বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা ইংরেজিতে যাকে বলে পিএম পার্টিকল, বায়ুদূষণের একটা বড় কারণ। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বেশ কিছু বড় শহরে এর পরিমাণ কম করার ব্যাপারে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও দেশের অন্য শহরগুলিতে এই সমস্যা এখনও অনেক বেশি। আগে ২০২৪ এর মধ্যে এই অবস্থা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখন বদলে গিয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাতাসে অন্তত ৪০ শতাংশ সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ কমাতেই হবে। ২০২৬ এর মধ্যে শেষ করতে হবে এই কাজ।

এই বিপজ্জনক ধূলিকণা জনস্বাস্থ্যের একটা বড় শত্রু। ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের ক্যানসার, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও বহু রোগের কারণ এই সূক্ষ্ম ধূলিকণা। ঘিঞ্জি শহুরে এলাকা, শিল্পাঞ্চল এবং যেখানে যানদূষণ সবচেয়ে বেশি হয় সেখানকার বাতাসে এই ধূলিকণার পরিমাণও সবথেকে বেশি। এটা ঘটনা আগের তুলনায় অবস্থা খানিকটা পাল্টালেও দেশের বড় শহরগুলিতে এই ধূলিকণার মারণক্ষমতা এখনও ব্যাপক। চেন্নাই, মাদুরাই, নাসিক সহ দেশের ২০টি শহরে একাজে অনেকটা সাফল্য এলেও সেখানে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার ঘনত্ব এখনও প্রতি কিউবিক মিটারে ৬০ মাইক্রোগ্রাম। ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামের বার্ষিক মান অনুযায়ী তা হতে হবে প্রতি কিউবিক মিটারে ২.৫। ধূলিকণাগুলির ডায়ামিটার মাত্র ২.৫ মাইক্রোমিটার। সূক্ষ্মতার কারণে এই ধূলিকণা বাতাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকে বিপদ ডেকে আনে।

এখনও দেশের ১৩২টি শহর এই কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। কাজেই সমস্যার ব্যাপকতাও অনেক বেশি। জনসংখ্যা এবং যানসংখ্যা দুটোই বেশি আমাদের দেশে। বহু গাড়ি চলে কোন দূষণ নিয়ন্ত্রণবিধি না মেনেই। নিয়ম অনুযায়ী সেগুলি রাস্তায় নামারই কথা নয়। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রয়োজন ছাড়াই গাড়ির ব্যবহার। স্কুল, কলেজ, অফিসে বড় গাড়িতে একসঙ্গে অনেককে আনা গেলে যানদূষণ সত্যি কমতো। এর পাশাপাশি বাড়ছে ব্যাক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা। সমস্যার মোকাবিলায় এখন একেকটা শহরে বায়ুদূষণ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা বা নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। শিল্পদূষণ ও যানদূষণ কমানো এবং বাতাসের গুণমান বজায় রাখার ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে শহরগুলিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।