৩০ আগস্ট কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে সমস্ত ১০০ দিনের কর্মীদের রেনকোট দেওয়ার ঘোষণা করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবীকা চক্রবর্তী মাসিক অধিবেশনে প্রস্তাব রাখেন ১০০ দিনের কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের কাজের সামগ্রী প্রয়োজন অনুসারে অতি দ্রুত প্রদান করা হোক। তিনি টীকা-তে জানান ‘কলকাতা পৌরসংস্থার ১০০ দিনের কর্মীদের ওয়ার্ড-ভিত্তিক কাজের জন্য নানাধরনের সামগ্রী প্রদান করা হয় যেমন, কোদাল, বেলচা, টুপি, গ্লাভস্ ইত্যাদি। কিন্তু বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রয়োজনমতো এই সকল সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না।’ তাই কাজের গতি আনতে ১০০ দিনের কর্মীদের উক্ত সামগ্রী দেওয়া হোক বলে তিনি আবেদন করেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়িয়ে জানান, কাউন্সিলর যে সব সামগ্রী-র কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে যেগুলি কলকাতা পুরসভা দিয়ে থাকে, সেগুলি তো বটেই সঙ্গে প্রত্যেক ১০০ দিনের কর্মীকে রেনকোট দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এই দিনের অধিবেশনে ৭টি প্রশ্ন ও ৮টি প্রস্তাব ছিল। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে ২টি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। প্রশ্নের বিষয় ছিল সম্পত্তি কর সংক্রান্ত। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ড. মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় ২টি প্রশ্ন রাখেন। সেই প্রশ্নের উত্তর-ও দেন মহানাগরিক। কংগ্রেস দলের কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার পাঠক ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ নং এজরা স্ট্রিটের পৌর-প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেন মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিতের প্রশ্নের উত্তর দেন আলো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ সন্দিপ রঞ্জণ বক্সি। এছাড়া গাড়ি পার্কিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রূপক গাঙ্গুলী। তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেন বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। তিনি সকল কাউন্সিলরের কাছে অনুরোধ রাখেন নাইট পার্কিং-এর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য। কলকাতা পুরসভা মাসে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক বছরের জন্য বা ৬ মাসের জন্য চারচাকা গ্যারেজহীন গাড়ির পার্কিং-এর ব্যবস্থা করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে পুরো ১ বছর বা ৬ মাসের জন্য কলকাতা পুরসভাকে একত্রে পার্কিং কর দিতে হয়। পার্কিয়ের অনুমতি ছাড়া নৈশ অভিযানের মাধ্যমে কোনও গাড়ি ধরা পড়লে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রস্তাব পেশ করেন, কাউন্সিলর মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়, কাউন্সিলর প্রবীর কুমার মুখোপাধ্যায়, কাউন্সিলর রূপক গাঙ্গুলী, কাউন্সিলর দেবীকা চক্রবর্তী, কাউন্সিলর ডা. কাকলি সেন ও কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত।
কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় জানান আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজোর আগে শেষ মাসিক অধিবেশন হবে।