| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ১৯৭৬ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ৯ মে, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

৭৯ নং কিস্তি

পাতার পর পাতা পড়তে পড়তে অনিসা হাঁপিয়ে উঠলো।

কখনও চোখে জল এসে পরেছে। কখনও রাগে সারাটা শরীর জ্বালা জ্বালা করে উঠছে। বাবা ঠিক কাজ করেছে। আর কেউ বাবাকে সাপোর্ট করুক আর ছাই না করুক আমি করবো।

মায়ের জন্য বাবা জীবনে কতোটা সেক্রিফাইস করেছে!

এই ঘটনাগুলো সত্যি দুদুন দিদানদের জানার কথা নয়।

এটা মা ছাড়া আর কউ জানতে পারে না।

সত্যি মায়ের কষ্টটা অনিসাকে আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

আচ্ছা বাবাটা কি? একটা অজ গ্রামের ছেলে হয়ে এতো সব জানলো কি করে?

ওই ঘটনার পর বাবা যে বেঁচে আছে সেটা অনিমেষদাদাই জেনেছে!

মার সঙ্গে বাবা কথা বলে না কেন?

তাহলে কি মার প্রতি বাবার কোনও অভিমান!

মায়ের লেখার মধ্যে দিয়ে তনু মাসির ঘটনা জানতে পেরেছে।

তনু মাসিও বাবার জন্য কতটা সেক্রিফাইস করেছে।

টিনামনি বাবাকে ভালোবাসতো।

মার লেখার একটা জায়গায় ও পেয়েছে। সত্যি তো এরকম ছেলে পেলে অনিসাও ভালোবেসে ফেলতো। ওর খুব গর্ব হচ্ছে ও অনি ব্যানার্জীর মেয়ে।

এইরকম বাবার সন্তান হওয়ার মর্যাদা রাখতে হবে।

আচ্ছা দাদাটা কি? বাবার প্রতি ওর কোনও ইন্টারেস্ট নেই।

না, ও ওর মতো চুপি চুপি কাজ করে চলেছে?

একবার খোঁজ করতে হবে।

জলের বোতলটা টেনে নিয়ে একটুখানি গলায় ঢেলে নিলো।

আবার ল্যাপটপের এলসিডিতে চোখ রাখলো।

আজ সুরোর ছেলে হলো।

অনিমেষদা প্রথমে কিছুতেই নার্সিংহোমে ভর্তি করতে চাইছিল না। শেষমেষ ডাক্তারদাদার কথায় রাজি হল। সর্ত একটা পয়সা নিতে হবে।

সব শুনে ডাক্তারদাদা একটা কথাই বলেছিল, অনিমেষ মাথায় রাখবে সুরো অনির বোন। খাতায় কলমে এই নার্সিংহোমের মালিক অনি। আজ না হোক কাল কথাটা ওর কানে পৌঁছবে।

তখন অনিমেষদা বললো, ঠিক আছে আপনি যা ভালো বুঝবেন করুণ, আমি আর এর মধ্যে নেই। সমস্ত দায়িত্ব আপনাকে দিলাম।

সুরোকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হলো। সুরোর ছেলে হলো, আমরা সবাই হইচই করছি।

সুরোর পাশের কেবিনে এক মৌনীবাবা ভর্তি ছিলো। ডা. রাজনের আণ্ডারে।

জটাজুটধারী ভদ্রলোকের যে কি রোগ হয়েছে কেউ ধরতে পারে না। ভদ্রলোক নাকি দিন পাঁচেক আগে এখানে ভর্তি হয়েছে। সব সময় দেখি চার পাঁচজন করে সন্ন্যাসী ঘরে থাকে।

বেঢপ সব চেহারা।

ডাক্তারদাদা বললো, পরের পয়সায় খাওয়া দাওয়ার গুণ। চেহারা দেখেছিস এক একটার। সব যেন খোদার খাসি। দুধ-ঘি খাওয়া শরীর।

নীরু, কনিষ্ককে বললো, যেটা ভর্তি হয়েছে সেটাকে দেখেছিস।

না।

মালটা যেমনি ঢ্যাঙা তেমনি দুবলি পাতলা, শালা এগুলো খেতে দেয়না মালটাকে।

ঘরে সব সময় ওদের লোকজন কেন বলতো?

উনি কারুর হাতের ছোঁয়া খান না। ফলাহার করছেন। এরাই সব নিয়ে আসে।

ভর্তি হওয়ার আগে নাকি এই কন্ডিশনে উনি ভর্তি হয়েছিলেন।

ডাক্তারদাদা বললো, বেটা সন্ন্যাসীর এতো পয়সা আসে কোথা থেকে বলতো? সব থরো চেকআপ করাল। কিচ্ছু ধরা পরলো না। তবু বলে পেটে ব্যাথা।

তুমি একবার দেখো। আমি বললাম।

সেটি হবে না। যতক্ষণ রাজন আমাকে না কল করবে, আমি যেতে পারবো না। এটা মেডিকেল লাইনের এথিকস। ভদ্রলোক রাজনের পেসেন্ট।

আমরা নিজেদের মধ্যে খুব আনন্দ করছি।

একজন সন্ন্যাসী এসে বড়োমাকে বললো। মা, যিনি পৃথিবীতে নতুন ভূমিষ্ঠ হয়েছেন মৌনীবাবা তাকে একবার চোখের দেখা দেখতে চাইছেন।

তুই জানিস বড়োমাকে, শুনেই এক পায়ে রাজি।

তিনি পর্যন্ত দেখতে এলেন।

আমরা সবাই বড়োমার কথা মতো প্রণাম করলাম, কে করেনি—

ডাক্তারদাদা শুধু দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করেছে।

মৌনীবাবা চলে যেতে কনিষ্ক আবার ইয়ার্কি মেরে বললো। দেখো এটা আবার অনি হবে না তো?

