চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট। নতুন বছর শুরুর আগে সেই সব রাজ্যে ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। কর্নাটকে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা ২০২৩ সালে। তার আগে ২০২১ সালের গোড়ায় কর্নাটকে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। সেই ভোটের ফলাফলে বিজেপি-কে পিছনে ফেলেছিল কংগ্রেস। বিধানসভা ভোটের দুই বছর আগে কর্ণাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বদল হয়। কর্ণাটক রাজ্যজুড়ে চলা ইয়েদুরাপ্পা-বিরোধী হাওয়াকে থামাতে বিজেপি সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বদল করে। ইয়েদু ঘনিষ্ঠ বাসবরাজ বোম্মাইয়া হন কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী রদবদলের আগেই কন্নড়ভূমে বিধানসভা উপনির্বাচন আয়োজিত হয়েছিল। সেই ভোটে পদ্ম শিবির কংগ্রেস-জেডিএস জোটের কাছে পর্যুদস্ত হয়। তার পর বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে বাসবরাজ বোম্মাইকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসায় পদ্ম-শিবির। বিধানসভা উপনির্বাচনের পর পুরসভা নির্বাচন। সে রাজ্যের অর্ধশতাধিক শহরে ৫৮টি পুরসভার মোট ১,১৮৪টি ওয়ার্ডের ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলেও কোনও ছাপ ফেলতে পারল না বিজেপি। পদ্মশিবিরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বরের ২৫ আসনের বিধান পরিষদের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ১২ টি আসন, কংগ্রেস ১১ টি। একটি করে আসন পেয়েছিল জেডিএস এবং নির্দল প্রার্থীরা। এই জয়ে বিধান পরিষদে বিজেপির আসন সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে হয় ৩৮। অন্যদিকে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২৯ থেকে কমে দাঁড়ায় ২৬। জেডিএস-এর ১২ থেকে কমে হয় ৯। বিধান পরিষদের ২০১৫ সালের নির্বাচনে বেশি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। সেই নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৬ টি আসন। কংগ্রেস ১৪ টি এবং জেডিএস জয়ী হয়েছিল ৪ টি আসনে। একটি আসন গিয়েছিল নির্দলদের দখলে। ১০ ডিসেম্বরের বিধান পরিষদের নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য বিজেপি কর্নাটক বিধান পরিষদে আসন সংখ্যার নিরিখে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর ২০টি জেলায় ছড়িয়ে থাকা ৫৮টি শহরের সংস্থায় নির্বাচন এবং বিভিন্ন শহরের সংস্থার ৯টি ওয়ার্ড এবং ৫৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে উপ নির্বাচন হয়। যে ১১৮৪টি আসনে নির্বাচন হয়, তার মধ্যে ৫০১টি আসনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে এরপর বিজেপি জয়ী হয়েছে ৪৩৩টি আসনে। কর্ণাটক রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, নির্দল পেয়েছে ২০৫ টি আসন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ফলাফলকে বিজেপির পক্ষে বড় ধাক্কা বলেই মনে করেন।
ভোটের হারের নিরিখে কংগ্রেস পেয়েছে ৪২.০৬ শতাংশ ভোট, পাশাপাশি বিজেপি এবং জেডিএস পেয়েছে যথাক্রমে ৩৬.৯০ শতাংশ এবং ৩.৮ শতাংশ ভোট। জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইয়ের বিধানসভা কেন্দ্র শিগ্গাওঁয়ের আন্তর্গত বাঁকাপুর টাউন মিউনিসিপাল কাউন্সিল ও গুট্টাল টাউন পঞ্চায়েতেও জয়ী হয়েছে কংগ্রেস।
এই নির্বাচনে বিজেপিকে পিছনে রাখতেপেরে কংগ্রেস এ রাজ্যে কিছুটা হলেও বাড়তি অক্সিজেন পেল। এই নির্বাচনে কর্ণাটকের একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ বর্তমান সরকার সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের এই ফলাফলে এটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কর্ণাটকের জনগণ এই ভোটে কংগ্রেসকে সমর্থন করছে। কর্ণাটক রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, এবং বহু জায়গায় কংগ্রেস বিজেপির অনেক ভারী নেতা ও মন্ত্রীদের ওয়ার্ডে জয় কায়েম করেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইয়ের জেলা ধরওয়াড়ের মানুষ তাদের মতামত কংগ্রেসের পক্ষে জানিয়েছে। এর একতা বড় প্রভাব ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে পড়বেবলেই মনে করা যায়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গোড়ায় পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে পিছিয়ে ছিল। এরপর বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে বাসবরাজ বোম্মাইকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়েও পদ্ম-শিবির ভোটের ফলাফলে ছাপ ফেলতে পারল না। ২০২৩ সালে কর্নাটকে বিধানসভা ভোট, তার আগে এই ফল বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। কাড়োন শুধু তো পুরভোট নয়, শহর লাগোয়া পঞ্চায়েতগুলিতেও কংগ্রেস বিজেপিকে পিছনে ফেলে রেখেছে। ৫৮৮টি পঞ্চায়েতের মধ্যে যেখানে কংগ্রেস পেয়েছে ২৩৬টি সেখানে বিজেপির ঘরে গিয়েছে ১৯৬টি পঞ্চায়েত। এর পাশাপাশি অন্যান্যদের ঝুলিতে গিয়েছে ১৪৭টি পঞ্চায়েত। একইভাবে ৪৪১টি পুরসভার মধ্যে কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ২০১টি, বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ১৭৬টি আর জেডিএস পেয়েছে ১২টি পুরসভা।
বিএস ইয়েদদুরাপ্পাকে তাঁর দলের একাংশ বিশেষ চায়নি, তারা মনে করছিল, নেতৃত্বে বদল প্রয়োজন কিন্তু বাসবরাজ বোম্মাইকে সামনে রেখে কর্নাটকে বিজেপি দল কি এগোতে পেরেছে? আগামী ২০২৩ সালে কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন, বোম্মাইকে সামনে রেখে বিজেপি জিতবে একথা তখন নেতৃত্ব মনে করেছিল, ইয়েদদুরাপ্পা দল এবং রাজ্য নেতৃত্বের থেকে দূরে সরে গেলেও বাসবরাজ বোম্মাই কি কাছাকাছি আসতে পারবেন কিনা এখন সেটাই দেখার।