| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ২৭৬৭ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

১৭২ নং কিস্তি

গাড়ির সামনে এসে চারদিকটা একবার ভাল করে দেখে নিলাম। সবাই আমার দিকেই লক্ষ্য করছে। চিনা দরজাটা খুলে দিল।

গাড়িটা ওই গাছতলায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করা।

চিনা কথামতো তাই করলো।

এসিটা চালিয়ে দেব।

না। কাছাকাছি থাকবি, ডাকলে যেন সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাই।

রাস্তার ওপারে গিয়ে দাঁড়াই।

তাই যা।

আমার দু-পাশের জানলার কাঁচ তুলে দিলাম। সামনের সিটের জানলার কাঁচ আর ড্রাইভিং সিটের কাঁচ সামান্য নামিয়ে রাখলাম। একটা সিগারেট ধরালাম।

পকেট থেকে ফোনটা বার করে ডায়াল করলাম। একবার রিং বাজতেই ছুড়কি ধরলো।

বইলো অনিআকা।

খবর পেলি?

হ, ভীমপুর নার্সিংহোমে আইছে।

ওখানে কাকে পাঠিয়েছিস?

ভলি আছে।

এক কাজ কর।

বইলো।

ঋজুর সেই শালির বড় যেটা বেগড়বাই করছিল, মনে আছে তোর।

হ মনে আইছে।

আর মণ্ডলের জামাই।

হ।

এই মওকায় দু-টোকে খেয়ে নিয়ে মুখ ধুয়ে নে।

ছুড়কি হো হো করে হেসে ফেললো।

হাসলি যে।

মনের কথা কইলে, খপর নিলি, দেখলি এই দুইটা অনাদি আকাকে খপর দিছে।

ওরা যে এতো সকালে আসবে। জানল কি করে?

কাইল রাতে চিকনা আকা বাজারে বাসু আকার দুকানে বইসে কথা কইছিল। মীরদাদাইও ছেইলো। লোক তো অখন ভাল লাই, মোর একটাকে সন্দ হয়।

কাকে!

তুমি চিনবেক লাই।

বল না শুনি।

বাসু আকার দুকানে একটা লতুন ছেইলে কাইজে লাগছে।

থাকে কোথায়?

মীরদাদাইর ঘরের পচ্চিম পাশে।

কবে থেকে লেগেছে?

দু-হপ্তা দেখতিছি।

কে দিয়েছে?

মোদের গ্রামের ছেইলে। শিক্ষিত। তাই চিকনা আকা লেইসছে।

ভাল করে খোঁজ নে।

তুমাকে আজ রাইতেই খপর দিব।

ঠিক আছে।

এউ গুলা।

কোনটা?

ভীমপুরের।

লক্ষ্য রাখ।

যেউগা কইলে রাতেই ঝাড়ি দিই।

শোন এলাকায় কাজ করবি না। এলাকার বাইরে কাজ করবি। নিজেদের ঘারে দোষ নিবি না।

আইছা।

খুব প্রয়োজন না হলে ফোন করবি না। আমি রাতে হয়তো দেশের বাড়িতে থাকবো। কাল ভোর ভোর ভালোপাহাড় যাব।

বাবাকে কইবো?

এখন বলতে হবে না। পরে জানাব।

আইছা।

ফোনটা কেটে একবার জানলার দিকে তাকালাম। দেখলাম চাঁদের সঙ্গে চিনাও রয়েছে। পেছন দিকে তাকিয়ে দেখলাম রতন, আবিদও রয়েছে।

আমার মুখের দিকে একবার তাকাল।

আবার ডায়াল করে কানে দিলাম।

সিগারেটও ধরালাম।

হাফিজের গলা ভেসে এলো।

হ্যালো।

হাফিজ।

হ্যাঁ অনিদা।

ইকবাল কোথায়?

একটু বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবহাওয়া কেমন?

আপাতত ঠিক আছে। দু-জনে ঘরে বসে ফিস ফিস করছে।

ফোন কার কাছে?

স্যুইচ অফ করে নিজের পকেটে রেখে দিয়েছি।

বাসন্তী গেলে তোরা ফুটে যাবি। স্পট থেকে দূরে থাকবি। শুধু ওয়াচ করে যাবি।

আচ্ছা।

ওই বাড়ির কোনও দারোয়ান নেই?

ছিল হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়েছি। বলেছি মুখ খুললে ওপরে পাঠিয়ে দেব।

চেঁচা মিচির আওয়াজ বাইরে থেকে শোনা যায় না?

এটা ভোগ বাংলো। বেশ গোছানো। সব আছে। সাগর, অনাদি প্রায়ই এখানে ফুর্তি করতে আসে।

অনাদিকে ফোনটা দে।

ভয়েজ অন করছি।

মাথা গরম করবি না। শুনে যাবি।

আচ্ছা।

ফোনটা কিছুক্ষণ ধরে রইলাম। অনাদির গলা পেলাম।

হ্যালো।

গলাটা শুনেই সারাটা শরীরে কেমন উত্তেজনা অনুভব করলাম। তেড়ে খিস্তি করে উঠলাম। কাঁচা কাঁচা খিস্তি। খ থেকে ব পর্যন্ত কোনওটা বাকি রাখলাম না। একটু থেমে বললাম।

বল তোর কোন বাপ তোকে বাঁচাবে।

কথাটা সামান্য জোড়ে বলে ফেললাম। মনে হলো জানলার কাঁচের যে টুকু ফাঁক আছে তা দিয়ে সামান্য হলেও বাইরে গেল আওয়াজ।

তুই বিশ্বাস কর।

বিশ্বাসের তেইশ। বহুত বার তুই বেড়ে গেছিস। আজই তোর কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দেব। তোর খাস মন্ত্রীকে বল তোকে বাঁচাতে।

তুই একতরফা খেলে যাচ্ছিস।

এতদিন তুই খেললি, আজ আমি খেললেই দোষ।

আমি খেলিনি।

সতপালকে একরাত্রি প্রিয়দর্শিনীকে দিলি, বিনিময়ে আমি আচমকা একটা ঘুসি খেলাম। বেচারা বেঘরে প্রাণটা হারাল। ঘাউড়া অফিসার হলে যা হয়।

অনাদি আমার মরা বাপ-মা তুলে খিস্তী করলো।

দেখ আমি কিন্তু এখনো কাকা-কাকীমাকে তুলে একটা খিস্তীও করিনি। বরং তাদেরকে কাছে রেখে দু-বেলা দু-মুঠো অন্নের সংস্থান করে দিয়েছি। যা তুই করিসনি।

অনাদি চুপ করে গেল।

চিকনাকে কবে থেকে দেখছিস?

অনাদি কোনও কথা বলছে না।

চিকনাকে মারার স্কিমটা করেছিলি কেন, আমাকে শিক্ষা দিতে ?

আমি করি নি, সাগর করেছে।

সাগর এই লবির লোক, তোর কাছে গেল কি করে?

অনুজ পাঠিয়েছে।

ব্যবসায়ী লোক ধান্দাবাজ। এবার তিনটেই মরবি। দাঁতে দাঁত চিপে বললাম।

প্লিজ অনি তুই মথা গরম করিস না।

ভেবেছিলি চিকনা, অনির দুর্বল জায়গা ওখানে হাত মারলে অনি একটুখানি হলেও দমে যাবে। তার মধ্যে নিজেদের কাজ গুছিয়ে নেব।

অনুজ, সাগর দুজনে স্কিম করেছিল।

তুই ইমপ্লিমেন্ট করলি।

অনাদি চুপ।

ওদের ধান্দা ছিল তোর কোনও ধান্দা ছিল না?

অনাদি কোনও কথা বলছে না।

চারটে ছেলেকে কোথা থেকে হায়ার করেছিলি?

অনাদির কোনও সাড়া শব্দ নেই।

তুই এর আগে আমার দম দেখিসনি—তোর পেছনের মন্ত্রীত্বটা খতম করেছি। তোদের সরকার ফেলে দিয়েছি। এবার তোকে রাস্তায় বসিয়ে ভিক্ষে করাব। নুলো ভিক্ষারী।

অনাদি চুপ। কোনও কথা বলছে না।

এরা দিবাকরের সেকেন্ড টিমের ছেলে। প্রিয়দর্শিনী কন্ট্রোল করে।

তুই প্রিয়দর্শিনীকে জড়াচ্ছিস কেন?

মাথায় রাখবি দেবার সঙ্গে প্রিয়দর্শিনীর রেজিস্ট্রি ম্যারেজের সার্টিফিকেটের জেরক্স আমার পকেটে। এতদিন এটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

ভাবছিস তুই কি রক্ষা পেয়ে যাবি?

আমি যে কাজ করি তার কোনও প্রমাণ রাখি না। রাজনাথ, ব্যানার্জীর কেশে তুই দেখেছিস। শেষে টোডি। ক্ষমতায় থাকতেও তোকে ধ্যুর বানিয়ে দিয়েছি।

আমার কাছে আছে?

শোন অনি ব্যানার্জী মরে গেছে। তোর কাছে যা আছে তাই দিয়ে তুই কোনওদিন প্রমাণ করতে পারবি না, অনি ব্যানার্জী বেঁচে আছে।

খনাকে তুলে নিয়ে গেলি কেন?

এই মাথা নিয়ে তুই রাজনীতি করছিস। মনে পরে কাকার শ্রাদ্ধের দিন তোর সঙ্গে বসে কথা বলেছিলাম। তোকে হাতে ধরে বলেছিলাম একটা বিশ্বস্ত লোক কাছে রাখ। বাঁচবি তাহলে। খনা সেই বিশ্বস্ত লোক। আমার লোককে আমি তুলে নিয়ে এলাম তাতে অন্যায় কি করলাম।

অনাদি খিস্তি করলো।

তোকে বলেছি আজই তোর কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতবো। সাগরকে দে।

অনাদি কিছু বলতে যাচ্ছিল বুঝলাম হাফিজ ফোনটা কেরে নিয়ে সাগরকে দিল।

কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকার পর সাগরের গলা পেলাম।

হ্যালো।

কি সাগর খবর কি?

আপনি কাজটা ঠিক করছেন না।

কোন কাজটা?

আপনি ন্যান্সিকে তুলে নিয়ে গেছেন?

শুধু তুলি নি। তোমার যা কাগজপত্র ওর কাছে ছিল আলমাড়ি খুলে সব সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।

কি!

যা বলছি ঠিক বলছি।

আমি আপনাকে ছাড়বো না?

সে সময় তোমাকে দেব না।

আমার হাতেও ওয়েপনস আছে।

তোমার ন্যান্সি এখন নীল ছবির স্যুটিং করছে দিবাকরের সঙ্গে, তার সিডি তোমাকে পাঠাবো। পারলে কোর্টে প্রোডিউস করো। তাছাড়া ন্যান্সির সঙ্গে ওয়েবক্যামে তুমিও কিছু সিডি বানিয়েছো খবর পেলাম। এখনও চোখে দেখিনি যদিও। ইচ্ছে আছে তোমার মেয়ের হাতে তুলে দেব।

পিকুকে আমি ছাড়বো না। সাগর চেঁচিয়ে উঠলো।

কালকে তোমার মেয়ের সঙ্গে পিকুর মিউচ্যুয়াল ডিভোর্স হয়ে গেছে। পিকুর কাগজের মালিকানা স্বত্ব আমার উত্তরাধিকারের নামে ট্রান্সফার হয়ে গেছে।

হোয়াট?

যা বলছি ঠিক বলছি। বউকে দিয়ে কটা স্ট্যাম্প পেপারে ব্ল্যাঙ্ক সই করিয়েছ?

তাতে আপনার কি। সাগরের গলার ঝাঁজ তখনও কমেনি।

ব্যবসাটা পুরো বউ-এর নামে করে দিয়েছো। ভেবেছো নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করে দেবে।

স্কউন্ড্রেল। সাগর চেঁচাল।

গালাগাল তুমি দিতেই পারো তবে তোমার খেলা আমি শেষ করে দিয়েছি। এবার ভালয় ভালয় যা জিজ্ঞাসা করছি তার সঠিক জবাব দাও। তাহলে অন্ততঃ বেঁচে থাকবে। না হলে আজ রাতেই তোমার শরীরটা হাইরোডে গাড়ির তলায় পড়ে থেঁতলে যাবে। কেউ চিনতে পারবে না।

অনিবাবু এটা আপনি করতে পারেন না। আমার শ্বাশুড়ীমাকে আপনি আন্টি বলে ডাকেন।

খুব জোড় হেসে উঠলাম।

দেখলাম গাড়ির দরজাটা খুলে গেল। মিত্রা-তনু সামনে দাঁড়িয়ে।

এক ভাবে কথা বলে যাচ্ছিলাম। খেয়ালই করিনি।

ফোন থেকে সাগরের গলা ভেসে আসছে, অনিবাবু, অনিবাবু….।

ফোনটা কেটে দিলাম। স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেও কতটা হতে পারলাম জানি না। বুঝলাম ধরা পরেগেছি। এখন অভিনয়ের সেই জোরটা আর নেই।

হাসলাম। চল যাচ্ছি।

মিত্রা একদৃষ্টে আমার মুখের দিকে তাকিয়। যেন এক অজানা বুবুনকে ও দেখছে।

মাবাইলটা হাতে নিয়েই তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে এলাম।

ওর দুই কাঁধে হাত রেখে অপরাধী চোখে ওর মুখের দিকে তাকালাম।

বিশ্বাস কর….।

ওই জায়গাটা দেখেছিস?

কোন জায়গাটা!

যেখানে এতক্ষণ বসে ছিলি।

তাকালাম। সাত আটটা পোড়া সিগারেট পড়ে রয়েছে। সিগারেটের ছাইয়ে জায়গাটা অপরিষ্কার।

জোড় করে হাসার চেষ্টা করলাম।

এইটুকু সময়ে জীবনে এত সিগারেট কখনও খেয়েছিস?

ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না।

কেন জীবনটাকে নিয়ে এমন ছিনি মিনি খেলছিস। মিত্রার গলাটা ভাড়ি হয়ে এলো।

ঠিক আছে চল, আর হবে না। কথা দিচ্ছি।

নার্সিংহোমের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

কয়েক পা হেঁটেই পেছন ঘুরে তাকালাম। দেখলাম মিত্রারা তখনও গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। গাড়ির দরজাটা সেইভাবেই খোলা। আমার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে।

আমি আবার পেছনে হেঁটে এসে ওর হাতটা ধরলাম।

বলছি তো কথা দিচ্ছি। আর হবে না।

মিত্রা তবু আমার মুখ থেকে চোখ সরাচ্ছে না।

এবার যে যা বলবে শুনবো, কোনও প্রতিবাদ করবো না।

মিত্রার চোখটা ছল ছল করে উঠলো। রুমালের খোঁট দিয়ে চোখের কোল দুটো মুছলো।

চাঁদ গাড়িতে ওঠো। রতন, নীপাকে ডেকে আনো।

মিত্রা ধরা গলায় কথাটা বলে আমার দিকে তাকাল।

গাড়িতে ওঠ।

একটু চিকনার সঙ্গে দেখা করে আসি।

কারুর সঙ্গে দেখা করতে হবে না।

এখন কোথায় যাব বল?

তোর বাড়িতে যাব।

আর পাঁচ মিনিট।

মোবাইলটা এবার আছাড় মেরে ভেঙে দেব।

ঠিক আছে ঠিক আছে। রাগ করিস না।

আমি গাড়িতে উঠলাম। মাঝখানে বসবো না ধারে বসবো।

যেখানে ইচ্ছে বস। মিত্রা দাঁতে দাঁত চিপে ঝাঁজিয়ে উঠলো।

বুঝলাম এই সময় কথা না বলাই ঠিক। তনু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। থম থমে মুখ।

রতন দেখলাম হন হন করে হেঁটে নার্সিংহোমের দিকে এগিয়ে গেল।

মিত্রা তখনও বাইরে দাঁড়িয়ে। তনুও স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ কারুর মধ্যেই কোনও কথা হলো না। চুপচাপ বসে রইলাম।

চাঁদকে বললাম একটু জলের বোতলটা দিবি।

মিত্রা নিজের কাঁধের ব্যাগ থেকে একটা ছোটো জলের বোতল বার করে দিল। হাতে নিয়ে ঢক ঢক করে খেয়ে পুরোটা শেষ করে দিলাম। খালি বোতলটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম।

নীপা, রতন এলো।

ম্যাডাম ওই গাড়িটা রেখে এলাম। চিকনাদা, মীরচাচা আসবে।

অনিমেষদারা এখন ফিরে যাবে?

না, বললো বিকেলের দিকে যাবে এখানে কি কাজ আছে।

কনিষ্করা?

এক সঙ্গে ফিরবে।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে এসেছো?

কনিষ্কদা করেছে।

তুমি নীপা সামনে বোসো। আবিদ, চিনা পেছনে বসুক।

আমি মিত্রার দিকে তাকালাম। চোখে মুখের চেহারার যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে।

তনু-মিত্রা দুজনে আমার দু-পাশে উঠে এলো।

ম্যাডাম এসি চালিয়ে দিই। চাঁদ বললো।

দাও। চোখ-কান খুলে গাড়ি চালাবে।

আচ্ছা।

রতন, চাঁদ সবাইকে চেনে?

না। নাম জানে।

সামনের থেকে চোখ সরাবে না। স্টেশন রোডটা পেরলে আবিদ ড্রাইভিং করবে।

মিত্রার এই মুহূর্তের কথাবার্তা শুনতে আমার বেশ মজা লাগছে। চোখদুটো ভীষণ জ্বালা জ্বালা করছে। গাড়ির দুলুনিতে ঝিমুনি পেয়ে যাচ্ছে। আমি চুপচাপ। যেটুকু কথাবার্তা ওরাই বলছে।

আমি মিত্রা-তনুর দুটো হাত আমার দু-হাতে চেপে ধরলাম। ওরা আমার মুখের দিকে তাকাল।

তনু আমার কপালে হাত দিল।

শরীর খারপ লাগছে?

আসতে করে ঘার দুলিয়ে বললাম, না।

মিত্রার চোখ এখন অনেকটা স্বাভাবিক।

স্টেশন রোডে চলে এলাম। সামনের ভিউইংগ্লাস দিয়ে একবার দেখলাম। চারদিকে বহু পুলিশ। এই তল্লাটে কিছু যে একটা ঘটেছে, সেটা আবহাওয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে।

কয়েকটা মিশ কালো সাঁওতাল ছেলেকে ভিড়ের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করতে দেখলাম। মনে হচ্ছে সেবার ছুড়কির সঙ্গে এদের হাঁড়িপাড়ায় দেখেছি। একদম সাদামাটা ভাবে ঘোরা ঘুরি করছে।

চাঁদ একটু এগিয়ে গিয়ে গাড়িটাকে সাইড করলো। আবিদ পেছন থেকে নেমে এসে ড্রাইভিং সিটে বসলো। চাঁদ পেছনে চলে গেলো।

তুমি একটু ঘুমিয়ে পরো। তনু বললো।

না ঠিক আছে।

আমার কাঁধে মাথা রেখে একটু চোখ বন্ধ করে থাক। ভালোলাগবে। মিত্রা বললো।

আমার শরীরটা এই মুহূর্তে সত্যি সত্যি কেমন ছেড়ে দিয়েছে। যেন ঠিক নিজের বসে নেই। প্রচণ্ড টেনসন ভোগ করার পর টেনসন মুক্ত হলে শরীরটা যেমন অবস লাগে ঠিক তেমনি।

সত্যি সত্যি আমি মিত্রার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলাম। কখন ঘুমিয়ে পরেছি জানি না।

হঠাৎ সামান্য চেঁচামিচির আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখ খুলতে ইচ্ছে করছে না। সূর্যের এই আলোটাকে এই মুহূর্তে সহ্য করতে পারছি না।

অনুভবে বোঝার চেষ্টা করলাম। আমি মিত্রার কোলে মুখগুঁজে কুঁকড়ে মুকড়ে শুয়ে আছি। আমার হাতদুটো মিত্রার কোমড়টা জাপ্টে ধরে আছে। মিত্রার একটা হাত আমার মাথায়। গাড়ির দুপাশের দরজাটা হাট হয়ে খোলা। মনে হয় একটা গাছের তলায় গাড়িটা দাঁড়িয়ে।

তোমরা সবাই মিলে এরকম অবুঝপনা করলে চলে কি করে। মিত্রার গলা পেলাম।

না বউমনি ওনকাকে ছাড়বনি।

কেন এরকম করছো, অনিমেষদা বলেছে নিজে এবার ব্যাপারটা দেখবে।

অনিমেষদা অনেকদিন নু কইতিছে কি করছে।

কিছুক্ষণ চুপচাপ।

আজ চিকনাদাকে গুলি খাতি হছে কেন। সে কি দোষ করছে। অনিদা নিজের জন্য কিছু করছে। অনিদার জীবনে তুমি থাকতেও তুমি লাই, তনুদি লাই। কয়দিন তুমাদের সঙ্গে ঘর করছে। মোনকার কাছে গিয়ে বার বার কাঁদিছে। তুমান্যে কতটুক জান।

আজ মোনকাকে কে চিনতি শুনি। অনিমেষদারা মোনকার জন্য যা করিছে তার থিক্কা অনিদা বেশি করিছে। কনিষ্কদাকে মন্যে চিনতি। সে কি আইজকার কথা।

ছেলেমেয়গুলান বাপের আদর কুনওদিন পাইছে। তবু ছুড়কিটা জন্মাইতে অনিদা কোলে-কাঁখে লিছে। নিজের ছেলে-মেয়েকে সেউ বয়সে কোলে লিতে পারে লাই। কিসের জন্যি। নিজের জন্যি। তার কি মনে মনে এইসব ইচ্ছে করে লাই। আজ মন্যে যা কিছু কইরে কম্মে খাইঠি সব কুছু অনিদার জইন্যে।

রতনদা, আবিদদা অস্বীকার কইরতে পারবে।

ইসলামদাদাকে চিনছি অনিদার জন্যি। ভিকুভাই, আলতাফভাইকে চিনছি অনিদার জন্যি। কই তান্যে অনিদার জন্যি এততো কইরবেক কেনি। অনিদা কি তাদের পালছে। মন্যেও জানি তান্যেও জানে অনিদার কুছু হলে মোদের ভাত বন্ধ হয়ি যাবে।

সেউ দিনকার কথা তুমাকে কই লাই। একমাত্র চিকনাদা সব জাইনতো।

অনিদা ছাড়া চিকনাদার জীবনে কে আছে কওতো।

তুমি মোর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেক লাই।

আজ চিকনাদা মীরচাচা মোর একটুস ভুলের জন্য গুলি খাইছে। মুই ছারবেক লাই।

তুমি একবার অনিমেষদার সাথে কথা বলো। মিত্রা বললো।

না বউমনি কথা বলবোনি। আজ লোকটার শরীলে কিছু আছে। মোদের কথা ভাবতি ভাবতি তার জীবন শেষ। কেনি হবে। মনকাকে অনিদা জম্ম দিছে।

পিসি পর্যন্ত শুইন্যা কাঁইদা মরেঠে। মনকাকে গাল দেয়ঠে। সে কি চিকনাদাকে জন্ম দিছে।

আজ অনিদাকে মন্যে চিনছি পিসীর জন্যি। পিসী অনিদাকে প্রেথ্থম লিয়ে গেছলো মোনকার ওউখানে। সেই যে অনিদা যাতি শুরু করলি। আজ মোনকার ঘরের লোক। যারা অনিদাকে দেখে লাই তান্যে পর্যন্ত অনিদাকে ভালোবাসে। কেনি, অনিদা ভগবান?

অনিদার জন্যে সেউঠি স্কুল হইছে, ছেলেমেয়েগুলান লিখাপড়া শিখছে। মাস্টার হইছে। রোগে পথ্য দিছে। জলের জন্যি ইঁদাড়া খুঁড়ি দিছে। বেবাক লিজের পয়সায়। কই ত্যাখন কেউ আসে লাই। আজ সক্কলের দয়া উথলে উঠেঠে।

মনে হয় দারু কেঁদে ফেলেছে।

দারু এরকম করে না। তোমার অনিদা জেগে যাবে। কাল সারারাত ঘুমোয়নি। মিত্রা মাতৃ সুলভ অত্যন্ত নরম গলায় বললো।

ঘুমাইবে কি করে, তুমাকে যদি মারার প্ল্যান করে কেউ, সে ঘুমাইতে পারে। সেউটা ভেইসতে যেতে চিকনাদাকে মারি দিল।

আমাকে মারার প্ল্যান করেছিল! কে?

আন্টির জামাই। বড়ো গাছে লাউ বাঁধিছে, আজই মারি দিব শালাকে। কেউ বঁচাইতে পারবেক লাই। লিজে মরি যাতি হয় মইরে যাব। মোনকার জন্য লোকটা কততো কষ্ট সহ্য করতিছে।

দেখো আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। আমার দিকে তাকাও। একটু নড়লেই তোমার অনিদার ঘুম ভেঙে যাবে। কষ্ট হবে। তুমি আমার কাছে এসো।

না যাবনি। তুমি মোকে শপথ করাইবে।

কথা দিচ্ছি শপথ করাব না।

দারু মনে হয় কাছে এগিয়ে এলো। মিত্রা মনে হয় দারুর গায়ে হাত রেখেছে।

ছুড়কি কোথায়?

বলবোনি। তুমি অনিমেষদাকে কয়ে দেবে।

আমাকে ঘণ্টা খানেক সময় দাও। তারপর আমাকে একবার ফোন করো। অনিদা বললেও এই মুহূর্তে তোমরা হুট করে কোনও কাজ করো না। সামনে অতবড়ো একটা কাজ। আগামী সপ্তাহে এখানে ওদের আসার কথা।

ঠিক আছে তুমি যখন কইতিছো এক ঘণ্টা দাঁড়াইবো। অনিদা ছাড়া মন্যে তুমার কথা মানবো, আর কারুর কথা মানবনি।

আবার কাঁদে। তোমাদের অনিদা কাঁদে।

তুমি দেখ লাই মন্যে দেখছি। লোকটা কষ্ট পায়ি পায়ি কাঁদতি ভুলিগিছে।

দারুর গলাটা কেমন ভার ভার।

কতদিন অনিদাকে দেখি লাই। আজ ভাবলি টুকু দেখবো। দেখতে পাইলিনি। জাগাইতে কষ্ট হতিছে। ফোনে ফোনে যে টুক গলা শুনি। তাও বার বার কইবে দারু ভুল করবি লাই। ভাবি কাজ করবি। সেই ভুল করি ফেললি। দারুর কান্নার আওয়াজ পাচ্ছি।

কিছুক্ষণ দেখলাম সবাই চুপ। কারুর মুখে কোনও কথা নই।

কাইল্যা…হ দারুআকা বলিঠি…হ অনিদার গাড়ীর সামনে দেঁইড়ে আছি…গাড়ি অখন ছারতিছে।

দারুর গলা পেলাম মনে হয় ফোনে খবর পাঠাল।

রতনদা এবার চলি যা। মোনকার লোক সারারাস্তা ধরি আইছে। চকে ভিড় আইছে পারলে অনিদাকে জাগাইবি। তান্যে অনিদাকে ঘুমাইতে দেখলি ভাববি শরীল খারাপ। খেপি যাবে। অন্যথা করি বুইসবে। মন্যে বুঝলেও তান্যে বুঝবেনি।

বউমনি তুমাকে ফোন করবো। এর মধ্যি জানি লিবে।

তোমরা সাবধানে থাকবে। মিত্রা বললো।

গাড়ির দরজা বন্ধ হলো। আবিদ মনেহয় গাড়ি চালাচ্ছে। এসিটা আবার চালিয়ে দিয়েছে। কিছুতেই চোখ খুলতে ইচ্ছে করছে না। মিত্রার নরম আঙুল আমার চুলে বিলি কাটছে। তনু মনে হয় কোনও প্রকারে আমার পায়ের কাছে জড়োসড়ো হয়ে বসেছে।

তুই তখন ওরকম ভয় পেয়েগেলি? মিত্রা বললো।

কি বলছো! অতোগুলো লোক কিভাবে গাড়িটা দাঁড় করালো। তনু বললো।

ম্যাডাম আমরাও রেডি হয়েছিলাম। চাঁদ বললো।

তোরা চিনতিস না তাই। রতন বললো।

সেরকম হলে আবিদ গাড়ি থামাতো না। রান ওভার করে দিত। মিত্রা বললো।

সে তো থামাবার পর বুঝলাম। আবিদ যখন নেমে ওদের সঙ্গে কথা বললো। সবাই কেমন চুপ হয়ে গেল। একটা কথাও কারুর মুখ থেকে আর বেরলো না। তনু বললো।

দারু, শ্যাম, শিবু আমাদের থেকেও দাদাকে বেশি ভালবাসে। আমরা তবু মাঝে মাঝে দাদার কথা শুনি না। নিজেদের মতো করে কাজটা সেরে নিই। এরা দাদার কথা একবারে অমান্য করে না। দাদা যা বলবে সেটাই সব। রতন বললো।

এটা একদিনে হয় রতন। দারু কি বললো শুনলে। মিত্রা বললো।

ম্যাডাম দারু যা বললো সত্যি!

কি বলোতো।

তোমাকে মারার প্ল্যান করেছিল সাগর।

আমার মাথাতেও ঠিক ঢুকছে না। কাল রাতে যা কথা শুনেছি তাতে এই ব্যাপারটা নিয়ে একবারও কথা বলেনি।

কলকাতায় ফিরি। যদি ব্যাটা বেঁচে থাকে তাহলে আমিই ওকে খাব। চাঁদ বললো।

তোমরা আর মাথা খারাপ করো না। মিত্রা বললো।

মাথা খারপ বলছেন ম্যাডাম—যদি সত্যি সত্যি আপনার কিছু হতো। আমরা বাঁচতাম। অনিদা আমাদের সবকটাকে ছট্টু বানিয়ে ছেড়ে দিত। চাঁদ বললো।

সত্যি ম্যাডাম চাঁদ ঠিক কথা বলেছে। সেদিন যদি ওই ঝুপরিতে দাঁড়িয়ে আপনি অনিদার চোখ মুখ দেখতেন। হাসতে হাসতে দাম করে ছট্টুর মুখে একটা লাথি মেরে দিল। মুহূর্তে মধ্যে অনিদার চোখ মুখের চেহারা একবারে বদলে গেল। গলার স্বর পর্যন্ত চেনা যাচ্ছে না। টোটাল চেঞ্জ।

আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম অনিদা ইয়ার্কি মারছে। রিয়েলি আমরা হাসছিলাম। যেই ছট্টু অনিদার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো, অনিদা এবারের মতো ক্ষমা করে দাও আর হবে না। আমি ভুল করেছি। তুমি ঘোষদাকে বলো না আমাকে মেরে দেবে। বিশ্বাস করবেন না ম্যাডাম তখনও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। ছট্টু বলে কি!

তারপর নেপলাকে যখন গলা চড়িয়ে বললো তখন বুঝে গেলাম হয়ে গেছে। ছট্টুকে বাঁধার পর আমাদের যখন বললো, আমার কথার যেন নড়ন চড়ন না হয় তাহলে তোদেরও কুত্তার মতো মেরে দেব, তখন বুঝলাম অনিদা কি জিনিষ।

তারপর কি হয়েছিল তুমি সব জানো। দেখো দেখো তোমাকে বলছি আর আমার গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে যাচ্ছে। কতদিন আগেকার ঘটনা। এখনও চোখের সামনে ছবির মতো ভাসছে।

আবিদ থামলো।

কেনো আমি, চিনা চেঁচিয়ে উঠলো।

হ্যাঁ। তোর কথা বল ম্যাডামকে। আবিদ বললো।

আমাকে মেরেই দিয়েছিল। ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে গেছিলাম। সেদিন থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কারুর সাথে গাদ্দারি করলেও অনিদার সঙ্গে গাদ্দারি করবো না।

দম কাকে বলে সেদিন দেখেছিলাম।

তখন আমি আনোয়ারের সঙ্গে কাজ করি। রমরমা বাজার। অনিদা, সাগিরকে দিয়ে বলে পাঠালো। আমাকে আনোয়ারের কাছ থেকে সরে যেতে হবে। ওই মুহূর্তে আনোয়ারের কাছ থেকে সরে গেলে আমার প্রচুর লস। আমি সাগিরকে ফুটিয়ে দিলাম।

কে না কে অনি ব্যানার্জী আমাকে ধমকায়। তারপর একদিন সাগির নেপলাকে নিয়ে নিজে এলো। কথা বললাম। ভাবলাম এখানেই মালটাকে সাঁটিয়ে দিই। দেখলাম সাগির, নেপলা পুরো তৈরি হয়ে এসেছে। আমি কিছু করার আগেই আমার শরীরটা ঝাঁঝরা হয়ে যাবে।

বেরবার আগে আমাকে শুধু বললো, তোমাকে এক ঘণ্টা সময় দিলাম। এর মধ্যে আমাকে ফোন করে তোমার ডিসিসন জানাবে।

পাত্তা দিইনি। তখন ইসলামভাই-এর এ্যান্টি গ্রুপ তৈরি করে ফেলেছি। দেদার টাকা দেওয়ার লোক জুটে গেছে, অনেক দাদা কাছে আসছে। সে এক এলাহি ব্যাপার।

অনিদারা বেরিয়ে এলো তখন কটা হবে দশটা সাড়ে দশটা। আমার যারা সাঙ্গ-পাঙ্গ তাদের ডাকলাম। আলোচনা করলাম। সবার এক কথা। দেখি না কতটা দম।

ঠিক সাড়ে এগারটা স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিনজন ঢুকলো আমার ডেরায়। দেখেই চিনতে পারলাম। এদের মাসোহারা দিই। ভাবলাম নোট নিতে এসেছে।

তারা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো, কি ডিসিসন নিলি?

কিসের ডিসিসান!

অনিদা যা বলে গেছে।

ভাবলাম যাদের টাকা দিই যাদের সঙ্গে ভালোমন্দ কথা হয়, তারা হঠাৎ একথা বলছে কেন!

ওদের চোখ মুখটা সেদিন ভালো লাগলো না।

কিসের ডিসিসন, কে না কে হরিদাস পাল অনি ব্যানার্জী বলবে আর আমাকে মানতে হবে।

শুধু এইটুকু বলেছি। মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে আমার সাতজন সঙ্গী ধপ ধপ পরে গেল। চেয়ার থেকে দাঁড় করিয়ে আমার থাইদুটো ঝাঁঝড়া করে দিল।

যাওয়ার সময় বলে গেল।

মারার পার্মিসন দেয়নি, তাই মারলাম না। একবছর ধরে নিজের পা দুটো ঠিক কর, তারপর ব্যবসা করবি।

সাতটা বডিকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেল।

সেই রাতেই কলকাতা থেকে কোনওপ্রকারে পালিয়ে গেলাম।

ফিরে এসে শুনলাম অনিদা নিজেই হাওয়া। তারপর খোঁজ খবর নিয়ে সব জানলাম। তখন চিন্তা করলাম যে এতবড়ো গেম খেলতে পারে নিজের জীবনকে নিয়ে, সে আরও বড়ো খেলার দম রাখে। অনিদা একা নয়। অনেক বড়ো বড়ো মাথা অনিদাকে সাপোর্ট করে।

মাঝে সাগির এলো কলকাতায়। আমার সঙ্গে দেখা করে বললো। অনিদা তোকে মারেনি কেন জানিষ, অনিদার তোকে ভালো লেগেছিল। তুই সত্যি কথা বলেছিস। তোকে অনিদা কিছু কাজের দায়িত্ব দিতে চায় করবি। এটুকু কথা দিতে পারি সারাজীবন খাওয়া পরার আভাব থাকবে না। সম্মানের সঙ্গে বাঁচবি।

তারপর অনিদার সব ব্যাপার শুনে আমি থ। সাগিরের মুখ থেকে যাদের নাম শুনছি তাদের কোনওদিন চোখে দেখিনি। অনিদা তাদের সঙ্গে ওঠা বসা করে। আমি সেখানে চুনোপুঁটি।

সাগির বললো তুই চাইলে তোর সঙ্গেও কথা বলিয়ে দিতে পারি।

তখন সর্বস্ব খুইয়ে বসে আছি।

পরের দিন ভাইজ্যাক গেলাম। মারানভাই-এর সঙ্গে আলাপ হলো। জীবনটাই বদলে গেল।

কুড়ি বছর ধরে অনিদার কাজ করেছি। কাউকে জানতে দিইনি। রতনদা, আবিদদার সাথে কতোবার কথা হয়েছে। ওরা জানতেই পারেনি। বার কুড়ি দুবাই গেছি অনিদার কাছে।

জানেন ম্যাডাম এতদিন কথাটা চেপে রেখেছিলাম আজ বলছি। অনিদাকে বলবেন না তাহলে আমাকে মেরে দেবে। আমার জীবনের সেরা কাজ ভাইপো ভাইঝির জন্মদিন।

ওরা হয়তো অবাক হয়ে তাকিয়েছে চিনার দিকে আমি মিত্রার কোলে মুখ গুঁজে পড়ে আছি।

বেশ মজা লাগছে।

অবতার খবর পাঠালো। ম্যাডাম নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছে। আমরা কাকা হতে চলেছি। তোকে দেখভালের দায়িত্ব নিতে হবে।

ভাবলাম এ আবার কি রকম কাজ। তারপর অনিদা সব গুছিয়ে বলে দিল।

তখন কিন্তু তনুদিকেও চিনি না চিকনাদাকেও চিনি না।

চারদিন আগে থেকে ওই তল্লাট ছিল আমার দখলে। মনাদা-টনাদা আমাকে গাইড করেছে।

সারাদিন সামনের পার্কে ভিখিরি সেজে বসে মাটি ঘেঁটেছি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় কারা কারা আসছে কারা কারা যাচ্ছে তার খবর সাপ্লাই করেছি।

আমাকে খবর দিত মনাদার শালি। টেম্পোরারি আপনার ঘরের স্যুইপার হয়েছিল। আর টনাদার পরিচিত লোকরা বানজারা সেজে বসে ছিল নার্সিংহোমের তলায়।

আপনাকে কখন অপারেসন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কখন আপনাকে বার করা হয়েছে। শুধু চেষ্টা করেও ভাইপো ভাইঝির ছবিটা দাদাকে পাঠাতে পারিনি। সেই মেয়েটা তুলেছিল। কালো হয়ে গেছিল।

তবে তিনদিনের মাথায় দাদাকে দুটো ফ্রেস ছবি পাঠিয়েছিলাম। এক সপ্তাহের মাথায় দাদা টাকা পাঠিয়েছিল। বলেছিল প্রমোটিং-এর ব্যবসা শুরু কর। কিন্তু কারুর চোখের জল ফেলবি না। ফ্রেস ভাবে ব্যবসা করবি। তাতে দুটো পয়সা কম ইনকাম হয় হোক। কিন্তু শান্তিতে থাকবি।

আজও করছি। টিম চালিয়েও কয়েক কোটি টাকার এ্যাসেট করেছি। দায়ে আদায়ে দাদা শেল্টার দিয়েছে। কেউ টেঁ-ফুঁ করেনি।

রতনদা, চিনা তো বড়ো খলিফা। চাঁদ চেঁচিয়ে উঠলো।

আস্তে কথা বলো চাঁদ, তোমার অনিদা উঠে পরলে আবার বিপদ।

সরি সরি ম্যাডাম।

তুমি একবার অনিমেষদাকে ফোন করো। আবিদ বললো।

এখন করবো না চকে নেমে করবো।

এখুনি করো, ঘুম থেকে উঠে পরলে আবার অন্য মূর্তি দেখবো। রতন বললো।

তনু আমি তো নড়তে পারছি না। নীপার কাছে ব্যাগটা আছে। মোবাইলটা বার করে একটু ডায়াল করে দে। নীপা তনুদিকে ব্যাগটা দে।

আমি মরার মতো পরে আছি। বেশ লাগছে ওদের কথাবার্তা শুনতে। এসিটা মনে হয় একটু বেশি করে দিয়েছে বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। মিত্রার নরম পেটে মুখটা আরও জোর করে গুঁজে দিলাম।

দিদি কোমরের বোতামটা খুলে দেব। তনু বললো।

দিস না, উঠে আবার গালাগাল করবে। এই কোলে মাথা দিয়ে শুইয়েছি তার জন্য কতো কথা শুনতে হয় কে জানে।

ম্যাডাম আমাদের একটু শুনিও।

যদি উঠে যায়।

উঠবে না। দেখছো না কোনও সেন্স নেই। যেন কতদিন ঘুমোয়নি।

অনিমেষদা।

হ্যাঁ বল।

এত চেঁচামিচি কেন!

আর বলিস না। অনি চলে যেতেই এরা লেগে পরেছে। দাঁড়া একটু সামলিয়ে নিই তারপর তোকে ফোন করছি।

ভয়ের কিছু নেই তো?

এসপিটা সুবিধার নয়। কি আর বলবো। দাঁড়া ওদের একটু থামাই তারপর কথা বলছি।

ঠিক আছে।

কিগো রতন, কি কথা শুনছি।

আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না ম্যাডাম। অনিদা কোথায় কি স্কিম করে রেখেছে বোঝা মুস্কিল। শুনলে তো চিনার কথা সেই সময় আমরা অনিদাকে কিভাবে হন্যে হয়ে খুঁজেছি। তুমি আমাদের কতো কথা শুনিয়েছ। আর অনিদা আমাদের কতো কাছে ছিল। ব্যাটা কুড়ি বাইশ বছর পর গল্প বলছে।

আমার মনে হয় দারুদা সম্পূর্ণ অভিনয় করে গেল। চাঁদ বললো।

দারুদা অভিনয় করেনি। দারুদা এই ঘটনার বিন্দু বিসর্গ কিছু জানে না। এটা হয়তো অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া আছে সেই-ই করছে। তাকে দারুদা চেনে না। সেও দারুদাকে চেনে না। চিনা বললো।

অনেক জট বুঝলে ম্যাডাম। তোমার আমার কম্ম নয়। যে দায়িত্ব দিয়েছে করে যাই। রতন হাসতে হাসতে বললো।

রতনদা সামনের দিকে তাকা। আবিদ বললো।

ম্যাডাম দেখুন একবার অবস্থাটা। রতন বললো।

সত্যিতো এতো লোক ছিল কোথায়! মিত্রা বললো।

আবিদ একবারে কিছু বলবি না। গাড়ির দু-পাশের পাল্লা খুলে দিবি। বলবি আপনারা কেউ চেঁচামিচি করবেন না। দাদা একটু ঘুমিয়ে পড়েছে। ম্যাডাম আস্তে আস্তে ডাকছে। রতন বললো।

নীপাদি তুমি এলাকার মেয়ে, নেমে সামলাবে। আমাদের তুড়ি মেড়ে উড়িয়ে দেবে। চাঁদ বললো।

ওই তো সঞ্জুদা আর ওকে দেখতে পাচ্ছি। নীপা বললো।

সুবীর আছে! মিত্রা বললো।

হ্যাঁ।

গাড়িটা মনেহয় থেমেছে। হালকা একটা চেঁচামিচির আওয়াজ পেলাম। তারমানে আবিদ গেটটা খুলে নামলো। মিত্রা আমার মাথায় হাত রেখেছে। কাপরটা একটু গুছিয়ে নিল।

কোমড় থেকে আমার হাতটা আস্তে করে আলগা করে দিল। কাপরের আঁচল দিয়ে আমার মুখট আলতো করে মুছিয়ে দিল।

আমার চোখে আলো পরলো। বুঝলাম মিত্রার সাইডের গেটটা খোলা হয়েছে।

ম্যাডাম, অনির শরীর খারাপ নাকি? সঞ্জুর গলা পেলাম।

ঘুমিয়ে পড়েছে। মিত্রা বললো।

এক কাজ করো ম্যাডাম, ওকে ডেকো না। তোমরা বরং বাড়ি চলে যাও।

না ওকে ডাকি, না হলে হিতে বিপরীত হবে।

বেচারাকে দেখলেও খারাপ লাগে। কি জ্বালা বলো। এদিকেও সামলে উঠতে পারছি না। যেন বারুদের স্তূপের ওপর বসে আছি। বাসু ফোন করেছিল। আবার দুটো অঘটন ঘটে গেছে।

আবার কি হলো!

পরে বলছি।

বুবুন। মিত্রা আস্তে করে ডাকলো।

আমি কোনও সাড়া শব্দ দিলাম না।

বুবুন আমরা চকে এসেছি। উঠবি না। মিত্রা আবার মাথাটা ধরে সামান্য দোলালো।

থাক না ম্যাডাম, দাদা যখন ঘুমচ্ছে ডেকো না। সুবীর বলে উঠলো।

আমি সামান্য নড়ে উঠলাম।

বুবুন আমরা চকে এসেছি। একটু চা খাবি।

উঁ।

আমরা চকে এসেছি।

মাথাটা একটু সরিয়ে মিত্রার মুখের দিকে তাকালাম। ঝাঁ ঝাঁ রোদের আলো চোখে এসে পড়লো। চোখ বন্ধ করে নিলাম।

আমরা এখন চকে দাঁড়িয়ে আছি।

মিত্রার মুখের দিকে তাকালাম।

চকে এসেগেছি?

চারদিক তাকিয়ে দেখি গাড়ির সমস্ত দরজা হাট করে খোলা। গাড়িতে কেউ নেই। আমি মিত্রার কোলে শুয়ে আছি। ভীষণ লজ্জায় পেড়েগেছি এইরকম ভাব করে একহাত জিভ বার করে উঠে বসার চেষ্টা করলাম।

মিত্রার চোখমুখ হাসছে। আর তোকে লজ্জা পেতে হবে না।

তনু কোথায়?

একটু বাইরে গেছে।

তুই যাবি না?

তুই না উঠলে যাই কি করে।

আমি উঠে বসলাম।

রতনরা কই?

কাছাকাছি আছে।

সুবীর, সঞ্জু নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে। আমাকে দখে হাসছে।

সুবীর সামনে থেকে জলের বোতলটা দাও তো।

চল পরিদার দোকানে গিয়ে চোখে মুখে জল দিবি। সঞ্জু বললো।

এতো লোকজন কেনরে সঞ্জু?

তোকে দেখতে এসেছে।

পকেটে হাত দিলাম মোবাইলটা পেলাম না।

মোবাইল তো? মিত্রা তাকালো।

আমি চোখের ইশারায় বলললাম হ্যাঁ।

আমার কাছে আছে, যা গিয়ে বস দিচ্ছি।

মিত্রা প্রথমে নামলো তারপর আমি নামলাম।

প্রায় শ-চারেক লোক গিজ গিজ করছে। সকলেরই চোখে মুখে কমবেশি উত্তেজনা। গ্রামের কয়েকটার মুখ বাদে বেশিরভাগ মানুষকেই চিনতে পারছি না।

মিত্রা চলেগেছে। সঞ্জু-সুবীর আমার পাশে। আরও বেশ কয়েকজন রয়েছে।

পরিদার দোকানের সামনে এলাম। ভোলা দেখি চা করছে মুখটা বেশ ভার ভার।

আমার দিকে তাকিয়েও যেন তাকাল না।

সুবীর জলের মগটা আমার হাতে দিল।

আমি দোকানের বাইরে এসে, ভালোকরে চোখে মুখে জল দিলাম। সুবীর দাঁড়িয়ে।

নীপা কোথায়?

বৌদিদের সঙ্গে একটু বাইরে গেছে।

তোমরা কখন এসেছো?

সকাল থেকে আছি।

জলের মগটা সুবীরের হাতে দিলাম। এখন অনেকটা ফ্রেস ফ্রেস লাগছে। চোখের জলুনিটা অনেকটা কমে এসেছে। পকেট থেকে রুমাল বার করে মুখটা মুছলাম। দেখলাম মিত্রা, তনু, নীপা এদিকে এগিয়ে আসছে। কাছে এসে হাসলো।

তোকে প্রথম রুমাল ব্যবহার করতে দেখলাম।

তুই কাছে ছিলি না তাই তোর কাপরে মুখটা মুছতে পারলাম না।

ভোলা কিছু খাওয়াবে। মিত্রা ভোলার দিকে তাকাল।

ভোলা আস্তে করে বললো, ভেতরে এসে বসুন, দিচ্ছি।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev