শান্তিনিকেতনে প্রথম যেদিন সুচিত্রা মিত্রকে দেখেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মোহরদি সেদিন শহর কলকাতায় জন্মানো সুচিত্রা মিত্রের আধুনিকতার সৌন্দর্য্যে অবাক হয়ে, “কি সুন্দর দেখতে” একথা অস্ফুটে বলেই ফেলেছিলেন বন্ধুদের। সুচিত্রা মিত্রের পায়ে সুন্দর জুতোজোড়া দেখে আশ্রমের লালমাটির ধুলোমাখা নিজের খালি পায়ের দিকে তাকিয়ে আড়ষ্ট বোধ করেছিলেন মোহরদি, মনে মনে ভেবেছিলেন, “আমাদের সঙ্গে কি এই মেয়ের বন্ধুত্ব হবে ?”
সে ভুল তাঁর ভেঙে যায় অচিরেই। আশ্রমিক সাহচর্য ও গুরুদেবের শিক্ষায় কলকাতা আর ভুবনডাঙার দুই আবাসিকের বন্ধুত্ব হতে বেশি সময় নেয়নি। পরবর্তীতে দুজনেই রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির ধারক ও বাহক হয়ে স্বকীর্তিতে আজও আমাদের মাঝে বিরাজমান। গুরুদেবের এই দুই ছাত্রী রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপি হয়ে বাংলা কেন সারা বিশ্বে বেঁচে আছেন।
রবীন্দ্রসঙ্গীতের সমসাময়িক এই দুই কিংবদন্তী শিল্পীকে আমার সাংবাদিকতার জীবনে একসাথে এই একবারই দেখার সুযোগ হয়েছে। যদিও মোহরদি ও সুচিত্রা মিত্রর পেশাগত রেষারেষি নিয়ে অনেক কথা কানে আসতো। কিন্তু এই সব বিষয় আমি এড়িয়ে চলতাম। আমার কাছে তাদের গানগুলোই ছিল মন ভালো রাখার সম্পদ। শুনেছি ভীষন আত্মিক একটা সম্পর্ক ছিলো এই দুই মহান শিল্পীর।
যাক এসব কথা…এই ছবিটি বাংলায় ১৪০০ সালের ২২ শ্রাবণ শনিবার ইংরেজি মাস ১৭ আগস্ট ১৯৯৩ তে তোলা। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়।
আনন্দবাজার তখন বিশিষ্ট সব সিনিয়র ফটোগ্রাফারদের ভীড়ে অ্যাসাইনমেন্ট তখন লটারির মতো। ফাঁকফোঁকরে পেয়ে যাই তো ভালো নাহলে সবটাই নিজের মাথা খাটিয়ে নানান খবর রেখে ছবি তুলতে হতো। ছবি ছাপা হলে অবশ্য পারিশ্রমিক মাস গেলে তখনকার সময় মতো ৪০ কি ৫০ মাস গেলে ৮০০ টাকা বাঁধা। আমার মতো কলকাতার বন্ধু প্রায় সব ফটোগ্রাফারদের লড়াই করতে হতো। সে লড়াই এখনও চিত্র সাংবাদিকরা করেই যাচ্ছে।
যাইহোক সেদিন বাইশে শ্রাবণ সকালে অফিস যাবার সময় মনে ছিলোনা। অফিসে বহুক্ষণ বসেও আস্যাইনমেন্ট পেলাম না। হঠাৎ কাগজের দিকে চোখ যেতেই খেয়াল হলো, আরে আজ তো বাইশে শ্রাবণ। নেতাজী ইনডোরে বামফ্রন্টের একটা অনুষ্ঠান হবে। অনেক শিল্পী সাহিত্যিকরা ওখানে যাবেন। একবার দেখি যদি একটা ছবি করা যায়।
তখন বামফ্রন্টের আমল। তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস পালন শুরু হয়েছে। এমনিতে সিপিএম কবে থেকে রবীন্দ্রপ্রেমী হলো সেটা আমার জানা নেই তবে স্বাধীনতাপূর্ব বাঙালীর আইকন রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজিকেও এরা একসময় ছাড়েনি নোংরা কটূক্তি করতে। পরবর্তী সময়ে সিপিএম তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করে হয়তো বাঙালী মননে রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব অনুধাবন করে।
