনকি কাকা, উনা মাস্টার পর্যন্ত।। পিকুও ছবিটা ভালো করে দেখছে।

হ্যাঁরে এটা তুই কবে সেজেছিলি? কাকা বলে উঠলো।

এটা অনির লেটেস্ট কালেকশন কাকা, পর্শুদিন। নীরু চেঁচিয়ে উঠলো।

আমি হাসছি।

ইসি আমার কাছে এগিয়ে এলো।

এটা জেনুইন।

তোর ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা কর।

সে ঝেঁটার বাড়ি আপনি খাননি ম্যাডাম। তাহলে ডাক্তার হয়ে যেতেন।

নীরুর কথায় ঘর ভর্তি সবাই হাসে।

একমাত্র তুই খেয়েছিলি কি বল। বটা বললো।

তোকে কথা বলতে বলেছি। একবার বলেছি, বড়োরা যখন কথা বলবে ছোটোদের চুপ করে শুনতে হয়।

হঠাৎ আমার গলা আর মিত্রার গলায় শ্রুতি নাটকটা বেজে উঠলো। দেবা মোবাইলে রেকর্ড করেছে।

তুই রেকর্ড করেছিস! কনিষ্ক বললো।

লাইভ।

সবাই দেবার কাছে গেল। ওর মোবাইলে উঁকি মারছে। আমি মিত্রার দিকে তাকালাম। মিত্রা হাসছে। ইসি পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

পাগলদের কাণ্ড দেখছো। ছোটোমা বললো।

ইসি আমার দিকে তাকাল।

জানিস অনি এই পাগলামির মধ্যে একটা আনন্দ আছে। এই আনন্দটা আবার সকলে উপভোগ করতে পারে না।

মিত্রা, ইসির দিকে তাকিয়ে।

অনেকদিন পর মন খুলে একটু আনন্দ উপভোগ করছি। তোর বরুণদাকে দেখেছিস। কেমন ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে চারদিকে।

তুই আবার ইমোশন্যাল হয়ে পরছিস?

হচ্ছিনারে, তুই এমন ভাবে পরিবেশ রচনা করলি বাধ্য হচ্ছি ইমোশন্যাল হয়ে যেতে। মায়ের মুখের দিকে একবার তাকা। আনন্দটা যে এই ভাবে উপভোগ করা যায়, এতদিন জানত না। তুই সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে সেই আনন্দটা শেয়ার করে নিচ্ছিস।

ছোটোমা। চেঁচিয়ে উঠলাম।

ছোটোমা তখন দেবাদের মোবাইলে হামলে পরেছে। আমার দিকে তাকাল।

চা হবে না এখন, ভাগ।

ও কবিতা, মা একটু দেখ না ওরা চা করেছে কিনা নিয়ে আয়। বড়োমা বললো।

দেখলে ডাক্তার, গলার স্বর কি নরম। ছেলে বলেছে। আমি বললে এখুনি ছেঁচকে উঠতো। দাদা বললো।

বড়োমা এমন ভাবে দাদার দিকে তাকাল, ডাক্তারদাদা হেসে উঠলো।

সবাই ঘুরে তাকিয়েছে। ইসি আমার মুখের দিকে তাকাল।

তুই পারিশও বটে।

জানিস ইসি, মিত্রাকে জিজ্ঞাসা কর এই ডুয়েটটা দারুন এনজয়বেল।

নীরু আমার টেবিলে ওঝার ছবিটা নিয়ে এসে রাখলো। বেশ ব্রাইট লাগছে। সবাই ছবিটার দিকে তাকায় আর হাসে। বটা, নীরুর পেছনে এঁটুলে পোকার মতো লেগে আছে।

আচ্ছা অনি এরা ডাক্তার?

ইসি আমার দিকে তাকাল।

তোর কি মনে হয়?

