একদিকে দিশাহীন, সুবিধাবাদী কংগ্রেস, অন্যদিকে প্রলোভনের ফাঁদ পেতে আগ্রাসী ঘোড়া কেনাবেচার সিদ্ধহস্ত মোদী-শাহের বিজেপি। আদর্শকে চুলোয় পাঠিয়ে মধ্যপ্রদেশে সরকার ফেলার নির্লজ্জ চিত্রনাট্য! হোলির দিন যা টানটান লড়াইয়ের রূপ পেল। মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ সরকারের নিশ্চিত পতন থেকেও কি শিক্ষা নেবে কংগ্রেস? অন্যদিকে বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততো ভালো। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভার ফল ঘোষণার দিন ফুলের চাদরে ঢেকে হাত নেড়ে দিল্লিতে বিলাসবহুল পার্টি অফিসে যাওয়ার সুযোগ পাননি। সংসদে দিল্লি গণহত্যা নিয়ে বিবৃতি দিতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে সরকার দখলের আঁচ পেয়েই মঙ্গলবার ১০ মার্চ তাঁরা দুজনেই সটান হাজির পার্টি অফিসে। এদিনই মোদী, শাহের সঙ্গে দেখা করার পর টুইটারে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। যে পদত্যাগপত্রের ছবি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেন তার তারিখ ছিল সোমবারের। এরপরই বেঙ্গালুরুর রিসর্টে থাকা ১৯ জন বিধায়ক তাঁদের ইস্তফা রাজভবনে পাঠান। দলত্যাগী বিধায়কের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২২ হয়েছে, ছয় মন্ত্রী এঁদের মধ্যে রয়েছেন। এঁদের বরখাস্ত চেয়ে কমলনাথ চিঠি দেন রাজ্যপালকে। যদিও সরকার ধরে রাখার সংখ্যা কমলনাথের হাতে নেই। জ্যোতিরাদিত্যর সঙ্গে কমলনাথের মন কষাকষি অনেক দিন ধরেই চলছিল। রাজনৈতিক মহল মনে করে, রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ করুক এমন কাউকেই কংগ্রেস উঠতে দিতে চায় না! জ্যোতিরাদিত্যর কথা, তিনি কংগ্রেসে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে পারছিলেন না। বোঝাতে চেয়েছেন তাঁকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। কংগ্রেস শিবিরের কথা, তাঁকে অনেক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির প্রলোভন এড়াতে পারেননি! সদলবলে বিজেপিতে যোগ দিলেও সূত্রের খবর, জ্যোতিরাদিত্যকে এখনই মুখ্যমন্ত্রী করবে না বিজেপি। খাঁটি কথা বলেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি টুইটে লেখেন, গান্ধী পদবির জন্য যাঁরা গান্ধী নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসে খালি খুঁত খুঁজে পান, তাঁরাই সিন্ধিয়া দল ছাড়ায় দল বড়ো ধাক্কা খেল বলছেন। বাস্তব হলো, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সফল জননেতা, রাজনৈতিক সংগঠক বা প্রশাসক হওয়ার সামর্থ্য কমই রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, এরপরও কংগ্রেস সতর্ক না হলে বিপদে পড়বে তারাই।
