সম্প্রতি কলকাতার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। বিশ্বের দরবারে পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উৎসব দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকে ২২ এপ্রিল ধন্যবাদ জানাবে কলকাতা পুরসভা। টাউন হলে অনুষ্টিত এই অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর দিল্লি শাখার ডিরেক্টর এরিক ফল্টকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির সংগঠকগণ। একই সঙ্গে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের হাতে বাংলার বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি পুরস্কার স্বরূপ তুলে দেওয়া হবে। ১৮ এপ্রিল কলকাতা পুরসভায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার।
এদিন ফিরহাদ হাকিম জানান ‘আমরা ধন্যবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতার দুর্গাপুজোকে তিনি বিশ্বের আঙ্গিনায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর প্রচেষ্টা ছাড়া এই দুরূহ কাজ সম্ভব হতো না। কলকাতা পুরসভার পক্ষে একটি আনন্দের খবর খুব তাড়াতাড়ি ইউনেস্কোর দিল্লি শাখার ডিরেক্টর এরিক ফল্টকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে পুরসভার পক্ষ থেকে।’

এদিন দেবাশিস কুমার জানান, ‘কলকাতার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। বিগত ১০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এটি। সারা পৃথীবিতে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এমন টেম্পুরারি আর্ট আর কোথাও হয় না। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই ইউনেস্কোকে, এই বছর কলকাতার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ হিসাবে তুলে ধরার জন্য। এটাকে ওঁরা স্বীকৃতি দিচ্ছেন, ‘ইনটানজিনেবেল ক্যালচারাল হেরিটেজ ফর দি ইয়ার ২০২১’ হিসেবে। তার জন্যই মেয়র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২২ এপ্রিল টাউন হলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে দিল্লি শাখার ডিরেক্টর এরিক ফল্টকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। একই দিনে ওই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই, কলকাতার দুর্গাপুজোকে বিশ্বমানের গড়ে তোলার জন্য ওঁর এত দিনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পকেও আমরা আরো আধুনিক করতে চাই।এই বিষয়ে ইউনেস্কোর টিমের সঙ্গে আমাদের টিমের আলোচনা চলছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য কলকাতার দুর্গাপুজো তথা এই পুজোর কার্নিভ্যাল এখন সারা বিশ্বে নজর কেড়েছে। বিগত দুই বছর করোনার কারণে দুর্গাপুজো কিছুটা ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে হলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই পুজোকে কেন্দ্র করে যে বানিজ্য চলে সেটাকে সচল রাখতে একাধিক ভাবে সহায়তা করেছেন। কয়েক বছর ধরে কলকাতার দুর্গাপুজোর বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিসর্জনের কার্নিভ্যাল। বহু বিদেশী এই ক্যার্নিভ্যালে আসেন। সুসংহত ভাবে রেড রোডে এই কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতা তথা সারা পশ্চিমবঙ্গের অনেক দুর্গাপ্রতিমা তিথি মেনে দশমীর দিন বিসর্জন করা হয়, আবার অনেক প্রতিমা কার্নিভ্যালের দিন নিরঞ্জন হয়। একটি সুসংহত সিস্টেম দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যে গড়ে তোলা যায়, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন। যাঁরা বিভিন্ন কারণে প্যান্ডেলে যেতে পারেন না, তাঁরাও প্রতিমা দর্শন করতে পারেন কার্নিভ্যালে উপস্থিত হয়ে। সব কিছু নিয়ে এক অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। করোনার কারণে বিগত দু’বছর এই ক্যার্নিভ্যাল বন্ধ ছিল। আশা করা যায় এই বছর কলকাতায় দুর্গাপুজোর করোনা কালের আগের উদ্দীপনা আবার ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সেই মুকুটে যুক্ত হয়েছে আর একটি পালক — ইউনেস্কোর স্বীকৃতি।