[পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত ২৯তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের পসার অনেক বিস্তৃত। কেন লোচ, ন্যুরি বিলি চ্যেইলানের সাম্প্রতিকতম কাজের পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে এবছর শতবর্ষে পা রাখা মৃণাল সেন ও দেব আনন্দের ক্লাসিক ছবিগুলি। ভারতের উত্তর পূর্ব থেকে আসা সিনেমার সঙ্গে একই স্ক্রিনে ফুটে উঠছে লাতিন আমেরিকার ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সিনেমা। এই পর্বে থাকছে, এই কয়দিন ঢোলগোবিন্দ কি দেখলো, কেন দেখলো?]

‘দেশপ্রেমের ঢাক তেড়েকেটে তাকতাক’
পর্দায় কখনো কেন লোচ, কখনো অনুরাগ কাশ্যপরা যখন প্রাণপণ বোঝানোর চেষ্টা করছেন কিভাবে ডিজিটাল-পৃথিবীর সেপাইরা আমাদের ডাকছে ‘মুসলিম লাভার’ হিসেবে, রাস্তার মোড়ে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করছে তিন লুম্পেন- ‘কি বে, তোর ফোনে আছে সেই থালা বাজানোর ভিডিও?’
ঠিক সেইসময় নন্দন-১ এর শেষ সারির দর্শক আসনে দুটি প্রশ্ন ঘুরছে। কে বা কারা যেন জাতীয় সঙ্গীতে থুড়ি বিকৃত হিন্দিতে ‘জানাগনামনা’তে দাঁড়ায়নি। তাই নিয়ে চলছে ধর্মবিচার, মৃদু গুঞ্জন — ‘এসব শিখতে হলে স্কুলে-টুলে যেতে হয়!’
হা ঈশ্বর, যিনি বললেন তিনি তো স্কুলে গেছেন। সেই স্কুলবিদ্যায় ভর করে, যদি তিনি সুপ্রিম কোর্টের ২০১৭ সালে সিনেমা হলে জাতীয় সঙ্গীত বিষয়ক রায়টি পড়তে পারতেন!

‘এই মহিলা আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এটা আমাদের রাজ্যের লজ্জা। প্রধানমন্ত্রী হলে আরো লজ্জার হবে।’ ঠ্যাং উঠিয়ে বললেন, এক সিপিএম-বীরপুঙ্গব। তার দোকানটি ফিল্ম-সোসাইটির। মেলাটি সরকারী। চত্বর আকাদেমি।
‘নন্দন সবার জন্য তৈরী হয়নি!’ চলচ্চিত্র উৎসবের বেহাল দশা দেখে বলেছেন সরকারী-বামেদের পোস্টার বয় অনীক দত্ত। একদা লেনিন নামের এক বোকা লোক, সের্গেই আইজেনস্টাইন আর জিগা ভেরতভ নামের দুই তরুণ তুর্কিকে, বিপ্লব-পরবর্তী সোভিয়েতকে ক্যামেরাবন্দি করে নিউজরিলের আকারে ‘জনতার হাতে হাতে নিশানের মত’ ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। জানা কথা, অনীক এসব জানেন, তবু বহু ঘাঘুর মত তিনিও সিলেক্টিভ। অবশ্য মার্ক্সকে পছন্দ করেননা বলেছিলেন একটি ইন্টারভিউতে।
উবু হয়ে বসেছিল সেই বুড়ো, নন্দনের মেঝেতেই। চোখে তার শিশুকালের বিস্ময়। সেই বিস্ময়-যা সিনেমা নামক জাদুমাধ্যমটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

সিনেমার নাম ছিল ‘হাউ টু হ্যাভ সেক্স’- প্রত্যাশিতভাবেই দারুণ ভিড় হয়েছিল।

টার্কি থেকে আসা একটি জঘন্য ফ্যামিলি ড্রামার শেষে দেখলাম নায়ক, কাল হো না হোর শেষদৃশ্যের কায়দায় বিদায়ী নায়িকার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বলিউড সর্বত্রগামী। কিং খান জিন্দাবাদ।

পর্দায় ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তা, সারি সারি ট্যাঙ্ক। জুরির আসনে বসে পুতিনের ইউক্রেন-হামলাকে সংহতি জানিয়ে চিঠি লেখা রুশ পরিচালক। লোকটা সেদিন হাসেনি।