অফলাইন না অনলাইন মাধ্যমিক হবে এই সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত অফলাইনেই হচ্ছে। কার কি সমস্যা হয়েছে জানিনা, কীর্তনীয়া কুমারী সুজাতা চ্যাটার্জী বেশ সমস্যায় পড়েছে। ওর বাড়ি বীরভূমের নানুর থানার বেলগ্রামে। কীর্তনীয়া হিসেবে সুনাম আছে। এইসব অঞ্চলে প্রায় তিন চার মাস আগেই অনুষ্ঠানের বুকিং হয়ে যায়। ১২ বছর বয়সে প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্স করে ও। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বছরে ৬০ থেকে ৭০টি আসরে লীলা কীর্তন পরিবেশন করে সে। মা-বাবা থাকেন দোয়ারিতে। একদিকে পেশাদার জগত আরেকদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষা। বেশ কয়েকটি কমিটির হাতে পায়ে ধরে অনুষ্ঠান ক্যানসেল করতে পেরেছে। একটা গ্রামের লোকজন কিছুতেই ছাড়েনি। লিফলেট বিলি হয়ে গেছে। কীর্তনীয়া না গেলে আসরের বদনাম হবে। আগামীকাল মাধ্যমিক পরীক্ষার হলের বাইরে গাড়ি অপেক্ষা করবে ওর জন্য। ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েই ওকে যেতে হবে কাটোয়ার কাছে ভুলকুরিতে। আজ বাংলা পরীক্ষার গার্ড দিতে গিয়ে আলাপ হল সুজাতার সাথে। ওর বাবা বলরাম বাবু অপেক্ষা করছিলেন হলের বাইরে। বললেন এমন সব গোলমাল হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। পরীক্ষার শেষে সরকারের পক্ষ থেকে গাছ আর পেন দেওয়া হল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। গাছ নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সুজাতা চলে গেল গ্রামের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার আগে ওর গান শুনতে আমন্ত্রণ জানিয়ে যেতে ভোলেনি সুজাতা।
লেখক হাই স্কুলের শিক্ষক