| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ১৯২৪ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৪ মে, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

৭৪ নং কিস্তি

মিলি তাকিয়ে তাকিয়ে অনিসাকে দেখছে। আর মনে পড়ে যাচ্ছে অনিদাকে। অনিদা ঠিক এরকম এক রোখা ছিল। যে কাজটা হাত দেবে করে ছাড়বে। অনিসা কি তাহলে কিছু বুঝতে পেরেছে? কই মিত্রাদি কিছু বললো না। একবার জিজ্ঞাসা করতে হবে।

ঠিক আছে, আসছি।

অনিসা শুভ দু-জনেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলো।

একটা কথা বলবো মনি, এটা না করবে না।

মিলি হাসলো।

বল শুনি।

তোমার কাছে বাবার কিছু ভিডিও ক্লিপিংস আছে। আমাকে দেবে।

টিনামনিকে বল। ওর কাছে সব গোছান আছে।

টিনামনি আবার বলবে ওসব নিয়ে তুই কি করবি।

ঠিক আছে আমি বলে দিচ্ছি।

তুমি নিয়ে এসে রাখ আমি যাওয়ার সময় নিয়ে যাব।

তুই চাইলেই কি দিতে পারবো। একটু সময় দে।

দিলাম তো। বললাম তো যাওয়ার সময় নিয়ে যাব।

আচ্ছা। যা।

রাতে খাওয়ার টেবিলে মা ভীষণ চুপচাপ। অনিসা ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে। অফিস থেকে ফেরার সময় মা ওর সঙ্গে আজকের ব্যাপারে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করেনি।

বরং দুদুন বললো তোর আজকের কাজ শেষ হলো। লাইব্রেরীতে বাবার লেখাগুলো পড়লি। কতদিন অনির লেখা পড়িনি।

কেন সুমন্তমামা তো লিখছে।

দূর। দুধের সাধ ঘোলে মেটে। ওর লেখার টাচটাই আলাদা।

অনিসা চুপ করে গেছে।

খাবার টেবিলে ডাক্তারদাদাই প্রথম মুখ খুললো।

ছোটো ম্যাডাম আজ কাজ গোছালে?

তুমি আমাকে ম্যাডাম বললে, তোমার সঙ্গে কথা বলবো না যাও।

আচ্ছা তাহলে ছোটোগিন্নী বলি?

না তাও বলতে পারবে না।

মিত্রা হাসলো।

তাহলে কি বলবো?

তুমি যে নামে ডাকো সেই নামে ডাকবে।

তাহলে বুঁচকি বলি?

ওটা দিদান আর দুদুনের জন্য।

বাবাঃ সব আলাদা আলাদা রেজিমেন্ট আছে?

অফ কোর্স।

আজকে কতো ডাটা কালেকসন করলি?

কিছুটা করেছি। এবার তোমার সঙ্গে বসতে হবে।

আমার থেকেও দাদাই অনেক কিছু জানে।

ঘেঁচু।

অনিসার কথায় সবাই হাসে।

তারমানে! দাদা বলে উঠলো।

তুমি কাগজছাড়া কিছু বোঝ না।

একটা কাগজ চালাতে গেলে কতো কসরৎ করতে হয় জানিস।

তোমার ঘটে ওসব বুদ্ধি নেই।

দেখছো বড়ো, তোমার নাতনির কতগুলো পাখনা গজিয়েছে দেখতে পাচ্ছ।

হুঁ হুঁ কার মেয়ে দেখতে হবে। নারে তুই তোর কাজ কর। বড়োমা বললো।

ডাক্তার। দাদা বললো।

তুমি সব সময় বেশি কথা বলো।

আমি যতটুকু জানি বলবো। তুই ধরে আন শয়তানটাকে। বড়োমা বললো।

আচ্ছা দিদান। বাবা তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতো।

ভালোবাসলে কি ওই ভাবে পালিয়ে যেতো। বড়োমার গলাটা ভারি হয়ে এলো।

অনিসা ওপরজিটের চেয়ার থেকে উঠে এলো। দিদানের গলাটা জড়িয়ে ধরলো। তোমায় কথা দিলাম বাবাকে আমি ঠিক খুঁজে বার করবো।

সে বেঁচে আছে কি মরে গেছে এতদিনে সেটাই জানতে পারলাম না।

কেন সবাই যে বলে বাবা বেঁচে আছে।

বেঁচে থাকলে এই কয় বছরে আমার সঙ্গে একবার কথা বলতো।

তোমার সঙ্গে একবারও কথা বলে নি।

একবারও না।

অনিসা চুপ করে গেল, মায়ের মুখের দিকে একবার তাকাল।

মিত্রা অনিসার দিকে তাকাল। মাথাটা নীচু করে নিল। অনিসা মায়ের চোখের ভাষা পড়ে ফেললো।

অনিসা নিজের জায়গায় এসে বসলো। চুপ চাপ খেয়েদেয়ে উঠে গেল। নিজের ঘরে চলে এলো। ল্যাপটপটা টেবিলে অন করে দরজা বন্ধ করলো।

আজ মনটা ভীষণ খারাপ বুঝলি বুবুন। সকাল থেকে মনের ভেতর একটা কু গাইছিল। কেন জানিনা। অফিস থেকে খবর নিলাম তোর ছেলে মেয়ে ঠিক আছে। কয়েকদিন আগে শরীরটা খারাপ হয়েছিল। সে এক হুলুস্থূলুস কাণ্ড। বাড়িতে কাক উড়ছে চিল পরছে। তোর বন্ধুরা সকলে হাজির। নীরুকে বড়োমা ঘর থেকে বেরতেই দিল না। রাতের দিকে দুজনেই একটু ঠিক হতে নীরু ঘর থেকে বেরবার অনুমতি পেল। সেদিনটা সকলেই উইথ ফ্যামিলি আমাদের বাড়িতে থেকে গেল।

বড়োমাকে বললাম, আমি আজ অনিমেষদার কাছে যাব।

বড়োমা বললো যা। বুঁচকি, বোচন ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি ফিরিস।

অফিস থেকেই অনিমেষদাকে ফোন করলাম। দাদা বললেন তুই চলে আয় আমার ঢুকতে একটু দেরি হবে।

অফিস থেকেই সোজা অনিমেষদার বাড়িতে এলাম।

প্রত্যেকটা দিন কি যে অসীম যন্ত্রণায় কাটাচ্ছি তোকে বলে বোঝাতে পারবো না। নিজে আর সামলে উঠতে পারছি না।

মাঝে মাঝে এমন হচ্ছে, যেন মনে হচ্ছে সব ছেড়ে ছুড়ে কোথাও চলে যাই।

তারপর ভাবি পালিয়েই বা যাব কোথায়?