ইসি হাসছে।

বাইরের জানলায় চোখ চলে গেল দেখলাম আমগাছে লাইট জ্বলছে। এখন গোধূলি। কবিতা চা নিয়ে এলো। অনেকগুলো কাগজের গ্লাস। ঘরে কম লোক নেই। নীরু ছুটে এগিয়ে গেল।

কিরে তুই কি করছিস ওখানে। ছোটোমা চেঁচিয়ে উঠলো।

ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ।

কনিষ্ক, নীরুকে করকে দে। বটা চেঁচিয়ে উঠলো।

কবিতাকে আর চা দিতে হলো না। এখন ওটা মৈনাক, কনিষ্কর হাতে চলে গেছে।

অর্ক, অরিত্র, লক্ষ্মী হই হই করতে করতে ঢুকলো।

তোমার সঙ্গে ঝগড়া আছে অনিদা। সেদিন করতে পারিনি। বিয়েতে বসেগেছিলে।

অর্ক এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। অরিত্রও। লক্ষ্মী প্রণাম করতে গেল।

আজ করিস না। আমাকে করলে সবাইকে করতে হবে। তোর কোমড় ব্যাথা হয়ে যাবে।

লক্ষ্মী লজ্জা লজ্জা চোখে আমার আর মিত্রার দিকে তাকাল, মাসি বকবে।

আমি দামিনীমাসির দিকে তাকিয়ে। মাসি হাসছে।

আমি বলছি মাসি বকবে না।

সবাইকে এই ভাবে একসঙ্গে পাব না একটু করি। লক্ষ্মী প্রণাম করতে শুরু করলো।

এট কি হলো অনিদা। অর্ক বললো।

ইসি আমার পাশে দাঁড়িয়ে ওদের তিনজনকে দেখছিল।

কি বলবি তো?

তুমি অরিত্রকে আমার পেছনে লাগিয়েছিলে কেন।

আমি হাসছি।

লক্ষ্মী প্রণাম করতে করতে চেঁচিয়ে উঠলো। অরিত্রদা না বৃহন্নলাদি।

সবাই একবার লক্ষ্মীকে দেখে, একবার আমাকে দেখে।

মিত্রা আমার দিকে তাকাল।

লক্ষ্মী সেদিনও এই কথাটা বলেছিল, ব্যাপারটা কি বলতো।

অনিদাকে আপনি জিজ্ঞাসা করুণ ম্যাডাম। অর্ক বললো।

আমি হাসছি।

ইসি ইসারায় মিত্রাকে জিজ্ঞাসা করলো এরা কারা।

তুই একদিনে সব জানতে পারবি না দিদিভাই, অনেক কীর্তি, আজ শুধু দেখে যা পরে সব বলবো।

বৌদি চেঁচিয়ে উঠলো, কিরে বলবি তো অরিত্রর নাম বৃহন্নলা হলো কি করে?

কিরে অরিত্র বলে দে।

অরিত্র আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নীচু করে হাসে।

লক্ষ্মী এগিয়ে এলো।

এই দিদিকে চিনতে পারলাম না।

ইনি তোর বৌদিমনির দিদিভাই।

আমি লক্ষ্মী, দাদার বোন।

ইসি তাকিয়ে লক্ষ্মীর দিকে।

কিরে লক্ষ্মী অরিত্রকে বৃহন্নলাদি বললি কেন। মিত্রা বললো।

দাদা জানে, তুমি দাদাকে জিজ্ঞাসা করো।

দেখবেন ম্যাডাম কেন অরিত্র বৃহন্নলাদি। অর্ক বললো।

টিনারা এবার এদিকে তাকাল।

অর্ক চেঁচিয়ে উঠলো, টিনাদি তোমার ল্যাপটপটা একটু নিয়ে এসো।

অনিদার টেবিলে আছে দেখো। টিনা চেঁচিয়ে বললো।

তুমি এসে একটু চালাও না।

টিনা ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলো। ওর পেছন পেছন সবাই। আমি হাসছি।

অরিত্র কেশ খেলে তুই খাবি। এটা জানলো কি করে।

আর বোলো না সেদিন লক্ষ্মী মুখ ফসকে ম্যাডামের সামনে বলে ফেলেছে। ব্যাশ।

ম্যাডাম একবারে অরিত্রর কথায় ভুলবেন না। অনিদা বহুত ঘাঘু মাল। অর্ক বললো।

মিত্রা, ইসি ওখান থেকেই আমার দিকে তাকাল।

দাদা, মল্লিকদা, ডাক্তারদাদ চা খেতে খেতে উঠে এলো।

অর্ক এরি মধ্যে ফিট করে ফেলেছে।

একটা হাসির রোল উঠলো ওই ভিড় থেকে, বুঝলাম অরিত্রর সাজ পোষাক দেখে হাসছে।

অরিত্র আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো।

দাদা, মল্লিকদা, ডাক্তারদা সবাই উঠে টেবিলের কাছে ভিড় করেছে। অর্ক বোঝাচ্ছে। ও এমন রসিয়ে রসিয়ে বোঝাচ্ছে সকলে হাসছে।