বড়োমা বললো ওইরকম একহাত দাড়ি মাথায় তিনহাত জটা। তাও আবার পেঁচিয়ে খোঁপার মতো বাঁধা। ছ্যা ছ্যা ছ্যা অনি হতে যাবে কেন।

সেই নিয়ে কতো হাসা হাসি।

বড়োমা আবার আলাদা করে মৌনীবাবাকে দেখতে গেল।

নার্সিংহোম থেকে ফিরে এসে তিনবার সুরোকে ফোন করলাম।

বাচ্চা ভালো আছে?

সুরো বললো, হ্যাঁ।

সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চিকনা এসে হাজির। তখন কটা হবে। পৌনেছটা।

আমায় দেখে মিটি মিটি হাসছে।

কাছে এসে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলো।

বড়োমা, ছোটোমা বেরিয়ে এসে ভূত দেখার মতো থমকে দাঁড়াল। ছোটোমা বললো—

তুই এত সকালে! কার কি হয়েছে?

কারুর কিছু হয়নি।

ঘটা করে গুরুমাকে সাষ্টাঙ্গে পেন্নাম করলি!

চিকনার মুখে অমলিন হাসি।

পনেরো বছর পর গুরুর দেখা পেলাম। গুরুকে পেন্নাম করে এলাম। মনটা আজ ভীষন খুশ। তাই গুরুমাকে পেন্নাম করলাম। এবার তোমাদের পেন্নাম করি।

অনি কলকাতায়!

ছিলো, আজ সকালের ফ্লাইটে বম্বে চলে গেল।

তারমানে!

ওখানে কয়েকদিন থাকবে। তারপর চলে যাবে।

তুমি আমাকে একবারও বললে না! আমি বললাম।

আমি কি ছাই জানতাম। কাল রাতে ফোন করে বললো, সুরোর বাচ্চাটা খুব মিষ্টি দেখতে হয়েছে। কাল আমি সকালের ফ্লাইটে বম্বে চলে যাচ্ছি। তুই চলে আয়। জায়গা বলে দিল, চলে এলাম।

চিকনার ফোনটা বেজে উঠলো।

আমি ওর দিকে তাকালাম।

গুরু ফোন করেনি—

তুমি ভয়েজ অন করো—

চিকনা ভয়েজ অন করলো।

চিকনাদা—

বল—

সুরোর গলা।

আবার কাঁদে—

তুমি কোথায়?

এই তো তোর অনিদার বাড়িতে—

দাদা কখন গেল—

যথা সময়ে। দাদাকে দেখলি?

হ্যাঁ।

তোর ছেলেটা খুব লাকি বুঝলি। তোর ছেলের জন্য ওর দেখা পেলাম।

তুমি এভাবে বলো না।

গেট দিয়ে দেখলাম, অনিমেষদা, বিধানদা ঢুকছে। বুঝলাম খবর ওই পর্যন্ত চলে গেছে।

আমার ফোনটা বেজে উঠলো।

দেখলাম অনিকেত।

ম্যাডাম একটা বিশ্রী ব্যাপার হয়ে গেল।

কি হলো!

একটুর জন্য ফস্কে গেল।

কি?

হাতের কাছে কোনও গাড়ি ছিল না যে ফলো আপ করবো। তবে আমি আবিদকে চিনতে পেরেছি। আবিদ নিজে গাড়ি ড্রাইভ করছিল।

বুবুন এসেছিল!

হ্যাঁ।

তোমার সঙ্গে পড়ে কথা বলছি। ফোনটা রেখে দিলাম।

তখন সুরো চিকনার ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে।

হ্যালো।

বৌদি।

বল।

দাদাকে দেখলাম। দাদাকে ছুঁলাম।

সুরো কাঁদছে।

অনিমেষদারা এসে বারান্দায় দাঁড়াল।

দাদাকে আমার ছেলের মাথায় হাত রেখে শপথ করিয়েছি। বলেছে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।

অনিসা কোথায়?

ঘুমচ্ছে।

অনন্য?

এখনও ওঠে নি।

যাক কাল ওরা ওদের বাবাকে অন্ততঃ ছুঁয়েছে।

কখন এসেছিল বলতো!

এসেছিল কিগো গত পাঁচদিন এখানে ছিল।

এখানে ছিল মানে!

নার্সিংহোমে ভর্তি ছিল।

কি হয়েছিল?

কিচ্ছু হয়নি।

কোন রুমে?

আমার পাশের রুমে সেই মৌনীবাবা।

মৌনীবাবা!

হ্যাঁ।

আমার ফোন বাজছে। ছোটোমাকে বললাম, তুমি ধরো।

অনিমেষদা আমার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে।

দাদা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে ফোন করেছি। বিধানজ্যেঠুকে, প্রবীরকাকুকে ফোন করেছি। জানিনা বাবা ধরতে পারলো কিনা।

দাদা আমার সামনে দাঁড়িয়ে।

বাবাকে জিজ্ঞাসা করো না—

অনিমেষদা মাথা দোলাল।

পারেনি—

চিকনাদা আসবে না?

বলো আমি পরে যাচ্ছি।

দেখলাম ডাক্তারদাদা ম্রিয়মান মুখে বাগানের রাস্তায় হেঁটে বারান্দার দিকে আসছে।

সুরো ফোনটা রাখলো।

আমি চিকনার হাতে ফোনটা দিলাম।

বার বার কালকের দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে আসছে। তুই চুপ চাপ মুখ বন্ধ করে চোখ বুঁজে দাঁড়িয়ে আছিস। একমুখ কাঁচাপাকা দাড়িগোঁফ। তুই বুড়ো হয়ে গেছিস! না এ সব তোর ভড়ং!

তোর দাড়ি ছিলো না। অনুপ আগে তোর ছবি আমাকে দিয়েছিল, তাতে তুই দারুণ সুন্দর দেখতে হয়েছিস। দারুণ হ্যান্ডসাম। আমি যতদূর জানি তোর কয়েকটা ছাগলদাড়ি ছিল। একমুখ দাড়ি তোর হলো কোথা থেকে? দেখে তো কখনও মনে হয়নি ওটা ফল্‌স!

তাহলে!

বড়োমা আবার এই নিয়ে কতো হাসাহাসি করলো। জ্যেঠিমনি তালে তাল দিল। তোর হয়ে তোর চেলা দুটো সমানে উত্তর দিচ্ছে। তুই ইশারায় ওদের কি বলছিস। টকটকে গেড়ুয়া বসন। গলায় রুদ্রাক্ষ। স্ফটিকের বিশাল মালা তিন প্যাঁচে গলা থেকে নাভি পর্যন্ত ঝুলছে। আমি তোকে ছুঁয়েছি। তুই আমার মাথায় হাত রেখেছিস।

আমি তোর স্পর্শটা বুঝতে পারলাম না!

তোহলে কি তোর শরীরের গন্ধ-স্পর্শ আমি ভুলে গেছি—এ কি করলাম আমি!

তোর মুখশ্রী কি অনেক বদলে গেছে!

হবে হয়তো, পনেরো বছর সময়টা কম না।

চল ভেতরে চল।

অনিমেষদা কাছে এসে দাঁড়াল।

কি করবি, কপাল।

চোখ তুলে তাকালাম।

বড়োমা গম্ভীর। ছোটোমা অনবরতো ফোনে কথা বলে চলেছে। ফোন আসারও বিরাম নেই। দাদা, মল্লিকদা সোফায় হেলান দিয়েছে।

আমি পায়ে পায়ে বড়োমার কাছে গেলাম। জড়িয়ে ধরলাম।

আমি না হয় ভুল করেছি, তুইও ভুল করলি—

একই প্রশ্ন তো আমার বড়োমা। একটুক্ষণ চুপ থেকে বললাম।

তুমি কতো কথা বললে ওর সম্বন্ধে, তোমরা কতো হাসাহাসি করলে। শেষে বললে ও কিছুতেই তোর বুবুন হতে পারে না।

আমি এতটা ভুল করবো না—বড়োমা বললো।

তাহলে সুরো ভুল কথা বলছে—

সে হবে কি করে!

তাহলে তুমি বলো।

বজ্জাত ছেলে। বড়োমা চেঁচিয়ে উঠলো।

বোলো না—ওর ক্ষতি হবে।

সন্ন্যাসী সাজা হয়েছে। মৌনীবাবা। একবার বাড়ির দোরগোড়ায় পা দিক।

বড়োমাকে নিয়ে ভেতরে এলাম।

আবার চেলাগুলো বলে কিনা উনি গুরুজনদের প্রণাম নেন না। ভূমিতে মাথা ঠেকান। ঢং।

ছোটোমা এগিয়ে এলো।

চোখে মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। তবু চোখের দেখা দেখেছি। এতেই যেন স্বস্তি।

দাদা বসে আছে মাথা নীচু করে।

হ্যাঁগো, তোমার চোখে কি নেবা হয়েছিল—

দাদা বড়োমার দিকে তাকাল।

কাল অতক্ষণ ধরে ছেলেটাকে দেখলে, চিনতে পারলে না—

দাদা হাসতে গিয়েও, হাসতে পারলো না।

কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সবাই দেখেছে। অনেক সামনাসামনি। বলতে পারিস তোর সেই মুখ এখনকার মুখ হয়তো বদলেছে।

দেখছিস মিত্রা দেখছিস মিনষের চাউনি দেখ, যেন বিশ্ব জয় করে ফেলেছে। বড়োমা চেঁচিয়ে উঠলো।

সুরো বললো চলে আসবে। সুরোকে যখন ও কথা দিয়েছে, নির্ঘাৎ চলে আসবে। দাদা বললো।

না এসে যাবে কোথায় শুনি। বড়োমার গলার স্বর সপ্তমে চড়েগেল।

ঠিক আছে, ঠিক আছে তুমি বসো।

বড়োমা ডাক্তারদার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, তুমি কি চোখে ঠুলি পরেছিলে?

ডাক্তারদা কোনও উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

ইসলামভাই ঘরে ঢুকলো।

অনিমেষদা সঙ্গে সঙ্গে বললো, আবিদকে ফোন করেছো?

আসছে।

আসুক আজ। সবকটাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবো।

বড়োমা, চিকনার দিকে তাকাল।

তুই একটা ফোন করতে পারিসনি।

চিকনা হাসছে।

লজ্জা করে না তোর।

কাল তো অতোক্ষণ কথা বললে।

ও তো বোবা ছিল, গলার স্বর শুনতে পেয়েছি।

ঘরেও গেছিলে।

তা কি হলো?

পায়ের কাছে বসে বসে কথা বলেছো। একবার মৌনীবাবার বুকটায় হাত দিয়ে দেখতে পারতে। বুকটা কেমন ধক ধক করছিল।

তোকে বলেছে বুঝি।

না বললে বলছি কি করে। আমি কি তখন ওখানে ছিলাম।

ইসলামভাই মুখে ওর্ণা চাপা দিয়েছে। হাসতে হাসতে অনিমেষদাকে বললো।

দাদা, বৌদি কোথায়?

সুরোর ওখানে নামিয়ে এসেছি।

আপনি গেছিলেন?

গেছিলাম। ফোনে সব জায়গায় খবর পাঠিয়েছি। ওরা কিছু খবর পেলে জানাবে বলেছে।

ফলো আপ করা যাবে?