যে অবস্থায় ছিলাম এখন তার থেকে যথেষ্ট ভালো আছি।

আমি গেছি শুনে অনিমেষদা তাড়াতাড়ি পার্টি অফিস থেকে ফিরে এলো। সঙ্গে সবাই।

আমি, বৌদি ডাইনিং টেবিলের দুটো চেয়ারে বসে গল্প করছিলাম। অনিমেষদা ঢুকতে ঢুকতেই বললো।

জানিস মিত্রা, সবাই মিলে একটা গেম খেলে ফেললাম।

আবার কি গেম খেললে! বৌদি বললো।

জানো সুতপা, অনিদের সিটটা খালি ছিল। বাই ইলেকসনে ওটাকে জুড়ে দিল। আমরা অনাদিকে দাঁড় করিয়ে দিলাম। জানি ওই সিটটাতে জিততে পারবো না। তবু একটা রিক্স নিলাম।

অনির কাজগুলো প্রজেক্ট করো।

ঠিক ধরেছো। সেই জন্য রিক্সটা নিলাম।

বিধানদা বললো, হ্যাঁরে মিত্রা ভুল করলাম নাকি?

চুপ করে থাকলাম।

কি উত্তর দেব বল বুবুন। আমি তোর মতো রাজনীতি বুঝি না।

প্রবীরদা শুধু বললো, আমি ফলোআপ করে যাচ্ছি মিত্রা, তুই কিছু ভাবিস না।

পরটা আলুভাজা খাওয়া হলো। সেদিনটার কথা খুব মনে পড়ে গেল। তুই, আমি, মিলি, টিনা, নীপা, দামিনীমাসির ওখান থেকে অনিমেষদার বাড়িতে গেছিলাম, বিয়ের নেমন্তন্ন করতে। মনটা ভীষণ খারাপ লাগছিল। কাউকে বুঝতে দিইনি। সবকটা পরটা খেতে পারিনি জানিস। তোর কথা মনে করে দুটো রেখে এসেছিলাম।

বাঁদর ছেলে কোথাকার।

আচ্ছা তোর কি একটুও আমার কথা মনে পড়ে না।

অনিমেষদার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললাম। তোর হদিস পায়নি। তোর ফোন কল ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই তল্লাটে ওই নামে কেউ থাকে না। তবে একটা দুঃসংবাদ দিল। মি. মুখার্জী এবং তার স্ত্রীকে কারা যেন খুন করেছে। বাচ্চাটা কোনও প্রকারে বেঁচে গেছে। ওর দাদু, ঠাকুমা ওখান থেকে বাচ্চাটাকে কলকাতা নিয়ে এসেছে।

আউট অফ সাইট আউট অফ মাইন্ড। মি. মুখার্জীকে প্রায় ভুলেগেছিলাম। হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল। নার্সিংহোমে থাকতে অনিমেষদা বলেছিল। মি. মুখার্জী ট্রান্সফার নিয়ে দুবাইতে গেছে। তারপর এই খবরটা পেয়ে একেবারে মুষড়ে পড়লাম।

তারমানে তুই কোথায়? আর ভাবতে পারছি না।

গেছিলাম একটু হালকা হতে। ফিরে এলাম ভারাক্রান্ত মনে। মনে হলো আমার বুকে কেউ যেন একমনি একটা বস্তা চাপা দিয়ে দিয়েছ। কষ্ট হচ্ছে। কাকে বলবো বল। তাই তোর সঙ্গে একটু মোন খুলে কথা বলছি। তুই অন্ততঃ আমাকে একটু বুঝবি।

কখনও মনে হয় তুই আছিস। কখনও মনে হয় তুই নেই। সব সময় একটা দোলাচলের মধ্যে থাকি। আমি একা বললে ভুল হবে। তোকে যারা ভালোবাসে সববাই।

ইসলামভাই সব সময় বলে তোকে বলেছিলাম মামনি অনি আমার বাবা। সত্যি অনি আমার বাবা কিনা প্রমাণ পাচ্ছিস।

অনিমেষদার কাছ থেকে কথাটা শোনার পর নিজের মতো করে মি. মুখার্জীর খোঁজ করেছিলাম। পাইনি। আমি তো অনি না। তারপর হাল ছেড়ে দিয়েছি।

ইসলামভাইও অনেক খোঁজ করেছে।

শুনেছি মি. মুখার্জীর যে সব আত্মীয়স্বজন আছে, তারা সব কলকাতার বাইরে চলে গেছে। জানিনা বাচ্চাটা কেমন আছে। যখন মনে পড়ে যায় বাচ্চাটা তোর মতো অনাথ হয়ে গেল, মনটা খুব খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে বৌভাতের দিনটার কথা মনে পড়ে যায়। মি. মুখার্জী তার দলবল নিয়ে সেই রিসেপশনে এসেছিলেন। তুই সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলি। ওনার দলের ছেলেরাই প্রথম এনজিওর জন্য টাকা তুলে দিয়েছিল। প্রত্যেকেই কিন্তু তখন ফ্রি সার্ভিস দিয়েছিলেন এনজিওর জন্য।

আমি জানি এই ঘটনারও তুই প্রতিশোধ নিবি। অপেক্ষা অপেক্ষা শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া আমার এই জীবনে আর কিছু নেই। তুই যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস।

আচ্ছা তুই একবার বড়োমাকে ফোন করতে পারিস তো। তোকে পেটে ধরেনি বলে এতো কষ্ট দেওয়ার অধিকার তোর নেই। মনে রাখবি তোর জন্যই কিন্তু আমি বড়োমাকে মায়ের আসনে বসিয়েছি। আমি পরের মেয়ে। বউ বলে কোনওদিন ভাবলি না। আমরা বন্ধুই থেকে গেলাম। ওদের দুজনের দিকে একবার তাকা। ওরা তোর কোনও ক্ষতি করেনি। আমার সামনে কাঁদে না, আড়ালে চোখের জলে বুক ভিঁজে যায়।

ইদানিং ছোটোর কি যে হয়েছে কি জানি, তোর ছেলে মেয়ে ছাড়া পৃথিবীটা তার কাছে অন্ধকার। একটু কাছ ছাড়া হলেই চোখ মুখের চেহারা বদলে যায়। সারা বাড়িতে একটা হুলুস্থূলুস কাণ্ড বাধিয়ে দেয়। দুজনে দুটোকে নিয়ে শোয়। আমি বড়োমার ঘরের সোফাতে আলাদা বিছানা করে।

দামিনীমাসি প্রত্যেকদিন আসবে তোর ছেলেমেয়েকে তেল মাখিয়ে স্নান করাতে।

সেদিনকে আমার হাতটা ধরে ঝড় ঝড় করে কেঁদে ফেললো। দামিনীমাসিকে খুব একটা কান্নাকাটি করতে দেখি না। কেমন যেন সব সময় গুম হয়ে থাকে। একটু অবাক হলাম।

আমি একটা অন্যায় করে ফেলেছি মামনি।

কি হয়েছে বলবে তো!

