কলকাতা পুরসভার তৃতীয় অধীবেশন ছিল আজ অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি। এই দিনই প্রথম পুরসভার মূল ভবনে নির্দিষ্ট অধিবেশন কক্ষে হাউস অনুষ্ঠীত হল। হাউস শুরু হয় দুপুর ১টায়। চলে প্রায় ২ ঘন্টা। চেয়ারপার্সন মালা রায় দায়িত্বের সঙ্গে হাউস পরিচালনা করেন। বিজয়ী দলের অধিকাংশ কাউন্সিলর এদিন উপস্থিত থাকলেও বিরোধী দলের কোন বিজেপি কাউন্সিলর এদিন হাউসে ছিলেন না। বিরোধীদের অংশগ্রহণের আবশ্যিকতা মনে করিয়ে দিয়ে চেয়ারপার্সন মালা রায় গণতন্ত্রের প্রয়োজনে সকল কাউন্সিলরকে অধিবেশনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর ১৩ জন মেয়র পারিষদ সহ ১৬টি বরোর সকল চেয়ারম্যান এদিন উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় হাউসে প্রস্তাব ছিল ১০টি। আলোচনায় একদিকে যেমন উঠে এসেছে পাণীয় জলের বিষয়, বস্তি, পরিবেশ, রাস্তা, স্বাস্থ্য ঠিক একই ভাবে উঠে এসেছে লতা মঙ্গেশকর ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে মূর্তি স্থাপন বা রাস্তার নামকরণ প্রসঙ্গ। মেয়র ফিরহাদ হাকিম দায়িত্ব সহকারে সকল পৌর প্রতিনিধির যুক্তি ও অসুবিধার কথা শুনেছেন। পাণীয় জল, পরিবেশ, ভগ্নপ্রায় বাড়ি — ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত জানিয়েছেন।উদ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার ঘোষণা করেছেন কয়েক দিনের মধ্যেই ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে লতা মঙ্গেশকারের স্মৃতিতে পার্ক ও মূর্তি স্থাপন হবে।

এছাড়া কলকাতা পুরসভা টাউন হলে তিনশো বছরের পুরনো ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়ে যে কর্মযজ্ঞে হাত লাগিয়েছে তাও খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে বলে জানান দেবাশিসবাবু। প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির প্রসঙ্গ ওঠে হাউসে। এছাড়া শোক জ্ঞাপন করা হয় মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, লতা মঙ্গেসকার, সন্ধ্যা মুখপাধ্যায় সহ সমসাময়িক সময়ে সমাজের যে ক’জন প্রতিভাধর ব্যক্তি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন — তাঁদের প্রতি। সাংসদ মালা রায় ১মিনিট নিরাবতা পালনের মাধ্যমে সমাজের এই সকল বরেণ্য ব্যক্তিকে স্মরণ করেন ও তাঁদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান। হাউস শেষ হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৩৯- তম মেয়র হিসেবে শপথ নেন ফিরহাদ হাকিম। সেই অনুষ্ঠানে প্রোটেন স্পিকার রাম পেয়ারি রাম ফিরহাদ হাকিম ও মালা রায়কে শপথ বাক্য পাঠ করান মেয়র ও চেয়ারপার্সন হিসাবে। শপথের পর মেয়র ও মেয়র পারিষদদের বিভাগও ঘোষণা করা হয়। এর পর হাউস অনুষ্ঠিত হয়েছিল টাউন হলে। করোনা মহামারির জন্য প্রায় ২ বছর পুর বোর্ড গঠন করা যায়নি। তাই প্রায় ২ বছরের বেশি সময় পর পুরসভার অধিবেশন কক্ষে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই অধিবেশনে বিরোধী কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে। একই ভাবে চোখে পড়ে বিজয়ী দলের নবাগত কাউন্সিলরদের উপস্থিতি। হাউসের মধ্যে দেখা যায় নবীণ ও প্রবীণ পুরপ্রতিনিধিদের মেলবন্ধন।