চেষ্টা করছি।

তোর মেয়েরা উঠলো। সকাল সকাল এতো লোকজন দেখে প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেছিল। চিকনাকে পেয়ে তারা খুব খুশী। হাজার প্রশ্ন। চিকনাকে দেখিয়ে দিলাম।

যা চিকনাদা উত্তর দেবে।

একে একে সবাই এসে হাজির। কাকে বাদ দিয়ে কার কথা বলবো। কনিষ্ক, নীরুর মুখটা ছোটো হয়ে গেছে। আমার দিকে চোখে চোখ রাখতে পারছে না। একমাত্র দামিনীমাসি কাঁদছে। আর সকলের মন খারাপ। তবে সেই রাতের মতো নয়।

বড়োমার কথায় দামিনীমাসি নিজে হাতে মৌনীবাবাকে ফল কিনে এনে দিয়েছিল।

অনিমেষদার ফোনটা বেজে উঠলো।

হ্যাঁ বলুন।

…. ট্রেস পাওয়া গেছে….এখন কোথায়….ম্যাড্রাস! শুনলাম যে বোম্বাই-এর বিমান ধরেছে। ….ইন্টেলিজেন্সব্যুরো!…. ফোনে বলা যাবে না। ঠিক আছে আপনি একবার বেলার দিকে একটু আসুন।

কি বলছে?

বিধানদা অনিমেষদার দিকে তাকাল।

পরে বলছি।

অনিমেষ খারাপ কিছু? বড়োমা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো।

না।

তাহলে!

ওর সঙ্গে যারা ছিলো তার সবাই ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির লোকজন, একটা কাজে কলকাতা এসেছিল। দুজন শুধু অনির লোক ছিল।

চিকনা হাসছে।

তুমি হাসছো কেন। অনিমেষদা বললো।

ওরা হচ্ছে আমাদের গ্রামের রবি আর নগনা।

তুমি ওদের চেন?

আমার গ্রামের ছেলে চিনবো না। অনি ওদের সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।

কবে? মিত্রা বললো।

সেই যখন প্রথমবার কলকাতায় এলো। তখন ওরা খুব ছোটো।

আমি ওদের চিনি।

চিনবে না। সেই যাদের ও গাছ থেকে পেয়ারা পেরে খাইয়েছিল। ওরা আঁখ নিয়ে এসে ওকে দিয়েছিল। সেই বাচ্চা ছেলে দুটো।

কতোদিন হয়েছে?

তা বছর এগারো হবে। ওরা এখন ওখানে চাকরি করে।

ওদের বয়স কতো।

বছর পঁচিশ ছাব্বিশ। ওরা কলকাতায় যাতায়াত করে। খবরা খবর নেয়।

কই এতো দিন বলনি!

বারন ছিলো। এখন ও সবাইকে বলতে বলেছে।

আজ কি বললো? অনিমেষদা বললো।

ভালো মন্দের খবরা খবর নিল। বললো খুব শিগগির চলে আসবে।

কবে আসবে বলেছে?

তা কিছু বলে নি।

আবিদ ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে বড়োমা চেঁচিয়ে উঠলো, বেরো এখান থেকে, সব আপদ এসে এখানে জুটেছে।

আবিদ এসে বড়োমার পায়ে ধরে বসে পরলো।

পরের বার এলে তোমাকে আর ম্যাডামকে নিয়ে যেতে বলেছে।

এই যে বলতিস তোদের সঙ্গে ওর যোগাযোগ নেই।

তুমি অনিদাকে আমার থেকে ভালো করে চেন। কি করবো বলো। আমি অন্যায় করেছি।

অনিমষদা হাসছে। চায়ে চুমুক দিচ্ছে।

সব দোষ শুধু আমার?

তো কার শুনি।

তোমাকে কতো লোকের কথা বলবো বলো।

অনিমেষদা চায়ের কাপটা সেন্টার টেবিলে নামিয়ে রাখলো।

আবিদকে নিয়ে দাদার ঘরে চলে গেল। কি কথা বললো ওরা জানে। প্রায় আধঘণ্টা।

আজ আর অফিসে যাওয়া হলো না। কানাঘুষো অফিসের সবাই জেনেছে।

দুপুরের দিকে সুরোর কাছে গেলাম।

আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রথমে একচোট কেঁদে নিল।

জানো বৌদি, রাত তখন দেড়টা বাজে। নার্সিংহোমে ঘুম কি আসে, সবে মাত্র একটু তন্দ্রা মতো এসেছে। নার্সটা ঠেলা মারলো।

ভাবলাম ছেলেকে দুধ খাওয়াতে হবে।

হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিল।

তোর সঙ্গে দেখা করবো। ঘুমিয়ে পরেছিস নাকি? অনিদা।

কি বলবো তোমায় বৌদি, বিছানা থেকে ছুটে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল।

পাশের ঘরে তখন ফুস ফুস গুজ গুজ চলছে।

নার্সকে বললাম, কোথায়?

আপনি বললে, উনি আসবেন।

এখুনি ডেকে আনো।

দেখি মৌনীবাবা এসে হাজির।

বিকেলের দেখার সঙ্গে অনেক পার্থক্য।

তখন কেমন বুড়োটে বুড়োটে দেখতে লাগছিল। কপালে নাকের ওপর একগাদা তিলক মাটি লাগান ছিল। তখন সব পরিষ্কার।

তুমি বিশ্বাস করবে না বৌদি দাড়িটা কেটে দিলে সেই মুখ, সেই চোখ।….

কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।

কিরে দাদাকে চিনতে পারলি না?

গলার স্বর শুনে জড়িয়ে ধরলাম। সেই গলা। একটুও বদলায়নি বৌদি।

ছেলেকে কোলে নিল। গলায় একটা সোনার হার পরিয়ে দিয়ে গেছে। এই দেখ। আবার একমুখী রুদ্রাক্ষ আছে।

আমি বললাম ছেলেকে নিয়ে তোমার একটা ছবি তুলি। বাধা দিল।

বিয়ের দিনের কথা বললো।

আধঘণ্টা ছিল।

আমি ছেলের মাথায় হাত দিয়ে শপথ করিয়ে নিয়েছি।

বললো, এটা তুই অন্যায় কাজ করলি সুরো। আমি যদি ফিরতে না পারি।

ফিরতে তোমাকে হবেই। না হলে আমি সবাইকে এখুনি চেঁচিয়ে ডাকবো।

কি হবে, তোর অনিদার এতদিনের সাধনা তুই নষ্ট করবি। তুই চাস তোর অনিদার এতদিনের সাধনা তীরে এসে তরী ডুবে যাক।

কবে ফিরে আসবে বলো?

খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো, আর ভালোলাগছে না।

অনিদাকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।

বললো, একটা কাজে কলকাতা এসেছিলাম। তোর বাচ্চা হবে জানতাম। তুই যে এই নার্সিংহোমে ভর্তি হবি জানতাম না। মনে মনে ইচ্ছেছিল তোর বাচ্চাটাকে দেখার। ঈশ্বর ইচ্ছেটা পূরণ করে দিল। কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমি সকালের ফ্লাইটে ফিরে যাব। চিকনাকে আসতে বলেছি। ওকে অনেকদিন চোখের দেখা দেখিনি।

তুমি এখানে ভর্তি হয়েছিলে কেন?

অভিনয় করতে এসেছিলাম।

এখন কি করে যাবে?

আবিদকে আসতে বলেছি।

তোমার ফোন নম্বরটা দাও?

আমার ফোন নেই।

তুমি যে কথা বলো?

এদের ফোন থেকেই বলি।

আমি দাদার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।

তোর দাদার একটা রিকোয়েস্ট রাখবি?

বলো।

আমি চলে যাবার পর এক ঘণ্টার মধ্যে কাউকে ফোন করবি না।

কেঁদে ফেলেছিলাম।

দাদার কথা রেখেছি বৌদি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।

সুরো হাপুস নয়নে কিছুটা কেঁদে নিল।

তারপর বললাম।

তোমার তো দাড়ি ছিলো না।

বললো অনেক কষ্টে বানিয়েছি। সে অনেক গল্প, তোকে ফিরে এসে বলবো। প্রত্যেক বছর দেয়ালে ফোঁটা দিচ্ছিস।

আমি এই কথার উত্তর দিতে পারিনি বৌদি।

সুরো কেঁদে চলেছে। ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই।

সবাই শুনলো সুরোর কথা কেউ কোনও কথার জবাব দিতে পারলো না।

জীবনে দ্বিতীয়বার ঠকলাম।

তোকে কথা দিলাম থার্ড টাইম তুই আর ঠকাতে পারবি না।

হাসিস না। তুই জানিস তোর মিত্রার মাথায় বুদ্ধি কম। তাই মিত্রার জীবনের ওপর দিয়ে এতো ঝড় বয়ে গেলেও সে বুবুনকে ছারেনি। লতাপাতার মতো আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

বুবুন যে তার একান্ত আপনার।

কতজন তোর মিত্রার কাছ থেকে বুবুনকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছে। পারে নি।

বিশ্বাস কর বুবুন আমার একটুও কষ্ট হচ্ছে না। আমি জানি তুই নিজের জন্য বাইরে বাইরে পরে থাকছিস না। তুই আমার জন্য বছরের পর বছর বাইরে পরে আছিস।

তোর ছেলেটা আমার মত। মেয়েটা তোর মতো। কিছুতেই আটকাতে পারছি না। মাথায় যেটা ঢোকাবে তার শেষ না দেখে ছাড়বে না।

কতো উদাহরণ তোকে দিই বলতো।

অনিসার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা ব্যাথা হয়ে গেলো। কোনওদিন এতক্ষণ কারুর সঙ্গে দেখা করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি।

উঃ, লোকাল ট্রেনের যাত্রীগুলোও সে রকম যেন ওকে চেটে পুটে খাচ্ছে। একটা মেয়ে কি কখনও একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না? একা দাঁড়িয়ে আছে বলে ওরকম হ্যাংলার মতো তাকিয়ে থাকতে হবে। দু-একজন তো আওয়াজই দিয়ে দিল।

কিগো একা কেন। যাবে নাকি।

কানের লতিটা গরম হয়ে গেছিল। মনে মনে চ্যাটের ভদ্রলোককে গালাগাল দিল। তবু অনিসা মনে মনে হেসেছে। ছেলেগুলো কি নির্বোধ। এখুনি গিয়ে ও যদি কানটা ধরে ওর পরিচয় দেয়, হয়তো প্যান্টটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

দূর ছাই, লোকটা যে কি।

হ্যান্ড ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বার করলো। শুভকে ডায়াল করলো।

কিরে, তুই কলেজে এলিনা কেন।

গেছিলাম, চলে এসেছি।

তুই কোথায় বলতো এতো চেঁচামিচির শব্দ।

শিয়ালদা স্টেশন।

ওখানে কি করছিস?

দাঁড়িয়ে আছি। একজনের সঙ্গে দেখা করবো।

আমাকে বললি না।

তুই প্র্যাক্টিক্যাল কর।

কোথায় আছিস বল, আমি এখুনি যাচ্ছি।

আসতে হবে না।

প্রেমানন্দের খোঁজ পেয়েছিস?

এখনও পাই নি।

কালরাতে চ্যাটে আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হলো।

কটার সময়!

সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত।

আমার সঙ্গেও ওই সময় কথা হয়েছে। তবে আমি আরও এক ঘণ্টা বেশি কথা বলেছি।

তোর কি মনে হচ্ছে?

মনে তো হচ্ছে ইনিই মি. অনি ব্যানার্জী।

কি করে বুঝলি?

এ তো সব পটাপট বলে দিচ্ছে। শোন তোর সঙ্গে পরে কথা বলছি।

আপনি অনিসা।

একজন ভদ্রলোক কাছে এসে দাঁড়ালেন।

ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী। কাপরটা লুঙ্গির মতো করে পড়া।

মিস কালো চুল একেবারে ছোটো ছোটো করে ছাঁটা। দেখলে মনে হয় সদ্য কেউ মরাগেছেন। নেড়া হওয়ার পর চুল উঠেছে।

অনিসা প্রথমটা কেমন যেন থতমতো খেয়েগেছিল। তারপর আস্তে করে মাথা দোলাল।

আসুন।

অনিসা চারদিক ভালো করে লক্ষ্য করলো। সেভাবে কাউকে বুঝতে পারছে না। আবিদ আঙ্কেলকে ব্যাপারটা জানালে ভালো করতো। একটু বেশি রিক্স নিয়ে ফেলেছে।

রিক্স কেন?

মা যে বলে তোর বাবা তোদের জন্য পাহাড়াদার ঠিক করে রেখেছে।

তাহলে কি এখানে বাবার লোকজন কেউ নেই?

মায়ের কথা ঠিক হলে নিশ্চই থাকবে।

কাউকে চিনতে পারছে না।

ভদ্রলোক অনিসার পাশে পাশে মাথা নীচু করে হাঁটছেন। অনিসার সঙ্গে কোনও কথা বলছে না।

অনিসা নিজেই যেচে কথা বললো।

আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?

বলতে পারবো না। আমার ওপর দায়িত্ব আছে আপনাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া।

তারমানে আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন সেখানে যেতে হবে?

ওটা আপনার ইচ্ছে।

ভদ্রলোক খুব নরম সুরে বললেন।

অনিসা থমকে দাঁড়াল। যতই হোক একটা মেয়ে। দেখতে শুনতেও ও নেহাত খারাপ নয়। চ্যাটে কথা বলে ও গেইজ করেছে। ব্যাপারটা কি খুব রিক্স হয়ে যাচ্ছে না?

ভদ্রলোক অনিসার মুখের দিকে তাকিয়ে।

আমি তাহলে ফিরে যাই—

অনিসা ভদ্রলোকের মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল। বোঝার চেষ্টা করলো কোনও দূরভিসন্ধি আছে কিনা। মুখ দেখে কিছু বুঝতে পারছে না। সৌম্য শান্ত মুখশ্রী।

চিকনাদা বলেছিল, সাপুরে যখন সাপ খেলায় লক্ষ্য করেছিস?

সাপ খেলা কখনও দেখিনি—

কখনও দেখলে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখবি, সাপুরে সাপের চোখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে বাঁশি বাজায়। সাপ চোখ দিয়ে শোনে কান দিয়ে দেখে।

ধ্যাত সাপের কান আছে নাকি—

খোঁজার চেষ্টা করিস পেয়ে যাবি—

বলেছিল, যে কোনও মানুষ তার সব কিছু লুকিয়ে রাখতে পারে কিন্তু চোখের অভিব্যক্তি সে কোনওদিন লুকিয়ে রাখতে পারে না।

যার সঙ্গেই কথা বলবি চোখে চোখ রাখবি। জিতে যাবি। চোখ হচ্ছে মনের আয়না। এটা আমার কথা নয়, তোর বাবার কথা। তাই তোর বাবাকে গুরু বলি। বুঝলি বুঁচকি সব প্র্যাক্টিস। তুই যতো চর্চা করবি তত জানতে পারবি। এই যে আমি, একসময় ছাগল ছিলাম। শুয়োরের মতো ঘোঁত ঘোঁত করতাম। এখন চিকনাদাকে যা দেখছিস সব তোর বাবার দাওয়াই। তোর চিকনাদা তোর বাবা ছাড়া অন্ধ।

অনিসা চিকনাদার কথা বহুবার ফলো আপ করেছে, হাতে হাতে ফল পেয়েছে। সে কথা চিকনাদাকে ও জানিয়েছে। কিন্তু এই কথাটা চিকনাদাকে জানানো উচিত ছিল। অন্ততঃ পক্ষে একবার ফোন করা উচিত ছিল।

কতক্ষণ লাগবে যেতে?

বেশিক্ষণ না। মিনিট তিনেক।

অনিসা হাঁটতে শুরু করলো। শিয়ালদহ ফ্লাইওভারটার তলায় তখন গিজ গিজ করছে লোক। উঃ লোকগুলোর গায়ে কি বোঁটকা গন্ধ। অনিসার চোখে মুখে একটা অস্বস্তি। কলকাতা শহরে এরকম একটা নোংরা ভ্যাট ওপেন এয়ারে থাকতে পারে ওর জানা ছিল না।

হই হই শব্দে চমকে উঠলো।

এখুনি ও মাল বোঝাই ট্রলিটার সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছিল। লোকটা বাঁদিকে একটা গলির মধ্যে ঢুকলো। অনিসার বমি পেয়ে যাচ্ছে। ইস কি পচা মাছের গন্ধ। এখানে মানুষ থাকতে পারে?

অনিসা চারিদিক চেয়ে চেয়ে দেখছে। সম্পূর্ণ এক নতুন জগৎ।

এই এঁদো গলির মধ্যে লোকটা কোথায় নিয়ে চলেছে! একা ছেড়ে দিলে ও চিনে বেরতে পারবে তো? বেরতে ওকে হবেই। ও এই পথের শেষ দেখে ছাড়বে। একবার যখন নেমে পরেছে, শেষটা ওকে দেখতেই হবে। গলি তস্য গলি। নোংরার বেহদ্দ জায়গা। পায়ের স্লিপারে কাদা লেগে চটচটে হয়ে গেছে। গা ঘিন ঘিন করছে। গলির শেষপ্রান্তে একটা অন্ধকার মতো চায়ের দোকানে এসে লোকটা দাঁড়াল।

এই দিনের আলোতেও জায়গাটা কেমন অন্ধকার অন্ধকার। এই জায়গাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা। একেবারে বাজরটার শেষপ্রান্ত। চারিদিকে কাঁচা আনাজের বর্জ্য ডাঁই হয়ে পরে আছে। দুর্গন্ধে চারদিক ম ম করছে।

অনিসা নাকে রুমাল চাপা দিল।

ভদ্রলোক ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

আপনি ভেতরে গিয়ে বসুন।

অনিসা একবার ভেতরের দিকে তাকাল। একজন বয়স্ক ভদ্রলোক ঝিমচ্ছে।

আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি।

ভদ্রলোক দ্বিতায়বার কোনও কথা বললো না। সামনে খানিকটা গিয়ে একটা গলির মধ্যে ঢুকে পরলেন।

অনিসা চারদিক তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। বুকের ভেতরটা মাঝে মাঝে দুরু দুরু করে উঠছে। কলকাতায় এইরকম একটা জায়গা! অনিসার কাছে কলকাতাটাই কেমন অচেনা অচেনা ঠেকছে।

কনিষ্কমামা বলেছিল বাবা ভাসিলা ভেরিতে যেত। ওখানে টনা, মনা বলে কারা যেন আছে। মায়ের লেখায় টনা, মনার নাম পেয়েছে। বাবার সঙ্গে সুরোপিসির বিয়েতে পাগল সেজেছিল।

বাবা নাকি এখানে পড়াতে আসতো?