অনির ভাঙা বাক্সটা থেকে তোর লেখা চিঠিগুলো পড়েছি। ওর কয়েকটা লেখাও পড়লাম। ছেলেটা নেই হাতের লেখাগুলোর ওপর হাত বুলিয়ে ওর অনুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করলাম।

দুর মনটা খারাপ হয়ে গেল। লিখতে ভালো লাগছে না।

আচ্ছা তুই আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব দিতে পারবি। খুব জানতে ইচ্ছে করে। আমি তোকে তোর জীবনটা একটু চেয়েছিলাম বলে তুই কি খুব রাগ করেছিলি। তাই সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে সব মায়া মমতা বন্ধন ত্যাগ করে চলে গেলি।

আমার এই ছেঁড়া মনটা কবে জোড়া লাগাতে পারবি বলতে পারিস।

অনিসা টেবিলের ওপর রাখা বোতলটা নিয়ে ঢক ঢক করে কিছুটা জল খেল। একবার জানলার কাছে গেল। না মাকে দেখতে পেল না। সারাটা বাড়ি নিস্তব্ধ।

অনিসা জানলা থেকে সরে এলো। একবার বাথরুমে গেল। ঘরের দরজাটা খুলে একবার বারান্দায় এলো। দেখলো দাদার ঘরের দরজা বন্ধ।

পায়ে পায়ে একবার দাদার ঘরের দিকে গেল। না দাদার ঘরের লাইট জ্বলছে না। ও ঘুমোচ্ছে। দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে আবার টেবিলে এসে বসে পড়লো।

আজকে যতটা হোক পড়ে শেষ করতে হবে।

আচ্ছা তখন শুভ লাইব্রেরী থেকে হঠাৎ গম্ভীর মুখে বেরিয়ে এলো কেন?

ও একটু অবাক হয়েছিল। শুভ ওকেও কোনও রেসপন্স করেনি।

মায়ের সঙ্গে বাড়িতে এসে অনিসা, শুভকে ফোন করলো। ওর ফোনের স্যুইচ অফ। তারপরও বেশ কয়েকবার রিং করে পায়নি। শুভও ওকে রিং ব্যাক করেনি। এমন কি ওকে একটা মেলও করেছিল। ব্যাপারটা ওর ঠিক মাথায় ঢুকছে না।

কাউকে না জানিয়ে চলে আসাটা অনিসার ভালো ঠেকছে না। কাল সকালে ওর বাড়িতে একবার ঢুঁ মারতে হবে। মোটা বুদ্ধির ঢেঁকি, কখন কি ভাবে বোঝা মুস্কিল।

গবেট গোবিন্দ একটা। এই ব্যাপারটা নিয়ে বাড়িতে আবার কোনও গণ্ডগোল করে বসলো কিনা কে জানে।

অনিসা আবার টেবিলে এসে বসলো।

জানিস বুবুন তোর ছেলে মেয়ে এখন সরাটা বাড়ি দাপিয়ে বেড়ায়। দুজনে ত ত করে কতো যে কথা বলে বোঝা খুব মুস্কিল। তবে ভজু ওদের কথা সব বোঝে। এখন এই দুজন হচ্ছে এই বাড়ির সবার চোখের মনি। বিশেষ করে ভজুরাম।

কেউ ওদের বকতে পারবে না। তাহলে ভজুরাম হাঙ্গার স্ট্রাইক শুরু করে দেবে। লুকিয়ে লুকিয়ে বড়োমার ফোন থেকে দামিনীমাসিকে ফোন করে ডেকে আনবে। বিচার সভা বসাবে। সে এক মজার ব্যাপার বুঝলি। আমি বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করি।

কেন বোচন আর বুঁচকির গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। তার মান ভাঙানো খুব মুস্কিল।

ভজুরাম হচ্ছে ঘোড়া আর তোর ছেলে মেয়ে হচ্ছে তার সওয়াড়ি। সারাটা বারান্দা ওদের ঘোড়া চড়াচ্ছে। তিনজনে মিলে কতো কথা যে বলে বুঝতে পারি না। মাঝেমাঝে তিনজনে যুদ্ধও করে। ওদের হাসিতে সারাটা বাড়ি গমগম করে ওঠে।

বেশ লাগে। মাঝে মাঝে আমি মোবাইলে ছবি তুলে রাখি। জানিনা তোর সঙ্গে দেখা হবে কিনা। পরের জম্মে যদি দেখা হয় তোকে সব দেখাব।

ও তোকে বলতে ভুলে গেছি।

আমি এখন বেশ ভালো কমপিউটার অপারেট করতে পারি। সব টিনা আর বরুণদার সৌজন্যে। এমনকি মোবাইল থেকে ছবিগুলো ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে সিডি করে রাখি। আর একটা পোর্টেবল হার্ডডিক্স কিনেছি। শুধু মাত্র তোর জন্য। তুই যদি কোনও দিন ফিরে আসিস, তোকে সব দেখাব। খুব মন খারাপ হলে আমি নিজেও দেখি।

কিরে চুপ করে আছিস কেন, কথা বলবি না।

দূর তুই তো আমাদের ছেড়ে চলেই গেছিস। কি বোকা দেখ আমি।

আজ বাড়িতে প্রচুর লোকজন তাই আমি তাড়াতাড়ি অফিসে চলে এলাম। কাল থেকে ভীষণ টেনসনে আছি। ওখানে বাই ইলেকসন হলো পর্শুদিন। আজ রেজাল্ট।

দাদা সকাল থেকে হুলুস্থূলুস বাধিয়ে দিয়েছে। সন্দীপকে ফোনে ফোনে এই মারে তো সেই মারে। অর্ক ওখানে পৌঁচেছে কিনা।

