শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দলকে শক্তিশালী করতে ময়দানে নামছে কামতপুর প্রগ্রেসিভ পার্টি। সোমবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই ইঙ্গিত দিল কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতৃত্ব। তবে দলের দাবী সম্পূর্ণ বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি কামতাপুরী ভাষা স্বীকৃতির দাবীতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুমকি দিল কেপিপি।
কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রধান অতুল রায় চলতি বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। এরপরই দলের হাল ধরেছে তারই স্ত্রী মেনকা রায়। তবে বর্তমানে দলকে শক্তিশালী করাই প্রধান লক্ষ্য দলের। তাছাড়া সামনেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে ঘর গোছাতে শুরু করেছে কেপিপি। ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ২৭ করা হয়েছে। কমিটিতে মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে দুই জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এরা হল মালদা থেকে প্রভা শীল ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে তপন সরকার। পাশাপাশি দলের শক্তি বৃদ্ধি করতে আগামী ১ ডিসেম্বর মাস থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ও নিম্ন আসাম এলাকায় সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযানে নামছে কেপিপি। তবে এর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে ১ লক্ষ। সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দলের তরফে সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় বলেন, দলকে এই মূহুর্তে দলকে সাগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাই প্রধান লক্ষ্য কেন্দ্রীয় কমিটির। সেই লক্ষ্যেই সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযান করা হচ্ছে। এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে দুই জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এতদিন পর্যন্ত যেকোন নির্বাচনে কেপিপি বিভিন্ন দলকে সমর্থন জানিয়েছে। এর আগেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করেছিল দল। তবে বিজেপিতে কেপিপির কোনো দাবী পূরণ না হওয়ায় বিধানসভা ভোটের আগে ফের তারা তৃণমূলকে সমর্থন জানায়। তবে আগামী মহকুমা পরিষদের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কিনা তা এখনও খোলসা করেনি। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পর ঘোষণা হবে বলে দাবী দলের।
অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুমকি দিল কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টি। এদিন দলের তরফে বলা হয় লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কামতাপুরী ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর কিছুই হয়নি। তাই আগামী শীতকালীন লোকসভার অধিবেশনে বিজেপি যদি তাদের দাবী পূরণ না করে তবে বিজেপির বিরুদ্ধে টানা আন্দোলনে নামবে কেপিপি।