| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ১৬৯৮ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৬ মে, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

৭৬ নং কিস্তি

দাদা, মল্লিকদা আজ একটু আগে আগেই অফিস থেকে ফিরে এলো।

দাদা ঢুকেই স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে বড়োমাকে বললো, জানো বড়ো আজ অনি লেখা পাঠিয়েছে।

বড়োমা কোনও কথা বললো না।

দাদা চুপ করে গেল।

তোমার প্যাকেটটা খুলেছো। দেখো কি আছে। আমার জন্য একটা লেখা পাঠিয়েছে।

বড়োমা কথার কোনও উত্তর দিচ্ছে না—

বুঝেছি শুধু তোমারই একা কষ্ট হয়, আমার হয় না। আমি পাষাণ।

দাদা নিজের ঘরে চলে গেল।

দেখলাম বড়োমা দাদার পেছন পেছন ঘরে গিয়ে ঢুকলো।

ছেলেমেয়ে এসে দাপাদাপি শুরু করে দিয়েছে মল্লিকদার সঙ্গে।

আমি ছোটোমার দিকে তাকালাম।

একটু ওপর থেকে আসি খাবার রেডি করো।

বেরিয়ে এলাম।

নিজের ঘরে ঢুকলাম।

আজ ভারি ভালো লাগছে।

সারাটাদিন লোকের ভিড় আর বড়োমাকে সামলাতে আমি হিমসিম খেয়ে গেলাম। সবাই আছে। তবু ঘন ঘন আমার ডাক। আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না।

তুইও অনির মতো হয়ে গেলি। দশ বছর ধরে নিজের কাছে গোপন রাখলি আমাকে একটি বারের জন্যও শোনালি না।

কাকে কি বলবো। সব তুই। তোর জন্য আজ এই অবস্থা।

রাতে অনিমেষদা এলো তাকেও আমার সম্বন্ধে এক ঝুড়ি নালিশ করলো। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। ব্যাপারটা এরকম আমি তুই শলা-পরামর্শ করে এসব করছি।

মাঝে মাঝে তোর ওপর ভীষন রাগ হয় বুঝলি। তারপর কি জানি, মনে হয় তুইই ঠিক। তুই যদি ঠিক না থাকতিস তাহলে হয়তো এই জায়গায় পৌঁছন যেত না।

অনেক ঝড় এই কয় বছরে গেল, সব উতরে গেছি।

কোনও বিপদটাকেই এখন বিপদ বলে মনে হয় না। কতো বাধা উতরে গেলাম।

বেশ মনে পড়ে যখন ওই জায়গাটায় অফিস এক্সটেনসনের জন্য হাত দিলাম। তখন মলের আত্মীয়-স্বজন বাধা দিল। ইসলামভাই যথেষ্ট করলো কিন্তু হলে হবে কি পার্টির একটা লবি দেখলাম মলের আত্মীয়দের হয়ে কথা বলছে।

অনিমেষদা সব শুনলো। বললো একটু অপেক্ষা কর। আমি আগে নিজের ঘরটা সামলে নিই। পার্টির ভেতরে কথা বলি, তারপর তুই কাজে হাত দিস।

তখন আমার কি টেনশন। কাকে বলবো মনের কথা।

হিমাংশু শুধু একটা জেরক্স দিতে পেরেছিল। তাতে কি কাজ হয়।

ইসলামভাই বললো, টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে কাজ শুরু করি।

অগত্যা আমি রাজি হলাম।

অনিমেষদাকে সব বললাম।

অনিমেষদা শুনে বললো ঠিক আছে তোরা তোদের মতো এগো পার্টির ব্যাপারটা আমি বুঝে নেব।

সুজিতদাকে ধরে টাকা জোগাড় করলাম।

সুজিতদা এক কথায় দিয়ে দিল।

টাকা দিয়েও দিলাম। কম নয় তিন কোটি টাকা।

প্রায় দিন পনেরো হয়ে গেছে। কাজ শুরু করলাম। ইসলামভাই সব দেখা শোনা করছে।

একদিন সাত সকালে ইসলামভাই একজন অপরিচিত লোককে নিয়ে হাজির। আমি তাকে কোনওদিন আগে দেখিনি।

ইসলামভাই বললো, ইনি তোর সঙ্গে একটু আলাদা করে কথা বলতে চান। আমাকে কিছুতেই ভেঙে বলছেন না। ইনি মলের ভাইপো।

দাদা, মল্লিকদা ছিল।

আমি বললাম, আমি একা আপনার কথা শুনবো না। দাদা, মল্লিকদা, ইসলামভাই-এর সামনে আপনাকে বলতে হবে।

ভদ্রলোক রাজি হলেন। বললেন শুধু আপনি হ্যাঁ বলবেন, না হলে আমি মার্ডার হয়ে যাব। আমার কাকা আপনার সঙ্গে ভালো বিহেভ করে নি।