ইসলামভাই নাওয়া খাওয়া ভুলে আদা জল খেয়ে ওখানে পড়ে আছে। সকাল থেকে আমি দুবার ফোন করেছিলাম। নট রিচেবল বলে দিয়েছে।

অফিসে চলে এলাম।

নিজের কাজে মন দিলাম। এসে দেখে যাস এখন আমি সেই মিত্রা নেই। মালকিন বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। তুই তো এটাই চেয়েছিলি। নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াই। কথাটার কতটা গুরুত্ব তখন বুঝিনি। আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

শোননা যেটা বলছি।

দুটো নাগাদ হঠাৎ দেখি আমার ঘরের দরজা খুলে তিন মক্কেল হাজির। ইসলামভাই, বাসু, অনাদি। বুঝলাম কিছু একটা আনন্দ সংবাদ আছে। ঠিক তাই। ছটা সিটের মধ্যে ছটাই অনিমেষদারা জিতে গেছে। অনাদি ঘরে ঢুকে আমাকে দেখে ঝড়ঝড় করে কেঁদে ফেললো।

আমি উঠে গেলাম।

কাঁদছো কেন আজ আনন্দের দিন। বুবুন তোমাকে বলেছিল। এমএলএ বানাবে।

ম্যাডাম জানিনা কেন আজ ওর কথাটা বড্ড বেশি করে মনে পড়ছে।

শুধু কি তোমার। আমাদের সবার। এবার অনেক কাজ অনাদি। ওর স্বপ্নগুলো সফল করতে হবে। তোমারই ওর একমাত্র বল-ভরসা। শৈশবের বন্ধু।

আমি করবো ম্যাডাম, আপনাকে কথা দিচ্ছি। ব্যাঙ্কটা মোটামুটি দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। এবার ফার্মিংটা নিয়ে লড়ে যাব। কাজ তো অনেকটা গুছিয়ে ফেলেছি।

মনে থাকে যেন। ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। ওখানে একটা ভালো স্কুল তৈরি করতে হবে। ও কোনও দিন পাকা বাড়ির স্কুলে পড়েনি। কিন্তু ওর গ্রামের শিশুরা যেন পাকা বাড়ির স্কুলে পড়ে একটু ভালো শিক্ষা পায়।

আমি কথা দিচ্ছি ম্যাডাম।

বসো। তোমাদের আর এক মক্কেল কোথায়? গুরুর শিষ্য।

রেজাল্ট বেরোবার পর ও চলে গেল। বললাম আমরা ম্যাডামের কাছে যাচ্ছি।

কিছু বললো না।

আসার সময় খবর নিলাম পীরসাহেবের থানে একা একা বসে আছে। ওর নিজস্ব কিছু সাগরেদ আছে তারা পাহাড়া দিচ্ছে। ইদানিং ওর কাছে যেতে ভয় লাগে। কেন লাগে বলতে পারবো না। জানো ম্যাডাম আজ যা কিছু সব চিকনার জন্য।

আমি অনাদির দিকে তাকিয়ে রয়েছি।

ওর মাথায় এতো বুদ্ধি কোথা থেকে এলো বুঝতেই পারছি না।

কেন!

শেষ মুহূর্তে ইসলামভাই পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছিল। বাসু বললো, ঠিক আছে পরের টার্মে আবার লাড়াই করা যাবে। আমি ধরেই নিয়েছিলাম আমি হেরে গেছি। ও কোথা থেকে পাঁচু, পচাকে নিয়ে সারারাত্রি কি হুইসপারিং ক্যাম্পেনিং করলো কি জানি।

এতো ভোটে জিতবো আসা করিনি। অমূল্য যেভাবে শেষ মুহূর্তে বিট্রে করলো তোমাকে কি বলবো। ওমা দেখি ভোটের দিন অমূল্যের লোকজনই সবচেয়ে বেশি খাটা খাটনি করছে। সবাই দেখি ভোট দিয়ে চিকনার সঙ্গে দেখা করছে।

তাহলে শেষ তাসটা চিকনাই খেললো বলো?

তাস মানে একেবারে ট্রাম্প কার্ড।

আচ্ছা তোমাদের কিছু মনে হয় না?

মনে হলে কাকে জিজ্ঞাসা করবো। ও তো এখন অনির ছায়া।

নিজেকে অনি বলে মনে করে। কিছু বললেই বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে বলে, কথা কম বল, যা করছি চোখ কান বুঁজে দেখে যা। তোদের থেকে দায়িত্ব আমার বেশি। বিশ্বাস করো ম্যাডাম এই কয়বছরে ওর যে এতোটা পরিবর্তন হতে পারে ভাবতে পারিনি।

আমি হাসছি।

পর্শুদিন ইসলামভাইকে পর্যন্ত ধমকাল।

বলে কিনা, তুমি এতদিন কি করে তোমার সাম্রাজ্য চালালে।

ইসলামভাই হাসবে না কাঁদবে।

একমাত্র ওইই বলেছিল সব সিট হারলেও তোর সিটটা আমার চাই। আমি তোকে জেতাবই। এটা আমার ইজ্জত কা সাওয়াল। মাঝে মাঝে দেখছি ইংরাজীও ঝাড়ছে।

সারাক্ষণ ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে ছিল। একবারের জন্য ভেতরে যায়নি।

কি খাবে বলো। সকাল থেকে নিশ্চই কিছু খাওয়া হয়নি?

দেখলাম ফোনটা কেঁদে উঠলো। অনিমেষদা। ভয়েস অন করলাম।

হ্যাঁ দাদা বলুন।

তোর কাছে অনাদি, ইসলাম গেছে?

হ্যাঁ।

ওদের ফোন বন্ধ কেন?

সবাই বুবুনের গুণ পেয়েছে।

ইসলামভাই আমার দিকে তাকিয়ে একহাত জিভ বার করলো। সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে ফোনটা বার করে অন করলো।

রেজাল্ট শুনেছিস?

হ্যাঁ শুনলাম।

ছেলেটা রিয়েলি মিরাকেল।

আমি চুপ করে রইলাম।

এখানে নেই তবু যেন সব সময় আছে। আমি যেগুলো নেগেটিভ ধরে ছিলাম সেগুলো পর্যন্ত পজিটিভ করে দিয়েছে।

মনটা ভারি হয়ে গেল।

এই দেখো চুপ করে গেলি কেন। তোর মন খারাপ হয়, আমার হয় না।

না দাদা আপনি বলছেন, আমি শুনছি।

চিকনা এসেছে?