হঠাৎ সামনের দিকে চোখ পরতেই একটা লোক যেন আড়ালে চলে গেলো। মুখটা চেনা চেনা মনে হলো যেন! কোথায় দেখেছে। ঠিক খেয়াল করতে পারলো না অনিসা। ভাববার চেষ্টা করলো।

হ্যাঁ মনে পরেছে যখন স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল সেই সময় সামনের কাগজের স্টলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাগজ পড়ছিল লোকটা আর টেরিয়ে টেরিয়ে ওকে দেখছিল।

নিমেষের মধ্যে লোকটা কোথায় উধাও হয়ে গেল! ফোনটা বেজে উঠলো।

শুভ।

লাইনটা কেটে দিয়ে স্যুইচ অফ করে দিল।

তারমানে ওর পেছনেও লোক লাগান আছে। এরা কারা আবিদ আঙ্কেলের লোক না বাবার?

মায়ের লেখায় ও বাবার গতিবিধি পড়েছে। এখন একটু একটু ও ধরতে পারছে। একটা নিপাট গ্রামের ছেলের সঙ্গে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের এতোটা রিলেশন কিসের? বাবা অশিক্ষিত নয়। অনেকের থেকেই বরং বেশি শিক্ষিত। তাহলে!

একদিন খুঁজে খুঁজে সুনীত আঙ্কেলের বাড়িতে গেছিল। দেখেছিল ফ্ল্যাটে তালা দেওয়া। পাশের ফ্ল্যাটে বেল বাজিয়ে ভদ্রলোককে সুনীত আঙ্কেলের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিল। ভদ্রলোক কেমন যেন বাঁকা চোখে ওর দিকে তাকিয়েছিল। ডা. ব্যানার্জীর কথা কেউ খুলে বলতে চাইছে না। অরিত্র মামা একদিন মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল—

অনিদাটা না থকলে মালকিন এতদিনে স্বর্গধামে বিচরণ করতেন।

মাকে কিছু বলে নি তবে মার সঙ্গে ডা. ব্যানার্জীর একটা রিলেশন ছিল। এটা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু কি সেই রিলেশন?

প্রেমানন্দ বলেছে সে সব জানে।

রাজনাথ, টোডি সব কেমন যেন জট পেকে আছে। অনিসা কিছুতেই বুঝতে পারছে না বাবার কাছে এরা কেন হার্মফুল। বাবার সম্বন্ধে মায়ের কোনও তাপ উত্তাপ নেই। নিজের মনের কথা লিখে রেখেছে। বাবা নাকি সবার মধ্যে একটা সেতু রচনা করেছে কিসের সেই সেতু?

ইসি মনিকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিল। ইসি মনি হাসতে হাসতে বলেছিল। বুঝলি আনিসা আমার কাছে সব কিছু ধোঁয়াসা। অনিসা বুঝেছে ইসি মনি ওকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে।

বরুণমশাইকে বলেছিল, তুমি কিছু জানো?

জানলেও তোকে বলা যাবে না। তোর বয়স হয়নি।

আর কবে বয়স হবে?

একটু একটু অন্ধকার হয়ে আসছে জায়গাটা। এমনিতেই অন্ধকার জায়গাটা।

অনিসার কেমন গা ছম ছম করতে লাগলো। যে দু-একটা লোক আশে পাশে দাঁড়িয়েছিল তারাও এখন নেই। না, এখন মনে হচ্ছে কাজটা ও ভুল করে ফেলেছে।

ও ফিরে যাবে?

হটাৎ কাঁধে কে যেন স্পর্শ করলো।

পেছন ফিরে তাকাল।

তিনটে লোক।

সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে। সে কুচকুচে কালো। মুখটা ভীষণ হিংস্র। দেখলে ভয় লাগে। লোকটা ওর দিকে তাকিয়ে কি বিশ্রী ভাবে হাসছে।

বাঘ যেমন শিকার দেখলে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ঠিক তেমনি। ঠোঁটের গোড়া থেকে কানের ডগ পর্যন্ত কাটা। লম্বা কাটা দাগটা ওর মুখটাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

একটা চোখ কেমন যেন স্থির। নরাচরা করছে না। অনিসার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠলো। অনিসা লোকটার চোখে চোখ রাখলো। আর দুজন ওর সারাটা শরীরে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

অনিসা প্রথমে কোনও কথা বলতে পারলো না। বুকের ভেতরের লাব-ডুব শব্দটা হঠাৎ যেন প্রবল মাত্রায় বেড়ে গেল। অনিসা নিজের কানে তার শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

খাসা মাল মাইরি। একেবারে ডবকা।

কি নিষ্ঠুর হাসি ওদের চোখে মুখে। লোকটা চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বললো। চেঁচাতে গিয়েও অনিসা চেঁচাতে পারলো না। গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরলো না।

বুকের সাইজগুলো দেখেছিস। একেবারে হিমসাগর আমের মতো।

ছেলেটা হাত বারাল।

অনিসা নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলো না। দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে সজোরে থাপ্পর কষাল ছেলেটার গালে। তারপর হাতের ব্যাগটা দিয়ে মাথায় আঘাত করল। এলোপাথাড়ি হাত পা ছুঁড়তে লাগল। অনিসা তখন আর নিজের মধ্যে নেই।

