২ নভেম্বর ২০২০ বিধায়ক মানস মজুমদারের উদ্যোগে গোঘাট বিধানসভার বেঙ্গাই নেতাজী সংঘের পার্শ্ববর্তী ময়দানে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষক মারা কৃষিবিল প্রত্যাহার ও উত্তরপ্রদেশে, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, বিহার-সহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এসসি/এসটি মানুষের উপর অত্যাচার ও মহিলাদের ধর্ষণ-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভার আযোজন করা হয়। আহ্বায়ক মানস মজুমদার তাঁর ভাষণে বিজেপিকে আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যপাল জগদীপ ধরকরকেও আক্রমণ করেন। ২০২১-এ বিধানসভার ভোটকে পাখির চোখ করেই আজকের এই জনসভা। তার কিছুটা চেহারাও আজ চোখে পরলো সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ কিন্তু বুঝে গেছে সার্কাসে যেমন লড়াই হয়, এক দড়ি থেকে ঝাঁপিয়ে আর এক দড়িতে লাফিয়ে পড়ে, তেমনি ওদের নেতারও এখন থেকেই লাফালাফি ঝাঁপাঝাপি শুরু করে দিয়েছে, কে কখন মুখ্যমন্ত্রী হবে সেই নিয়ে। দিলীপ ঘোষের স্বপ্ন মুখ্যমন্ত্রী হবে, আমাদের থেকে একটা গেছে সেও বলছে মুখ্যমন্ত্রী হবো, গলার লকেটও বলছে আমি মুখ্যমন্ত্রী হবো—সবাই বলছে মুখ্যমন্ত্রী হবো। আর আমরা কি বলছি, শুনুন ছাপাছাপি লাফালাফি যাই করুন না কেন বাংলায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকেও তীব্র আক্রমণ করেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দালালি করতে এসেছেন—এই রাজ্যপাল আমাদের এই রাজ্যটাকে সর্বনাশ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু উনি জানেন না, বাংলায় তৃণমূলের লাড়াই, ৩৪ বছর ধরে লাড়াই করে আজ তৃণমূল এই জায়গায়। আপনাকে একটা কথা জানাই—আপনি কাগজ তৈরি করে বক্তৃত্বা দিচ্ছেন আর আমি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রাইম ব্যুরোর ওয়েবসাইট থেকে কাগজ ডাউনলোড করে বক্তৃত্বা দিচ্ছি। এরপর তিনি বিজেপি শাসিত এক একটি রাজ্যে কত মহিলা অত্যাচারিত হয়েছে তার একটা খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন—২০১৮ সালের হিসেব অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে প্রতি দু-ঘণ্টায় একজন করে মহিলা অত্যাচারিত হয়েছে এবং প্রতি দেড় ঘণ্টায় একটা শিশুর ওপর অন্যায় অত্যাচার হয়েছে। মোট অত্যাচারিত হয়েছে ২৭৩৬ জন। এরপর তিনি একে একে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং বিহারের খতিয়ান তুলে ধরেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে তিনি বলেন এখানে মাত্র ১২৩ জন অত্যাচারিত। পাশাপাশি ভোটের আগে দলিতদের ঘরে বসে আমিত শাহের কলাপাতায় খাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আজকের অনুষ্ঠানে দিলীপ যাদব-সহ উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য-সদস্যা, গোঘাট-১ ও গোঘাট-২ ব্লকের পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও সদস্যারা।