জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
১৬৩ নং কিস্তি
তুমি তনুর মুখ থেকে নিশ্চই সব শুনেছো। সাগরকে দেখেছো। আমি এই মুহূর্তে তোমাকে সঠিক বলতে পারবো না। তবে এটুকু গেইজ করতে পারছি, তনুর দাদা কারুর না কারুর ফোরে।
আমি সেই জন্য কাঁদিনি। তনু বললো।
আমি তোমাকে উদাহরণ দিয়েছি। তার জন্য কান্নার কি আছে, আমাকে বলো।
মন খারাপ হতে পারে না।
অবশ্যই হবে। তার জন্য তার বর্হিপ্রকাশ ঘটবে কেন।
সাবইকে তুই তোর মতো মনে করিস কেন। বৌদি বললো।
আমার পাশে যেহেতু আছে। তাই।
চায়ের কাপে দীর্ঘ চুমুক দিলাম।
জ্যেঠিমনি, বড়োমার ঘর থেকে ধোপদুরস্ত হয়ে বেরলো। মনে হয় বাথরুমে ছিল। আমি জ্যেঠিমনির দিকে তাকিয়ে মিচকে পোরার মতো হাসলাম।
মিত্রা বুঝতে পেরে গেছে। মাথা নিচু করে নিল।
জ্যেঠিমনি আমার পাশে খালি জায়গায় এসে বসলো।
তুই হাসছিস কেন?
হাসবো না। এতোবড়ো একটা ভেঞ্চার নির্ঝঞ্ঝাটে উতরে দিলাম, তোমরা কেউ একজনও ছোট্ট করে একটা থ্যাঙ্কস পর্যন্ত দিলে না।
দিদি তুমি ওর কানটা ধরো। বড়োমা বলে উঠলো।
দেখলে থ্যাঙ্কসটা কি ভাবে দিতে হয়। বড়োমার কাছে শিখবে।
জ্যেঠিমনির দিকে তাকিয়ে হাসলাম।
সবাই হাসছে।
বাবা।
মাথা তুলে দেখলাম অনিকা, অনিসা, নম্রতা গেটের মুখে দাঁড়িয়ে।
আয় ভেতরে আয়।
অনিসা ভেতরে আসতে আসতেই মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললো।
তোমায় বলেছিলাম, বাবা উঠলে একটা ফোন করবে।
তোর বাবা উঠেই বাথরুমে চলে গেল। ফোন করার সময় দিল না।
অনিকার দিকে তাকালাম।
তোকে আর রাখা যাবে না। ইমিডিয়েট তোর একটা বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
হুঁ বললেই হলো।
তোর জন্য এরা সব গণ্ডগোল করছে। তুই হচ্ছিস পালের গোদা।
মোবাইলে ছবি তুলে রেখেছি তোমায় দেখাব।
অনিকা কথা বলতে বলতে এগিয়ে এসে পেছন থেকে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো।
জামাকাপর গোছান হলো।
আঙ্কেল বলেছে কিচ্ছু নিয়ে আসবি না।
তারমানে! উলঙ্গ হয়ে চলে যাবি!
দেব না একটা গাঁট্টা।
তুই তো সেরকমই বললি।
আমি তাই বললাম।
তাই তো।
না।
তুই আমার পিএ হতে পারবি না। তোর ঘটে সেই বুদ্ধি নেই।
আছে। বোনকে জিজ্ঞাসা করো না। শুধু তুমি বলো বুদ্ধি নেই।
শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল।
ওরা হাসছে।
দিদিভাই তুই একটু জায়গা দে, দেখবি এখুনি কথাটা উইথড্র করে নেবে।
ঝামেলা পাকাচ্ছিস কিন্তু। আমি অনিসার দিকে তাকালাম।
চিকনা এসে গেটের সামনে দাঁড়াল।
কিরে কি করছিস।
যুদ্ধের প্রাথমিক পর্ব চলছে। চল যাচ্ছি। আমি বললাম।
বড়োমা এবার খিদে লেগেছে। চিকনা গেটের মুখ থেকেই চেঁচাল।
ছোটো ওদের জন্য আর অপেক্ষা করে লাভ নেই। চল এবার দিয়ে দিই। বড়োমা উঠে দাঁড়াল।
আমিও উঠে দাঁড়ালাম।
মামা আমরা টাকা পয়সা নিয়ে যাব না। অনিকা আমার দিকে তাকাল।
তোদের সঙ্গে নেপলা আঙ্কেল যাবে।
সত্যি! অনিসার চোখ চক চক করে উঠলো।
প্রথমবার কোথায় গুলিয়ে ফেলবি।
খুব ভয় করছিল। অনিকা বললো।
দিদিভাই এবার আর ভয় নেই।
নম্রতার দিকে তাকালাম।
সব ঠিক আছে।
হ্যাঁ।
বাড়ি যাও নি?
বিকেলে যাব।
আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। বাগানে রতনরা সবাই বসে ছিল। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল। আমি ইশারায় বললাম চলে আয়।
ওরা সবাই উঠে এলো।
ঘরে এসে আমি খাটে বসলাম চিকনা-বাসু আমার পাশে, সোফায় সুবীর, রতন, আবিদ, চিনা, চাঁদ, ওমর। নিচে মীরচাচা, পচা, পাঁচু।
প্রথমে কাল রাতের কথা সবাইকে জিজ্ঞাসা করলাম। সবাই হাসছে।
বুঝলাম বেশ মজা করেছে সকলে।
রতন দাধিয়ার লাস্ট আপডেট কি? রতন চাঁদের দিকে তাকাল।
আজ দেবে বলেছে। চাঁদ বললো।
কখন।
বিকেলে। ব্যাটা বলছিল, আমারটা কবে রেজিস্ট্রি করে দেবে।
তুই কি বললি?