ওপরের ঘরে সবাই বসলাম।

উনি নিজের পরিচয় দিলেন আমি ওম আছি ম্যাডাম। চাচা বহুত ব্লাণ্ডার কিয়া আপনাকো সাথ। অনিবাবু আপনার হাজব্যাণ্ড আছে।

আমি চুপ চাপ শুনে যাচ্ছি।

ও দো মকান আপনে রেনোভেসন কা কাম চালু কিয়া ও আপ কুছদিন বন্ধ রাখিয়ে।

কেন! আপনারা যে টাকা ডিমাণ্ড করেছিলেন সে টাকা দিয়ে দিয়েছি।

ওহি তো গজব হো গয়া। হামি আপনাকে টাকা ওয়াপাস করবে।

কেন!

সে আপনাকে বলতে পারবে না। নেহি তো গজব হো জায়েগা। হামি মার্ডার ভি হো সাকতা হ্যায়।

ও আপনাদের ব্যাপার, কাজ আমি বন্ধ করবো না।

আপনি বলেন তো হামি আপনার পাও ভি ছুঁ সাকতা হুঁ।

কেন বলছেন ও কথা?

বহুত দুঃখ কি বাত।

ভদ্রলোক চুপ করে রইলেন।

ও জায়গা ভি আপনা পিতাজীকা হ্যায়। মেরা চাচা ডুপ্লিকেট ডিড বানাকে ও জায়গা লে লিয়া। অনিবাবুকা পাস অরিজিন্যাল ডিডকা কপি হ্যায়। চাচাকা পুত্তর আপনাকো প্রেসার কারকে ও রুপিয়া লেকে ভাগ গিয়া।

আমি ওমের কথা শুনে থ। কি বলে কি ভদ্রলোক, ওই জায়গাটা বাবার!

আভি হাম শুনা ও ভাগা নেহি অনিবাবু উসকো উঠাকে দুবাই লেকে চালা গিয়া। উসকা টোটাল যো প্রপার্টি হ্যায় ও ভি রেজিস্ট্রি করকে আপনা নাম পর কর লিয়া। কলকাত্তাকা প্রপার্টি ওউর রাজস্থানকা প্রপার্টি। হামারা সাথ উসকা বাত হুয়া।

আপনার সাথে ওর কথা হয়েছে!

সবার চোখ বড়ো বড়ো।

হ্যাঁ। আভি ও পত্রকার নেহি দাদা বন গায়া।

মুখটা কাঁচু মাচু করে বললো।

হামকো বোলা টাকা ওয়াপাস করনেকে লিয়ে।

উসকা সাথ বাতচিত করনেকে বাদ হাম রাজি হো গয়া।

বাত এহি হ্যায় হামারা পাস ক্যাশ হ্যায় চেক মে হাম নেহি দে সাকতা। অনিবাবু বোলা জরুর চেক লেকে আপনা পাস আনেকে লিয়ে। আপ ক্যাশ লে লিজিয়ে মেমসাব।

দাদা খেপে উঠলো। তোমরা এসব কি নোংরামি শুরু করেছ?

দাদা আপকো হাম বোল নেহি সাকতা, কেয়া হুয়া কেয়া নেহি হুয়া। শ্রিফ আপ যো রুপায়া হামি লোগ লিয়া ও আপনে ওয়াপাস লে লিজিয়ে।

ইসলাম তুমি কি বলো?

হামি ইসলামকো থোরা হিন্টস দিয়া। ইসলাম মেরে জানপাহচন আদমি হ্যায়।

কি বলবো বলুন তো দাদা, হাতের কাছে ওকে পাচ্ছিনা যে চেপে ধরবো।

ইসলামভাই, অবতার, সাগির ভি উসকা পাস হ্যায়। ওহি সব কুছ অপারেট কিয়া।

ইসলামভাই আমার দিকে তাকাল।

এ যো ড্রিল হোগা দুসরা কোই আদমী জানেগা নেহি। তো ভি হামকো লিয়ে খতরনাক বন সাকতা। এ মেরা রিকোয়েস্ট।

চুপ করে রইলাম।

ছোটোমা চা নিয়ে এলো।

দাদা সব কথা বললো ছোটোমাকে।

কি শুরু করেছে বলোতো ছেলেটা।

ছোটোমার চোখ ছল ছল করে উঠলো।

শেষ পর্যন্ত টাকাটা আমাকে নিতে হলো।

ওখানে বসেই ভদ্রলোক একটা ম্যাসেজ করলো।

মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তার রিপ্লাইও এলো। শুধু ইসলামভাইকে দেখাল। ইসলামভাই আবার নিজের ফোন থেকে ম্যাসেজ করলো। তারও রিপ্লাই এলো। তারপর ভদ্রলোক চলে গেল।