মিত্রা ভিড় থেকে বেরিয়ে আমার কাছে এলো।

তুই সেদিন অরিত্রকে মেয়ে সাজিয়ে ওই লোকটার গাড়িতে বসিয়ে রেখেছিলি।

কেন, লক্ষ্মীকে দেখলি না।

সেতো আগে জেনেছি। অরিত্র যে ছিল সেটা জানতাম না।

অরিত্র মাথা নীচু করে আছে।

আসতে করে বললো।

সেদিন আমাদের দশজনের টিম ছিল। আপনি আমাদের তিনজন ছাড়া আর কাউকে চিনতে পারবেন না ম্যাডাম।

ওরা কারা ইসলামভাই-এর লোক।

একদম না। সব অনিদার কালেকশন। শিয়ালদায় মাঝে মধ্যে ওদের দেখা পাওয়া যায়।

ইসি পাশে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে আমাদের কথা শুনছে।

তখন তোকে যেটা বলছিলাম।

গত সপ্তাহে কাগজে যেটা বেরিয়েছিল।

মিত্রা, ইসির দিকে তাকিয়ে বললো। হ্যাঁ।

তার নায়ক নায়িকা এরা। ও পরিচালক।

ইসির চোখ বড়ো বড়ো। এই টুকু টুকু পুঁচকে ছেলে মেয়ে!

ওরা সব অনিদার অংশ। কাজের সময় এদের চেহারা দেখলে তোর মাথা খারাপ হয়ে যাবে। আমি, বড়োমা, ছোটোমা শুধু ঠাকুরের নাম জপ করি।

দেখবিখোন একটু পরে সব আসবে। এক এক পিস।

ভিড় থেকে মিলি ছিটকে বেরিয়ে এসে আমার কাছে দাঁড়াল।

অনিদা আমি কাল রিজাইন দেব, তুমি আমাকে সাংবাদিকতার কাজে এ্যাপয়েন্টমেন্ট দাও।

মিত্রা হেসে ফেললো।

সেদিন অনিদার চেহারা দেখে কাপর নষ্ট করে ফেলছিলি, আবার সাংবাদিক হবি। যা বেরো।

ধ্যাত তুমি না কি মিত্রাদি।

অদিতি, টিনা, ইসি হেসে গড়াগড়ি খায়।

চিকনা এসে সবার সামনে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

এইজন্য তোকে গুরু বলি, তোর জন্য এক কিলো পাটালি।

তারমানে! চিকনা, আমি বাদ? মিত্রা বললো।

না না ম্যাডাম আপনিও পাবেন, একশো গ্রাম।

দরকার নেই আমি সঞ্জুকে বলছি।

পাবে কোথা থেকে, ও যে এখন….।

একবার দেখে নিলো উনা মাস্টার কোন দিকে তাকিয়ে আছে।

খালি বগলে নিয়ে ঘুরছে।

সঞ্জু কট কট করে তাকিয়ে। কিছু বলতে পারছে না। বাসু, অনাদি হাসছে।

তুমি পাহাড়া দিচ্ছ।

চিকনা ফিক করে হেসে ফেললো।

ইসি ওদের রকম সকম দেখে হাসছে।

অরিত্র।

অরিত্র আমার দিকে তাকাল।

তোর রাত্রি আর দিনকে বলেছিস?

মিত্রা, ইসি আমার দিকে তাকিয়ে।

দিন না খুশী।

ওই হলো।

তুমি অর্ককে বলো।

কেন।

ও বারন করেছে।

ওরা আবার কে রে! মিত্রা বললো।

তুই চিনবি না।

অরিত্র মাথা নীচু করে মিটি মিটি হাসছে।

কিগো অরিত্র ওরা কারা?

সব জেনে ফেললে হবে কি করে। আমি বললাম।

তুই থাম, তোকে জিজ্ঞাসা করেছি।

যা একটা ফোন করে দে, বল আমি ডেকেছি। আসতে পারবে।

ট্র্যাংগুলার পার্ক থেকে নিয়ে আসতে হবে।

তাই কর।

অর্ক। অরিত্র ডাকলো।

অর্ক টেবিলের কাছ থেকেই পেছন ফিরে তাকাল।

অনিদা খবর দিতে বলেছে। এখুনি নিয়ে আয়।

অর্ক কট কট করে অরিত্রর দিকে তাকাচ্ছে।

অরিত্র মুখ নীচু করে হাসছে।

বল না তোর রাত্রি আর খুশী কে। মিত্রা হাত ধরে ঝাঁকুনি দিল।

দুটো মেয়ে। অফিসে নতুন জয়েন করেছে।

এই মিসনে ওরাও ছিল?

হ্যাঁ।

আরও কিছু আছে তুই চেপে যাচ্ছিস।

অর্ক এদের মধ্যে একটাকে পটকেছে।

মিত্রা হো হো করে হাসছে।

কি বুঝলি দিদিভাই। কতটা খোঁচাবার পর একটু পেলি।

ইসি আমার হাতটা ধরেছে।

জ্যেঠিমনি বিয়ের দিনে তোলা ছবি দেখছে। টিনা সব বোঝাচ্ছে। বড়োমা, ছোটোমা, বৌদি, দামিনীমাসি হাসা হাসি করছে।

ছোটোমা ছিটকে বেরিয়ে এলো। আমার কাছে এসে বললো।

তোর মতো বিচ্চু দ্বিতীয় কেউ নেই।

ইসি হাসছে।

মিত্রা।

হ্যাঁ ছোটোমা।

চল চল নিচে চল। সন্ধ্যে হয়ে গেল।

ঘর আসতে আসতে ফাঁকা হয়ে গেল।

আমরা ছেলেরা কয়েকজন।

খাটে এসে বসলাম। চিকনার দিকে তাকিয়ে বললাম দেখ না একটু চা ম্যানেজ করা যায় কিনা। তখন নীরু কি যে দিল, বুঝতে পারলাম না।

হ্যাঁ, নীরু দিল। নীরু চেঁচাল।

তুই তো দিলি। বটা বললো।

তোকে কতোবার বলেছি বটা, সিনিয়াররা যখন কথা বলবে জুনিয়রদের কথা বলতে নেই।

শালা সিনিয়ার দেখাচ্ছিস। বটা তেরে এলো।

নীরু আমার পেছনে।

সিনিয়ার নয়? তুই বিয়ে করেছিস? নীরু বললো।

সত্যি তো বটা, নীরুর বৌ কোথায় গেল। আমি বললাম।

আমি বলবো। মৈনাক বললো।

কেন তোমার অতো চুলকুনি কিসের। বিচুতি পাতা লেগেছে। নীরু বললো।

আমি নীরুর দিকে তাকালাম।

তুই কিছু ভাবিস না চলে আসবে। কনিষ্ককে জিজ্ঞাসা কর, সকালে একবার এসে ঘুরে গেছে।

কোথায় গেছে!

নার্সিংহোমে।

খেপ।

একটা জরুরি কাজ আছে।

বল না খালাস করাতে গেছে। মৈনাক চেঁচিয়ে উঠলো।

আসতে করে গালাগালি দিল, তোর বৌ-এর।

আমি, কনিষ্ক হাসছি।

কনিষ্ক হাসতে হাসতেই বললো, নীরু হাইড দিয়েছে এইটা।

আমি নীরুরু দিকে তাকালাম। হাসছি।

শালিরটা কেমন দেখলি।

দেখলি দেখলি কনিষ্ক। অনিটা কি নচ্ছার হয়ে গেছে।

কনিষ্ক হাসছে।

আমি চেষ্টা করলেও দেখতে পাব না। তুই তবু দেখেছিস। তোর চোখ দিয়েই দেখি।

দাঁড়া ম্যাডামকে বলছি গিয়ে।

মনে থাকে যেন, তোর বউ আসছে।

কি করবি তুই।

সবার সামনে চুমু খাব।

নীরু হাসতে গিয়েও হাসল না। হাসিটা মুখে ছড়িয়ে রয়েছে।

বল, আমার বৌকে তো তুই চুমু খেয়েছিস। কনিষ্ক বললো।

ভালো দেখতে টাইট। নীরু বলেই ফিক করে হাসলো।

সবাই হেসে ফেললাম। মৈনাক, দেবা এগিয়ে এলো।

শালা হারামী।

কেন, তোর বৌ বাদ যাবে নাকি, তোর বৌ-এরটাও বলবো অনিকে।

হারামী তোর কাছে গেলে তো। দেবাশিস বললো।

আচ্ছা মৈনাকের এখনও কিছু জুটলো না কেন নীরু।

জুটলো না কে বলেছে?