আগে ক্লিয়ার করুন তারপর দাদার বন্ধু হিমাংশুদার সঙ্গে বসে কথা বলে নেবেন।
আর কিছু বলেছিল?
গ্যেঁয়গুঁই করছিল।
চাঁদ ও কিন্তু ঘুঁটি খেলতে শুরু করেছে। চোখে চোখে রাখ।
সে আর বলতে।
টাকা কার কাছে রেখেছিস। রতনের দিকে তাকালাম।
ইকবালভাই-এর কাছে।
ইসলামভাইকে আমার মনের কথা বলেছিস?
বলেছি।
একবার ফোন কর।
খাবারের অর্ডার দিতে গেছে এখুনি চলে আসবে।
সুবীর, তুমি রতনের মুখ থেকে সব শুনেছো।
শুনেছি। হিমাংশুদাকে বলেছি। এখুনি এসে পড়বে।
তোমার কি মতামত বলো।
বোর্ড যা ডিসিসান নেবে।
বোর্ডে কে কে আছে?
এই ন্যাকামো শুরু করে দিলে। তোমার হাতের তৈরি জিনিষ তুমি কিছুই জানো না।
ওরা হেসে ফেললো।
তোমার ব্যাঙ্ক কি দিতে পারবে?
কেন পারবে না। আমার ব্যাঙ্ক রতনদাদের পার্পাস সল্ভ করলেই হবে তো।
তাহলেই যথেষ্ট।
ওমর তোকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলাম।
আমি নিতে পারবো। চাচার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। চাচা তোমার সঙ্গে একবার বসতে চায়।
এই তো মুস্কিলে ফেলে দিলি। কেন রতনের সঙ্গে বসলে চলবে না।
হবে। তবু চাচা তোমার সঙ্গে একবার বসতে চায়।
ঠিক আছে ওরা এসে ফিরে যাক। তারপর বসবো।
চিনা তোর খবর?
তোমার কথা মতো একবারে নিচের লেবেলে কথা শুরু করেছি।
দেখ এই প্রজেক্টের ফাইভ থেকে সেভেন পার্সেন্ট ওয়েস্টেজ ধরা আছে তার মানে কাছা কাছি তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি। আমি চাই আমার ঘরের লোক এটা ভাগাভাগি করুক। এই নয় একা একা খাব। সবাইকে দিয়ে থুয়ে খেতে হবে। যাতে নিজেদের ভিঁতটা শক্ত হয়ে যায়। কি বলছি বুঝতে পারছিস।
চাঁদ উঠে আসতে যাচ্ছিল, আবিদ ওর হাত চেপে ধরলো।
গম্ভীর হয়ে বললো, যা বলছে মন দিয়ে শোন।
আবিদ।
বলো।
তোকে স্পট বলে দেব। কয়েকটা জায়গা কিনে নে। হোটেল তৈরির জন্য।
বলে দিও। কিনে নেব।
সুবীর, ইসলামভাইকে আস্তে দাও। তারপর নয় তোমার সঙ্গে কথা বলবো।
ঠিক আছে।
তুমি দেখো বড়োমার কাছে যদি দু-চারটে কচুরী পাওয়া যায়। বহুত খিদে লেগেছে।
সুবীর তুমি বসো আমি যাচ্ছি। পাঁচু উঠে দাঁড়াল।
চিকনার দিকে তাকালাম। মিটি মিটি হাসলাম।
অনিমেষদার সঙ্গে তুই, মীরচাচা, বাসু কি মিটিং করলি?
বাসু মিটি মিটি হাসছে।
কেন তুই শুনিসনি?
শুনলে তোর কাছে জানতে চাইবো কেন।
অনিমেষদার কাছে শুনে নিস।
সে তো শুনবো, তার আগে তোর মুখ থেকে শুনি।
শুনে কি হবে তুই কি ফিল্ডে যাবি। আমরা ফিল্ডে যাব, আমরা আমাদের মতো ঘুঁটি সাজাব।
মীরচাচা, বাসু হাসছে।
নীপাকে জড়াচ্ছিস কেন?
মীরচাচার প্ল্যান। আমার ভালো লাগলো তাই সাপোর্ট করলাম।
চাচা হঠাৎ তোমার মাথায় এই বুদ্ধিটা এলো কেন। মীরচাচার দিকে তাকালাম।
তুই দাঁড়াইবিনি। তোর নামটা যাতে ভাঙাইতে পারি তাই।
শুধু কি এই জন্য?
চাচা হাসছে।
ভেতরের খবরটা বলো। আমার কাজে লাগবে।
অনাদি তাঁতী পাড়ার একটা মায়াঝিকে ঠিক করছে।
আমি চিনি।
চিনবিনি। ভালো মায়াঝি। পড়ালেখা করা। ভালো কথা কইতে জানে।
মীরচাচার দিকে তাকালাম। মিটি মিটি হাসছে।
সেরকম কিছু লয়।
আমার ইচ্ছে অনাদি এবার একটাও সিট পাবে না।
আমরাও তাই চাই।
আমি মাঠে ঘাটে যেতে পারব না। বড়োজোড় একটু আধটু লিখতে পারি। ভোটের দিন কয়েক আগে থেকে অনাদির নামে কাগজে ক্যাম্পেনিং শুরু করবো।
তুই এটুকু করলেই আমরা খেলে দেব। চিকনা বললো।
বিয়াল্লিশটার মধ্যে তুই কটা সামলাবি।
অনিমেষদাকে বলেছি চব্বিশটা মতো আমি সামলাতে পারবো।
আমাদের ব্যাঙ্ক এই চব্বিশটা এলাকায় পৌঁছেছে।
ফার্ম আর ব্যাঙ্ক মিলে।
যেটা অনাদির পকেট ছিল।
হ্যাঁ।
বাকিটা?
