ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা রাজ্যপালের। বুধবার ১৫ এপ্রিল তিনি রাজ্যে আধা সেনা নামানোর পক্ষে সওয়াল করেন। লকডাউন নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেও পরে ঢোঁক গিলে কলকাতা পুলিশের সমালোচনা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই সঙ্কটে কেউ কেউ সহযোগিতা না করে আধা সেনা নামানোর কথা বলছেন! কমান্ড হাসপাতালের সেনা চিকিৎসক ও তাঁর পরিবার তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই রোগ কখন কার হবে তা বলা যায়?

বৃহস্পতিবার সকালে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি টুইটারে লেখেন, দ্বিতীয় দফার লকডাউনের বিধিনিষেধ নিয়ে পজিটিভ সাড়া মিলছে। ফলে কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিচ্ছি প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে কাজ করুন। নিজের একশো শতাংশ দিন। লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এবং লকডাউন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, নন-পারফর্মিং আধিকারিকদের বিরুদ্ধ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যপাল এটাও লেখেন, এটা নাকি গঠনমূলক পরামর্শ। কারণ এখন সমালোচনা করার সময় নয়।

বয়স কম হয়নি। তবু সব দেখেও বিজেপি নেতাদের মতো কথা বলে চলেছেন রাজ্যপাল। কলকাতা পুলিশকে না চটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে চেষ্টা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মাননীয় রাজ্যপাল মনে রাখুন আপনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। করোনা মোকাবিলায় আপনার আধা সেনা মোতায়েনের পরামর্শ অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং এমন কথা সংবিধানে কোথাও বলা নেই। আপনি প্ররোচকের ভূমিকা নিয়ে যে থিওরি দেখাচ্ছেন সংবিধান কিন্তু তাকে সমর্থন করে না।
আমাদের প্রশ্ন, যেভাবে রাজ্যপালরা কেন্দ্রীয় সরকারের হয়েই কথা বলেন এবং বেশিরভাগই নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে একটি দলের কথা বলেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল পদটা রাখার যৌক্তিকতা কী? এ তো সেই হাতি পোষার খরচ!