জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
৮৩ নং কিস্তি
সুন্দর আমার পাশে পাশে হাঁটছে সোজা মালতীর কাছে এসে দাঁড়ালাম।
মালতী মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে।
এতদিন ছেলে ছেলে করে আমার মাথা খারাপ করেছিলি। দেখ তোর ছেলেকে চিনতে পারিস কিনা।
সুন্দর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। আমর কথা ধরতে পারছে বুঝতে পারছে না।
মালতী ফুঁপিয়ে উঠলো।
কাঁদবি না। মনা কই।
সে পাশে আছে।
রতন, মনাকে ডাক।
রতন চলেগেল।
সুন্দর এইই তোমার আসল মা। তোমার অরিজিন। ইনিই তোমাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন।
গোটাটাই ওকে ইংরাজীতে বললাম।
সুন্দর, মালতীকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর নীচু হয়ে প্রণাম করল।
মালতী কাঁদছে।
সুন্দরের চোখে জল নেই।
ড্যাড মাকে কাঁদতে বারন করো।
তুই বাংলায় বল।
কেঁদো না?
হ্যাঁ।
মালতী ছেলেকে জাপ্টে ধরে আছে।
সুন্দর তরবর তরবর করে ইংরাজীতে বলে গেলো।
হেসে ফেললাম।
অনন্য, অনিসা, শুভো জোড়ে হেসেউঠলো।
সুন্দর আমার দিকে তাকাল।
তোর কথা তোর মা বোঝে নি—
মমকে ডাকো—
মম আসবে না—
তাকিয়ে দেখলাম মিত্রা, তনু দূরে দাঁড়িয়ে, দুজনেই হাসছে।
ওরে অনি এটা কি মনার সেই এক বছরের পোলা, যেটা হারিয়ে গেছিল।
মৃদু কলোরোল।
ওপরে তাকালাম কনিষ্ক, নীরু, বটা হাসছে।
দাঁড়া যাচ্ছি।
দেখছিস তুই বাংলায় বলতে পারিস না বলে সবাই হাসছে।
ফিফটিনডেস অনলি ফিফটিনডেস।
তোর ছেলে কি বললো তুই বুঝেছিস?
মালতীর দিকে তাকালাম।
মাথা দোলাল, না বোঝে নি।
তুই আমার বিয়ের পর দিন ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলি ও তখন ছোটো, আমি কোলে নিয়েছিলাম, ও আমার কোলে হিসি করে দিয়েছিল।
কথটা বলা মাত্রই হাসির রোল পরেগেল চারদিকে।
সুন্দর হাসলো, হি সি।
নো, হিসি।
হিসি। স্যু স্যু।
ইয়েস।
সবাই সুন্দরের কথায় হেসে গড়িয়ে পরে।
এবার মালতীও হেসে ফেললো।
দ্যাটস রাইট ড্যাড। মা হেসেছে।
ঠিক এইভাবে ওকে তৈরি করেছে অনি। পেছন থেকে তনুর গলা পেলাম।
জান মিত্রাদি, সুন্দর অনি ছাড়া কানা। মিথ্যে বলবো না, আমিও। আমার সঙ্গে দিন রাত ঝগড়া করবে। তোমার জন্য ড্যাড সাধু হয়েছে।
ও সব জানে—
অনি জানিয়েছে। না হলে ভবিষ্যতে যদি প্রবলেম হয়—
বাংলা বলতে পারে না—
খুব সামান্য। ভারি ভারি শব্দ বোঝেও না, বলেও না।
সুন্দর তার মায়ের মুখে হাত বোলায়, কখনও মুখে চুমু খায়, আবার জড়িয়ে ধরে।
আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আমার মা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর।
আমি চলে আসতে চাইছিলাম। সুন্দর হাতটা টেনে ধরলো।
মাই ফাদার।
খুঁজে নে।
প্লিজ ড্যাড।
মিত্রা, মনাকে ডেকে নিয়ে সুন্দরের কাছে গেল।
সুন্দরের আনন্দ আর ধরে না। মা বাবাকে পেয়ে ও খুব খুশী। কতো কথা ও বলতে চায়।
সকলে ওর রকম সকম দেখে হাসে। কে ওর দোভাষীর কাজ করবে। শেষে অনিসা, সুন্দরকে সাহায্য করলো।
তনু সবার সঙ্গে মিশে গেছে। মিত্রা পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সকলের সঙ্গে।
মল্লিকদা, তনুকে দেখে হেসে ফেললো।
হাসছো কেন?
অনির সঙ্গে এ্যাসাইনমেন্টটা ভালোই করলি। কাল ছবিগুলো জমা দিস।
ওগুলো ছাপা যাবে না।
তনু সকলকে প্রণাম করছে।
দাদার কাছে যেতেই জড়িয়ে ধরলো।
তুই চলে যেতে কাগজের খুব ক্ষতি হয়েছে।
কেন আমি তো কাগজেই চাকরি করছি।
ও তো বাইরে।
তনু আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
অনি, চিকনা কোথায়?
দেখো আশেপাশে কোথাও আছে।
তনুদি আমি গ্যালারিতে।
বড়োমা এসে কানটা ধরে নেড়ে দিল।
তোর তো পরোতে পরোতে রস।
অনিসা, অনন্য, শুভ, সুন্দর অট্টহাসির মতো জোড়ে হেসে উঠলো।
তনু ফিরে তাকাল।
মিত্রা, তনুর হাতটা টেনে ধরলো—মা, ছেলের ব্যাপার মাথা গলাসনি।
সুন্দর ছুটে এসে বড়োমার কাছে দাঁড়িয়ে ইশারায় বললো, প্লিজ প্লিজ আর একবার।
বড়োমা এক ধমক লাগাল। সুন্দর বড়োমাকে জড়িয়ে ধরে আকাশে তুলে ধরলো।
বড়োমা হাউ হাউ করে উঠলো।
সুন্দর মাটিতে নামাল।
এ কি দস্যি ছেলেরে বাবা। আমার বুকটা ধরাস করে উঠেছিল।
তনু হাসছে, বড়োমাকে জড়িয়ে ধরে ভেতরে গেল।
আমি অবতারকে কাছে ডাকলাম।
লক্ষ্মী কই।
তুমি দেখ নি?
দেখলি তো কি পরিস্থিতি হলো।
তুমি যদি সব আজকের জন্য জমিয়ে রাখ হবে কি করে।
লক্ষ্মী, অর্ক ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। পেছনে দামিনীমাসি।
ইসলামভাই নেপলার কলারটা ধরে কাছে নিয়ে এলো।
বুঝলি অনি নেপলা কি ইংরাজী ঝারছে!
আমি হাসলাম।
কি মাসি লক্ষ্মীর দেখা পেয়েছ?
মাসি মাথা নীচু করে হাসছে।
ওর বড়কে দেখেছ।
শুনলাম।
তোমার পছন্দ?
অবতার লজ্জা পেয়েগেছে।
অবতার আজ কিন্তু রাতে পার্টি দিতে হবে। আবিদ বললো।
তুই যদি এখুনি বলিস আবিদদা হয়ে যাবে।
কনিষ্ক, বটা, নীরু নীচে নেমে এসেছে।
অবতার, সাগির গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
হ্যাঁরে অনি এরা এক একটা খোদার খাসি, আর তুই দুর্ভিক্ষ দেশের, ব্যাপারটা কি?
অনিমেষদা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বললো, আমারও একই প্রশ্ন।
না স্যার, অনিদা আমাদের পলট্রির মুরগী বানিয়ে দিয়েছে। নেপলা বললো।
সবাই হেসে ফেললো।
পেন্নাম করেছিস?
অনেক দিন পর আজ কোমড়ের এক্সাসাইজটা জোড় হলো।
কনিষ্ক হাসছে। আমার দিকে তাকাল।
তুই একেবারে তৈরি করে দিয়েছিস।
আমি না, ওদের পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে।
একবাক্যে স্বীকার করছি কনিষ্কদা। অনিদা ছাড়া আজ এই জায়গায় আসব ভাবতেই পারি না। আমাদের সব কিছু অনিদা। সাগির বললো।
এটা মাথায় রাখবি। সকলে ভুলে যায়।
আর জীবনে ভুল হবে না।
তোরা এলি অনুপ কোথায় গেল সাগির?
হিমাংশুদার কাছে গেছে। ওখান থেকে কয়েকটা কাজ সেরে আসছে।
সঙ্গে গাড়ি আছে?
রবীনদা আছে।
শিউলি, ঋজু আসবে বলেছিল?
আসেনি।
কেন!
বৌদির বোন এসেছে।
পায়ে পায়ে ভেতরে এলাম। সুন্দর তখনও তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলছে। মিডিয়েটর অনিসা। খুব সুন্দর করে বাংলা বলে দিচ্ছে। মালতী লাজুক লাজুক চোখে কথা বলছে ছেলের সঙ্গে।
ইসি এগিয়ে এলো।
তোর মেয়েকে দেখেছিস।
দেখছি।
তোর সৃষ্টিকে কিভাবে সাহায্য করছে।
সুন্দর ওদের থেকে বছর দেড়েকের বড়ো।
বোঝাই যায় না। দেখলে মনে হয় পিকুর বয়সী।
আমার বিয়ের দিনের কথাটা তোর মনে আছে। সেই রাতের ঘটনা।
একটু একটু।
সুন্দর তখন আট মাসের শিশু।
ওকে কবে নিয়ে গেলি?
প্রথম যে বার কলকাতায় এলাম। তনু ভীষণ জ্বালাতন করলো।
আমি তো কোনওদিন মা হতে পারব না। এটলিস্ট আমাকে একটা সন্তান দাও।
তখন মালতীর কাছ থেকে ওকে চেয়ে নিয়ে গেলাম। লিখিত পরিত ভাবে। তখন তনু মা, বাবা কে হবে? আবার বাবা বনে গেলাম।
ইসি পেটে একটা ঘুসি মারল।
তুই চান্স দিলে আর একবার এ্যাটেম্পট নিতে পারি।
এক থাপ্পর।
মিত্রার চোখ এদিকেই ছিল চেঁচিয়ে উঠলো।
কিরে দিদিভাই কি বলছেরে ও।
চোখ দেখছিস। নিজের জিনিসে কিছুতেই ভাগ বসাতে দেবে না।
মিত্রা তেড়ে এলো।
না না তুই ওরকম করিস না। বড়ো ভালো ছেলে। ইসি জড়িয়ে ধরেছে।
রতন, আবিদ গিয়ে খাবার নিয়ে এসেছে। খাবারের তোড়জোড় চলছে।
কনিষ্ক কার সঙ্গে মনে হয় ফোনে কথা বলছিল। কাছে এগিয়ে এলো।
মৈনাক কেসটা কিরে?
হেসেফেললাম।
আসছে। তোর এখনও এতো রস আছে!
উপসী শরীর কি করবো বল।
তাই বলে!
কনিষ্ক মাথা দোলাচ্ছে আর হাসছে।
মিত্রা কনিষ্কর দিকে তাকাল।
কি হয়েছে কনিষ্ক?
ফুল ব্যাটেলিয়ান নিয়ে আসছে, তোকে গরম তেলে ভাজবে।
পারবে না। আমার হাতেও মাল আছে। ও কথা বলতেই পারবে না।
আমি বলে দেবো।
কেউ বিশ্বাস করবে না।
নীরু পাশ থেকে বলে উঠলো তুই আমাকে শুধু ক্লুটা দে। ব্যাশ কুপোকাত।
তোর সঙ্গে ওর দেখা হলো কোথায়?
গত সপ্তাহে দিল্লীতে।
মৈনাকের সঙ্গে তোর দেখা হয়েছে! ও জানে, তুই আজ আসবি। আর তুই কিনা….!
আমি হাসছি।
আসুক আজ ওকেই গরম তেলে ভাজবো।
তুমি বলো না কি হয়েছে? মিত্রা বললো।
ইসলামভাই বারান্দা থেকে হাত নেড়ে ডাকলো।
বেরিয়ে এলাম।
বাগানে চেয়ার পাতা হয়েছে। দাদারা গোল করে বসে গল্প করছে।
দেখলাম ওসি ভদ্রলোক একটা চেয়ার দখল করে বসে আছেন।
আমি এগিয়ে গেলাম।
উনি উঠে দাঁড়ালেন।
কাছে গেলাম।
বেশ করেছেন স্যার, সিপিটা একবারে ভদ্রলোক নয়।
ওকে ও ভাবে বলার দরকার নেই। অনিমেষদা বললো।
জানেন না স্যার, সকাল থেকে শুধু পরের ঘারে বন্ধুক রেখেই আওয়াজ করে গেল। এখনও স্নান, খাওয়ার সময় পাই নি।
ইসলামভাই ওনার জন্য একটু খাবারের ব্যবস্থা করো না। আমি বললাম।
না স্যার। আপনাকে চিঠিটা দিলেই আজকের মতো কাজ শেষ।
তাই!
চিঠিটা হাতে নিলাম।
ব্যাগ থেকে চশমাটা বার করলাম।
তুই এটা নিলি কবে? অনিমেষদা বললো।
চেলশায় ধরেছে বুঝলে। কাছের জিনিষ দেখতে পাই না। ছোটো অক্ষরগুলো একবারেই দেখতে পাই না। ডাক্তার তাই চোখে দিতে বললো। রিডিং গ্লাস।
তোকে বেশ ভালো মানিয়েছে।
ঘরের থেকে হাসির রোল উঠলো।
ওখানে আবার কি হলো দেখো তো ইসলাম। অনিমেষদা বললো।
কি আবার হবে।
জানিস অনি, এতোদিন এই বাড়িতে এই হাসিটা উধাও হয়ে গেছিল।
অনিমেষদার চোখদুটো কেমন স্থির হয়ে গেল।
চিঠিটা পড়লাম।
হাসলাম।
কি রে, তুই যা বলেছিস তাই লিখেছে?