মীরচাচা কনটিনিউ মিটিং করে চলেছে। দেখা যাক কি হয়।
আমি যদি নিরঞ্জনদাকে তোদের মাথায় রাখি অসুবিধে আছে।
একবারে না। তবে নিরঞ্জনদা এখন সেইভাবে দৌড় দৌড়ি করতে পারবে না।
বুদ্ধি দিতে পারে।
তা পারে।
ভাল হলে মেনে নিবি, না হলে মানবি না। মাথায় রাখবি ফুটো ছাতা হলেও সেটা ছাতা।
নিরঞ্জনদার কতকগুলো মাইনাস পয়েন্ট আছে। বাসু বললো।
সাধারণ মানুষ ওগুলো মনে রাখে না। আমরা কাগজে লেখা লিখি করলে মানুষ নাচা নাচি করে।
বাসু হাসছে।
শ্যামের সঙ্গে কি আলোচনা হলো। চিকনার দিকে তাকালাম।
তুই শুনেছিস তো।
আমি কিছুই শুনিনি।
আলতাফ আমাকে বলেছে, চিকনাদা, আমি অনিদার সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছি।
ও ওর মতো করে বলেছে, আমি তোর মতো করে শুনতে চাই।
তারপর শ্যামের মতো করে শ্যামের কাছ থেকে শুনবি।
আমি চিকনার কথা শুনে হাসলাম।
শ্যাম নিজের ডিস্ট্রিক্টে তিরিশটা কন্ট্রোল করবে।
সিওর সিট না ঝামেলা আছে?
সেটা ও বুঝে নেবে।
তার মধ্যে অনাদির হাত কতগুলোতে আছে?
গোটা দশেক।
সেগুলোর ব্যাপারে শ্যামের সঙ্গে কি আলোচনা করলি?
ও সামলে নেবে বলেছে।
ওকে কে ব্যাক করবে?
বাসু, আমি।
খুব ভালো। শ্যাম কি নিজে দাঁড়াতে চাইছে?
না। তিনজনের কেউ দাঁড়াবে না।
কেন?
অসুবিধে আছে।
কি সেই অসুবিধে বল?
যে কারণে আমি দাঁড়াতে পারছি না।
আচ্ছা। আমি পর্শু ভালোপাহাড় যাব। শ্যামকে থাকতে বলবি। তুই, বাসু, মীরচাচা নার্সিংহোমের কাছ থেক উঠবি।
রতনের দিকে তাকালাম।
আমার সঙ্গে তুই যাবি না আবিদ যাবে?
দু-জনেই যাবো। তোমাকে একলা ছাড়া যাবে না।
তোরা বৃথা ঘাবড়ে যাচ্ছিস।
ঘাবড়াবার কিছু নেই। আমি একটু কথা বলে নিই তারপর তোমায় জানাচ্ছি।
এদিকটা সামলাবে কে?
চাঁদ, চিনা, ওমর আছে।
ওরা তৈরি হয়েছে?
হয়ে নেবে, কতদিন বসে বসে খাবে।
এই রতনদা তুই কোনওদিন দায়িত্ব দিসনি। ওমর বললো।
দিয়েছি সামলতে পারিসনি। প্যান্ট নষ্ট করেছিস। অনিদার সামনে বলি।
ঠিক আছে, ঠিক আছে আর বলতে হবে না।
ওমর হেসে ফেললো।
চাঁদ তুই কতটা গুটিয়েছিস?
আর দশ পার্সন্ট বাকি আছে, তুমি রতনদাকে জিজ্ঞাসা করো।
অবতারের মাল শোধ হয়েছে?
যেটুকু বাকি আছে, এলে দিয়ে দেব বলেছি।
সাগরের কাছ থেকে কিছু উপরি টেনেছিস?
রতন খুব জোড় হেসে উঠলো।
হাসলি কেন? রতনের দিকে তাকালাম।
ও শালা বলেছিল অনিদা জানতে পারবে না।
চাঁদ আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
সত্যি তুমি জানলে কি করে? আমরা কেউ ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করিনি।
তোর কথার ভাঁজে। ওমর, চিনা ভাগ পেয়েছে।
চিনা, ওমর দুজনেই হাসে।
সামান্য উপরি নিয়েছি।
ছোটো ছোটো ব্যাপারে হাত গন্ধ করিস না।
বাঃ ওর পাঁচশো একর জমি যে অনাদিদার হাত থেকে বার করে দেব বলেছি।
সেটাও আমার ঘারে বন্ধুক রেখে আওয়াজ করবি।
তুমি আছো বলে, তাই সাহস পেয়েছি।
রতনের দিকে তাকালাম।
আলতাফ আছে না চলে গেছে।
আজ সকালে চলে যাবার কথা।
সিগন্যাল পেয়েছিস?
রতন হাসছে।
তুমি না সত্যি। তোমায় নিশ্চই ম্যাসেজ করেছে।
আমি হাসছি।
অনিকা, অনিসা খাবারের ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকলো। পেছনে ইসলামভাই, ইকবালভাই।
আবিদ, চাঁদ উঠে দুজনকে জায়গা করে দিল। সোফায় চাপা চাপি করে বসলো।
তোমাদের কোথায়? ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
ও ঘরে খেয়ে এলাম।
ইকবালভাই কালকে একটাও বরফি পাই নি।
নাসরিন যা-তো মা নিয়ে আয়-তো।
অনিকা ইকবালভাই-এর দিকে তাকালো।
সকালে যেগুলো নিয়ে এলে?
