জানিস একটা সময় ‘কাঁটা লাগা’, গানটা আট থেকে আশি সকলের পালসবিট বাড়িয়ে দিয়েছিল। তখন হাতের কাছে এমন কাউকে পাইনি যে এই গানটার ভিডিও বা অডিও শোনে নি। ভিডিওটাও বেশ জমপেশ হয়েছিল যখন কাঁটাটা তুলছিল না… পুরো বন পলাসির পদাবলী। কত কচিকচি ছেলে যে মেয়েটার জন্য দেবদাস হয়েছিল বলে বোঝাতে পারবো না। কিংবা পরবর্তী সময়ে ‘এক দো তিন’ বা ইদানীং ‘রঙ্গাবতী’ গানটা পাবলিক বেশ ভালো খেয়েছিল। আমাদের সময় রাজনীতিতে গান বলতে সলিল চৌধুরী আর রুমা গুহঠাকুরতার গণসঙ্গীত ‘হেই সামালো ধান হো, কাস্তেতে দাও শান হো’ ছিল। এখন কত কিছু যে আমদানি হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে হ্যাঁ এবারের ভোটে টান টান একটা খেলা হবে। এক নিঃশ্বাসে কথা বলে টকাদা একটু থামলো।
কাল না পরশুদিন একটা ভিডিও ভাইরাল হয় কোনও এক গ্রামের রাজনৈতিক দলের জনসভার ভিডিও। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়স্ক এক বৃদ্ধা। প্রথমে তিনি দাঁড়িয়ে সভা দেখছিলেন। পরে যেই না মাইকে বেজেছে ‘খেলা হবে’, সঙ্গে সঙ্গে নাচতে শুরু করেন তিনি। পরে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা দিয়ে দেওয়া হয়। তা নিয়ে তিনি আবার নাচতে শুরু করেন। মানুষটির এই সরলতা সকলের প্রাণ ভরিয়ে দেয়। এই সরলতায় নেই কোনো রাজনীতির যোগ। আছে কেবল আনন্দ। ফেসবুকে আজ ভাইরাল ভিডিওটি।
আজকের রকের আড্ডায় টকাদাকে বেশ খুশ খুশ লাগছে। গুছিয়ে রকে বসেই প্রথমে চেঁচিয়ে উঠলো বুলি চা লাগা। সুমনরা টকাদার এইরকম ফর্মা দেখতে অভ্যস্ত নয়। স্বভাবতই একটু থতমত খেয়ে গেছে। রাশভারী টকাদার কাছ ঘেঁষার যে কয়জন ক্ষমতা রাখে তার মধ্যে সুমন একজন।
টাকাদা আজ খুব ফুরফুরে আছো দেখছি—
হ্যাঁ। পুরো দিলখুশ।
দিলখুশ না দিল খুশ?
টকাদা একবার টেরিয়ে সুমনের দিকে তাকাল। কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ পেকেছিস দেখছি।
সুমন মুচকি মুচকি হাসছে।
গান গুলো শুনেছো?
কিসের গান!
ওইযে কাঁটা লাগা না কি বললে…
কথা ঘোরাচ্ছিস কেনো। তুই কিসের গানের কথা বলছিস—
টুম্পা সোনা?
ভালো হয়েছে, তবে মার্কেট ঠিক মতো নেবে না। সেমি ইন্টেলেকচ্যুয়াল বাংলায় যাকে গুছিয়ে বলা হয় প্যারালাল।
আর পিসি যাও যাও?
শুনেছি। পুরো আর্ট ফিল্ম।
আর খেলা হবে?
আম-আদমির গান।
কেন!
মোহনবাগান আইএসএল জিতলে কি রসিদ খানকে নিয়ে এসে ক্লাসিকাল প্রোগ্রাম করবো, না মেহেবুবার ব্যান্ড নিয়ে এসে একটু ফুর্তি করবো।
নাচা-গানা।
টুম্পা সোনা, পিসি যাও যাও শুনে তোর নাচতে ইচ্ছে করবে।
টুম্পা সোনা শুনলে একটু নাচতে ইচ্ছে করবে ঠিক কিন্তু তারাতারি হাঁপিয়ে যাব, আর পিসি যাও যাও শুনলে ঘুম এসে যাবে।
আর খেলা হবে?
পুরো হাই ভল্টেজ।
তাহলে কে প্রথম কে দ্বিতীয় কে তৃতীয়?
খেলা হবে প্রথম, টুম্পা সোনা দ্বিতীয়, পিসি যাও যাও তৃতীয়।
দেখে নিবি এবারে বাংলার ভোটের রেজাল্টও এই হবে।
তার মানে!
যা বললাম মিলিয়ে নিবি। খেলা হবে এই গানটার মধ্যে যা যোশ আছে না, অপনেন্টকে পুরো ঘেঁটে ঘ বানিয়ে দেবে। কেষ্টদার পাচন, গুড়-বাতাসা, নকুলদানা-র কথা মনে আছে। বাজারে ছাড়া মাত্রই হিট। খেলা হবে তেমন হিট। পুরো মারকাটারি। সৌরভের অফসাইডে চার মারার মতো। স্টিভ ওয়া তো অফসাইডে ছয়-ছটা ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে ম্যাকগ্রাকে লেলিয়ে দিত। ও কিন্তু ঠিক তার ফাঁক দিয়ে চার মেরেছে, পুরো মাখনের মধ্যে ছুরি চালাবার মতো। সাধে কি দ্রাবিড়, শচিন, লক্ষ্মণরা বলতো সৌরভ হচ্ছে অফসাইডের ভগবান। আর কিছু বলতে হবে?
তারমানে পাচন, গুড়-বাতাসা, নকুলদানার সঙ্গে এবার খেলা হবে।
ইয়েস।