প্রবীরদার হাতে দিলাম। একজনের থেকে আর একজনের হাতে চলে গেল চিঠিটা।
দিন রিসিভ করে দিই।
ওসি ভদ্রলোক আর একটা কপি দিলেন।
আমি ঝোলা ব্যাগ থেকে পেনটা বার করে বাঁ হাতে রিসিভ বলে সই করলাম। অনিমেষদা ড্যাব ড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে।
ইসলামভাই পাশে দাঁড়িয়ে।
ভদ্রলোক পা জড়ো করে স্যালুট করলেন।
আমি স্যালুট নেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি নই।
কি বলছেন স্যার—কাল পর্যন্ত এই বাড়িতে কি হয়েছে জানেন না? আমার খুব খারাপ লাগছিল। অনিমেষবাবুকে পর্যন্ত পাত্তা দেয় নি। আর আজ সেই লোক এক ফোনে কুপোকাত। নাহলে বোঝেন না স্যার উনি, এসপি, সচিব পর্যন্ত আপনার বাড়িতে চলে এসেছেন। কাল দিল্লীতে ডেকে পাঠিয়েছে। সাসপেনশন কেউ রুখতে পারবে না। আপনার কাছে মনে হয় রাতে একবার আসবে।
রতন চারটে প্যাকেট এনে দিল।
বসিয়ে খাওয়াবার মতো সুযোগ নেই, বুঝতেই পারছেন। সবাই মিলে ভাগ বাঁটোয়ারা করে খাবেন।
না না ঠিক আছে স্যার।
আমার দিকে তাকিয়ে।
স্যার একটু দেখবেন। চাকরির বাজার বড়ো খারাপ।
ঠিক আছে, যোগাযোগ রাখবেন।
ভদ্রলোক চলে গেলেন।
আমি ফিরে আসতে গেলাম।
তুই যাচ্ছিস কোথায়, বোস এখানে। প্রবীরদা হাতে ধরে চেয়ারে বসাল।
ইসলামভাই তখন চিঠিটা পড়ছে আর হাসছে।
ছোটোমা, ইসি বারান্দা থেকে নেমে এ দিকে হেঁটে আসছে। বারান্দায় মিত্রা, মিলি, টিনা দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
তুই কি করতে চাইছিস বল—
অনিমেষ তুমি এইভাবে ওর পেট থেকে কথা বার করতে পারবে? ডাক্তারদাদা বললো।
অনিমেষদা, ডাক্তারদাদার দিকে তাকাল।
ও তো তোমাকে বলেছে সময়ে সব জানতে পারবে।
আপনি ওর কীর্তিটা দেখলেন?
দেখলাম। বাঁহাতে সই করেছে, এই তো?
হ্যাঁ। আপনি লক্ষ্য করেছেন!
কেন করবো না—
ও কবে থেকে বাঁহাতে সই করতে শিখলো?
তুমি ঠিক ধরেছো ডাক্তার। দাদা বলে উঠলো।
ছোটোমা কাছে এসে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছে।
তুমি আবার রনংদেহি মূর্তি নিয়ে দাঁড়ালে কেন। মল্লিকদা বললো।
আসার সঙ্গে সঙ্গে গুণকীর্তন শুরু হয়ে গেছে।
মল্লিকদা হাসছে।
ও আবার কি করলো! দাদা বললো।
কি করে নি—ওকে জিজ্ঞাসা করতে পারছেন না?
অনিমেষদারা সকলে হেসে উঠলো।
তোমরা শুধু শুধু ওর নামে বদনাম দাও। দাদা বললো।
গুনমন্ত্র ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুণ না, তাহলে বুঝতে পারবেন দোষ কার।
কি রে অনি? দাদা আমার দিকে তাকিয়ে।
আমি কি করে বলবো!
কি হয়েছে বলো বৌদি? প্রবীরদা বললো।
তোমাকে পড়ে বলবো, এখানে বলা যাবে না।
আমার দিকে তাকিয়ে।
তুই ঘটের মত ওখানে বসে রইলি কেন, ওঠ। দিদি ডাকছে।
আমি হাসছি।
তুই যা। চিঠিটা আমার কাছে রইলো। অনিমেষদা বললো।
গোটা দশেক জেরক্স করতে পাঠাও।
এটাও তোর দাদাকে বলে দিতে হবে। কালকে থেকেই মাঠে নেমে পড়বো। বছর দেড়েক পর ইলেকসন।
ছোটোমা আমার হাত চেপে ধরেছে।
উঠে দাঁড়ালাম। ছোটোমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছি।
কিছুটা এগিয়ে এসেই কোমড়ে চিমটে ধরলো। ইসি একটা হাত ধরেছে।
উঃ করে উঠলাম।
এখন তো কান ধরতে পারব না। তোর ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে। খুবলে তোর শরীরের মাংস তুলে নেব।
আমি কি করেছি!
বারান্দায় দাঁড়িয়ে সকলে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
ছেলে মেয়ের বয়স কতো হয়েছে বল?
উরি বাবা মাংস উঠে যাবে।
উঠুক, আগে বল।
টানতে টানতে সটাং বড়োমার সামনে এনে হাজির করলো।
বড়োমা আমাকে দেখে হেসে ফেললো। বৌদি হাসছে, দামিনীমাসি হাসছে, লক্ষ্মী হাসছে। ঘরের কেউ গম্ভীর নেই।
ও ছোটো, ছাড়। বড়োমা এগিয়ে এলো।
জিজ্ঞাসা করো তোমার গুনমন্ত্র পুত্রকে। ছোটোমা চেঁচিয়ে উঠলো।
আমি জানলামই না। শুধু শুধু আমার ওপর অত্যাচার চালাচ্ছ।
তনু কাছে এসে বললো, তোমার আর কটা চাই বলো।
তনুর চোখ হাসছে। দেখলাম এরিমধ্যে জামা কাপর চেঞ্জ করা হয়ে গেছে। খুব সুন্দর একটা শালোয়াড় কামিজ পরেছে।
আরে আমি জানলামই না কি হয়েছে।
তুমি জান না?