ইসলামভাই-এর কাছ থেকে নম্বরটা নিয়ে ফোন করতে দেখলাম ওটা তনুর নম্বর।

আর কি শুনতে চাস বল। গাধা।

তুই বড়োমাকে কি লিখেছিস বাঁদর। একবার ফিরে আয় তোর হবে।

আমি মহা সুখে আছি।

জানিস চিঠিটা বড়োমা পড়তে পড়তে কতোবার যে কাঁদলো কি বলবো।

তোর মেয়ের হাজার প্রশ্ন। তার উত্তর দেওয়া সত্যি খুব মুস্কিল।

বড়োমা একটা লাড্ডু নিয়ে এসে তোর মুখে ছোঁয়াল। তোর মেয়ে তাই দেখে বললো দিদানটা কি বোকা দেখ, বাবা খেতে পারে নাকি, ওটা বাবার ছবি, তার থেকে আমাকে দাও খেয়ে নিচ্ছি।

ছোটোমা, জ্যেঠিমনি সবার একই অবস্থা।

আমার জন্য কিছু পাঠাসনি। আমি কি তোর কেউ নই—

তোর মেয়ের জামাটা ভীষণ সুন্দর হয়েছে। ছেলে প্যান্ট পরে তখন থেকে ঘুরে বেরিয়েছে সারাটা দিন।

রাতে ল্যাপটপে অনুপের দেওয়া পেনড্রাইভ থেকে শুধু তোকে দেখলাম। মন ভরে গেল।

এটা শুধু আমার। এর ভাগ কাউকে দেওয়া যাবে না।

তোর গলা শুনছি। তোর মুভমেন্ট দেখছি। কতোবার যে দেখলাম তার ইয়ত্তানেই। বুঝলাম পুরোটা অনুপ নিজের মোবাইলে তুলেছে। তুই জানিস?

তোকে কিন্তু আগের থেকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। একেবারে চ্যাংরা ছেলের মতো। তোর পাশে আমাকে একেবারে বেমানান। তুই কি শরীর চর্চা করছিস? বল না—

তোর হাসিটা কিন্তু আগের থেকে আরও বেশি কিউট। যে কোনও মেয়ে পটে যেতে পারে।

কিরে কারুর সঙ্গে ইন্টু-মিন্টু করছিস নাকি? তাহলে আমি কিন্তু স্যুইসাইড করবো। তখন তোর মিত্রাকে তুই খুঁজে পাবি না।

দূর ছাই, কার সঙ্গে বক বক করছি। তুই তো ছবি। ছবি হয়েই থাক।

আজকের দিনটা অনেক দিন মনে থাকবে বুঝলি। একটু ফ্রেস অক্সিজেন পেলাম।

ঘুম পাচ্ছে।

আর ভালো লাগছে না।

পারলে একবার মিত্রার নম্বরে ভুল করে ফোন করিস। নম্বরটা চেঞ্জ করিনি।

আজ অফিসে যাওয়ার পথে আকাশের দিকে তাকালাম। দেখলাম পশ্চমি দিকটা মেঘলা করেছে।

সেই দিনটার কথা মনে পড়ে গেল বুঝলি।

তখন সবে মাত্র তিন মাস। বড়োমা অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সপ্তাহে একদিন অফিসে যাই। নিজের ঘরে বসে কাজ করছিলাম। তুই হুড়মুড় করে দরজা ঠেলে ঢুকলি।

কি করছিস রে—

ট্রান্সপোর্টের ফাইলটা দেখছি—

বন্ধ কর—

কেন!

যা বলছি কর না—

কেন বলবি তো!

খালি বক বক। নিজে ড্রাইভ করতে পারবি?

পারবো—

নীচে আয়। ঝটপট—

কোথায় যাবি কিছুই বললি না। তোর সব কিছুতেই এইরকম।

তুই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলি। নীচে গিয়ে দেখলাম মেঘটা কালো করে রয়েছে। একটু পরেই প্রবল বৃষ্টি নামবে।

নে ঝটপট কর। সময় হয়ে গেছে—

কোথায় যাবি বলবি তো? এই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে!

