আজ ৬ আগস্ট, ২০২১ বাবার ১৫তম প্রয়াণ দিবস। এই তো সেদিনের কথা। দেখতে দেখতে ১৪ বছর পেরিয়ে গেল।
৫ আগস্ট, ২০০৭, সকাল থেকেই বোঝা গিয়েছিল বাবা আর বাড়ি ফিরতে পারবেন না।
আসলে ২০০৫ এ মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই বাবার বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই কেমন যেন কমে গিয়েছিল। মুখে কিছু বলতেন না কিন্তু বুঝতে পারতাম এক অব্যক্ত যন্ত্রণা বাবাকে কুরে কুরে খেত।
আসলে দুজনে দুজনকে ছেড়ে থাকতে পারতেন না। বেশি করে বাবা।
বাড়ি ঢুকেই বেলা বেলা করে হাঁক পারতেন।
বাবা তো প্রায় আত্মহত্যা করেছিলেন।
১২ জুলাই ২০০৭ কোচবিহার পৌরসভার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোচবিহারের বিভিন্ন রাস্তা অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন।
অনেক দিন থেকেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারবাবুরা খুব সাবধানে থাকতে বলেছিলেন। আমরাও নানাভাবে বোঝাতে চেষ্টা করতাম।
১১ জুলাই রাত থেকে সারা জেলা জুড়ে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে প্রচন্ড বৃষ্টি সকালেও একই অবস্থা।আমি তৈরি হয়ে বাবা কে বললাম আমরা তো আছি তোমার এই অবস্থার মধ্যে যাবার দরকার নেই।
এককথায় আমার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বললেন, কিছু হবেনা আমাকে যেতেই হবে।
ঐ হাওয়া আর বৃষ্টির মধ্যে তিন চার জায়গায় বক্তব্য রাখলেন।
কোচবিহার থেকে ফেরার সময় কয়েকটি রবীন্দ্র সংগীত এর ক্যাসেট কিনে আনলেন,তখন সময় কাটানোর সঙ্গী হিসেবে বই এর সাথে গান।
দুদিন যেতে না যেতেই জ্বর ও কাশি। ভর্তি করা হলো মেরিনা নার্সিং হোমে। বাড়ি ফিরে আবার অসুস্থ এবার কোচবিহারের শীলা নার্সিং হোম।
৬ আগস্ট বিকেল সোয়া পাঁচটায় চোখের সামনে দেখলাম এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ ব্যক্তির মৃত্যুর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
৫ তারিখ থেকেই আমি সর্বক্ষণ নার্সিং হোমেই থাকছিলাম।
ডাক্তার সাহা নিজের থাকার ঘর আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
দুটো ঘটনা আমার সব সময় মনে পরে।
বাবার মৃত্যুর পর কতো ফোন যে ধরেছি তার হিসেব নেই। রাতে ফোন করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। সমবেদনা জানালেন। মনে পড়ে না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা বিমান বসু কোনও ফোন করেছিলেন বলে।
এই কথাটা আরও বেশি করে মনে পড়ে এই কারনে আজ ডাক্তার সুশান্ত রায় উত্তরবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত ওএসডি জানালেন আমি যখন কোভিড আক্রান্ত হয়ে শিলিগুড়ির নেওটিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ডাক্তার রায়কে ফোন করে আমার খোঁজ খবর রাখতে বলেছিলেন।
এটাই হয়তো সত্যিকারের মানবিকতা।
আর একটি ঘটনা আমাকে সব সময় পীড়া দেয় বাবু শেষ কয়দিন জিকো কে খুব দেখতে চাইছিলেন কিন্তু সেই আশা আমি মেটাতে পারিনি। এখন যখন অনেক দিন উজানের সাথে দেখা বা কথা হয়না তখন মনে হয় ঐ পাপের শাস্তি আমি পাচ্ছি।
আসলে বাবু যেদিন মারা যান সেই দিনই জিকো ব্যাঙ্কের চাকরি তে জয়েন করে।
বাবু ৫.১৫ মি: মারা যান, আদরের নাতিকে কি সময় দিয়েছিলেন প্রথম দিন অফিস শেষ করার?
যেখানেই থাকো আমার প্রনাম নিও।