না।
মিত্রাদি বলো।
ও এখন যা খুশি আমার নামে বদনাম করবে।
তুই মৈনাকের মেয়েদের সঙ্গে কি করেছিস? মিত্রা বললো।
কনিষ্কর দিকে তাকালাম।
তুই একবার পার্মিসন দে। আমি কনিষ্ককে ফ্ল্যাট করে দেবো। নীরু চেঁচিয়ে উঠলো।
আমি হাসছি।
ফ্ল্যাটের ঘটনাটা মনে আছে। তোর মেয়ে বড়ো হলে কানে কানে বলবো।
অনিদা। মিলি চেঁচিয়ে উঠলো।
টিনা, নীপা মিটি মিটি হাসছে।
তোরা ছাড় তো। ছেলেটা সকাল থেকে কিছু খায়নি। বড়োমা জড়িয়ে ধরলো।
তুমি শোনো নি। মিত্রা তরপাল।
আর শুনতে হবে না।
ওই টুকু টুকু মেয়ে। ভাগ্যিস মৈনাকের মেয়ে তাই….। কনিষ্ক টিপ্পুনি কাটল।
কি করেছি, সুন্দর জিনিষ চেয়ে চেয়ে দেখেছি। তুই দেখিস না।
তোর মতো ওরকম হাঁ করে দেখি না। যে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যাব।
তাই বলে মারতে তেরে আসবে।
ভাগ্যিস চিনতে পেরেছিল, না হলে সাধুবাবার হাওলা খারাপ হয়ে যেত।
ওটা মৈনাকের না হয়ে অন্য কারুর হতে পারতো। বটা বললো।
দাঁড়া আজকে মৈনাক আসুক ওর জিপার খোলার কেশটা রি-ওপেন করবো।
এবার ওরা এতো জোরে হেসে উঠলো, মেয়েরা পর্যন্ত ওই দিক থেকে ছুটে চলে এলো।
তনু হেসে মিত্রার গায়ে ঢলে পড়ছে।
তুমি জানো? মিত্রা, তনুর দিকে তাকিয়েছে।
আমাকে বলেছে।
কি সাংঘাতিক বলো।
তোর কি কোনওদিন বয়স হবে না। ইসি বললো।
আচ্ছাই মুস্কিল।
তোমাকে আমি কিছু বলবো মিত্রাদি। তনু বললো।
ওরা হেসেই চলেছে।
ওর সঙ্গে বেরোন মানে যে কোন সময়ে তুমি মার খেতে পারো। তনু বললো।
তোমার ওখানেও!
শুধু কি আমার ওখানে। অবতাররাও টের পেয়েছে অনিদা কি বস্তু।
কিগো তনুদি—
নিজের নামটা শুনে অবতার এগিয়ে এলো।
তোর অনিদার কথা বলছি।
সেই কেশ? নেপলা। অবতার চেঁচাল।
বল।
দাদা আবার স্টার্ট করেছে।
নেপলা মনে হয় একটা মাংসের টুকরো মুখে দিয়েছিল। হঁ হঁ করতে করতে এদিকে এগিয়ে এলো।
কিরে অবতারদা।
অনিদার সেই নুন কেশটা একটু বলে দে।
হে হে হে হে করে একটা বিকট হাসি হেসে উঠলো নেপলা।
হাসি থামিয়ে বললো, খেতে খেতে অবতারদা, এখন বললে সবাই শুনতে পাবে না।
মিত্রার দিকে তাকিয়ে।
সত্যি ম্যাডাম, কতোবার যে মার খেতে খেতে বেঁচে গেছি।
মাথায় রাখিস। আমি বললাম।
তুমি আমাদেরটা বলবে তো? বলবে। আমার থেকে সাগিরের স্টক বেশি।
কি বুঝছো মিত্রাদি। তনু মিত্রার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো।
তনুর দিকে তাকালাম।
খুব মজা না।
মিত্রা আয় মা। বৌদি খাওয়ার টেবিলের কাছ থেকে ডাকলো।
আমার দিকে তাকিয়ে, কিরে আবার শুরু করেছিস?
শুরু কিগো মা, অনিদা রসোকদম্ব। সুরো বললো।
মিত্রা, বৌদি রান্নাঘরের দিকে গেল। দেখলাম টেবিলের ওপর সব জড়ো করা হয়েছে। সকলে যে যার মতো নিয়ে খাচ্ছে। বুফে সিস্টেমে খাওয়া চলছে। আজকে আর পরিবেশন করার কেউ নেই।
বড়োমা আমাকে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। পেছনে দামিনীমাসি।
নিচে পরিপাটি করে আসন পেতেছে। উপকরণ দেখে আমার মাথা খারপ।
এতো সব করতে গেলে কেন! আমি ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেয়ে নিতাম।
আবার হই হই করে উঠলো সকলে।
বড়োমা আমার মুখের দিকে তাকাল।
দেখো আবার কে এলো—
দামিনীমাসি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে একবার বাইরের দিকে উঁকি মেরে বললো।
মৈনাক তার দুই মেয়ে, দেবা, অদিতি, নির্মাল্য।
কনিষ্ক, কোথায়রে মক্কেলটা? দেবার গলা পেলাম।
কনিষ্ক মনে হয় ইশারা করে দেখিয়েছে।
মাসি, অনি এই ঘরে।
হ্যাঁ।
দেখলাম সবাই এসে গেটের সামনে দাঁড়িয়েছে। আমাকে দেখে সবারই একটু মন খারাপ হয়েগেল। অদিতি আমার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললো। মিলি, টিনা এলো।
কেঁদো না।
অদিতি জড়িয়ে ধরলো, কোনও কথা বলছে না বুকে মাথা রেখে অঝোড়ে কাঁদছে।
নিজের যে খারাপ লাগছে না, তা নয়।
বড়োমা, দামিনীমাসি কেমন ফ্যাকাশে চোখে তাকিয়ে রয়েছে।
অদিতি আর নয়। দামিনীমাসি বললো।
তুমি আর হারিয়ে যাবে না তো—অদিতির কান্না ভেঁজা কণ্ঠ।
আমি অদিতির মাথায় হাত রেখেছি।
তারপর আবার সব ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে গেল।
যাও খেয়ে নাও। বেলা হয়েছে, তারপর বোসবো। আমি বললাম।
তুই খাবি না?
তুমি যে কি না দেবাদা। মিলি বললো।
ওই জন্য তো কিছু হয়নি, বুঝিস না। অনিদা না থাকলে মরে হেজে যেত। অদিতি বলে উঠলো।
সরি মিলি। দেবা জিভ বার করলো।
তুই ওপাশেও যাবি না?
কেন যাব না! একটু পড়ে যাচ্ছি যা।
ওরা সবাই বেরিয়ে গেল।
বড়োমা, দামিনীমাসি আমার দুই পাশে। পরিপাটি করে সব সাজান।
তুমি কি বাজার থেকে সব তুলে এনেছো? দামিনীমাসির দিকে তাকালাম।
মাসি হাসছে।
যাও তোমরা খেয়ে নাও।
তুই খা, তারপর খাব। বড়োমা বললো।
তাহলে খাব না।
মিষ্টি দিই।
সাজিয়ে গুছিয়ে দেবে না।
বড়োমা হাসছে।
মাসি বড়োমার ঘরের কোনে ঝুড়ি ঢাকা দেওয়া প্লেটটা নিয়ে এলো।
তোমরা কি আমাকে মারবে!
কেন। সকাল থেকে ওই তো কয়েকটা কচুরী খেয়েছিস।
তাই বলে….!
কতোটুকু আর….। মাসি বললো।
ঠিক আছে ওখানে রাখো। তারপর ওরা আছে ভাগাভাগি করবে।
তুই খা।
আবার বক বক করে। জ্যেঠিমনি কোথায়?
বেচারা আর পারছে না। বড়োমা বললো।
কেন শরীর খারাপ?
আর বলিস কেন….।
তুমি থামবে। দামিনীমাসি ধমকাল।
ঠিক আছে যাও।
দরজাটা ভেজিয়ে দুজনে বেরিয়ে গেল।
পৃথিবীতে নিজের আপন বলতে আমার কেউ ছিল না। মনাকাকার ছাতার তলায় শৈশব, কৈশোর, যৌবনের কিছুটা সময় বাদ দিলে, বাকি সময়টা ভাসা মানিকের মতো ভেসে ভেসে চলছিলাম। একদিন হঠাৎ স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মতো মিত্রাকে পেলাম। সেই যে আমার জীবনটা একটা অন্যদিকে বাঁক নিল আজও পেছন ফিরে তাকাই নি।
থামো না মিত্রাদি, আগে মৈনাকদার মুখ থেকে শুনি, তারপর নেপলারটা।
মিলির গলা পেলাম।
মৈনাকদা স্টার্ট।
সত্যি মিত্রা ও যে কি জিনিষ ওকে যে কাছ থেকে দেখেছে সেইই বুঝবে। তোকে নতুন করে কি বলবো। কলেজ লাইফে আমরা যা দেখেছি ওটা র। এখন সব ফিল্টার।
মিত্রা হাসছে।
দেবা, নির্মাল্য, অদিতি, মিলির কথা বাদ দে। তোর মনে আছে কিনা জানি না….।
কোনটা বল—
দ্বীপঙ্কর, দ্বীপান্বিতা—
একটু বল—
কবি দ্বীপঙ্কর। অনি প্রায়ই বলতো কবি কবি ভাব ছন্দের অভাব।
মাঠে বসিয়ে অ থেকে চন্দ্রবিন্দু লিখতে বলেছিল। পারেনি—
এই তো তোর মনে পড়েছে।
চারবার চেষ্টা করার পর যখন লিখতে পারলো না, তখন একটা কবিতা বলেছিল, কি যেন, ইঁটে গড়া গন্ডা বাড়ি গুলো সোজা….।
সহজপাঠ দ্বিতীয় ভাগের কবিতা।
মানে! কনিষ্ক বললো।
তুই চিন্তা কর কনি। একটা সেকেন্ড ইয়ার বাংলা অনার্সের ছেলেকে যদি সহজপাঠের কবিতা জিজ্ঞাসা করে, আবার অ থেকে চন্দ্রবিন্দু লিখতে বলে, তার প্রেস্টিজ থাকে। ব্যাপারটা এরকম তুই শালা অ, আ, ক, খ জানিস না, আবার কবিতা লিখবি। যা ফোট। তাও আবার কি এসব ঘটনা তার প্রেমিকের সামনে ঘটাচ্ছে। তখন কিন্তু দ্বীপঙ্করের বেশ কয়েকটা কবিতা এখানে ওখানে বেরিয়েছে। কলেজে কবি হিসাবে খ্যাতিও পেয়েছে। শেষে অনি গম্ভীর হয়ে বললো। শরীরের তুলনয় তোমার পেছনটা ভীষণ পাতলা। পেছনের যত্ন নাও।
সকলে হেসে উঠলো।
দেবা কেশ। নীরু বললো।
হ্যাঁ।
এই ব্যাপারটা ও যে কতোজনকে বুঝিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। মিত্রা বললো।
তুই তো বহু জায়গায় ওর সাক্ষী ছিলি। মৈনাক বললো।
এটাও সেই রকম। ওর মাথাতেই আসে।
মিলিরা হাসছে।
হ্যাঁ গো মিলি।
মেয়েদের নিয়ে দিল্লী কালীবাড়ি গেছি। অনেকদিন থেকে যেতে চাইছিল। কাগজের অফিসে কাজ করি। কাজের চাপে যাওয়া হয়নি। সেদিন একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছি। ওদের নিয়ে গেলাম।
মেয়ের হাসির শব্দ পেলাম।
থাম হাসিস না। মিলি চেঁচাল।
আত্রেয়ীর কাছে আমি শুনেছি। অনিসা বললো।
বেশ করেছিস।
আমি নিজেও হাসছি।
কালীবাড়ী থেকে ফিরছি। মেয়েরা আগে আমি একটু পিছনে। মনে হয় সিগারেট কিনতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখি দূর থেকে এক জটাজুটধারী সাধুবাবা একদৃষ্টে মেয়েদের দেখছে।
চোখ তো না যেন গিলেই খেয়ে নেবে।
খুব খারাপ লাগলো। ইয়ংছেলে হলে তবু একটা কথা ছিল। আমরা যে ধোয়া তুলসীপাতা ছিলাম তা নয়। সাধু-সন্ন্যাসী যদি এরকম হয় দেশের হাল তাহলে কি হয়েছে বোঝ।
মেয়েরা ওর পাশ দিয়ে একটু এগিয়ে গেছে।
দেখি সাধু ঘার ঘুড়িয়ে দেখছে।
কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
এই সাধুবাবা কি দেখছো, চোখ গেলে দেব।
আমার গলার আওয়াজ পেয়ে মেয়েরা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরেছে।
দেখি ও তখনও ওদের দিকে তাকিয়ে গিলছে।
ও মা আমি গালাগাল দিচ্ছি ও দাঁত কেলিয়ে হাসছে।
হাত তুলেছি সাধুর ভণ্ডামি বার করবো, তখন গলা শুনলাম—,
শালা চিনতে পারছিস না?
গলাটা শোনা শোনা লাগতেই ভালো করে মুখটা দেখলাম।
চিনতে পারছিস না?
না!
অনি।
তোকে কি বলবো কনিষ্ক, নামটা শুনে আমি চমকে উঠলাম। যেন আকাশ থেকে পরি।
তোর এ কি চেহারা!
থাম, কচি দুটোকে দেখ।
তোর মেয়েরা তখন কোথায়? নীরুর গলা।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে।
তারপর—
ওর সম্বন্ধে তো কিছু জানতে বাকি ছিল না। সবতো জানি। ওকে জড়িয়ে ধরলাম।
আমাকে ফিস ফিস করে বলে কি, মালদুটো দেখেছিস, কলেজ লাইফের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ওই বয়েসটা থাকলে চেটে পরিষ্কার করে দিতাম।
ওই মুহূর্তে ওর কথা শুনে আমি হাসব না কাঁদব।
বাধ্য হয়ে বললাম, আলাপ করবি—
তোর পরিচিত।
হ্যাঁ।
ডাক একটু টেস্ট করি।
তখনও ও জানে না তোর মেয়ে! নীরু বললো।
ছাগল। খালি ইন্টারাপ্ট করে। বটা চেঁচাল।
মেয়েদের ডাকলাম।
তখন ওর মুখটা যদি দেখতিস কনিষ্ক, কি বলবো।
মেয়েরা কাছে এলো।
আত্রেয়ী এই ভদ্রলোককে চিনতে পার?
ওরা আমার কথায় অবাক। তখন মনে হয় ও কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছে।
ওরা ওর জটাজুটো ধারী চেহারা দেখে চিনতে পারবে কি করে, আমি তো ওদের অনির সেই বিয়ের ফটো দেখিয়েছি।
তোমাদের অনিকাকা।
তখন ব্যাটা পালাবার ধান্দা করছে, যেই তাড়াহুড়ো করতে গেছে, কাপরে পা জড়িয়ে রাস্তায় ধপাস।
ওদের সে কি হাসি।
তারপর জোড় করে ধরে নিয়ে গেলাম।
হাসির চোটে ঘরের দরজা, জানলা ভেঙ্গে যাবার জোগাড়।
হৈ হুল্লোড়, চেঁচা-মিচি।
দুটো বাচ্চা দরজাটা ফাঁক করে উঁকি মারল।
ইশারায় ভেতরে ডাকলাম।
গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো। একটা মিলির মেয়ে। সকালে দেখেছি। ছেলেটা কার?
তুমি ফল খাচ্ছ। মিলির মেয়ে বললো।
মাথা দোলালাম। খাবে।
প্লেট থেকে নেওয়ার জন্য ইশারা করলাম। দুজনেই সামনে বাবু হয়ে বসে পড়লো।
স্মার্টলি প্লেট থেকে একটা করে আমের কুচি তুলে নিল দুজনে।
তোমার নাম কি গো? ছেলেটা বললো।
হাসলাম।
তোমার দাড়ি কেন, কাটতে পার না। মেয়েটা বললো।
চুলগুলো দেখ বিনুনি করা। ছেলেটা বললো।
তুমি মেয়ে। মেয়েটা বললো।
আমি মুচকি মুচকি হাসছি।
বাইরে তখন নেপলার গল্প শুরু হয়ে গেছে। চূড়ান্ত হাসাহাসি চলছে। তার রেস বন্ধ ঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে কিছুটা এসে পড়ছে।
তুমি রসো খাবে না।
মিলির মেয়ের মুখের দিকে তাকালাম। বেশ টট্টরি।
তুমি খাবে?
মাথা দোলাল, হ্যাঁ।
খাও।
দুজনেই প্লেটে হাত দিয়েছে।
একটু একটু করে।
দুজনে মিলে খেয়ে চলেছে। একটু একটু খায় আবার রেখে দেয়।
আবার বললো, তুমি দাড়িটা কাটতে পার না—মিলির মেয়েটা বললো।
হাসলাম।
রস হাতে আমার দাড়িতে হাত দিলো। মুখ ময় পাকা পেঁপেতে মাখামাখি।
হঠাৎ বাইরে হই হই শব্দ। ছুটো ছুটি।
আমার ছেলে কই। সুরোর কান্না ভেঁজা গলা।
আমার মেয়ে। মিলি চেঁচিয়ে উঠলো।
ছুটো ছুটি দাপাদাপি।
ওরা হাসছে।
আমি ওদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে আঙুল তুললাম।
তুমি দুষ্টু।
মাথ দোলালাম, মুচকি মুচকি হাসছি।
একটা বিভৎস আওয়াজে দরজাটা হাট হয়ে খুলে গেল। গেটের বাইরে সবাই। হই হই শব্দটা একেবারে নিস্তব্ধ। সুরো মাথায় হাত দিয়ে দরজার কাছে থেবড়ে বসে পরেছে।
কে যেন বললো, মিলি পাওয়া গেছে।
বড়োমা ভিড় ঠেলে ভেতরে এগিয়ে এলো।
তুমি বলো বড়োমা, একটু আগে একপেট খাইয়েছি। সুরো কাঁদতে কাঁদতে বললো।
হি হি হি হি ওরা হাসছে।
ঘর ভিড়ে ভরে গেল।
তুই তো একবার বলবি। বড়োমা বললো।
কি বলবো!
তোর এখানে ওরা আছে।
কি করে জানব। তোমরা হাসাহাসি করছো। খাচ্ছ।
সারা বাড়ি তোলপার করে ফেললাম।
ভালো করেছো।
ওরা কিন্তু ওদের মতো আমার প্লেট থেক তুলছে আর খাচ্ছে।
ছেলে দেখার সখ মিটেছে? সুরো চেঁচিয়ে উঠলো।
তোকে দেখাচ্ছি দাঁড়া। ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
একবারে বকবি না।
এখানে ছিল, কখন ফুরুত।
তোরা বড়োরা সব ওখানে গল্প করবি। হ্যা-হ্যা, হি-হি করবি ওরা যাবে কোথায়।
বৌদি এসে সুরোর ছেলেটাকে কোলে নিল। ছোটোমা মিলির মেয়েটাকে।
দিদা, আঙ্কেলের দাড়িটা দেখ।
এবার বৌদির লক্ষ্য পড়লো।
করেছিস কি!
আমার দাড়ি থেকে তখন আম পেঁপে রসগোল্লার রস চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে।
ইস।
চুলটা কেমন বিনুনি করেছে দেখ।
এবার হাসির শব্দ।
মিলি ঘরে এলো। চোখর কোলে জল। মুখটা গম্ভীর।
গল্প শোনা শেষ হলো।
মিলির ঠোঁটে একচিলতে প্রতিপদের হাসি।
যা মুখটা ধুয়ে আয়। বৌদি বললো।
আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম।
ওরা খেয়েছে না তোর দাড়িতে মাখিয়েছে। বৌদি বললো।
দুটোই করেছে।
এতক্ষণে ইসি, মিত্রা, তনু ঘরে ঢুকলো।
কোথায় ছিল?
অনির সঙ্গে খাচ্ছিল। বৌদি বললো।
তনু আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো।
তুমি খাচ্ছিলে না তোমার দাড়ি খাচ্ছিল।
দুটোই।
ও দুটো কখন এ ঘরে ঢুকলো। ইসি বললো।
জানলে তো হয়েই যেত। বৌদি বললো।
মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে হেসেই চলেছে।
তুই খেয়েছিস। বড়োমা বললো।
মাথা দোলালাম।
সব-ই তো দেখি পড়ে আছে।
না-রে বাবা।
দিদি ফেলে রেখে লাভ আছে। তনু মিত্রার দিকে তাকিয়েছে।
তনুদি। সুরো চেঁচাল।
তুই আর একটু ভালো করে কেঁদে নে।
বড়োমা ওদের দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে। ছোটোমা, দামিনীমাসি, বৌদি হাসছে।
বেসিনে গিয়ে ভালো করে মুখ ধুলাম।
দিদা আঙ্কেলের মতো বিনুনি করে দেবে।
থাম। পাকা বুড়ি কোথাকার। শুধু টট্টরি। ছোটোমা বলে উঠলো।
মিত্রা বড়োমার ঘর থেক টাওয়েল নিয়ে এলো।
দাড়িটা মোছ। জল গড়াচ্ছে।
হাসছি।
হাসছিস কেন?
খেয়েছিস?
এক টুকরো আম জুটেছে।
কনিষ্ক, টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
আমাকে দেখে তোর হিংসে হচ্ছে না।
কেন!
তোর একটা আমার তিনটে।
ইসি, মিত্রা, তনুর দিকে ইসারা করলাম।
ইসি পেটটা চিমটে ধরলো।
আমি উঃ করে উঠলাম।
দিদিভাই কিছু পেলি। মিত্রা বললো।
যেটুকু আছে।
তনু হাসছে। তুমি পারও বটে।
অনন্যরা কোথায়?
ফুল টিম নিয় নিজের ঘরে।
চিকনার দিকে তাকালাম। মাসি কোথায়?
তোর ঘরের মেঝেতে।
খেয়েছে?
জলঢালা ভাত, লঙ্কা, পেঁয়াজ।
চিকনা বলে কি জানিষ—মিত্রা বললো।
মিত্রার দিকে তাকালাম।
মাসি ইঁদুর পুরা আছে।
এ মাগো। ওয়াক। তনু মুখে হাত চাপা দিয়েছে।
ফোকলা দাঁতে সে কি হাসি। বলে কিনা অনি গাল দিবে।
বাবা দেখ কে এসেছে। মেয়ে গেটের সামনে থেকে চেঁচিয়ে উঠলো।
প্রণাম মাজী।
তাকালাম। দেখলাম ইকবালভাই মেয়ের কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে।
এগিয়ে গেলাম।
তোর মেয়ের সাধ পূর্ণ হয়েছে।
হাসলাম।
এ কি করেছিস?
কাল দেশে যাই।
ও হ্যাঁ, বলেছিলি।
মাসুদুর।
জি আপা।
মাজীকে প্রসাদীর প্যাকেটটা দে।
ও এসে বড়োমার হাতে প্যাকেটটা দিল।
অনিকে দেখতে চেয়েছিলি।
মাসুদুর মাথা নীচু কর আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
এই হচ্ছে অনি।
মাথা ঝুকিয়ে সালাম করলো।
আমার কাজু বরফি। অনিসা বললো।
ইকবালভাই অনিসার গালটা ধরে নেরে দিল।
যা গাড়িতে আছে।
আমার দিকে তাকিয়ে।
মালতীর ছেলেটাকে দেখা।
দেখ নি!
নাম শুনেছি, চিনতে পারছি না।
অনিসা একবার সুন্দরকে ডাক।
নেটে বসে চ্যাট করছে। ওয়েব ক্যামে ওর বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।
তাহলে তো অনেকদূর এগিয়ে গেছিস।
অনিসা হাসছে।
অনি, তনু আমাকে চিনতে পারছে না।
এ-মা, কেন চিনতে পারব না ইকবালভাই।
তাহলে কথা বলছোনা কেন।
তুমি অনির সঙ্গে কথা বলছিলে।
খেয়ে বেরিয়েছো। আমি বললাম।
হ্যাঁ। সকালে আসবো ভাবলাম, তারপর রতন ফোন করে বললো এখন এসো না ইকবালভাই।
খবর পৌঁছে গেছে।
ইকবালভাই হাসছে।
দামিনীমাসি সরবৎ নিয়ে এলো।
জানিস অনি দামিনীদিদির বড়ো কষ্ট।
কেন?
তুই জিজ্ঞাসা কর।
ইকবালভাই, দামিনীমাসির কাছ থেকে সরবতের গ্লাসটা নিল।
সাগিরের সঙ্গে দেখা হলো।
আমি তাকিয়ে আছি ইকবালভাইয়ের দিকে।
চেনাই যাচ্ছে না। বললো ওখানকার সিটিজেনসিপ নিয়েছে।
হ্যাঁ, ব্যবসা যখন করতেই হবে।
বেশ গুছিয়ে দিয়েছিস।
চলো।
তুই কাজ সার, আমি একটু অনিমেষবাবুর সঙ্গে বসি। কাল কখন যাবি?
যতো সকালে বেরতে পারবো তত ভালো।
ইকবালভাইয়ের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এলাম।
বাগানে অনেক চেয়ার পাতা হয়েছে। গোল হয়ে অনিমেষদারা বসে আছে।
আমার দিকে হাত তুলে বললো, তোর সঙ্গে আধঘণ্টা একটু বসবো তারপর যাব।
ঠিক আছে। ইকবালভাইয়ের দিকে তাকালাম।
তুমি গিয়ে কথা বলো, আমি ও ঘরে আছি।
যা।
ইকবালভাই অনিমেষদাদের ওখানে গেল, আমি তনুর দিকে তাকালাম।
একবার অরিত্র আর আর্ককে নিয়ে ও ঘরে এসো।
আমি ঘরে ঢুকলাম। মিত্রার খাটে নীরু, কনিষ্ক টান টান হয়ে শুয়ে। বরুণদা, বটা সোফাতে বসে আছে। সন্দীপ, দ্বীপায়ন আর একদিকের সোফাতে।
রিলিজ হলো। কনিষ্ক বললো।
বরুণদা আমার দিকে তাকাল।
সিগারেট খাবি। নীরু বললো।
না। ভালো লাগছে না।
বিতান ফোন করেছিল আসছে। সন্দীপ বললো।
মাসি নাকি এ ঘরে শুয়ে আছে। কোথায়?
শুয়েছিল এখন বাগানে ঘুরতে গেছে। কনিষ্ক বললো।
সঙ্গে কেউ আছে তো?
মনেহয় ভজু আছে।
হাসলাম।
আমি সন্দীপের পাশে বসলাম।
মিত্রারা ঘরে ঢুকলো।
হ্যাঁরে আজকের কাগজের পজিশন কি?
যেমন থাকে।
বসো তনু। সন্দীপ উঠে দাঁড়াল।
তুই উঠলি কেন?
সন্দীপ আমার তাকান দেখে আবার বসে পড়লো। তনু মুচকি হাসলো।
অরিত্র ফাইলটা বার কর। সায়ন্তন তোর মেটিরিয়ালস?
সব রেডি।
দ্বীপায়ন ল্যাপটপ নিয়ে এসেছো?
দাদার ঘরে আছে।
নিয়ে এসো।
সন্দীপ নড়ে চড়ে বসলো। কনিষ্ক, নীরু এবার উঠে বসলো।
তোমার ল্যাপটপ? তনুর দিকে তাকালাম।
পেন ড্রাইভে কপি করে নিয়ে এসেছি। বাকিটা নেটে বসে ডাউনলোড করে নেব।
ডাম্প করা আছে?
হ্যাঁ।
লেখাটা তুমি লেখো। অর্ক, অরিত্র তোমায় হেল্প করবে। তনুর দিকে তাকালাম।
তুমি লিখলে ভালো হতো।
জানি, তাও তোমায় লিখতে বলছি।
মেন পার্টটা তুমি লেখো, দুটো ইনস্টলমেন্ট, আদার পার্টটা আমি লিখছি। তনু বললো।
তোমাদের লেখা শেষ হলে, আমি আমারটা সিরিয়াল করবো।
খালি কপচে যাবি, আমি কি কলা মুখে নিয়ে বসে থাকবো। সন্দীপ খিঁচিয়ে উঠল।
ওর দিকে আবার ঠান্ডা চোখে তাকালাম।
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
মিত্রা এবার মুখে হাত চাপা দিল।
এখন যথেষ্ট বয়স হয়েছে, এদের সামনে উল্টোপাল্টা বলিস না।
দ্বীপায়ন ঘরে ঢুকলো।
তোমার পেন ড্রাইভটা বার করো। তনুর দিকে তাকালাম।
মিত্রাদি আমার ব্যাগ।
মিত্রা উঠে গেল। পেছন পেছন তনু।
সেদিনকার পুরো মালটা তুলেছিলি। সায়ন্তনের দিকে তাকালাম।
চার ঘণ্টা গাছের মগডালে বসেছিলাম।
সিডি বানিয়েছিস।
সিডি স্টিল দুটোই বানিয়েছি।
বার কর।
একটা চিপ বার করলো।
সব এতে!
আবার কি ক্যামেরা নিয়ে ঘুরবো নাকি।
তোরা কি বলতো, সেদিন বেমালুম বলে দিলি, একটাও ছবি নেই। সন্দীপ বললো।
সন্দীপ সায়ন্তনের দিকে তাকাল। সায়ন্তন ঠান্ডা চোখে সন্দীপের দিকে তাকাল।
অরিত্র খিক খিক করে উঠলো।
হাসিস না বাঁদর। এগুলো পেলে সেদিন কাগজটা কিরকম জমতো বল।
এডিটরশিপ থেকে রিজাইন করো, এবার যা বেরবে পেঁদানি খাবে।
অর্ক বলছে আর হাঁসছে।
তবু ছাড়বো না।
তনু ব্যাগ থেকে পোর্টেবল হার্ডডাইভটা এনে দ্বীপায়নের হাতে দিল।
তোমার সঙ্গে দ্বীপায়নের আলাপ হয়েছে।
হ্যাঁ। মল্লিকদা বললো, আমি যখন অফিস ছেড়েছি তার কয়েকদিন পর ও জয়েন করেছে। তনু বললো।
তাই!
তনুদির কিছু স্টিল ছবি আমার ল্যাপটপে আছে।
স্ট্রেইঞ্জ, দেখাও।
আগে কাজ শেষ করো। আমি বললাম।
তনু আমার দিকে তাকাল।
দাঁড়াও তো।
দ্বীপায়ন টেবিলের সামনে চলে গেল।
মিত্রা, ইসি, কনিষ্ক, নীরু পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।
নিশ্চই কাজ শুরু করে দিয়েছিস, তখনই বিধানবাবুকে বললাম, দৌড়োদৌড়ি চালু যখন তখন অনির কাজ শুরু হয়ে গেছে। গেটের সামনে অনিমেষদারা।
এসো।
অনিমেষদারা পায়ে পায়ে ভেতরে এলো।
বরুণদা সোফা থেকে খাটে উঠে গেল।
অনিমেষদা, বিধানদা পাশে এসে বসলো।
সত্যি তোর এনার্জি আছে।
দাদা, মল্লিকদা, ডাক্তারদাদা টেবিলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
সায়ন্তন।
বলো।
ছবিগুলো স্পিলিট করে স্টিল করেছিস না ডাইরেক্ট।
স্পিলিট করে।
ডেনসিটি।
সব কারেকশন করে নিয়েছি।
তুই নিজে না অন্যকেউ।
তুমি কি ভাবো বলোতো।
হাসলাম।
আমি আঠারো বছর আগের সেই সায়ন্তন নই। এখন আমি অনেক এ্যাডভান্স।
সে তো বুঝছি।
মনে রাখবে আমার এখন আমাশা হয় না।
সবাই হেসে ফেললো।
ঠিক আছে ঠিক আছে, আর বলতে হবে না।
প্রবীরদা ফোন করতে করতে ঘরে ঢুকলো।
আমি পারবো না।….তুমি রিকয়েস্ট করবে না।….ঠিক আছে, দাদার সঙ্গে কথা বলো।
অনিমেষদার হাতে ফোন দিল।
কে?
অনাদি।
অনিমেষদা হাসল।
কি বলছে?
আপনি কথা বলুন।
হ্যালো….বলো অনাদি….ওটা তোমাকে আমি কথা দিই কি করে…. সে তুমি আসতে পারো।….আমি কথা দিচ্ছি। যতই হোক তুমি একজন মন্ত্রী, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।….এসো।
বাইরের দিকে তাকালাম, সন্ধ্যা নামছে।
ইকবালভাইরা সবাই মিলে ঘরে ঢুকলো।
আমি আসি অনি। অনিমেষদার সঙ্গে কথা বললাম, তুই জেনে নিস।
তোরা কোথায় যাবি? সাগিরদের দিকে তাকালাম।
আমার সঙ্গে যাচ্ছে। আবার ফিরে আসবে।
ইকবালভাই-এর দিকে তাকালাম।
ওদের নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না।। দায়িত্ব আমার। এতদিন চুপ করে থেকেছি এখন বলবার সময় হয়েছে।
ইসলামভাই?
আমিও একটু ঘুরে আসি।
ঠিক আছে যাও।
এখুনি আসছে। অনিমেষদা, ইকবালভাই-এর দিকে তাকিয়ে বললো।
তাই!
এই তো ফোন করেছিল।
তাহলে থাকতে হবে, যাওয়া যাবে না।
কে আসছে দাদা? মিত্রা ঘুরে তাকাল।
আবার কে, যার জন্য এই অবস্থা।
তুমি অনির মুখটা দেখো ইকবালভাই। প্রবীরদা বলে উঠলো।
যেন কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।
হেসে ফেললাম।
(আবার আগামীকাল)