[পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত ২৯তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের পসার অনেক বিস্তৃত। কেন লোচ, ন্যুরি বিলি চ্যেইলানের সাম্প্রতিকতম কাজের পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে এবছর শতবর্ষে পা রাখা মৃণাল সেন ও দেব আনন্দের ক্লাসিক ছবিগুলি। ভারতের উত্তর পূর্ব থেকে আসা সিনেমার সঙ্গে একই স্ক্রিনে ফুটে উঠছে লাতিন আমেরিকার ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সিনেমা। এই পর্বে থাকছে উৎসবের বিপুল পসার থেকে চতুর্থ দিনের বাছাই দুটি ছবি]

এক লুঠেরা ইউরোপের গল্প
ছবির নাম: ব্ল্যাক রব (১৯৯১), পরিচালক: ব্রুস বেরেসফোর্ড, দৈর্ঘ্য: ১ঘন্টা ৪১মিনিট
এই সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রটি (এটি সেরা ছবি, পরিচালক এবং সিনেমাটোগ্রাফির জন্য কানাডায় সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল) ইতিহাসবিদ অ্যালান টেলরের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘আমেরিকান কলোনিস’ (২০০১) বইটি থেকে ‘কানাডা এবং ইরোকুইয়া, ১৫০০-১৬৬০’ শীর্ষক অধ্যায়ের সাথে সাযুজ্য রেখে পাঠ করা যেতে পারে। ইরোকুয়েসের ‘শোক যুদ্ধ’ সম্পর্কে টেলরের বর্ণনায় ইউরোপীয়দের দ্বারা সংঘটিত মারণলীলা এবং ইরোকুয়েসের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কখনো বলপূর্বক (এবং কখনও কখনও হিংসাত্মক) পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে উপনিবেশে প্রতিস্থাপন করার প্রক্রিয়া। চলচ্চিত্রে কানাডার ভূমিজ মানুষের প্রতি নির্যাতন দৃশ্যে সেই উপনিবেশীকরণ প্রক্রিয়াকেই চিত্তাকর্ষকভাবে স্মরণ করা হয়েছে।

অজেয় এক ‘অজি’
ব্রুস বেরেসফোর্ড (জন্ম ১৬ই আগস্ট, ১৯৪০, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া), এক অস্ট্রেলিয়ান চলচ্চিত্র এবং মঞ্চ পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক। সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ড্রাইভিং মিস ডেইজি (১৯৮৯), সেরা ছবির জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিল। বেরেসফোর্ড একদা পরিচালনা করেছিলেন একটি বিতর্কিত ছবি- ‘মাও’স লাস্ট ড্যান্সার’ (২০০৯), যেটি একজন চীনা ব্যালে নর্তকীর বাস্তব জীবনের গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। তার সিনেমা এবারের চলচ্চিত্র উৎসবের একটি অন্যতম আর্কষণ।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।’
ছবির নাম: উই উইল নট ফেড অ্যাওয়ে, পরিচালক: আলিসা কোভালেনকা, দৈর্ঘ্য: ১ঘন্টা ৪০ মিনিট

প্রধানত ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের নিসর্গকে পৃষ্ঠভূমি হিসাবে রেখে, ফিল্মটি পাঁচ কিশোর-কিশোরী অ্যান্ড্রি, লিজা, লেরা, রুসলান এবং ইলিয়ার জীবনের প্রায় তিন বছরের প্রতিফলন — পুতিনের রাশিয়ার সম্পূর্ণ-অর্থে ইউক্রেন আক্রমণের শুরুর কিছু সময় আগে ছবিটি শেষ হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ইউক্রেনের উপর রাশিয়ান আক্রমণের সম্ভাবনা বাতাসে ঘুরছে এবং সময়ে সময়ে গুলির শব্দ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল, সোভিয়েতের আমলাতান্ত্রিক অবশেষ এখনও পুরোনো মানচিত্রে ফেরত চায়। যদিও ইউক্রেনের যুবা-মানসে মার্কিনি প্রভাবকে পরিচালক এড়িয়ে যাননি। ইউক্রেনের গণসংস্কৃতিতে জনপ্রিয় অর্থে ইলন মাস্ক বা রেডিওহেডের গানকে সাংস্কৃতিক চিহ্নক হিসাবে ব্যবহার করে তিনি এই অন্তর্দ্বন্ধগুলিকে সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন।