রামমোহন রায়ের জন্মস্থল হুগলীর খানাকুলে শুরু হল রামমোহন মেলা। নবজাগরণের অগ্রপথিক, বিশ্বনাগরিক এবং বঙ্গ-আধুনিকতার অন্যতম ধারকবাহক রামমোহন রায়ের ২৫০ জন্ম শতবর্ষ উৎসব উপলক্ষে এই মেলা। হুগলী জেলাপরিষদের উদ্যোগে রামমোহন কলেজ সংলগ্ন মাঠে কোভিদ বিধি মেনে রামমোহন রায়ের জন্ম তিথিতে রামমোহন মেলায় উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, হুগলী জেলাপরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমান, সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, মন্ত্রী বেচারাম মান্না এবং অন্যান্য গুণিজন। এই উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গনে একটি সুবিস্তৃত মেলা আয়োজিত করা হয়েছে।
সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন রামমোহন রায়ের আধুনিকতা আমাদের চিরকাল পথ দেখাবে। রামমোহনের নারী জাগরণের পথ ধরেই আজকের সরকার নারী ক্ষমতায়নের পথে হাঁটছে। তার মতে প্রতিটি যুগে যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন রামমোহনের মত মানুষের আবির্ভাব ঘটে। তিনি এই মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার জন্যে হুগলী জেলাপরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন ভারতপথিক রামমোহনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জীবন এবং কর্মজীবন সম্বন্ধে নানান কথা উল্লেখ করে বলেন ১৮৫৯-এ পাদ্রি রেভারেন্ড জেমস লং রাধানগরে এসে রামমোহন রায়ের জন্মস্থান চিহ্নিত করে সেখানে একটি ছোট বেদি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯১৬ সালে এলাকাবাসী এবং ব্রাহ্মসমাজের যৌথ উদ্যোগে রামমোহন স্মৃতি মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত হলে নকশা আঁকেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ঠাকুর পরিবারের বধূ হেমলতা দেবী। তিনি জানান হেরিটেজ কমিটি এর আগে এই ভিটের ছবি তুলে নিয়ে গেছে। আগামী দিনে হেরিটেজ কমিটি ভিটেটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করছে এবং এখানে একটি শিলালিপি বসানোর পরিকল্পনা করছে। খুব শীঘ্রই একটি দল এই এলাকা ঘুরে দেখবে। এই মেলা আয়োজন করার জন্যে তিনি হুগলী জেলাপরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তাছাড়া বক্তৃতা করেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি রামমোহনের নারী জাতির প্রতি অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্নাও রামমোহন রায়ের স্মৃতিতর্পণ করেন।

হুগলী জেলাপরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমান পেজফোরনিউজ-এর প্রতিনিধিকে জানান বিশ্বের প্রগতির ইতিহাসে রাজা রামমোহন রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর গ্রামে আমরা রামমোহন মেলা আয়োজন করতে পেরে ধন্য হয়েছি। বাংলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা আজ হুগলীর কৃতিতম সন্তান রাজা রামমোহনের নামে যে বার্তাগুলো স্থানীয় মানুষকে দিলেন, আশাকরি স্থানীয় মানুষেরা এবং সর্বোপরি আমরা সেসব কথা মাথায় রাখব। হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রকর শুভাপ্রসন্নবাবু মঞ্চে যে অসামান্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন, তাকে বাস্তবায়িত করে তুলতে হুগলী জেলাপরিষোদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী দিনে আমি নিজে থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটিকে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে যা কিছু প্রয়োজন সব কিছুই আমরা দিতে প্রস্তুত।
বলা দরকার ১৮৫৯-এ পাদ্রি রেভারেন্ড জেমস লং রাধানগরে এসে রামমোহন রায়ের জন্মস্থান চিহ্নিত করে সেখানে একটি ছোট বেদি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯১৬ সালে এলাকাবাসী এবং ব্রাহ্মসমাজের যৌথ উদ্যোগে রামমোহন স্মৃতি মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত হলে নকশা আঁকেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ঠাকুর পরিবারের বধূ হেমলতা দেবী।