কতক্ষণ এরকম হাত পা ছুঁড়েছে খেয়াল নেই। মারতে মারতে ও হাঁপিয়ে পরেছে। সম্বিত ফিরতে দেখল ছেলেটা ঠায় দাঁড়িয়ে ওর মার খেয়ে যাচ্ছে। আর দুটো ছেলে ওর ঠিক পেছনে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে। অনিসার গলা দিয়ে তখনও স্পষ্ট করে আওয়াজ বেরচ্ছে না। কাঁদতেও পারছে না। সামান্য গোঁ গোঁয়ানি। হাপরের মতো বুকটা তখনো ওঠা নামা করছে। অনিসা পেছন দিকে ফিরে পালাবার চেষ্টা করলো। ছেলে দুটো পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে।

অনিসা হাত তুললো।

ছেলেদুটোর কোন মুভমেন্ট নেই। স্থির দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

অনিসা কেমন যেন হয়ে গেল।

ভীষণ কান্না পাচ্ছে। নিজের ইমোসানকে নিজেই দোষ দিতে চাইল। এ কি করলো ও—

আচ্ছা এতো মার খেয়েও ওরা তিনজন কেন প্রতিরোধ করলো না? ওদের তিনজনের শক্তির কাছে ও তো ফুতকারে উড়ে যেতে পারতো। এখানে কোথাও তুলে নিয়ে গিয়ে….।

অনিসা আর ভাবতে পারছে না।

কই তা তো ওরা করলো না! মুখ বুঁজে লোকটা সমানে ওর চড় লাথি ঘুসি খেয়ে গেল।

সত্যি তো!

বোন। এতো দূর এসে তুই খালি হাতে ফিরে যাবি।

অনিসার সারাটা শরীর কেমন জ্বালা জ্বালা করছে। বোন কথাটা শোনার পর ওর ভেতরটা কেঁপে উঠলো।

চমকে ফিরে তাকাল।

কালো বিশ্রীমার্কা চেহারার ছেলেটা ওর দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে।

ঠোঁটের কোল বেয়ে রক্ত বেরচ্ছে।

মুখটা কেমন হাসি হাসি।

অনেক মেরেছিস, আর মারিস না। মাথায় ভীষণ লেগেছে।

অনিসা নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।

অনিসা চোখে চোখ রাখল।

লোকটা মাথা নীচু করলো।

আর তোকে কোনওদিন অপমান করবো না। এই প্রথম, এই শেষ।

অনিসা কিছুতেই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

কয়েক মুহূর্ত আগের ঘটনা। তাহলে কি ও স্বপ্ন দেখছিল?

সারাটা শরীর কেমন আলগা হয়ে আসছে। প্রচণ্ড উত্তজনার পর উত্তেজনটা যখন হঠাৎ করে থিতু হয়ে যায়, তখন শরীরের অবস্থাটা যেমন হয় এখন ঠিক তেমনি লাগছে।

দু-একজন লোক ডাস্টবিনের ওপাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেগেল।

চল।

অনিসা তবু লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলো।

আজ বিশ্বাস হচ্ছে তুই অনি মামার মেয়ে।

অনিসা মাথা নীচু করলো।

তোর দ্বারা হবে। তুই পারবি।

বুকের ভেতরটা কেমন চিন চিন করছে।

আয়।

ছেলেটা সামনের দিকে হাঁটতে আরম্ভ করলো।

অনিসা সম্মোহনের মতো ধীর পায়ে ওদের পেছন পেছন চলতে শুরু করলো।

সেই গলি। যে গলিতে ওই ভদ্রলোক অদৃশ্য হয়েগেছিল।

বেশ কিছুটা যাওয়ার পর গলিটা একজায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে ওদিকে কোনও রাস্তা নেই। ব্লাইন্ড গলি।

লোকটা বাঁদিকের দরজায় ঠেলা মারলো।

একটা ক্যাঁচ করে শব্দ হলো।

ভেতরে এলো।

পুরনো আমলের বাড়ি। বিরাট একটা উঠোন। অনেকটা হস্টেলের মতো।

তিনতলা। চারিদিক অপরিষ্কার। অনেকদিন কোনও সংস্কার হয়নি।

অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলো।

অনিসা মনে মনে ভাবলো সিঁড়ির যা অবস্থা যে কোনও দিন ভেঙে পরতে পারে। তাছাড়া দিনের বেলাতেও মনে হয় সিঁড়িতে লাইট জ্বালতে হয়।

ভিকিদা আমরা এবার যাই।

বস কি বলে শুনে নে।

তারমানে ভদ্রলোকের নাম ভিকি। এটা কি আসল নাম না নকল।

সবাই দোতলার বাঁদিকে বাঁক নিয়ে প্রথম ঘরটার সামনে দাঁড়াল।

আয় ভেতরে আয়। কোনও ভয় নেই।

অনিসা তাকিয়ে আছে। মানুষ নেশা করলে যেমন হয় অনেকটা সেই রকম। ঘরের ভেতরে এলো। বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ভেতরে এরকম একটা ঘর থাকতে পারে। ঘরের প্রতিটা কোনে একটা রুচির ছাপ। এসিরুম।

আপনি বসুন।

একটা ছেলে সোফাটা দেখিয়ে দিল।

এখনও বুকের ভেতরটা কেমন ধুকপুক করছে।

ভিকি বলে ছেলেটা ঘরের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা এখনও চিন চিন করছে। অনিসা মুখে হাত চাপা দিয়ে মাথা নীচু করে বসলো।

ভীষণ কান্না পাচ্ছে। কাঁদতে পারছে না।

কিরে খুব মারপিট করেছিস শুনলাম—

পরিচিত কণ্ঠ চমকে তাকাল অনিসা।

রতন আঙ্কেল!

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “কাজলদীঘি”

  1. ahsan badal says:

    Many thanks for this story. waiting for the next part.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev