কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনায় অতিরিক্ত মাত্রা চড়িয়েছেন কানহাইয়া কুমার নিজেই। তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁন্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সেই সাক্ষাতের পরেই সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমারকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। তিনি নাকি কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। একা তিনি নন, পাতিদার সম্প্রদায়ের নেতা তথা গুজরাতের নির্দল বিধায়ক জিগ্নেশ মেবাণীও। তিনিও কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। প্রসঙ্গত, গুজরাতের গত বিধানসভা নির্বাচনে জিগ্নেশের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী দেয়নি। এতে নির্বাচনে জেতাটা তাঁর পক্ষে কিছুটা হলেও সুবিধা হয়েছিল। জল্পনা তিনিও কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন।
যেমনটা জানা গিয়েছে, সিপিআই দলে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতির দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আর কোনওভাবে মানিয়ে নিতে পারছেন না। মঙ্গলবার তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। দু’জনের মধ্যে কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগ নিয়েই কথা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা জানিয়েছেন যে কানহাইয়া চলতি মাসেও দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তিনি সেখানে বক্তব্যও রেখেছিলেন।
সাম্প্রতিককালে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, সুস্মিতা দেব, প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, জিতিন প্রসাদের মতো একাধিক কংগ্রেস নেতা দলত্যাগ করেছেন। কংগ্রেস দলের মধ্যে যে তারুণ্যের একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে কানহাইয়া কুমার এবং জিগ্নেশ মেবাণীর মতো জনপ্রিয় তরুণ রাজনিতিক কংগ্রেসে যোগ দিলে কংগ্রেস যে অনেকটাই লাভবান হবে কংগ্রেস সে কথা বলাই বাহুল্য। তার ওপর বছর ঘুরলেই দেশের একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং মণিপুরের বিধানসভা নির্বাচন গায়ে গায়ে। তারপরও তালিকায় যোগ হবে আরও কয়েকটি রাজ্য। জাতীয় রাজনীতির অন্যতম তরুণ মুখ এবং বাগ্মী কানহাইয়া কুমার এবং জিগ্নেশ মেবানি ওই রাজ্যগুলির নির্বাচনের আগেই যদি রাহুল গান্ধির হাত ধরেন তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস বড়সড় সাফল্য দেখতে পারে।
এমনটাই যদি হয় যে কানহাইয়া কুমার সিপিআই দলে আর মানাতে পারছেন না তবে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠক যে তাঁর কংগ্রেসে যোগদানের পথ প্রসস্থ করতে- তবে জল্পনার মধ্যে কিছুটা হলেও তো বাস্তবতা আছে। কানহাইয়া কুমারের ঘনিষ্ঠ মহল তো বেশ কিছুদিন ধরেই বলছেন, এই যুবনেতা সিপিআই দলে কোণঠাসা। তার মানে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইছেন। সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা যাই বলুন, কংগ্রেস সুত্রে খবর; বিহার রাজনীতিতে কানহাইয়া কুমার কংগ্রেসের প্রভাব বাড়াতে আগ্রহী। কংগ্রেস সেই রাজ্যে গত কয়েক দশক সেভাব প্রভাব বাড়াতে ব্যর্থ। গত বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি এবং সিপিআইএম(এল)-এর সঙ্গে জোট বেঁধেও মাত্র ১৯টি আসন ঘরে তুলতে পেরেছে রাহুলের দল। কংগ্রেস মনেপ্রাণে চাইবে কানহাইয়া দলে এসে বিহারের সংগঠনকে চাঙ্গা করুক। পাশাপাশি গুজরাতের বিজেপি-বিরোধী তরুণ মুখ জিগ্নেশ মেবানির বিষয়েও সমানভাবে আগ্রহী কংগ্রেস।
কিন্তু কানহাইয়া কুমার নিজেই বলছেন এসব শুধুমাত্র জল্পনা। সত্যতা বিন্দুমাত্র নেই। এমনকি কানহাইয়া জানাচ্ছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নাকি তাঁর কোনো বৈঠকই হয়নি। তাহলে ঘটনাটা কি? কানহাইয়ার জবাব, জল্পনা ছড়ানোর কারণ হল কংগ্রেস নেতা নাদিম জাভেদের সঙ্গে তাঁর একটি ছবি নাদিম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, যার সঙ্গে তিনি কিছুদিন দিল্লিতে লাঞ্চ করেছিলেন। নাদিম জাভেদ এনএসইউআই(NSUI) -এর প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি, ভারতীয় যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি এবং মিডিয়া প্যানেলিস্ট।
অন্যদিকে কিছুদিন আগে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, কানহাইয়া রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করছেন। তখনও কানহাইয়া বলেছিলেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একটি সর্বভারতীয় দলের সদস্য। রাজনীতির কারণেই তাকে অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হয়। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে জেডিইউ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন কানহাইয়া কুমার। নিতিশ কুমার ছাড়াও সেখানে ছিলেন অশোক চৌধুরী। কানাইয়া কুমার এই সাক্ষাতের কথাও উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতা হিসেবে উঠে আসেন কানহাইয়া কুমার। ২০১৬ সালের শুরুতেই কানহাইয়া সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন বিজেপি বিরোধী কর্মসূচিতে বিতর্কিত মন্তব্য করে। সেই সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ছাত্রজীবন শেষে তিনি যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিহারের বেগুসরাই থেকে সিপিআই প্রতীকে প্রার্থীও হন তিনি। জিততে না পারলেও সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গাও পেয়েছেন তিনি। তবে, সম্প্রতি দলের সঙ্গে তাঁর দুরত্ব বেড়েছে। তাঁর কাজের পদ্ধতি, উদ্ধত আচরণের জন্য দল তাঁকে সতর্কও করে একবার। তবে ভারতীয় রাজনীতিতে সুবক্তা হিসেবে কানহাইয়া কুমার জনপ্রিয়। অবশ্য সম্প্রতি কিছুটা হলেও পেছনের সারিতে চলে গিয়েছেন তিনি। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে তার কংগ্রেস যোগের জল্পনা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।
২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে ইতিমধ্যেই সমস্ত অবিজেপি দলগুলিকে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে সকল বিরোধীদের একজোট হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কানহাইয়া কুমারের কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার জল্পনা সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।