যাহান্নামে—

হেসেফেললাম।

গাড়িতে উঠেই বললি সোজা সেকেন্ড হুগলি ব্রিজ দিয়ে বোম্বে রোডে চল—

তোর কথা মতো রাস্তা দিয়ে এলাম। তখন সবে মাত্র বৃষ্টিটা ঝিড় ঝিড় করে পরছে। বোম্বেরোডে উঠে কিছুটা আস্তেই তুই একটা ফাঁকা মাঠের মতো জায়গায় গাড়িটা দাঁড় করাতে বললি। গাড়ি সাইড করে থামালাম। দুজনে গাড়ি থেকে নামলাম।

ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সামান্য বৃষ্টি। মিশ কালো মেঘটা ছাতার মতো পৃথিবীটাকে যেন ঢেকে রেখেছে। যতোদূর চোখ যায় শুধু কালো মেঘের আস্তরণ। দূরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তুই অবাক হয়ে চারদিক দেখছিস। তোর চোখে বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা। পাশ দিয়ে হুস হুস করে গাড়ি চলে যাচ্ছে। হাওয়া দিতে শুরু হলো প্রথমে আস্তে তারপর প্রবল ঝড়। আমরা দুজনে গাড়িতে উঠে এলাম। জানলার কাঁচটা একটু নামানো। সোঁ সোঁ একটা শব্দ। গাছপালাগুলো বেঁকেবুকে ধনুকের মতো হয়ে যাচ্ছে। দূরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাজ পরছে কড় কড় শব্দ করে। আমি তোকে জড়িয়ে ধরে আছি। চোখ বন্ধ।

মিত্রা—

উঁ—

তুই চুপ।

কি বলবি তো—

সামনের দিকটা একবার তাকা—

না। আমার ভয় করছে—

দূর ভয়। আমি তো আছি। মেঘগুলো একে অপরের সঙ্গে কিভাবে মারপিট করছে দেখ।

তোর কথায় চোখ খুলে তাকালাম।

এই ভাবে আগে কোনওদিন মেঘ দেখিনি। মুষল ধারে বৃষ্টি পড়ছে। দূর থেকে বৃষ্টিটা কেমন আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে আমাদের গাড়ির দিকে। কে আগে আসবে তার জন্য যেন যুদ্ধ চলছে। তারপর হুড়মুড় করে আমাদের গাড়িটাকে গ্রাস করে ফেললো। কি দারুণ সেই দৃশ্য।

তারপর বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। ফাঁকা মাঠে গাড়ির ভেতর আমরা দুজন। গাড়ির ছাদটা ফুটো হয়ে যেন বৃষ্টির ফোঁটা আমাদের গায়ে পরছে। বৃষ্টির প্রবল বেগে সামনের উইন্ড স্ক্রিন ধূসর হয়ে গেছে, কিছু দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কি প্রচন্ড জোরে মঘের সেই গর্জন। ভয়ে আমার বুক ঢিপ ঢিপ করছে।

তোর ভালো লাগছে না?

হুঁ।

এইভাবে আগে কখনও বৃষ্টি দেখেছিস?

তোর মতো পাগলের পাল্লায় পরিনি তো।

এইরকম বৃষ্টিতে কখনও ভিঁজেছিস?

না।

জানিস আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম সেই সময় একবার ভীষণ কালবৈশাখী হয়েছিল। চিকনা আমি মেঘ করতেই দে ছুট। স্কুল থেকে ফেরার পথে শবর পাড়ার কাছে যে আমবাগান, এক দৌড়ে সেখানে। তারপর সে কি ভীষণ ঝড়। ঝপাঝপ আম পড়ছে।  বিদ্যুৎগুলো মাঠের মধ্যে আছড়ে আছড়ে পড়ছে। পরমুহূর্তেই সেই বিকট শব্দ কড়, কড়, কড়। আমার ভীষণ ভালো লাগছিল। চিকনা আম গাছের তলায় দেখি গুটি সুঁটি মেরে বসে কাঁপছে।

কিরে!

বাড়ি চল—

দাঁড়া বৃষ্টিটা থামুক—

থামবে না—

তুই কি করে বুঝলি—

আকাশের অবস্থা দেখেছিস—

তাহলে ভিঁজে যাবি—

বাকি কি আছে—

তারপর দিলো আমাকে গালাগালি। সে কি ওর লম্ফ ঝম্প। কিন্তু আমাকে ছেড়ে কিছুতেই যাবে না। বৃষ্টিতে ভিঁজে দুজনে কাকস্নান করে ফেলেছি। ঘণ্টাখানেক পর বৃষ্টি থামলো। দুজনে বাড়ি ফিরলাম।

ফিরেই একেবারে কাকার মুখোমুখী। কপালে উত্তম মধ্যম জুটলো।

জানিস বুবুন, আমরা তোর মতো ভিঁজতে পারতাম না। কখনও সখনও স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টি এলে ছাতা থাকলেও ইচ্ছে করে ছাতাটা মাথা থেকে সরিয়ে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিঁজতাম। জুতো জামা ভিঁজে যেত। দুদিন স্কুল যাওয়া বন্ধ।

তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছিস।

হঠাৎ তুই বললি, মিত্রা তুই একটু শো তো—

কেন! করবি—

শো না। খালি খুচখুচানি—

আমি পেছনের সিটে শুলাম। তুই আমার পেটের কাপর সরিয়ে কানটা রাখলি।

বুবুন সুর সুর করছে—

দাঁড়া না—

কি করছিস বলবি তো—

আবার কথা বলে—চুপ করে শো—

বাইরে তখন প্রবল বৃষ্টি। গাড়ির কাঁচগুলো ঝাপসা হয়ে গেছে।

না, কাঁদছে না বুঝলি—

কে কাঁদবে!

তুই বোকার মতো হাসলি।

বুঝলি না—

না!

তোর পেটে যেটা আছে। কান দিয়ে শুনলাম। মেঘের গর্জনে সে কাঁদছে কিনা।

তোর ইনোসেন্ট মুখটা আজও আমার চোখের সামনে ভাসে। তোকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলাম। তবু তোর চোখের ভাষা বদলালো না। প্রায় একঘণ্টা আমরা ওই ফাঁকা মাঠে বসে বসে বৃষ্টি দেখলাম। দুজনে ফিরে এলাম বৃষ্টি স্নাত রাস্তা দিয়ে। তখন বৃষ্টি একটু থেমেছে।

আমার সেই বুবুন এখন কোথায়! কেন বুবুনকে আমি হারিয়ে ফেললাম? কিছুতেই মেলাতে পারি না। এখনও কি আমার বুবুন আমাকে ছাড়া একা একা বৃষ্টি দেখে। ওই রকম ইনোসেন্ট হয়ে পরে?

ম্যাডাম এসেগেছি—

রবীনের ডাকে চমকে তাকালাম।

রবীন গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে। দূর কোথায় চলে গেছিলাম। আর কোথায় এলাম। গাড়ি থেকে নামলাম। ভেতরে এলাম। সবাই কেমন নরেচরে বসলো। সদ্য কালকের ঘটনা। অফিসের অবস্থা দেখলাম বেশ চনমনে। নিজের ঘরে এসে বসতেই, চম্পকদার ফোন।

তুই এসেছিস—

জাস্ট ঢুকলাম। কেনো?

তোর কাছে যাচ্ছি।

আবার কি হলো!

একটা মিটিং কল করেছি অনির কোর কমিটি। তুই প্রধান অতিথি।

হাসলাম।

হাসিস না। কি ধুরন্ধর, আমার চিঠিটা তোকে গিয়ে পড়াচ্ছি।

তোমরাই দেখো, মানুষটা কিন্তু এখানে নেই। আজ কতো বছর হয়ে গেল তোমরা কেউ খুঁজে আনতে পারলে না।

তুই তো সব জানিস। আমাকে এইভাবে বলিস না।

ঠিক আছে আধ ঘণ্টা পর এসো।

আচ্ছা।

আমি বাথরুমে গেলাম। ঠিক ঠাক হয়ে বাথরুম থেকে বেরতেই দেখি বিতান মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।

কিরে তুই এই অসময়ে?

বিতান সোজা উঠে আমার কাছে এলো।

তোর চোখ মুখটা কেমন শুকনো শুকনো লাগছে!

আমাকে বাঁচাও বৌদি—

কি হয়েছে বলবি তো!

কাল সারারাত ঘুমোইনি—

কেন মামার শরীর খারাপ!

না—

তাহলে! মামীর?

না—

বাচ্চাটা কেমন আছে?

সব ভালো আছে। শুধু আমি ভালো নেই।

কেন বলবি তো!

তুমি বাঁচাও বৌদি না হলে বৌ-বাচ্চা নিয়ে একেবারে পথে বসে যাব।

কি পাগলামো করছিস!

কাল মিলিদিকে, টিনাদিকে ফোনে সব জানিয়েছি। ওরা বলেছে কিচ্ছু করতে পারবে না। বাবা-মা বললো পিসিকে জানাবে। আমি না করেছি।

তুই আসল কথাটা বলবি তো!

বলছি, তোমার পা-টা একটু ছুঁই আগে।

এই দেখো শুধু শুধু মাথা খারাপ করে—যা বোস।

বিতান গিয়ে চেয়ারে বসলো। গেলাস থেকে জল খেলাম।

বেল বাজিয়ে হরিদার ছেলেকে ডাকলাম।

দু-কাপ চা দে তো। কোথাও যাসনি যেন। অনেকে আসবে।

হরিদার ছেলেটা চলে গেল। কিছুক্ষণ পর চা নিয়ে এলো। বিতান মাথা নীচু করে বসে আছে।

নে চা খা। এবার বল।

বিতান একটা খাম আমার দিকে এগিয়ে দিল।

কি এটা?

পড়ো না—

তোর চিঠি আমি পড়বো কেনো?