তার মানে!

ও শালা প্রথমদিনই যদি বলে চলো দীঘায় ঘুরে আসি, বগলে হাত দেয়, সেই মেয়ে থাকে। নীরু বললো।

হ্যাঁরে। মৈনাক ফিস ফিস করে গালি দিল। তোর মতো।

আমি তো বিয়ে করেছি। তুই করেছিস।

অমি, কনিষ্ক, বটা হাসছি। অনাদি, বাসু গম্ভীর নেই।

নীরুর ফোনটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে বার করেই বললো, দেবীর আগমন ঘটেছে। আমি এবার নিচে গিয়ে নিয়ে আসি। উঠে দাঁড়াল।

এখন নিচেই রেখে আসিস। পরে নিয়ে আসিস। আমি বললাম।

কেন চুমা দেবে না।

আমি হাসছি।

মৈনাকের দিকে তাকালাম।

তুই শালা বহুত হারামী আছিস। নীরুর পেট থেকে টেনে টেনে কথা বার করছিস।

সত্যি বলনা মালটা কে, একটু দেখা? আমি বললাম।

বলছি নেই, হলে দেখাতাম।

দেবা। আমি চেঁচালাম।

আমি ঠিক জানি না।

ওর দ্বারা প্রেম হয়, কেন হেজাচ্ছিস বলতো। কনিষ্ক বললো।

হারামী, তোমার দ্বারা খালি হয়। মৈনাক খেপে গেল।

আমি হাসছি।

চিকনা চা নিয়ে এসে ঢুকলো।

তাড়াতাড়ি সাঁটা।

কেন।

লোক জন এসে পরেছে।

এই অবেলায় কে এলো আবার।

তোর কে সুজিতদা না কে এসেছে। টিনা ম্যাডামের সঙ্গে আলাপ আছে, কথা বলছে।

দেবা দাঁড়িয়ে পরলো।

আমি যাই সুজিতদার সঙ্গে কথা বলি।

যা।

নীরুদার বৌ এসেছে। খুব হাসাহাসি চলছে। চলে এলো বলে।

কনিষ্ক, চিকনাকে দেখছে আর হাসছে।

নেক্সট নিউজ চিকনা।

ম্যাডাম পাজামা পাঞ্জাবী বার করেছে সবার জন্য, নিয়ে আসছে।

কাদের জন্য?

অনি, তোমাদের, আমাদের সবার জন্য।

আমরা পাজামা পাঞ্জাবী পরবো?

সবাইকে পরাবে।

চা খা, চা খা। বেশি কথা বলিস না এতে বিপদ বারবে। আমি বললাম।

কিরে শালা নিজেরা খেয়ে নিলি আমারটা কোথায়। নীরু ঢুকলো।

আর নেই। চিকনা বললো।

মানে।

বটাদা খেয়ে নিয়েছে।

কনিষ্ক হাসছে।

কিছু বুঝলি নীরু? কনিষ্ক বললো।

এ তো বটার থেকে আর এক কাঠি ওপরে।

কার শিষ্য দেখতে হবে।

চিকনা চায়ের কাপটা নীরুর দিকে এগিয়ে দিল।

কনিষ্ককে বললাম, তোরা একটু বোস আমি নিচে সুজিতদার সঙ্গে দেখা করে আসি।

যা। একটা টান মেরে যা।

আর ভালো লাগছে না।

নিচে নেমে এলাম।

বসার ঘরে ঢুকতেই দেখলাম চম্পকদা, সুজিতদা, বৌদি, দাদা, সনাতনবাবু, মল্লিকদা, ডাক্তারদাদা সবাই গোল টেবিল হয়ে বসেছে। বড়োমার ঘরে মহিলাদের ভিড়।

আমি গিয়ে সামনে দাঁড়ালাম।

চম্পকদা হাসছে, সনাতনবাবু হাসছে।

যাক দাদা অনিবাবু তাহলে বিয়ে করলেন। চম্পকদা বললেন।

বিয়ে করলো মানে! একটুখানি নয়, পুরোপুরি।

আমরাও নিশ্চিন্ত হলাম কি বলুন দাদা। সনাতনবাবু বললেন।

নিশ্চিন্ত হলাম কিনা বলতে পারবো না, তবে ছাড়া গরু বাঁধা পরলো।

হাসাহাসি হচ্ছে।

মিত্রা কাছে এগিয়ে এলো।

কিগো সুজিতদা গুবলুবাবু কোথায়? আমি বললাম।

এই তো পিকুবাবুর সাথে বাগানের দিকে গেলো। সুজিতদা বললো।

ছোটোমা চায়ের কাপ ট্রেতে করে নিয়ে এলো।

ছোটোমার দিকে তাকালাম।

এক ফোঁটাও পাবি না। তুই তো দাদাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিস।

ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিগো, ছাড়িয়ে গেছে। ডাক্তারদাদা বললো।

সুজিতদা, ছোটোমার সঙ্গে আলাপ হয়েছে?

তোকে আর আলাপ করাতে হবে না।

শোন আমাদের লোকে বেচুবাবু বলে ডাকে। যেচে আলাপ করি।

আমি হাসছি।

বুলাবৌদি বলে উঠলো, উঁ মুরোদ কতো।

সরি সরি অনি আমার ভুল হয়ে গেছে বলাটা। ক্ষমা কর, আমি বেচারাম, তুই বেচুবাবু।

সুজিতদা এমন ভাবে কথা বললো, সবাই অবাক হয়ে গেল।

আমাদের চারপাশে ভিড় জমছে। সবাই বড়োমার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কেন তুই অনিকে বেচুবাবু বলছিস সুজিত। চম্পকদা বললো।

আমি সারা জীবনে যা সেল করতে পারিনি ও তিনদিন আগে করে তা দেখিয়ে দিয়েছে। তাহলে নিজেকে কি করে বেচুবাবু বলি বল চম্পক।

তারমানে!

দিন তিনেক আগে হঠাৎ বাবুগিয়ে আমার অফিসে হাজির। তাও ধর ছয় থেকে সাতবছর পর।

চম্পকদা, সুজিতদার চোখে চোখ রেখেছে।

আমি দুমাস ধরে একটা পার্টিকে নিয়ে ঘসরাচ্ছিলাম। বলতে পারিস আমার অফিসের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভগুলো পর্যন্ত ফেল মেরে গেছিল। ওর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলাম। মানে উনি সেইদিন আমাদের বিদায় দিয়ে চলে আসছেন। ব্যাপারটা নেগেটিভ বলতে পারিস।

ও একঘণ্টায় পটকে দিল। কি বুজুং বাজুং দিল সব শুনলাম কিন্তু ঠিক ঠাহর করতে পারলাম না। তারপর ভদ্রলোক অনির প্রতি গদোগদো হয়ে কন্ট্রাকটা দিল। শর্ত একটা অনিকে পুরো দায়িত্ব নিয়ে কাজটা করতে হবে।

কত কামালি।

পঞ্চাশ।

এ্যাঁ।

এ্যাঁ না হ্যাঁ।

সকলে হাসছে।

অনিকে কি দিলি?

সঙ্গে সঙ্গে তিন দিয়ে দিলাম। আর তোদের কাগজকে পনেরো দিলাম।

হয়ে গেল।

কি হয়েগেল!

আমার সব্বনাশ করলি।

চম্পকদার কথায় সবাই হাসছে।

কেন তোর আবার কি সব্বনাশ করলাম!

সব্বনাশ করলি না! তুই তো ওটা অনিকে দিয়েছিস। আমাকে দিয়েছিস?

তাতে কি হয়েছে!

দু-দিন পরেই অনি আমাকে ডেকে বলবে চম্পকদা টার্গেট কতদূর। আমি কিন্তু আপনার টার্গেটের এতোটা এনে দিলাম। তারপর একটা চিঠি ধরাবে, আমার চাকরি খতম। তোর অফিসে একটা চাকরি দিস। সবাই হাসছে।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev