বিদ্যার দেবী সরস্বতী, এই পুজোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে এইবছর কালনার তেহাট্টা সদানন্দ মহাবিদ্যালয়ের মাঠে বইমেলার আয়োজন করেছেন পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রণব রায় মহাশয়। তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত গভীর ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার ফলস্বরূপ কালনা অঞ্চলের ছাত্রছাত্রী থেকে আপামর গ্রামবাসী নতুন করে কালনার আর এক মার্জিত রূপ দেখতে পেল।

এই পুজোয় সারা বাংলা যেখানে ডিজে বাজিয়ে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে হাঁটছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রণববাবু দৃঢ় প্রত্যয়ে একাকী দাঁড়িয়ে গেলেন বই সম্বল করে প্রায় নির্জন মাঠে। এবং জ্ঞানবৃক্ষের যে-বীজ তিনি রোপন করে দিলেন আগামী প্রজন্ম তার সুফল ভোগ করবে নিঃসন্দেহে। মাঠে নেমে মুঠোফোনে মুঠো ভরতি হাতেও তিনি নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন একটি বই তুলে দেওয়ার। বাচ্চাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি গ্রামের এবং গ্রামান্তরের মানুষকেও বিভিন্ন রকমভাবে বইমুখী করে তোলার প্রচেষ্টায় সদা সচেষ্ট থেকেছেন।

তাঁর এই সম্পৃক্তি মুগ্ধ করছে প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার ও বিক্রেতাদেরও। বই যে নিঃস্বার্থ অক্ষয় বন্ধু প্রণববাবু সেকথাও স্বরণ করিয়েছেন বারবার।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ উদ্বোধন হয়েছে এই বইমেলার, ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধন করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল বাশার। এ ছাড়াও অন্যান্য বিদগ্ধজন তাঁদের মূল্যবান মতামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন এই মেলাকে। তিনদিনের এই মেলায় কলকাতা ও স্থানীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সংস্থা তাদের বিপুল বইয়ের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছে এখানে। অক্ষরযাত্রা প্রকাশন, কলাবতী মুদ্রা, জাগোবাংলা, পরিচয় প্রকাশনী, জ্ঞান প্রকাশন, অভিজয় প্রকাশনী ইত্যাদি ছোট বড়ো ২৫টি দোকান তাদের সাধ্যমতো ছাড় দিয়ে পাঠক তৈরির কাজে মগ্ন থেকেছে।

সব মিলিয়ে ‘নাকছাবিটি হারিয়ে’ যাওয়া মাঠের মাঝে জীবন খোঁজার এই চেষ্টা সার্বিকভাবেই সফল বলে মনে করি।
খুব সুন্দর প্রতিবেদন। মেলার সাফল্য কামনা করি।