আমি তো বলছি—

চিঠিটা পড়লাম। যে দিন থেকে বিতান জয়েন করেছে। সে দিন থেকে ও কি কি ভুল কাজ করেছে তার একটা লিস্ট দেওয়া আছে। শেষে ওর ভুলের জন্য কোম্পানীর কত লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে, সেই এ্যামাউন্টটাও লেখা আছে। শেষ লাইনে একটা প্রচ্ছন্ন ধমকানি।

আমি চিঠি থেকে মুখ তুলে হাসলাম।

তুমি হাসছো। আমার প্যান্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতো টাকা আমি নষ্ট করেছি। কি করে মেটাব।

বিতানের চোখমুখ ভয়ে পাংশু।

তুমি বিশ্বাস করো।

আমি হাসছি।

তুমি হেসো না একটা পথ বাতলে দাও। দাদু বেঁচে থাকলে রেহাই পেয়ে যেতাম।

পেতিস না।

এরপর সুনীতদার মতো যদি একটা ফোন আসে আমি কোথায় যাব বলো।

তাহলে তুই ভুল করেছিস?

কিছুতেই ধরতে পারছিনা, বিশ্বাস করো—সকালে এসেই বরুণদাকে একটা লিস্ট দিতে বলেছি। আমি মেলাবো।

বরুণদা দিয়েছে?

বললো একটু বোস, বার করে দিচ্ছি। আচ্ছা তুমি বলো কলকাতার ত্রিসিমানায় নেই কি করে এতো ডিটেলসে অফিসের খবর রাখছে?

আমি হাসছি।

মিলি, টিনা, অদিতি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।

কাল রাতে মোবাইলের স্যুইচ অফ করে রেখেছিলে কেন?

আর ভালো লাগছিলো না। সারাটা দিন যা ধকল গেল।

কিরে বিতান, বৌদি বাঁচাবে বলেছে?

এখনও কিছু বলেনি।

অর্ক একবার দারজাটা খুলে উঁকি মারলো।

আপনি ব্যস্ত?

কেন!

আপনার সঙ্গে আনন্দটা শেয়ার করতে না পারলে ভালো লাগছে না।

ভেতরে এসো।

অর্ক ভেতরে এলো।

একবার পাঁচ মিনিটের জন্য ওপরে চলুন।

কেন বলবে তো!

আপনি একটু রিসেপসনে বলে দিন নিউজরুমের ফোনটা একটু বন্ধ রাখতে।

আমি হাসছি।

আপনি হাসছেন আমরা পাগল হয়ে যাচ্ছি।

টিনারা জোরে হেসে উঠলো।

ফোন বন্ধ করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

কিছুক্ষণের জন্য রিলিফ পাব। ওপরে সকলের থুতুতে আঁঠা জমে গেছে।

বেশি করে জল খাও।

চলুন না চলুন একবার রগড়টা দেখবেন চলুন।

তোমরা দেখ।

অনিদার ফ্যান এতো স্ট্রং এতদিন বুঝিনি। কতো বছর ঘষা হয়ে গেল কিছু করতে পারলাম না।

আমি হাসছি।

আমায় কি লিখেছে জানেন—

কি লিখেছে?

বলেছে একটা নামিয়েছিস, দ্বিতীয়টা যেন না নামে। কি লজ্জার কথা। রাত্রি চিঠিটা পড়ে কান গরম হয়ে গেছে। বলে, অনিদা এইভাবে লিখতে পারে!

খুব সাবধান অর্ক, কথার খেলাপ হলেই ঢিসুম ঢিসুম। জানিস অনিদা এখন ডন।

মিলির কথায় সবাই জোরে হেসে উঠলো।

ম্যাডাম, বিতান ভেটকিমাছের মতো বসে আছে কেন?

ওর চাকরি চলে গেছে। মিলি বললো—

যা, তাহলে খাবে কি?

ওকে জিজ্ঞাসা কর—

আপনি শুধু একবার সন্দীপদাকে দেখে আসুন, এমন ঠাসান ঠেসেছে লেচি হয়ে রুটি হয়ে গেছে। আমাকে চিঠিটার কয়েকটা জায়গা আন্ডার লাইন করে দেখাল। সাজেশন দিয়েছে— চিঠিটা পাওয়ার পর প্যান্ট জামা ছেড়ে কাপর ব্লাউজ আর সিঁদুর পড়ে অফিসে আসতে। সত্যি মালটা এতো খবর রাখছে কি করে বলুন! আমাদের অফিসেই অনিদার খাস লোক কেউ আছে।

খুঁজে বার কর। তুই অনিদার চ্যালা। মিলি বললো।

মাথাটা অনিদার মতো নয়।

সুমন্তকে কিছু লেখেনি।

ভালোমন্দের খবর নিয়েছে। লাস্টে একটা লাইন ছোট্ট করে গুছিয়ে লিখেছে—লেখাটা ঠিক জমছে না। খেলা আরও খেলা।

একমাত্র দ্বীপায়ণদাকে কিছু বলেনি।

কিরে তুই আমাকে বললি আধঘণ্টা পর আসতে এ তো দেখি ঘর ভরে গেছে।

আবার হাসির রোল।

চম্পকদা, সনাতনবাবু ঘরে ঢুকলেন।

এই নে তোর ফাইল। সবকিছু ঠিকঠাক মিটলো। হিমাংশু হয়তো আসবে তোর কাছে কয়েকটা ব্যাপারে পার্মিশন নিতে, না হলে মুভ করতে পারবে না।

কি বলুন!