আসলে কমিউনিস্ট পার্টির নিয়মটাই তাই। ওরা সময়ের চাহিদা বুঝতে চায় না। বঙ্গ কমিউনিস্টদের মধ্যে আমার মনে হয় মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীই এই সিপিএম পার্টিকে আধুনিক রূপ দেবার চেষ্টা শুরু করেছিলেন সময় থাকতেই। যদি সেটার জন্য যথেষ্ট অপদস্থও হয়েছিলেন। সিপিএম পার্টির গঠনতন্ত্রের বদল না আনলে এটা যে মমতার হাতে চলে যাচ্ছে সেটাও একমাত্র বুঝেছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুও অনেকটা বুঝেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের সিপিএমের মহান কমরেডরা সেটা কিছুতেই মানতে চায়নি। বুঝতেও চায়নি। ফলত আমিও সাংবাদিকতার জীবনে কখনো ভাবিনি কমরেডরা মহাশূন্য হয়ে যাবেন।
সুভাষবাবু চিরকালই সময়ের উপযোগিতা বুঝে চলতে চাইতেন। কমিউনিস্টদের আদর্শের পরিপন্থী হলেও জ্যোতি বসুর জন্মদিন সুভাষবাবু ও ওনার স্ত্রী রমলাদি শেষ দিন পর্যন্ত পালন করে গেছেন। সুভাষবাবু তো একবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন বলে তাঁর প্রায় দল ছাড়ার মত অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। আসলে আমি বলতে চাইছি মানবকল্যাণের হেতু আদর্শের রূপরেখা বদল করা উচিত। যেটা সিপিএম বোধহয় এখনও ভাবতে শেখেনি। কিংবা শিখছে এখন।
এই আমার দোষ, বলতে শুরু করলে মহাকাব্যের ভূমিকা হয়ে যায়। যাইহোক মূল গল্পে ফিরি….
নেতাজী ইনডোরে গিয়ে দেখি বেশ পরিপূর্ন স্টেডিয়াম না থাকলেও অনেক মানুষ এসেছেন। এদিক ওদিক তাকাতেই নিচে মঞ্চের সামনের সারিতে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মোহরদিকে চোখে পরলো। খুব আনন্দ হলো। আমি যতটা পারি অনেকরকম কায়দাকানুন করে মোহরদির কিছু ছবি তুললাম। তখনই শুনলাম সুচিত্রা মিত্রও আসবেন গান করতে। আমি ভাবলাম, “বাঃ এটা তো খুব ভালো সুচিত্রা মিত্রের সঙ্গে মোহরদির একসাথে নিশ্চই একটা ছবি হবে? ছবি সাদা বাড়ির কালো গ্রিল না ছাপলেও আমার নিজের সংগ্রহে একটা ভালো ছবি থাকবে। দেখা যাক?”
নানান শিল্পীর গান শুনছি। কিছু সময় পর সুচিত্রা মিত্র ঢুকলেন। সিঁড়ির উপরে উঠতে গিয়ে বাঁদিকে তাকিয়ে দেখলেন মোহরদি বসে আছেন। উনি কাছে এসে মোহরদিকে জড়িয়ে ধরলেন। একটু কথা বললেন আস্তে আস্তে। তারপর গটগট করে মঞ্চে উঠে গেলেন। আমার ছবি হলো….মনটা ভালো হয়ে গেলো।
হটাৎ শুনলাম সুচিত্রা মিত্র গান শুরুর আগে মাইকে বলছেন, “মোহরদি তুমি এসো। আমার পাশে বসো। আমি গান গাইলেও তুমি পাশে থাকো আর তুমি রাজি হলে আমরা একসাথেও কিছু গান গাইবো। এসো ওপরে এসো।”
কথাগুলো শুনেই ইনডোরে উপস্থিত মানুষ হাততালি ও চেঁচিয়ে উঠলো। আমি নিজেও খুব আনন্দিত। মোহরদির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওনার প্রবল আপত্তি। উনি হাত বাড়িয়ে না না করছেন। কিন্তু বারংবার অনুরোধ ফেলতে না পেরে ধীরে ধীরে স্টেজে উঠে সুচিত্রা মিত্রের ডানদিকে বসলেন। আমি এর আগে এই দুই লেজেন্ডকে একসাথে স্টেজে গাইছেন দেখিনি, এমন কি দুজন পাশাপাশি এরকম ছবি আমার ঝুলিতে নেই। ভালোই হলো!!
সুচিত্রা মিত্র অনেকগুলি গান গাইলেন। মোহরদি একটা গান বোধহয় নিজে গাইলেন, আর দুটো দু-জনে একসঙ্গে। সবটা ঠিক মনে নেই। পরে দেখলাম দুই শিল্পিকেও সম্বর্ধনা দেওয়া হলো।
অফিসে ফিরতেই চিফ ফটোগ্রাফার জিজ্ঞেস করলেন, “কিরে দাড়ি কিছু তুলেছিস?”
বললাম, “বিশুদা ওই আজকে তো বাইশে শ্রাবণ। নেতাজী ইনডোরে গেছিলাম…সুচিত্রা মিত্র আর কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসাথে একটা ছবি তুলতে পেরেছি।”
“তাই!! আচ্ছা প্রিন্ট কর’…বিশুদা বললেন।
বন্ধু ফটোগ্রাফার রাজিব বসুকে দিয়ে একটা ক্যাপশন করে ছবিটা বিশুদার হাতে দিলাম। বিশু দা ভালো বলে তারিফ করলেন।
তখন আমি গিরিশ পার্কে বন্ধু সুপ্রিয় হালদারের বাড়িতে থাকি। সকালে কাগজ দেখতে প্রায় রোজই গিরিশ পার্ক মোড়ে চায়ের দোকানের পাশে এক কাগজ বিক্রেতার কাছে যেতাম। আজকাল থেকেই ওনার কাছে সব কাগজ ছবি ছাড়াও খবর গুলো পড়তাম। আজকাল থেকেই উনি আমায় চেনেন। যেদিন আমার ছবি প্রকাশিত হতো সেইদিনের কাগজটা কিনে নিতাম। রোজ কাগজ কেনার পয়সা কোথায়। ফিল্ম ক্যামেরা লেন্স নেশা করতেই মাস শেষে বন্ধুদের কাছে ধার। গিয়েই দেখলাম আনন্দবাজারে প্রথম পাতায় যে ছবিটা দিয়েছি বড়ো করে ছাপা হয়েছে। কিন্তু আমার নাম দেয়নি। নিজস্ব চিত্র লেখা।
দুঃখ পেলাম। একটু রাগও হলো। ইশ এতবড়ো একটা ছবি আমার নাম নেই! কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকায় বুঝতেই পারছেন… এই নিয়ে কোনো কথা চলবে না। কিন্তু বিশ্বাস করুন এই ছবি আমি কোনো কাগজে সেদিন দেখিনি।
এখানে একটা বিষয় আপনাদের বলি, এই ধরনের ফাংশনে নেতাজী ইনডোর কিংবা অন্য কোনো হলে কেউ গাইবেন, কেউ নাচবেন সিনিয়র বিশিষ্ট প্রেস ফটোগ্রাফাররা এগুলোকে খুব একটা পাত্তা দিত না। তাছাড়া এই ধরনের ছবি তোলার জন্য দেশ, আনন্দমেলা, আনন্দলোক, সানন্দা সব ধরনের ম্যাগাজিনের জন্য অনেক ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার থাকতো। তারাই এগুলো কভার করে দিয়ে যেতেন।
আমি অ্যাসাইনমেন্টের বাইরে নাচ, গান, আর্টিস্টদের বিশেষ কোনো কিছু প্রোগ্রাম দেখতে মাঝেমধ্যে রবীন্দ্রসদন, নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়াম কিংবা নন্দন চত্বরে ঢুঁ মারতাম। ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স হতো যখন রাগসঙ্গীতের “র” না বোঝা আমি পৌঁছে যেতাম। অধিকাংশ সময়ই সেইসব ছবি ছাপা না হলেও আমার একটা সুবিধা হয়েছিলো যখন আমি কলকাতার পাতায় ছবি তুলি তখন এই চেনা জানা আমার খুব কাজে এসেছিলো। তাই এখনও বহু আর্টিস্টদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অটুট।
ছবির ঘটনা এটুকুই….
এই দুই শিল্পীর একসাথে ছবি খুব কমই হয়েছে। মোহরদির মৃত্যুর পর কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন নিয়ে যাবার সময় ট্রেনে আমি ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে কলকাতায় সুচিত্রা মিত্রের সাথে আমার একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
এখন যারা বাংলার প্রথম সারির গাইয়ে আমি নাম করছি না, তারা যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রথম রেকর্ড করেছে তাদের অনেকেরই মনের ইচ্ছে ছিলো সুচিত্রাদিকে দিয়ে উদ্বোধন করানোর। কিন্তু উনি এতো নাকউঁচু ছিলেন হঠাৎ করে কেউ রবীন্দ্রসংগীত গাইলে উনি সেই ক্যাসেট উদ্বোধনে যেতেন না। এবং বাড়িতেও ঢুকতে দিতেন না।
এরকম চারজন আর্টিস্ট আমার তোলা সুচিত্রাদির বিভিন্নরকম ছবি দেখে হয়তো ভেবেছিলো ওনার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। আমি তখন কলকাতার পাতায় ছবি তুলছি প্রতিদিন নতুন কিছু একটা। শিল্পীরা আমার সাথে যোগাযোগ করে ক্যাসেট উদ্বোধনের অনুরোধ করতেন। কিন্তু আমি জানি, সুচিত্রাদি কোথাও যেতে চাইতেন না।
আমি বলতাম, “ওইটা পারবো না। তোমরা যেটা করতে পারো ওনার বাড়ি গিয়ে একটা ক্যাসেট বা সিডি দিয়ে আসতে পারো। সেই অনুরোধ আমি করতে পারি। আমার কলকাতার পাতায় একটা ছবিও হবে।”
সুচিত্রাদিকে একথা বললে শুরুতে আপত্তি করলেও আমার কথা ফেলতে পারেন নি। আমিও বলতাম এটাই শেষ আর বলবো না। ছবি তোলার পর সুচিত্রাদিও বলতেন, “এটাই শেষ কিন্তু অশোক। তুমি এসো ঠিক আছে। আর্টিস্ট মানুষ কাউকে এনো না। আমি একা থাকতে ভালোবাসি।”
সুচিত্রা মিত্রের জন্মদিন এবং তাঁকে নিয়ে কলকাতার পাতায় নানা রকমের ছবির জন্য আমি ওনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম তা নয় এমনিও যেতাম। কারণ ওনার রবীন্দ্রভাবনায় জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকেও ভাবনায় ফেলতো। উনি নানা কথা বলতেন। একটা জিনিষ দেখতাম সুচিত্রাদি কথা বলতে বলতে অনেকসময় কেঁদে ফেলতেন। আমার খুব খারাপ লাগতো। ক্যামেরাটা সোফার ওপর রেখে মাথা নিচু করে বসে থাকতাম।
সুচিত্রাদি আমায় বলতেন, “অশোক, অনেককিছু জানলাম….দেখলাম….অনেককিছু বোঝাও হলো। কিন্তু আমার অনেক কথা বাকি রয়ে গেল। জানিস!!”
আমি চুপ করে থাকতাম। আজকের সময় হলে ওই রয়ে যাওয়া কথা আমি শুনতে চাইতাম। কিংবা বলতাম, “আমায় বলো, আমি শুনবো।”
কিন্তু বিশ্বাস করুন ওইসময় কান্নাভেজা চোখে শিল্পী যখন আমায় এ কথা বলতেন…. আমার সাহস হয়নি কিছু জিজ্ঞেস করার। আমি শুধু দেখতাম কখন উনি নরম্যাল হচ্ছেন…. হাসছেন….অপূর্ব তাঁর সেই হাসি।
সুচিত্রাদির বেডরুমের পাশে যেখানে ওনার ছবি তুলতাম সেখানে একটা মাটির রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ছিলো। আমি মাঝেমধ্যেই ছবির প্রয়োজনে মূর্তিটা এদিক ওদিক সরিয়ে দিতাম। সেটা সুচিত্রাদি লক্ষ করেছিলেন। একদিন বললেন, “অশোক বারবার তুমি গুরুদেবকে এখান থেকে ওখান, ওখান থেকে এখান করো কেন? ওটা যেখানে আছে সেখানেই থাকতে দাও। তোমার হাতে পরলে দেখছি শান্তিনিকেতনটাও তুমি আরেক জায়গায় নিয়ে যাবে। যে যেখানে আছে সেখানেই থাকুক। আমিও যেমন আছি।”
সুচিত্রাদির সঙ্গে এরকম অনেক না বলা কথা রয়েছে। এবার থামতে হবে। এই জায়গাটা তো বই না। সুচিত্রা মিত্রের বহু ছবি যা প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু অনেক ঘরোয়া ছবি আমার কাছে আছে। আমি যদি কখনো ছবি নিয়ে কাজ করি সেগুলো আপনাদের দেখানোর সুযোগ করে দেবো। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে সুচিত্রা মিত্র, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায় …এই তিনটি বিখ্যাত বাঙালির নামটা “স” দিয়ে শুরু। এনাদের নিয়ে ছবির প্রদর্শনী করবো কিন্তু আমার যা হয় পরিকল্পনা মনে মনেই থেকে যায়। বাস্তব এখনও অন্ধকারে।
শেষে শুধু এটুকু বলতে পারি, মোহরদি, সুচিত্রাদির মত শিল্পীরা বোধয় আর কখনো জন্মাবে না। যাঁদের ধ্যানজ্ঞান সবটাই রবীন্দ্রচরণে অর্পিত। আজ ছবিওয়ালার গল্প রবীন্দ্রসঙ্গীতের কিংবদন্তি দুই শিল্পী সুচিত্রা মিত্র ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি লিখে শেষ করলাম।
আর ঠিক দুদিন পরই কবিগুরুর জন্মদিন। রবীন্দ্রনাথ বাঙালীর রোজদিনের একটা অভ্যাস। জ্ঞানে অজ্ঞানে আমরা যারা বাঙালী তাদের মননে কিভাবে রবীন্দ্রনাথ গেঁথে আছে তা আমরা নিজেরাও ঠিক জানিনা। ছোটবেলায় না বুঝলেও যেটা আমি ছবি তোলার সূত্রে প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জে গিয়ে অনুভব করেছি। বাঙালী সত্তায়, সামাজিকতায়, উৎসবে, আনন্দে, বেদনায় রবীন্দ্রনাথ এভাবেই বিরাজ করবেন আজি হতে শত শতবর্ষ পরেও।।
০৬.০৫.২০২৩
অশোক বাবু, এই রকম লেখার জন্যেই বসে থাকি।
খুব ভালো লাগলো।
“এমনিতে সিপিএম কবে থেকে রবীন্দ্রপ্রেমী হলো সেটা আমার জানা নেই”….. তাই নাকি? কাকাবাবুর অনুরোধে লাঙল পত্রিকায় রবি ঠাকুর কবিতা লিখে দিয়েছিলেন, জানিস? সমু ঠাকুরের সঙ্গে পার্টির সম্পর্ক, ওর রাশিয়া যাওয়া….. অশিক্ষিত নেত্রীর অশিক্ষিত চ্যালা।।