না।

কেন?

ও অনির ফেভারিট জায়গায় গিয়ে বসে আছে।

দেখ হয়তো গুরুদেবের সঙ্গে টেলিপ্যাথিতে কথা বলছে।

আমি চুপ করে রইলাম।

বুঝলি শেষ খেলাটা ওইই খেলে দিল।

আমি কোনও কথা বললাম না।

দে ইসলামকে একবার দে।

ভয়েজ অফ করে ইসলামভাই-এর হাতে ফোনটা দিলাম।

ইসলামভাইও খুব নীচু স্বরে কথা বলছে।

বুঝলাম নিরঞ্জনাদার কথা জিজ্ঞাসা করছে। ওখানে কাকে দায়িত্ব দিয়ে আসা হয়ছে। এই সব। পারলে একবার রাতে বাড়িতে যেতে বললো। সবার সঙ্গেই কথা বললো।

খাওয়া দাওয়া করে আজ একটু বিকেল বিকেল সবাই ফিরে এলাম।

গেটের মুখে এসে রবীন গাড়ি দাঁড় করাতেই আমি নেমে এলাম।

অনাদি, বাসু, ইসলামভাইও নেমে এলো।

দেখলাম তোর ছেলে মেয়ে মাঠের ধুলো মাথায় মেখে একেবারে ধবল হয়ে গেছে। সে কি হাসির চোট। তাদের সাহায্য করছে ভজুরাম।

আমি এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালাম। অনাদি আমার পাশে।

চোখের কোল জলে ভরে গেল।

অনাদি আমার হাতটা চেপে ধরলো।

ম্যাডাম এটা কি হচ্ছে—

আমি অনাদির দিকে তাকাতে পারলাম না।

আমি জানি ম্যাডাম আপনার সেই দিনকার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আমার বাড়িতে অনির সঙ্গে আমাদের খামারে দাঁড়িয়ে…। আমার ছেলে মেয়েরাও সেদিন খামারে এইভাবে ধুলো মেখে খেলছিল। সেদিন আপনার পাশে অনি ছিল আজ নেই।

অনাদির ফিলিংসটা আমার মনে ভীষণ দাগ কাটল।

সত্যি সত্যি আমার সেদিনকার কথাটা মনে পড়ে যাচ্ছিল।

অনাদির বাড়ি, খামার, খুঁটিতে গরু বাঁধা, আমি তুই দাঁড়িয়ে, অনাদি ঘুম চোখে উঠে এলো। প্রথমে ঠিক বুঝতে পারেনি। তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো।

অনাদির বাচ্চাদুটো খামারে খেলছে। ধুলো মাখছে। আমি ছুটে গেলাম।

আজ কিছুতেই ছুটে যেতে পারলাম না। বুঝলি। শুধু তুই আমাকে হাত ধরে টেনে রেখে দিলি। বার বার তোর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। তুই বার বার বলতিস আমি প্রকৃতির কোলে লালিত পালিত হয়েছি আমার সন্তানও সেই ভাবে বড়ো হোক। ওদেরকে ওদের মতো বড়ো হতে দাও।

আজ তোর নিজের বাড়িতে এলাম। প্রায় তিন বছর পর। সবাই এসেছে। কেউ বাদ যায়নি। তিনবছর পর শ্বশুর বাড়িতে এলাম। এর মধ্যে যে আসিনি তা নয়। মাত্র কয়েকঘণ্টার জন্য। যে ভাবে তুই নিয়ে আসতিস ঠিক সেই ভাবে। প্রথমে সেই ধাবাতে। তারপর পরিদার দোকান। পরিদা তোর ছেলে মেয়েকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। গাড়ি থেকে নামতে দেরি তোর ছেলে মেয়েকে কোলে তুলতে দেরি নেই।

অনেক লোক আজ। সবাই এসেছে। ছ-খানা গাড়ি।

পরিদা নিজে হাতে তোর ছেলে-মেয়েকে গরম দুধ, দুটো রসোগোল্লা খাওয়ালো। বললে আমার দোকানে আজ লক্ষ্মী-নারায়ণ এসেছে। আমি বাধা দিই নি। ওরা দুটোতেও বেশ গপ গপ করে গিললো। গাল দুটো সবার টেপার চোটে লাল হয়ে গেছে। জন্মের পর এই প্রথম তোর ছেলেমেয়ে নিজের বাসভূমিতে এলো। এখন ওদের বয়স চব্বিশ মাস। আগামী বছর স্কুলে ভর্তি করে দেব বলেছি। আমার কথা শুনে বড়োমা, ছোটোমা হাঁই হাঁই করে উঠেছিল।

একমাত্র মল্লিকদা আমাকে সাপোর্ট করলো। মিত্রা ঠিক কথা বলেছে।

সেই ক্যালভার্ট, সেই শ্মশান, তোর সেই স্কুল। যেমন দেখেগেছিলাম ঠিক তেমনই আছে। রাস্তায় আসার পথে উনামাস্টারের বাড়ির সামনে এসে একটু দাঁড়াতে হয়েছিল। কাকীমা এলেন। তোর ছেলে মেয়েকে কোলে নিলেন। তোর ছেলে মেয়টাও সেরকম কারুর কাছে না নেই। আবার চলা শুরু। একটাই নতুনত্ব দেখলাম মোরাম রাস্তাটা পিচে ঢাকা হয়েছে।

আমাদের সঙ্গে কে আসেনি বলতো। সবাই এসেছে। দেবা, নির্মাল্য এই কদিন প্রাণপাত করলো। আগামীকাল তোর স্বপ্নের প্রজেক্টের উদ্বোধন। অনিমেষদা এই প্রথম তোর বাড়িতে আসবে। কাল উদ্বোধনের পর তোর ভিটেতে রাত কাটাবে বলেছে।

বৌদি, সুরো আমাদের সঙ্গেই এসেছে। প্রবীরদারা সবাই ডাইরেক্ট প্রজেক্টে চলে গেছে। রাতে আসবে বলেছে। এক এলাহি ব্যাপার। গাড়ি থেকে নেমে ট্রলিতে ওঠার পর দেখলাম ছেলেমেয়ে আর আমার কাছে নেই। বড়োমা চেঁচামিচি শুরু করেদিল।

ডাক্তারদাদা বোঝালো।

কে কার কথা শোনে।

সেই তরজা।

খামারে এসে ট্রলি থামলো। যেমন দেখেছিলাম ঠিক তেমনই আছে। শুধু বাঁশবাগানের একটা জায়গায় ধান ভাঙানোর মেসিনটা বসানো হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কান্নাকাটি হলো। সবখানেই তুই আমি মুখ বুঁজে সব শুনে যাচ্ছি।

নীপা এখন এই বাড়ির গার্জেন। মৌসুমি মাসিকে জীবনে প্রথম দেখলাম। বুড়ি বেশ টরটরি।

দিদিভাই, জ্যেঠিমনি, দামিনীমাসি সব দেখে শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছে। ওরা কোনওদিন এরকম সহজ সরল জীবন দেখেনি। তুই নেই কিন্তু তুই সব জায়গায় আছিস।

এতক্ষণ পর তোর ছেলে মেয়ের দেখা পেলাম। একজন কাকার কোলে, একজন উনা মাস্টারের কোলে বসে আছে। উনামাস্টার সকাল থেকে এসে বসে আছে। তোর ছেলে মেয়ে আসবে শুনেছে। হাতে কি যেন একটা আছে, খাচ্ছে।

মনে মনে ভাবলাম নির্ঘাত পেট খারাপ করবে। আমার সব হাতের বাইরে বুঝলি।

সবাইকে প্রণাম করে আমি নিজের ঘরে এলাম। সঙ্গে দিদিভাই।

ঘরের ভেতর এসে বুকের ভেতরটা প্রচণ্ড জোড়ে মোচড় দিয়ে উঠলো। যেখানকার যা জিনিস সেখানেই আছে। কেউ একটুও হাত দেয়নি। ঝকঝকে তকতকে। কাঁদতে পারলাম না বুঝলি। বুকের ভেতর কি ভীষণ যন্ত্রণা। শুধু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে।

দিদভাই আমার পিঠে হাত রাখলো।

তুই মন খারাপ করলে, আমার ঠিক থাকি কি করে।

আমি মন খারাপ করতে পারবো না, কি জ্বালা বোঝ। আমার কোনও সুখ-দুঃখ, তাপ-অনুতাপ থাকতে নেই। তাহলে সকলের মন খারাপ হবে।

হঠাৎ সিঁড়িতে মা মা শব্দ শুনে ঘরের বাইরে এলাম।

দেখলাম চিকনার কোলে তোর ছেলে মেয়ে।

ওদের নিচে নামিয়ে আমাকে প্রণাম করলো।

এটা কি হলো চিকনা!

বন্ধুর স্ত্রীকে পেন্নাম করলাম না। আমার গুরুমাকে পেন্নাম করলাম।

দিদভাই হেসে ফেললো।

সবাই তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসছে। তুমি এখন অনি। সেইভাবে চলবে। সাতটার সময় তোমাকে নিয়ে একজায়গায় যাব। যাবে আমার সঙ্গে?

যাব।

আর কাউকে নিয়ে যাবে না। দিদিভাই বললো।

না সেখানে গুরুমা আর তার সন্তানের প্রবেশের অধিকার আছে, আর কারুর নেই।

চিকনা তোর ছেলে মেয়েকে কোলে তুলে চলে গেল।

খাওয়া দাওয়া হলো, হাসাহাসি হলো।

তোর ছেলেকে একটু চিংড়ি মাছের মোলা দিয়েছিলাম উঃ আঃ করে বাড়ি মাত করে দিল, চিনি মুখে দেবার সময় দেয় না, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে। মেয়ে দিব্যি খেয়ে গেলো। চোখ ছল ছল তবু নোলা কমে না। হাত বাড়ায় খালি চিংড়িমাছের বাটির দিকে।

বিকেলে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগতো। কাকার হুকুমে আমি তোর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঘণ্টাখানেক বেঞ্চিতে বসে রইলাম। গ্রাম শুদ্ধ ঝেঁটিয়ে সবাই অনির ছেলে-মেয়েকে দেখতে এসেছে। ওরে তোর ছেলে মেয়ে কতো শাক-সব্জি, ফল-মূল, মুড়ি, চাল, চিঁড়ে পেল তার কোনও ইয়ত্তা নেই। বাইরের বারান্দাটা ভড়ে গেল। রাখার আর জায়গা নেই।

দিদিভাই তো অবাক হয়ে বলেই ফেললো এগুলো কি রে!

আমি বললাম এখানকার সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়ের মুখ দেখে কিছু যে দেবে তার মতো সামর্থ নেই, তাই খেতের আনাজ-পাতি, গাছের লেবু, কুমড়ো, আঁখ, ঘরের তৈরি জিনিষ বুবুনের ছেলে মেয়ের জন্য নিয়ে এসেছে।

জ্যেঠিমনি,  দামিনীমাসি চারদিক চেয়ে চেয়ে দেখছে।

বরুণদা খুব এনজয় করছে।

সে এক জনশ্রোত। সবাই হিমসিম খায়। কাকা মাঝে মাঝে কেঁদে ওঠে।

সন্ধ্যার দিকে পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরা হলো। কনিষ্করা জাল টানলো পাঁচুদের সঙ্গে, দারুণ এনজয় করছে সবাই।

সাতটা বেজে গেল, আটটা বেজে গেল, চিকনার দেখা নেই।

কাউকে মুখ ফুটে কিছু জিজ্ঞাসা করতেও পারছি না।

জেনারেটর চলছে। সঞ্জুর ছলেগুলো সব দেখভাল করছে। অনাদি হোলটাইম ডিউটি দিচ্ছে। সবাই আছে। বাসু বাইরেটাই বেশি সামলাচ্ছে। আমি নিজের ঘরে এসে একটু নির্জনে বসলাম। মনে একটা চাপা টেনশন।

সারাদিনে চুলটা আঁচড়ানোর আর সময় পাইনি। তাই আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে চুলটা আঁচড়াচ্ছিলাম। কত স্মৃতি আমাদের এই ঘরে লেখা রয়েছে।

হঠাৎ দেখি একটা মিশ কালো ছেলে নিঃস্তব্ধে ঘরে ঢুকলো।

প্রথমে বুঝতে পারিনি। একটু ভয়পেয়ে গেছিলাম। তারপর মুখের কাছে আঙুল দেখিয়ে চুপ করতে বলে একটা মোবাইল এগিয়ে দিলো।

হাতে নিলাম।

ইশারায় বললো, কথা বলুন।

হ্যালো।

হ্যালো। গুরুমা তোমাকে নিয়ে আসতে পারলাম না। বড্ড রিক্স হয়ে যেত। রাতে তোমার ঘরে একা থাকবে। ফোনটা সব সময় অন করে রাখবে। পারলে সারারাত জেগে থাকবে। আমি যখন তখন তোমায় ফোন করতে পারি।

লাইনটা কেটে গেল।

ছেলেটা আমার হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে একবার নীচু হয়ে প্রণাম করলো। নিমেষে চাল টপকে অন্ধকারে উধাও হয়ে গেল। তুই বিশ্বাস করবি না বুবুন আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম। কি নিস্তব্ধে কাজ করে গেল ছেলেটা। কাক পক্ষীও টের পেল না।

তখনই আমি বুঝলাম তুই আজ চিকনাকে ফোন করতে পারিস। সেই মুহূর্তটা এতো আনন্দ হচ্ছিল তোকে কি বলবো। সব দুঃখ যেনো জুড়িয়ে গেল।

নাচতে নাচতে কোনও প্রকারে এই বাড়িতে চলে এলাম। আমার খুশি খুশি মনটা মনে হয় আমার চোখে মুখে ছড়িয়ে পরেছিল। ডাক্তারদাদার চোখ বুঝলি। একবারে মাইক্রস্কোপ।

ঠিক ধরতে পারলো। আমি বুঝলাম আর ডাক্তারদাদা বুঝলো।

তোর ছেলে মেয়ের আজ চোখে ঘুম নেই। পিকু আর দুটোতে মিলে পাগল করে দিচ্ছে। সঙ্গে অনাদির বাচ্চা দুটো বাসুর ছোটো ছেলেটা।

তোর বাড়িতে ধানের সাম্রাজ্য। তাই সবার এই বাড়িতে শোবার আয়োজন। আমারও।

আমি বললাম, না আমি ও বাড়িতে শোব।

একা একা কি করে ও বাড়িতে শুবি! বড়োমা বললো।

আমি পারবো।

ডাক্তারদাদা বললো ও যখন ও বাড়িতে শুতে চাইছে, যাক না।

সঞ্জুর ডাক পরলো। সে পাহাড়া দেবে নিচে।

বড়োমা চিকনার কথা জিজ্ঞাসা করলো।

কাকা বললো, চিকনা!

সে এখন অনাদির থেকে বড়ো নেতা। লোকে এখন অনাদির থেকে ওকে বেশি খোঁজে।

রাতের খাওয়া-দাওয়া করে ঘরে চলে এলাম। ছেলে মেয়ে তার দিদাই, দিদানের কাছে।

সময় আর কাটতে চায় না। ঘর অন্ধকার করে মোবাইলটা ভাইব্রেট মুডে রেখে জানলা দিয়ে তাকিয়ে রয়েছি। সেই মিশ কালো অন্ধকার। তারাতে আকাশ ভরে গেছে। বিশ্বাস কর একা আছি কিন্তু একটুও ভয় করছে না। জেনারেটরের তারস্বর শব্দ। ঝিঁ ঝিঁ-র ডাক। ঝলমলে জ্যোৎস্নারাত। সব একরকম আছে। কোথাও কোনও পরিবর্তন হয়নি। জোনাকিগুলো মাঝে মাঝে জ্বলছে আর নিবছে।

হঠাৎ একটু ঝিমুনি এসেছিল। ভঁ ভঁ শব্দে চমকে তাকিয়ে উঠলাম। দেখলাম মোবাইলটা প্রায় খাট থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছিল। খপ করে চেপে ধরলাম। দেখলাম চিকনার নম্বর ব্লিঙ্ক করছে।

হ্যালো।

বলো।

ঘুমিয়ে পড়েছিলে।

না।

তাহলে! দুবার রিং করলাম। লাইনটা কেট না। ধরে রাখো।

চুপ করে রইলাম।

আমার কথা শুনতে পাচ্ছো।

পাচ্ছি।

টুঁ শব্দটি করবে না। পারলে মুখে কাপর বেঁধে নাও। গুরুকে লাস্ট আপডেট দেব।

আচ্ছা। আমি রেকর্ডিংয়ের বটমটা টিপে দিলাম।

বিশ্বাস করবি না বুবুন, বুকের ভেতরটা তোলপাড় শুরু হয়ে গেল।

আড়াই বছর আগে ছেলে-মেয়ের জন্মদিনে তোর এসএমএস পেয়েছিলাম। আজ তোর গলা শুনবো, প্রায় সাড়ে তিন বছর পর। চোখ ফেটে জল আসছে। জানিনা এটা দুঃখের না আনন্দের।

তোর সঙ্গে কতো কথা বলার আছে।

দূর ছাই।

কথা বলা আর লেখা দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য। লিখতে আর ভালো লাগে না। সব সময় গুছিয়ে লিখতেও পারি না। হাত ব্যাথা হয়ে যায়। তবু না লিখে পারি না। ভুলে যাব যে। সব সময় ঠিক ঠিক মনেও পড়ে না। সাহিত্য নিয়ে পড়লেও আমি তোর মতো ফার্স্টক্লাস পাই নি। কোনও প্রকারে সেকেন্ড ক্লাস। নাম্বারটা একটু বেশি ছিল এই যা।

তোকে অনেক দিন থেকেই বলবো বলবো ভেবেছিলাম বলা হয়নি।

যদিও তুই একদিন কথার ফাঁকে হিন্টস দিয়েছিলি।

বলেছিলি পরে বলবো।

সে বলা আর তোর হয়ে ওঠে নি।

আচ্ছা বুবুন সত্যি করে বলতো তুই বিয়ে করার পর আমাকে কতটা সময় দিয়েছিস?

বলবি, দেবো কোথা থেকে। তুই আমাকে এমন এক জাঁতাকলে ফেললি। বিয়ের মজাটাই ভুলে গেলাম। তারপরে আরও বলবি, একজন্মে যদি সব পাওয়া হয়ে যায়, পরের জন্মে কি করবি। আমার দরকার নেই। আমি এই জন্মেই সব কিছু পেতে চাই, তুই ফিরে আয়।

জানিস আজ কনিষ্ক, বটা একদিনে একসঙ্গে বিয়ে করলো। পাত্রী কে কে জানিস? মিলি আর টিনা। কনিষ্ক মিলিকে বিয়ে করলো, বটা টিনাকে।

কি রে মুচকি মুচকি হাসছিস, তুই সব জানতিস তাই না, একদিন অফিসে কথায় কথায় হিন্টসও দিয়েছিলি, আমি সেদিন মিলির মুখটা দেখেছিলাম কেমন লজ্জা লজ্জা ভাব। তারপর তোকে আর জিজ্ঞাসা করা হয়ে ওঠে নি। তোর ফার্মের উদ্বোধনে যখন সবাই মিলে একসঙ্গে দঙ্গল বেঁধে তোর বাড়িতে গেছিলাম। তখন ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছিল। মাঝে মাঝেই দেখতাম ওরা হাওয়া হয়ে গেছে। কনিষ্ক এসে বলতো, জানো ম্যাডাম অনির স্কুলটা দেখে এলাম। আমি মুচকি মুচকি হাসতাম।

ভেতরে ভেতরে ওদের যে একটা ইন্টু-মিন্টু চলছিল সেটা অফিসে যখন তিনজনে বসতাম অদিতির কথাবার্তায় বুঝতে পারতাম কিন্তু ওরা কেউ এসে কিছু বলতো না। আমিও জিজ্ঞাসা করতাম না। সত্যি কথা বলতে কি, তুই ওদের সঙ্গে যে ভাবে মিসতিস আমি পারতাম না।

কেন যদি প্রশ্ন করিস, তাহলে বলবো আমি অনি নই।

তুই হারিয়ে যাওয়ার পরও ওরা কিন্তু প্রত্যেকেই আমাদের বাড়িতে আসে। তবে আগের মতো নয়। ওই সপ্তাহে একদিন, কিংবা মাসে দু-দিন। গ্যাপটা বেড়েছে।

ফোনে কিন্তু প্রত্যেকর সঙ্গে প্রতিদিন কথা হয়।

গত সপ্তাহে কনিষ্ক, বটা বাড়িতে এলো। সকালের দিকে। অবশ্য আসার আগে আমাকে ফোন করেছিল। তুমি এই সময়ে থাকবে কিনা। আমি হ্যাঁ বলেছিলাম।

উইকডেজে ওরা কখনও এই সময় আসে না।

প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। দেখলাম নীরুও কিছুক্ষণ পর এলো।

সবার সঙ্গে দেখা করলো, তোর ছেলেমেয়েকে কোলে নিল, আমাকে বললো, ও ঘরে চলো। তোমার সঙ্গে একটা ছোট্ট মিটিং আছে।

আমার সঙ্গে!

হ্যাঁ। তোমাকে একটা গুরু দায়িত্ব নিতে হবে।

আবার অবাক হলাম।

কনিষ্ক, বটা মিটি মিটি হাসে।

সবাই মিলে এই ঘরে চলে এলাম। ভজু চা দিয়ে গেল।

বলো।

নীরু সব বললো।

আমি মুচকি মুচকি হাসছি।

হেসো না। অনি নেই তাই তোমাকে সব দায়িত্ব নিতে হবে।

কি দায়িত্ব নিতে হবে বলো।

সবার কাছে প্রথমে পার্মিসন আদায় করতে হবে। তারপর বিয়েটা এই বাড়িতে হবে।

তাই হলো। আমি সমস্ত দায়িত্ব নিলাম।

নীরুকে এই সময় দেখতে হয়।

ও শোন, নীরু বাবা হতে চলেছে।

কনিষ্ক বলেছে তোরটা আমি ডেলিভারি করবো।

নীরু বলেছে মিলিকে নিয়ে তাহলে পালিয়ে যাবে।

সে কি হাসি রে। তোর ছেলেমেয়ে আর পিকু দুই তরফের নিধ বর আর নিধ কনে।

সব এই বাড়ি থেকে হলো।

মিলির বাবা-মা, দাদা-বৌদি এসেছিলেন।

টিনার মা-দাদ-বৌদি এসেছিলেন।

বিয়ে বলতে রেস্ট্রিম্যারেজ। কনিষ্ক, বটা দুজনেই কেউ অনুষ্ঠান করতে চায়নি। সেই এক কথা অনি নেই, অনি থাকলে ভেবে দেখা যেত। আমাদের পরিচিত ঘরোয়া লোক জন। তোদের বন্ধুরা আর নার্সিংহোমের কয়েকজন ডাক্তার। এ ছাড়া কেউ আসে নি।

ইসলামভাই সব কিছুর দায়িত্ব নিল।

বেশ ছিলাম সারাটা দিন। হই হই রই রই। খাওয়ার সময় তোর কথা উঠলো।

ব্যাশ আমার এতো সুন্দর মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে।

আচ্ছা তোর কথা না তুললেই কি হতো না?

অনিকেতটা ভীষণ তেঁদড়, ওইই তোর কথা তুললো।

অনিটা থাকলে এই সময় নীরুর অবস্থাটা দেখতিস।

তারপর শুরু হয়ে গেলো। আদ্যপান্ত তুই জুড়ে রইলি প্রত্যেকের কথায়।

আমি কেমন যেন হয়েগেলাম, কিছুই আর ভালো লাগলো না।

কাউকে বুঝতে দিইনি। তবে বৌদি বুঝতে পেরেছিল। যাওয়ার সময় বললো, মন খারাপ করিস না। তোর আর সুরোর একই অবস্থা।

তোর দাদাকে কতোবার বললাম। তোমরা এতদিন ধরে কি সরকার চালাচ্ছ বলো তো। একটা ছেলেকে ধরে আনতে পারছো না।

আমার কথা শুনে বললো, যে ধরা দিয়ে বসে আছে, তাকে কি করে ধরবো বলো।

আমি কথার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝলাম না।

বৌদিরা চলে গেল। টিনা গেল নিজের ফ্ল্যাটে, আর মিলি গেল সেই ফ্ল্যাটে।

আচ্ছা বুবুন তোর কি একবারও ছেলটাকে মেয়েটাকে দেখতে ইচ্ছে করে না।

ওরা তোর মতো হয়েছে, না আমার মতো হয়েছে, একবারও প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে না।

চিকনার কাছ থেকে তুই ওদের খোঁজ খবর নিস। আমার কাছ থেকে তোর নিতে ইচ্ছে করে না। আমি কি অপরাধ করেছি বল না। প্লিজ প্লিজ বুবুন আমার সঙ্গে একবার কথা বল।

আমি যে আর পারছি না। হাঁপিয়ে উঠেছি।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev