ঢং ঢং ঢং …. আবার স্কুলের ঘন্টা। উপস্থিত হয়েছিলাম ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গাছা পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। স্কুলের গেটে জনা ৩০ কচি-কাঁচার ভিড়। তাদের চোখ আনন্দে চিক চিক করছে। পৌর প্রাথমিক স্কুলের জামা, জুতো পড়া, কাঁধে ব্যাগ ও ওয়াটারবোতল ঝুলিয়ে এক ক্লাসের ৩ ছাত্র জানালো, খুব আনন্দ হচ্ছে। কত দিন পর স্কুলে এলাম! বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে। দিদিমনিরা আবার খাতায় হাত ধরে অঙ্ক শিখিয়ে দেবেন। স্কুলে প্যায়ার হবে। আমরা আবার একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাব। জিজ্ঞাসা করলাম “মিড-ডে-মিল”? আমার দিকে তাকালো ছেলেটি। বুঝতে পারলাম এই শব্দটি তার কাছে পরিচিত নয়। তার কাছে পরিচিত দৃশ্য হলো ক্লাসরুমে বসে দিদিমনিদের সামনে পড়াশোনা করা, টিফিনের সময় একসাথে বসে স্কুল থেকে রান্না করে দেওয়া খাবার খাওয়া। তাই হয়ত এই ‘শৈশব’ গতে বাঁধা শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়! এই সরলতা নিয়েই, জাতি-ধর্ম-বর্ণ — কোনও কিছুর প্রভেদ ছাড়াই বেড়ে উঠুক না তারা, তাতে ক্ষতি কি?

না সত্যি কোন ক্ষতি নেই। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা চাইছেন শহরের নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে দারিদ্রতার মাপকাঠিতে নিচের দিকে থাকা সকল শিশু যেন শিক্ষা পায়। তারাও যেন কলকাতার নামকরা স্কুলের পড়ুয়াদের মতো সকল বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। অর্থ যেন শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়।

যদিও করোনা মহামারির দাপট শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে অনেকটাই। একসময় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছিল স্বাস্থ্য আর শিক্ষার মধ্যে অত্যাধিক প্রয়োজনীয় কোনটি (করোনা কালে) সেই বিষয়ে। কিন্তু এখন আমরা নিউনর্মালে অভ্যস্থ হয়ে উঠছি। এই পরিস্থিতিতেই ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ বুধবার খেকে পৌরপ্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি আবার শুরু হলো। তার আগে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা শিক্ষা বিভাগের চিফ ম্যানেজারের কাছে রির্পোট তলব করে জেনে নেন স্কুলগুলির পরিকাঠামো সম্পর্কে। পর্যালোচনা করেন সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে পড়ুয়াদের বসানো কতটা সম্ভব, স্কুলের শৌচালয় পরিষ্কার আছে কিনা, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের বসার বন্দোবস্ত কেমন আছে ইত্যাদি। তারপরেই তিনি পৌর-প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলে। ১৭ ফেব্রুয়ারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে সন্দীপন সাহা পেজ ফোর কে জানান, “এখনো পর্যন্ত বেশ কিছু স্কুলে পরিকাঠামোগত উন্নতির প্রয়োজন আছে। আমরা সেগুলি খুব তাড়াতাড়ি ঠিক করে নেব। নিউ নর্মাল লাইফের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌর প্রাথমিক স্কুলগুলির আরো উন্নতি আমরা ভবিষ্যতে করতে চাই। ইতিমধ্যেই কলকাতায় মোট ১৭৫টি পৌর প্রাথমিক স্কুল আছে। তাই বলাই যায় কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটিতেই পুর সভার স্কুল আমরা বিগত কয়েক বছরে গড়ে তুলতে পেরেছি।”

প্রসঙ্গত, কলকাতা পুরসভার অধীনে প্রথম পৌর-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সূচনা হয় ১৯২৪ সালে। তৎকালিন মেয়র দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-এর উদ্যোগে প্রথম পুর সভার স্কুল শুরু হয়। পরবর্তীকালে বহু কৃতি মানুষ তাঁদের বাল্যকালে পৌর-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করেন।
কলকাতা পৌরবিদ্যালয়ে প্রতি পড়ুয়াকে পাঠ্যবই, খাতা, পেন্সিল, ড্রয়িংবুক, কালার পেন্সিল, সার্পনার, ইরেসার, পেন্সিল বাক্স, স্কুলব্যাগ, পোশাক, জুতো মোজা ইত্যাদি দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রয়োজনমতো ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সোয়েটার, রেনকোট, জলের বোতল ও টিফিন বাক্স দেওয়া হয়।