কলকাতা পুরসভার ৩৯তম মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর ১৩ জন মেয়র পারিষদ-সহ কলকাতা পুরসভার ১৪৪ জন কাউন্সিলর মিলে চলতি বোর্ডের প্রথম অধিবেশন করলেন। ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলো টাউন হলে। এদিনের হাউসে প্রশ্ন ছিল ৮টি এবং প্রস্তাব ছিল ১৩টি। বিজেপি দলের বিরোধী কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিতের বৃদ্ধভাতা, বিধবাভাতা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন নবনির্বাচিত মেয়র পারিষদ মিতালী ব্যানার্জ্জী। কংগ্রেস কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার পাঠকের প্রশ্নের জবাব দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল পানীয় জল পাওয়ার সময়সূচি সংক্রান্ত। প্রশ্নকর্তা নবনির্বাচিত বিজেপি দলের কাউন্সিলর সজল ঘোষ। এই প্রশ্নের উত্তর দেন মহানাগরিক। তাঁর পরবর্তী প্রশ্ন ছিল রাস্তা ও ফুটপাত সংক্রান্ত। উত্তর দেন রাস্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অভিজিৎ মুখার্জ্জী। এছাড়া কোভিড সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর কাকলি সেন। উত্তর দেন ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। বিজয়ী দলের কাউন্সিলর ইলোরা সাহা তাঁর ওয়ার্ডের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন অধিবেশনে। মেয়র পারিষদগণ সমস্যার সমাধানের বিষয়ে যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন।

সুদর্শনা মুখার্জী প্রস্তাব দেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্য মন্ত্রীসভার প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে এক রাস্তার নামকরণ করা হোক ও তাঁর স্মরণে গড়ে তুলুক একটি সংগ্রহশালা। মেয়র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সুশান্ত কুমার ঘোষ, মৌসুমী দাশ, বিশ্বরূপ দে ও বিরোধী কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার পাঠক বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব পেশ করেন। প্রতিটি প্রস্তাবই গৃহীত হয়। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে অধিবেশন চলে। সুষ্ঠু ভাবে অধিবেশন পরিচালনা করেন সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নেন ফিরহাদ হাকিম। সেই অনুষ্ঠানে প্রোটেন স্পিকার রাম পেয়ারি রাম ফিরহাদ হাকিম ও মালা রায়কে শপথ বাক্য পাঠ করান মেয়র ও চেয়ারপার্সন হিসাবে। শপথের পর মেয়র ও মেয়র পারিষদদের বিভাগও ঘোষণা করা হয়।