হ্যাঁ, তার থকে নিয়ে আয়।
অনিসা।
অনিসা আমার দিকে তাকাল।
সুবীর পিসেমশাই কোথায়?
ও ঘরে।
ডেকে দে। চা নিয়ে আয়।
তোমার সঙ্গে আমি দিদিভাই একটু কথা বলবো।
দুপুরে খেতে খেতে।
তুমি তো আবার দাদাইদের সঙ্গে বসবে।
আমি আজ কোথাও বেরবো না।
দু-জনেই চলে গেল।
ইকবালভাই-এর দিকে তাকালাম।
কাল কেমন মজা করলে?
দারুণ। তুই দিদিদেরও ছাড়লি না।
দিদিরা মুখ ফুটে বললো। আমি শুধু হুকুম তামিল করেছি।
যাঃ।
জিজ্ঞাসা করো। তোমাদের ইচ্ছে হয়, তাদের ইচ্ছে হতে পারে না।
ইকবালভাই হাসছে।
তোমার কাজ কতদূর এগোল?
সুবীর ঘরে ঢুকলো।
চিনা কিছু বলেনি?
বললো শুরু করেছি।
চিনা হাসছে।
আমি কিন্তু লোয়ার পার্টটা তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি। ওদিকে আমি একবারে তাকাব না।
সে হয় কি করে।
সমস্যা হলে অনিমেষদার সঙ্গে বসে কথা বলে নেবে।
কালকে আমি অনিমেষদাকে সব বলেছি।
তাহলে কথা ফুরিয়ে গেল। আমি আর মাথা গলাব না।
হিমাংশু হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকলো।
অনেকক্ষণ এসেছি ও ঘরে ছিলাম।
কাল লতাকে আনলিনা কেন?
তোর চোখে ন্যাবা হয়েছে। ওদের সঙ্গে হই হই করে নাচলো। দুটো গ্লাস খাওয়ার পর একটু টাল খেল, আর তুই বলছিস নিয়ে আসিনি।
ও তখন অন্য জগতে ছিল। ইসলামভাই বলছে আর হাসছে।
সবার প্লেট শূন্য। পাঁচু ঘরের এক কোনে প্লেটগুলো নিয়ে রাখলো।
পাঁচু চায়ের জন্য খোঁচা লাগা, না হলে দার্জিলিং থেকে আসবে। পাঁচুর দিকে তাকালাম।
পাঁচু হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
তুই রাজধানী এক্সপ্রেস চালালে হবে। হিমাংশু কথা বলতে বলতে খাটে এসে বসলো।
তোকে সুবীর কিছু বলেছে। হিমাংশুর দিকে তাকালাম।
বলেছে। সোর্স কি দেখাবি?
প্রত্যেকের নামে আলাদা আলাদা বিজনেস আছে।
বুঝে গেছি। তুই এটারও একটা ছক কষে রেখেছিস।
এ ছাড়া তুই এগোতে পারবি না।
চাঁদের এ্যাকাউন্টে প্রচুর জল মেশানো আছে।
দূর করে দিবি।
হিমাংশুদা তুমি এরকম করো না। আমি তোমাকে সব স্বীকার করেছি। চাঁদ বললো।
চিনা, ওমর।
খুব ছোটো। তবে পরিষ্কার।
দু-জনেই কাঁধ ঝাঁকালো।
ওদের দুটোকে এ্যামালগামেট কর। আবিদ?
পরিষ্কার।
সবাইকে নিয়ে একটা নতুন ফার্ম কর। প্রত্যেকের পার্সোনাল বিজনেস থেকে টাকা টেনে নে।
তাতেও বেশি হয়ে যাবে।
রতন, নেপলা, আবিদ এই পার্পাসে একটা কোম্পানি ফর্ম করেছে।
সেখানে কিছু ঢোকান যাবে না। ওখানে আবিদের রতনের এক্সপোর্টের ইনকাম ঢোকে।
নেপলা যাচ্ছে তো।
নেপলাকে বলেছি কিছুটা এ্যাডভান্স ট্রান্সফার কর। এখানে ক্যাশ কাজে লাগা।
ওমর, চিনার স্বভাব ভাল নয়। ক্যাশ দেখলে দুজনে মারপিট করবে।
সে তুই সামলাবি। আমি এদিকটা দেখে নিচ্ছি।
পুরোটা কি ওখানে ঢোকান যাবে?
না। ম্যাক্সিমাম সিক্সটি পার্সেন্ট।
লিকুইডটা কি হবে?
হাতে রেখে দিতে হবে। এরা তোকে কিভাবে ফেরত দেবে।
আমি ওদের ক্যাশ দিচ্ছি ওরা ক্যাশ দেবে।
যদি না দেয়।
রতন হাসছে।
বিল আটকে যাবে। লাভের গুড় পিঁপড়ে খেয়ে নবে।
বেশি বাড়াবাড়ি করলে?
ছট্টুর হাল হবে।
রতন জোড়ে হেসে উঠলো। তুমি পারবে না।
সেই জন্যই এই ব্যবস্থা করছি।
রতন হিমাংশুর দিকে তাকাল। উত্তর পেলে।
হিমাংশু হাসছে।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম। তোমার ব্যাঙ্কে এতোটা ঢুকছে, আমার কমিসন?
পুরোটা।
সবাই হাসে। পাঁচু চায়ের ট্রে নিয়ে এলো পচা উঠে গেল।
চিনা এগিয়ে গিয়ে ওদের সাহায্য করলো।
ওরা কেউ এলো না।
ডাক্তারদাদা, আন্টি এসেছে খুব জোড় গল্প হচ্ছে। পাঁচু বললো।
সবার হাতে চায়ের কাপ। চা খেতে খেতে হিমংশু বললো, তোর পরের প্ল্যান।
আগে বল এরা কতটা লোন পাবে।
যতটা লাগবে ততটা দেবে। এরা নিশ্চই এককালীন নেবে না। ফেজে ফেজে নেবে।
হ্যাঁ।
তুই বলেছিস ওয়ার্ক অর্ডার দিবি।
অবশ্যাই।
ওয়ার্ক অর্ডারের এগেনস্টে ব্যাঙ্ক টাকা দেবে, তুই ওদের নামে ড্রাফ্ট করে দিবি।
তাই হবে।
খরচ খরচা বাদ দিয়ে বাকিটা ওদের এ্যাকাউন্টে জমা পরে যাবে।
সুবীর কতটা সামলাতে পারবে।
ওর দুটো হ্যান্ডস দরকার। হিমাংশু বললো।
খুঁজে বার কর।
পক্কে, ঘণ্টা তো আছে।
হবে না, আমার কাজ করবে, বকলমে রতনের এ্যাপয়েন্টমেন্ট।
হিমাংশু হাসছে।
তুই তো এখানেই সব ঘুঁটি খেলে রেখেছিস।
ইসলামভাই, ইকবালভাই শরীর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো।
ওরা আমার ঘোড়া।
রাজা-মন্ত্রী কি অনিকা, অনিসা? হিমাংশু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছে।
হবে হয়তো।
আমার হিমাংশুর কথায় ঘর শুদ্ধু সকলে হাসে।
তুই ছকটা ভালো সাজিয়েছিস।
হিমাংশু চায়ের কাপ শেষ করে সেন্টার টেবিলে রাখলো।
আমার কাজ বাড়ালি, পারিশ্রমিক।
আমি দেব কেন। যাদের কাজ করবি তাদের কাছ থেকে নোট নিবি।
চাঁদ, ওমর দেয়নি।
পেছনে একটু ঠেলে দে।
পর্শু পাক্কা ক্যাশ পৌঁছে যাবে। চাঁদ বলে উঠলো।
আমি হাসছি।
তুমি সব সময় হাসলে চলে। আগের থেকে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
ইসলামভাই।
বল।
এই টাকাটা এই সপ্তাহে একটা শুষ্ঠ গতি করে ফেল। কাজ শুরু করতে করতে ছয় মাস সময় লাগবে। ব্যাঙ্ক টাকাটা রোলিং করে নিক।
তোর বলার আগেই সুবীর আর মীর দুজনে প্ল্যান করে নিয়েছে।
মীরচাচার দিকে তাকালাম।
তুমি কি বাকিগুলো এইভাবে ধরবে।
আমি কইনি বিশ্বাস কর চিকনা বুদ্ধি দিছে।
সব সময় চিকনাকে টান কেন। নিজে ঘারে নিতে পারো না। চিকনা চেঁচিয়ে উঠলো।
তুই খেপে যাচ্ছিস কেন। আমি বললাম।
নারে, ঝাড় খেলে চিকনা খাবে। ভাল হলে আমাদের কেমন করিশ্মা দেখেছিস।
তুই তো কইলু টাকাটা যখন আসছে চাচা একবার বড়ো করে খেলে নাও।
আমি বললে তোমরা করবে কেন। ব্যাঙ্ক কি আমার।
ঠিক আছে আর কইবোনি।
তুই এতো টেনসন নিচ্ছিস কেন। তুইও তো কাজে লাগাবি।
চিকনা হেসে ফেললো।
তবে, শুধু একলা মীরচাচার দোষ। মীরচাচা এবার তরপে উঠলো।
ভানুকে সকাল থেকে দেখছি না। গেলো কোথায় বাসু।
শাকতলা বসাচ্ছে।
শাকতালা? এখানে!
মাসি, ভজু এর আগেরবার বলেছিল, তাই ভানু বীজ নিয় এসেছে।
জল দেবে কে?
তুই দিবি কি? বাসু ধমক উঠলো।
আমি হেসে ফেললাম।
তোর দোকানের কি হবে।
ছেলেকে বলে দিয়েছি। তোদের লিখে দিচ্ছি, যা পারিস কর। আমি পেছনে আছি। নিজেদেরটা এবার নিজেরা সামলে নে।
ভাল করেছিস।
মণ্ডলের সিনেমা হলের কি ব্যবস্থা করেছিস?
চিকনা তাকে গোডাউন বানিয়ে দিয়েছে।
চিকনার দিকে তাকালাম।
কি করবো। চাচাদের সমবায়ের মাল রাখার জায়গা পাচ্ছি না।
বাকি দলিলপত্র।
কাজ সেরে দিয়েছি।
সব এখন নিজেদের হাতে?
হ্যাঁ।
সুবীর ব্যাঙ্কের হাল।
দাদা জানে।
হিমাংশু হেসে ফেললো।
হাসছিস যে।
বেফাঁস বলে ফেললে কপালে ঝাড় আছে, তার থেকে ইসলামভাই বলুক।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
কামিং সিক্স মান্থ তুমি ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য কিছু মাথায় রাখবে না। যদি প্রয়োজন পড়ে আমি তোমার সাহায্য চাইবো। এটা আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমাকে অনেক গুছিয়ে খেলতে হবে। আমি কোনওদিকে ফাঁক ফোঁকর রাখতে চাই না।
আমরা তোর পাশে আছি।
তোমার সঙ্গে এর মধ্যে কয়জন প্রমোটার যোগাযোগ করেছে?
ইসলামভাই হাসছে।
বলো না। তারপর আমি তোমাকে বলছি।
বেশ কয়েকজন করেছে। তোমার আগেকার পরিচিত না নতুন যারা পরিচিত হয়েছে?
নতুন পুরনো সব আছে।
কাউকে না বলবে না।
তুই কি কাউকে ধরার ফন্দি করছিস।
হাসলাম।
রতন।
বলো।
তোদের সঙ্গে যে সব প্রমোটার যোগাযোগ করছে তাদের একটা লিস্ট আমাকে দিতে পারবি।
পারবো।
চিকনা, বাসুকে টেবিলে বসাবি, ও একলা পারবে?
চিকনা আমার দিকে তাকাল।
ওকে সাহায্য করার লোক আছে।
কাঞ্চনের ব্যাপারটা নিয়ে তুই কিছু বললি না।
ও এখন তোর বাড়িতে আছে। শালাকে একবার বাগে পাই ঠিক উত্তরটা দিয়ে দেব।
ঝামেলা করতে যাস না।
কেন ও কি নিজেকে কেউকেটা ভেবেছে।
আমি তাই বলেছি। এখন বুঝিয়ে শুনিয়ে কাঞ্চনকে কাছে রাখ। ছেলে মেয়েটা কাজ করছে?
করছে।
থাকছে কোথায়?
ও বাড়িতে।
পারলে থানাতে একটা পিটিসন দিয়ে রাখ। ওরা স্ব-ইচ্ছায় আছে। মা-ব্যাটা-মেয়ে তিনজনেই সই করবে। গ্রামের কয়েকজন সিনিয়ার সিটিজেন এবং পঞ্চায়েত তা রেকমেন্ড করে দেবে। ফিজিক্যালি থানা থেকে এসে যেন ব্যাপারটা এনকোয়ারি করে যায়।
হিমাংশু আমার দিকে তাকাল। আমার কথা শুনে হাসছে।
সময়টা ভাল যাচ্ছে না। কে কোথা থেকে কি করে বসে। আবার একটা উটকো ঝামেলা।
ওরা কি করতে আছে।
এই ছোটোখাটো ব্যাপারগুলো ওরা মনে করতে পারে না। পরে এটাই বিশাল আকার নেয়।
আবার চিকনার দিকে তাকালাম।
অনাদির ভিটের ব্যাপারটা কি হলো?
ঢ্যামনা বুড়ো বলেছে আসলটা পেলেই ছেড়ে দেবে, সুদ লাগবে না।
তোরা গ্রামের লোকেরা বসে ব্যাপরটা মিটিয়ে দে।
টাকা কোথায় পাব?
একটু চেষ্টা কর জোগাড় করে নিতে পারবি। ওরা দুই ভাইবোন কাজ করে শোধ করবে।
চিকনা বাসু হাসছে আর মাথা দোলাচ্ছে।
আমার কাজ শেষ, আমি এবার উঠবো।
হিমাংশুর দিকে তাকালাম। চল একটু কথা আছে।
হিমাংশু হাসছে।
আমি হিমাংশু দুজনেই উঠে দাঁড়ালাম।
বাইরে বারান্দায় এলাম।
অফিসের হাল কি?
কালকে পর্যন্ত আপডেট আছে।
কোনও অসুবিধে নেই?
না।
পিকুর কেশটা নিয়ে কিছু ভাবলি?
পিকু আমাকে ফোন করেছিল।
কেন?
বললো মশাই-এর ডিডে যা লেখা আছে আমি তা মেনে চলতে পারিনি। শেয়ারটা এখন আর আমার নয়, আমি শেয়ারটা ট্রান্সফার করতে চাই।
এ্যাকসনটা তুই নে।
একটু ভাব।
আমি সব দিক ভেবেই তোকে বলছি। সাগরের হাত থেকে ওকে বাঁচাতে গেলে এই এ্যাকসনটা আমাকে নিতে হবে।
হিমাংশু আমার দিকে তাকাল!
হ্যাঁরে, একটা ছোট্ট ভুল করে ফেলেছি। ঠিক মতো নজর রাখিনি।
কার নামে ট্রান্সফার হবে।
ওখানে লেখা আছে।
উত্তরাধিকার লেখা আছে।
ভাল করে আর একবার দেখ। কেউ কোনও সমস্যা করলে শেয়ারটা অটোমেটিক্যালি মিত্রার নামে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। মিত্রার অবর্তমানে ছেলে মেয়ে সমানভাগে পাবে।
ইসি কি ভাববে।
যা বলার আমি ইসি, জ্যেঠিমনি, বরুণদাকে বলেছি। তুই একবার অনুপের সাথে কথা বল।
আজ কথা বলে নিচ্ছি।
আমি ফেলে রাখতে চাইছি না। প্রেসারটা কনটিনিউ করতে হবে।
কেন?
আমাকে দেখতে হবে সাগর এরপর কি কি স্টেপ নেয়।
তোর পায়ে আর একটা কাঁটা ফুটলো।
হ্যাঁ। দেখি কবে বার করতে পারি। বিতানের খবর কি?
গত দুদিন অফিসে আসে নি।
ফোন করেছিল?
আমাকে করেনি।
ওটাকে একটা জোড় ধাক্কা দিতে হবে। পারলে তুই প্রেসার কর।
ঠিক আছে।
আর একটা কথা।
বল।
আমি এই মুহূর্তে পিকুদের বিয়েটা ভেঙে দিতে চাইছি। কিন্তু কেউ জানবে না।
এটা আবার তুই কি করতে চাইছিস!
পরে বলবো। আমি যদি সেরকম কোনও সিগন্যাল পাই তোর কাছে পাঠাব। তুই কাজটা করে দিয়ে গোপনই রাখবি।
আগামী সপ্তাহে আফতাবভাই আসছে। সাতদিন কোনও জরুরি কাজ রাখবি না।
হিমাংশু হাসলো।
ওই ঘরে একটু বড়োমার সঙ্গে দেখা করে যাই।
বিশেষ দরকার?
বলা যাবে না। এদের সঙ্গে আর কতক্ষণ?
এবার উঠবো খেয়ে দেয়ে দুটো নাগাদ বসবো অনিমেষদাদের সঙ্গে। মন্ত্রী-সন্ত্রীদের আসতে বলেছি। সবার মনোভাবটা বোঝার চেষ্টা করি।
তোর সঙ্গে কিছু কথা ছিল।
হিমাংশুর দিকে তাকালাম।
সেরকম কিছু নয়, রাতে ফোন করবো।
করিস।
আবার ঘরে ফিরে এলাম। নিজের জায়গায় বসলাম।
আবিদ, আয়েষার শরীর কেমন আছে?
এখন একটু ভাল।
নীরু কি বলেছে?
সরকম বুঝলে ভর্তি করে নেবে।
ঠিক ঠাক যত্ন নিচ্ছিস?
মাসী দু-জনকে দিয়েছে কাছে রেখেছি।
রতন আমার আরও তিনটে কাজ তোর কাছে পড়ে আছে।
দুটোর ব্যাপারে দাদাভাই-এর সাহায্য চেয়েছি।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
বারাসাতেরটা অনেক খোঁজ খবর করলাম হদিস পেলাম না।
কেন?
সেটা কি করে বলবো। কার নামে রেজিস্ট্রি করেছিলে?
এখন কি অতো মনে আছে।
তারমানে!
কি করে বলি বলতো, আমি তো তোর মতো কাগজ পত্র গুছিয়ে রাখিনি।
রতনকে একজনের কাছে খোঁজ খবর নিতে পাঠিয়েছিলাম, সে বলেছে রঘুবীর প্রসাদের নামে রেজিস্ট্রেসন করা আছে।
মিউটেসন হয়েছে?
না। তবে মেইনটেনান্স হয়। যিনি রয়েছেন তাকেও মাসে মাসে একজন টাকা দিয়ে যায়।
বুঝেছি অরিজিন্যাল লোককে জীবনে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রতনের দিকে তাকালাম।
যেটা কেয়ারটেকার তার সঙ্গে কথা বল। যে মেইনটেনান্স করে তাকে দেখা করতে বল। ডিটেলস জান। সে কে, কি বৃতান্ত। পারলে একটা জেরক্স কপি ধরিয়ে দিবি। সেরকম বুঝলে দখল নিয়ে নে। বাকিটা আমি আইনতঃ বুঝে নেব।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
আর একটা।
অনিমেষদাকে বলেছি। একটু সময় চেয়েছে।
রতনের দিকে তাকালাম।
সুনীতদা?
কাঁদুনি গাইছে।
আমার নাম করে বলবি। টাকির বাগান বাড়িটা লিখে দিতে। না হলে ক্যাশ দিতে।
কিছু ক্যাশ দিয়ে মিটিয়ে নিতে বলেছিল।
কতো দিতে চেয়েছে।
দশ মতো।
ওখানকার ভ্যালুয়েসন কতো। তিরিশ মতো।
পঁচিশ ছাব্বিশ দিলে ছেড়ে দে। না হলে টাকিটা দিতে বল।
আর একটা কথা আছে শুনলে রেগে যাবে না।
রতনের দিকে তাকালাম।
চাঁদের প্রজেক্টটা আটকে আছে। টাকার জন্য এগোচ্ছে না, ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এখান থেকে কিছু নিয়ে ওটাকে মিট আপ করে দিই।
চাঁদের দিকে তাকালাম।
আমি তোমায় ইন্টারেস্ট দেব।
হাসলাম।
ইসলামভাই-এর সঙ্গে কথা বলে নে। আমি আর এই ব্যাপারটা মাথায় রাখবো না।
তোর মতামতটা বল। ইসলামভাই বললো।
তোমার মতামত কি শুনি?
আমি ক্যাশটা মিস উইজ করতে চাইছি না।
শুনেছি ব্যাঙ্ক টু ব্যাঙ্ক লোন ট্রান্সফার হয়।
হয়।
কো-অপারেটিভ চাঁদের হয়ে লোন শোধ করে দিক। সমস্ত প্রপার্টির কাগজপত্র তোমাদের ব্যাঙ্কের হেফাজতে থাকবে।
ইসলামভাই হাসছে।
কিগো তোমার এখনও কথাবলা শেষ হয়নি। দুই বোন ভেতরে এলো।
চিকনাদা সরে বসো।
অনিসার কথায় চিকনা সরে বসলো, দু-জনে আমার দুপাশে বসলো।
আমি অনিসার দিকে তাকালাম।
তোরা বরং একটু চা করে আন চা খেতে খেতে কথা শেষ হয়ে যাবে।
আর চা খেতে হবে না।
একটু।
পচামামা যাক। আমরা যাব না।
তাহলে চুপ করে বসে থাক। কোনও কথা বলতে পারবি না।
রতনের দিকে তাকালাম।
চাঁদের কতো লাগবে।
দশ মতো হলে মিটে যাবে।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
হিমাংশুর সাথে বসে কথা বলে নাও। দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে টোটাল ব্যাপারটা গুছিয়ে ফেলো। দু-সপ্তাহ পর থেকে তোমার ইকবালভাই-এর কাজ শুধু দেখাশোনা করা।
রতন।
বলো।
তোরা কি অফিস নিয়েছিস?
খুঁজছি এখনও পাইনি। পদুদা একটা খোঁজ দিয়েছে নেপলা সকালে বেরিয়েছে নিজের কাজ সেরে একবারে দেখে ফিরবে।
চিকনা।
বল।
আফতাবভাই আমার ওখানে গিয়ে একরাত থাকবে।
এ্যাঁ।
কিছু করার নেই।
তারমানে!
ওর খুব ইচ্ছে পীরসাহেবের থানে একবার নামাজ পড়বে। আমার মুখে গল্প শুনেছে, নিজের চোখে দেখতে চায়।
যদি ফার্ম হাউসে রাখিস, ওখানে ট্যুরিস্টদের জন্য যে ঘর আছে, সেখানে বরং ভালো থাকবে।
ও আমার মর্জিতে চলবে না। নিজের মর্জিতে চলবে। আমার ঘর বাড়ির ব্যাপারটা ও সব জানে। আমি তোকে মেন্টাল প্রিপারেসন নিতে বলছি। আমার বাড়ির চারপাশটা লাইটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখিস।
বাথরুমের কি করবি।
যা আছে তাতে হবে না?
তুই বলিস কি করে, এ কি বড়োমা, দাদা ম্যানেজ করে নেব।
ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
ভাইদাদার দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।
ফালতু ঝামেলা করছিস।
আমি নতুন বাড়ির লাগোয়া একটা বাথরুম তৈরি করে নিচ্ছি।
সে তুই কর। আমি বাধা দেব না। মীরচাচা।
আমি সেউ পাশটা গুছি লিব। তাছাড়া ইমামসাহেব থাকবেন অসুবিধে হবেনি।
সত্যি কি আফতাবভাই ওখানে যাবে? ইসলামভাই আমার মুখের দিকে তাকাল।
বলেছে যাবে, তারপর জানি না। যদি যায়, সেই জন্য বললাম।
তোর ঘরটা প্রথমে পরিষ্কার করতে হবে।
একবারে না। যেমন আছে তেমন থাকুক। আর যেখানে যা করো ওখানে হাত দেবে না।
পচা চা নিয়ে এলো। সবাই নিলাম।
চিকনা তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নে, দুপুরে তোর, বাসু, মীরচাচার ডাক পরবে।
রতনের দিকে তাকালাম।
লাস্ট আপডেট আমাকে দিবি।
আমি এখন ওদের কথা শুনি। দুই মেয়ের কাঁধে হাত রাখলাম।
আমরা থাকবো না। ইকবালভাই বললো।
তোমরা যখন কথা বলছিলে আমরা ছিলাম। অনিসা ঝগড়ুটে মেয়ের মতো বলে উঠলো।
ইসলামভাই, ইকবালভাই দু-জনে হাসছে।
ওরা সবাই বেরিয়ে গেল। অনিকার দিকে তাকালাম।
খাটে হেলান দিয়ে বস।
কেন?
আমি একটু তোর কোলে শুই, মাথাটা ভালকরে টেপ। টিপ টিপ করছে।
আমি অনিকার কোলে টান টান হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করলাম।
অনিসা।
বলো।
তুই একটু হাতের আঙুলগুলো ফাটা।
অনিসা আমার পেটের কাছে ঢুকে বসলো। বাম হাতটা নিজর হাতের মধ্যে তুলে নিল।
তুমি এখন ঘুমবে নাকি?
সকাল থেকে অনেক বকলাম এবার একটু ঘুমই।
আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অনিসার তর সয় না।
ঠিক আছে বলবো, জামাকাপর গুছিয়ে নিয়েছিস?
নেপলা আঙ্কেল বললো একটার বেশি লাগেজ নিবি না। তাই বেশি নিইনি।
ভল করেছিস।
ইলেকট্রনিক্স জিনিষ কি কি সঙ্গে নিচ্ছিস।
কিচ্ছু না।
মোবাইল।
আমরা নেব বলেছিলাম নেপলামামা বারন করলো। বললো শুধু সিমটা নিয়ে নে। ওখানে গিয়ে তোদের দুজনকে ভালো মোবাইল কিনে দেব। অনিকা বললো।
সিমটা ইন্টারন্যাশন্যাল কলের জন্য এ্যাকটিভেট করেছিস।
মা করে দিয়েছে। অনিসা বললো।
আঙ্কেল আন্টির জন্য কি নিয়ে যাচ্ছিস।
কুট্টিদাদাই পাঁচ রকমের মিষ্টি দিচ্ছে সেইটা নিয়ে যাচ্ছি।
দেখলাম দু-জনেই ইশারায় কথা বলছে। এ বলছে দিদিভাই তুমি বলো, ও বলছে বোন তুই বল।
ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারলাম না। আধবোজা চোখে ওদের মুখ লক্ষ্য করে চলেছি। বেশ ভালোলাগছে। চোখের ইশারায় নিজেরা কথা বলে চলেছে, একে অপরের কথা বেশ বুঝতেও পারছে।
মা শুভ কোথায় রে?
দাদার সঙ্গে বেরিয়েছে।
দাদা কোথায় গেছে?
দাদা, সুন্দরদা, শুভ ভাসিলা ভেরিতে গেছে।
কেন?
কনিষ্কমামা কি কাজ দিয়েছে তাই।
আবার কিছুক্ষণ চুপচাপ। ওরা উসখুস করছে কিছু বলার জন্য।
বাবা।
বল।
একটা কথা বলবো।
কি কথা?
তুমি রাগ করবে না।
এমন কি কথা বলবি যাতে আমি রেগে যাব।
এমনি মনে হল তুমি রাগ করতে পার তাই বললাম।
রাগ করবো না। বল।
পিকুদাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আর কোনওদিন করবে না বলেছে।
চোখ মেলে তাকালাম মেয়ের মুখের দিকে। স্থির চোখে ওর চোখে চোখ রাখলাম। অনিসা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দু-জনের মুখের দিকে একবার করে লক্ষ্য করলাম।
(আবার আগামীকাল)