রামমোহন রায়ের জমিদার বাড়ির লাঠিয়াল (লেঠেল), আবার রণপায়ে উল্লেখযোগ্য ডাকাত। তার স্মৃতিচিহ্ন আজও রয়ে গেছে খানাকুলের চক্রপুরে। সেই রোমহর্ষক ডাকাত কাঞ্চন মাঝি (সর্দার)- কে মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি। ভুলবেই বা কী করে। তার প্রতিষ্ঠা করা সাড়ে তিনশো বছরের আরাধ্যা কালীমা আজও পূজিত হয়ে আসছে। হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে চক্রপুর। এবারেও তার জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, সাড়ে তিনশো বছর আগে বন — জঙ্গলে ঘেরা তালপাতার ঘরে ঘট স্থাপন করে মা কালীর প্রতিষ্ঠা করেন ডাকাত কাঞ্চন সর্দার। কারণ ডাকাতি করতে যাবার আগে মায়ের আদেশ নিয়ে কাঞ্চন বের হতেন। সেই পূজা এখন বিগ্রহরূপ নিয়েছে। তালপাতার ঘরের পরিবর্তে সুন্দর মন্দির নির্মিত হয়েছে। কথিত, দুর্ধর্ষ ডাকাত ছিলেন কাঞ্চন সর্দার। রাজা রামমোহন রায়ের পরিবারের লেঠেল ছিল। রণপা করে দ্রুত ডাকাতি করে ফিরে আসত কাঞ্চন। ইংরেজ আমলে ধরাও পড়ে। কিন্তু মা কালীর কৃপায় জেল থেকে বের হয়ে রাতে পুজো সেরে জেলেই ফিরে যায়। এ কাহিনী লোকমুখে আজও প্রচলিত। কাঞ্চন সর্দারের পরবর্তী বংশের গীতারাণী পণ্ডিত ও তাঁর ছেলে অনিমেষ এই পুজোর দায়িত্বে আছেন।

অনিমেষ পণ্ডিত জানান, আশপাশের সকলের সহযোগিতায় এই পুজো চলে আসছে। শববেদীর উপরে মাকে রেখে আরাধনা করা হয়। পঞ্চমুণ্ড আসনে বসে পুরোহিত পুজো করেন। সমস্ত প্রাচীন আচারপ্রথা মেনে বৈদিক মতে আজও পুজো হয়ে আসছে। দুটো করে ঘট স্থাপন করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে একটা আর একটা পুরোহিতের পক্ষ থেকে। তিন প্রহরে পুজোর রীতি অব্যাহত।প্রতি অমাস্যায় নতুন করে ঘট তোলা হয়। শ্যামাপূজা উপলক্ষ্যে তিন দিন পূজা- অর্চনা হয়। মেলা চলে সাতদিন। এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত জেলা, এমনকি বাইরের রাজ্য ও বাংলাদেশ থেকেও ভক্তরা আসেন। এছাড়া নিত্যপুজো প্রথা চলে আসছে। শ্যামাপুজো ক’টা দিন ভোগ নিবেদন ও বলিপ্রথা আজও রয়ে গেছে।উল্লেখ্য, এই জাগ্রত কালীর কাছে ভক্তিভরে মানত করলে কার্যসিদ্ধি হয়। এমনকী পাগলও ভালো হয়। এই মিথ এখনো চালু আছে। তাছাড়া এখানকার পুকুরের জলে স্নান করলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এখনও প্রতিদিন মন্দিরে আসেন নিত্য অসংখ্য ভক্ত।
এই প্রাচীন কালী পুজোকে ঘিরে প্রতি বছর ভিড় সামলাতে প্রশাসন তৈরি থাকে। বিশেষ করে বিসর্জনের দিন।