কি জানি। ওকে একটা লম্বা চিঠি দিয়েছে।

আপনাকে ধরায়নি? অর্ক বললো।

দিয়েছে। যা ভাগ।

কোথায় যাব চম্পকদা, আপনি একবার নিউজ রুমে চলুন অবস্থাটা দেখতে পাবেন।

অফিসটা আজকে কিরকম চনমনে লাগছে না।

চনমনে কি বলছেন, দৌড়চ্ছে।

তুই হরিদার ছেলেটাকে চা আনতে বল।

অর্ক বেরতে গেল, বরুণদা ঘরে ঢুকলো।

আমার দিকে তাকিয়ে একগাল হাসি।

মন ভালো—

মাথা দোলালাম। বসো।

চম্পকদার দিকে তাকালাম।

কাল সব ভালোয় ভালোয় মিটে গেছে?

এরপরও না মিটলে কিছু বলার নেই। কেন যে দু-বছর ধরে ঘাউড়ামি করলো।

আমার মনে হয় অনি কলকাতায় রয়েছে। লোককে বলে বেরাচ্ছে দুবাইতে আছে। চম্পকবাবু বললেন।

খুঁজে বার করুন।

আমার গলাটা ভারি হয়ে গেল।

ঠিক আছে, অন্যায় হয়েছে, আর বলবো না। নামটা পর্যন্ত মুখে উচ্চারণ করবো না।

এটা আপনার রাগের কথা।

নামটা শোনা মাত্রই তোর যদি গলা ভাড়ি হয়ে যায় কথা বলি কি করে?

সত্যি তো চম্পকদা অন্যায় কিছু বলেনি।

আমি চুপ করে রইলাম।

বিতানের কি হলো?

অনিদা একটা দরখাস্ত ধরিয়েছে—মিলি বললো।

তোকেও ধরিয়েছে!

তারপর স্বগোতক্তির সুরে।

আমাকেও ধরিয়েছে। কি করবি বল।

তোমার তো কোনও চিন্তা নেই। আমি পথে বসবো। বিতান বললো।

আমি হেসে ফেললাম।

দেখ মিত্রা হাসছে। তুই বৃথা টেনশন নিচ্ছিস।

টেনশন, কালকের ডায়লগ শুনেছ। আমার আত্মারাম খাঁচা।

তাহলে তুই কিছু একটা গণ্ডগোল করেছিস।

আমি বুঝতে পারছি না।

নিশ্চই তেল চুরি হয়েছে। তোর মাথায় কাঁঠাল ভেঙেছে।

সেইরকম।

দেখ খুঁজে সেই সব গাড়িগুলো হাওয়া হয়ে গেছে।

বুঝতে পারছি না।

কাগজপত্র দেখেছিস—

বরুণদাকে বলেছি।

বরুণদা হাসছে। বিতানের হাতে প্রিন্টআউট এগিয়ে দিল।

টিনা তুই ছেলেটাকে ডোবাবি। একটুও গাইড করছিস না। চম্পকদা বললো।

আমার কথা শুনলে তো।

টিনাদি ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। বিতান বললো।

মাস তিনেক আগে তোকে বলেছিলাম। মাইলেজটা তুই ঠিক মতো দেখ, এখন কেউ আর বারোতে গাড়ি নিচ্ছে না তুই ওটা পনেরো করে দে। তুই শুনেছিস আমার কথা।

বিতান চুপ করে রইল।

বুঝেছি ওইখানেই জল মিশিয়েছে। আচ্ছা অনিদা কি করে ধরলো বলো? বিতান বললো।

ওসব নিয়ে মাথা ঘামাস না। মাথা ফুটো হয়ে যাবে। চম্পকদা বললো।

যা এবার নিজের কাজে যা। আমি বললাম।

বিতান বরুণদার হাত থেকে কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেল।

শোন অনি অনেক কাজের দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে। তোদের কি কি দিয়েছে?

চম্পকদা, মিলিদের দিকে তাকাল।

আমাদেরও—বলতে পারো গলা পর্যন্ত।

দেবা, নির্মাল্য কই।

চিঠি পেয়ে কাল থেকে শরীর খারাপ। বললো তোমরা যাও ওষুধ খেয়ে যাচ্ছি।

চম্পকদা নীচু স্বরে হাসছে।

তুই বল মিত্রা ঘরের খবর ওকে কে দিচ্ছে?

খুঁজে বার করুন। ও তো বলে সরষের মধ্যে ভূত আছে। আমার কারবার সরষেকে নিয়ে।  ভূত এমনি আমার পায়ে এসে লুটিয়ে পরবে।

কথাটা খারাপ বলেনি। যাক তোকে কিছু লিখেছে।

একটা লাইনও আমার জন্য খরচ করে নি।

স্ট্রেঞ্জ!

বলছি কি তাহলে—শুধু এইটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে আমি মরিনি। সব সময় পাশে আছি।

সুনীতের থেকে ওর উকিলটা কাল বেশি ভরকে গেছে। নে আর একটু চা বল। কাজগুলো সারি। দাদা আসবে না?

আসবে।

মিলি দেখ না, দাদা এসেছে কিনা—তাহলে দাদার ঘরেই বসবো।

মিলি বেরিয়ে গেল।

জানিস মিত্রা, আমাকে বলেছে তুমি এখন ঠুঁটো জগন্নাথের মতো চুপ চাপ বসে থাকবে। তোমার কাজ পাহাড়া দেওয়া। বল সম্ভব। ওই যে নতুন টিমটা জয়েন করেছে, বলেছে ব্যাটারা বেদম ফাঁকি বাজ। তুমি দেখভালো করো।

মিলি ফিরে এসে বললো, দাদা এসেছেন।

চল দাদার কাছে যাই, আরও লিখেছে। চম্পকদা বললো।

দেবাশিস, নির্মাল্য ঢুকলো।

আমি হাসলাম। চোখ মুখ লাল।

শরীর ঠিক আছে।

ঠিক আছে মানে। খারাপ হওয়ার যো আছে। যা দিয়েছে একহাত। জানলো কি করে বল তো এতো সব। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।

চম্পকদার দিকে তাকাল।

চম্পকদা তোমার।

আমারও তোদের মতো অবস্থা। তবে একটা কথা ঠিক ও যে গাইডলাইনটা দিয়েছে। খুব ভেবে চিন্তে দিয়েছে। একেবারে ফেলে দেবার মতো নয়।

আমাকে একটা নতুন দায়িত্ব দিয়েছে।

কি।

ফার্মের প্রোডাক্ট সেলের ব্যাপারে ও হেল্প করবে। তবে কোয়ালিটি ডিটোরিয়েট করলে কপালে দুঃখ আছে। এমনকি এ্যাডের ব্যাপারে আমাকে কয়েকটা জায়গায় যেতে বলেছে।

ভেবে দেখ, কোথায় আছে জানিনা, তবে আমাদের আমদানির ব্যাপারটা ঠিক ঠাক জোগাড়ের চিন্তা ভাবনা করছে।

চম্পকদা বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলছে। আমরা হাসছি।

বুঝলে চম্পকদা অনির একটা বদ অভ্যাস হচ্ছে ও ঘাড়ে সচর আচর কিছু নেয় না। একবার নিয়ে নিলে তুমি নিশ্চিন্ত। শুধু ফলো আপ করো নিশ্চিত রেজাল্ট। দেবাশিস বললো।

সবাই দাদার ঘরে গেলাম। সারাটা দিন দাদার ঘরে কাটলো।

প্রত্যেকের চিঠি পড়ে পড়ে দাদাকে শোনান হলো। তারপর ডিসিশনে আসা হলো।

দাদা একবার মাঝে ইসলামভাইকে অফিসে আসতে বললো। হিমাংশুকে তুই লিখেছিস রতনের নামে এবং আবিদের নামে একটা এক্সপোর্ট লাইসেন্স বার করতে। ওরা বাইরে মাল পাঠাবে। ইসলামভাই আমাদের ফার্মের ষাটভাগ মাল কিনে রতনদের সেল করবে।

ইসলামভাই প্রথমে ব্যাপারটা ধরতে পারেনি। তারপর হিমাংশু বুঝিয়ে দিল।

ইসলামভাই শুধু মাথা দুলিয়ে যাচ্ছে। ও কি করতে যাচ্ছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

হিমাংশু বললো, আমাকে লিখেছে লাইসেন্স বেরিয়ে যাবার পর অনুপকে জানাতে। অনুপ সব ব্যবস্থা করবে। এ্যাকাউন্টসের পার্ট আমার বাকি পার্ট অনুপের।

আচ্ছা তুই এতো খবর পাস কি করে। তোর কে আছে আমাদের অফিসে বল না।

তোকে নিয়ে অফিসে কতো মাতামাতি। আমি তার ফ্লেভারটুকু উপভোগ করি। তোকে কাছে পাই না। পেলে আরও ভালো লাগতো।

ঘুম পাচ্ছে, এবার রাখছি।

শুভ রাত্রি।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev