কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত লাইসেন্স বিভাগ বিগত ৭-৮ বছরে অনেক আধুনিক হয়েছে। জনগণের প্রয়োজন মাফিক ও সব শ্রেণির নাগরিক যাতে সহজেই এই পরিষেবা পায় তার জন্য সদা তৎপর কলকাতা পুরসভা। করোনা-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বিভাগকে কেন্দ্র করে। নতুন লাইসেন্স পাবার জন্য বা পুরনো লাইসেন্স নবীকরণের জন্য এখন আর মানুষকে পুরসভায় এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না। ঘরে বসে অন লাইনের মাধ্যমে লাইসেন্স ফি জমা করা যায়, আবার একাধিক জায়গা থেকে (ই-কলকাতা) অফ লাইনের মাধ্যমেও ফি জমা করা যায়। লাইসেন্স বিভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বর্ণিত হলো —
বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে ‘রিয়েল টাইম বেসিস’-এ সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট (যা সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স নামে পরিচিত) পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে যাঁরা অনলাইন ব্যবস্থায় সড়গড় নয় তাঁরা যে কোনো ই-কলকাতা সেন্টার বা বরো অফিসে বি.এস.কে (বাংলা সহায়তা কেন্দ্র) সাহায্য নিতে পারেন। অনলাইনে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করার জন্য বিল জেনারেট এবং অনলাইন ডিজিট্যাল পেমেন্ট করার সুব্যবস্থা আছে।
একবারে ১ বছর, ৩ বছর, ৫ বছর ও ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করার সুবিধা বর্তমানে আছে। অর্থাৎ কেউ মনে করলে চলতি সালে ১/৩/৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করার পরের বার ৩/৫/১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করতে পারেন। এছাড়া আড়ত, গোডাউন, ওয়ারহাউস, স্টোর ও স্টকিস্টের লাইসেন্স ফি-র ক্ষেত্রে ২০ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ একবারে জমা দিলে আর কোনোদিন রিনিউয়াল ফি জমা দিতে হবে না।
আবেদনপত্র পূরণের নিয়মাবলি ওয়েবসাইটে পর্যায়ক্রমে দেওয়া রয়েছে। কোন ব্যাবস্থা করতে চাওয়া হচ্ছে (ব্যাবসার প্রকৃতি চয়ন) তা উল্লেখ করলেই লাইসেন্স ফি-এর পরিমাণ ওয়েবসাইটেই দেখতে পাওয়া যায়। আগে লাইসেন্স পেতে হলে ১৩টি প্রয়োজনীয় নথি/প্রমাণপত্র দিতে হতো, এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় ফর্ম এবং অন্যান্য তথ্য সংবলিত প্রমাণপত্রের উল্লেখ করা রয়েছে। বর্তমানে যে দুটি নথি দেখাতে হয় সেগুলির মধ্যে প্রথমটি হলো পরিচয়পত্র, যেমন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি হলো অকুপেন্সি, যেমন দলিল, ট্যাক্স রসিদ, ইলেকট্রিক বিল, বিএসএনএল-এর ল্যান্ড ফোনের বিল ইত্যাদি।
কলকাতা পুরসভার মূল কার্যালয় ছাড়াও ইউনিট অফিসগুলিতে (কাশীপুর, হাতিবাগান, গড়িয়াহাট, সন্তোষপুর, বাঘাযতীন, বেহালা গার্ডেনরিচ ও জোকা) এলাকাভিত্তিক এক্তিয়ার অনুসারে পিরষেবা প্রদান করা হয়।
ব্যবসায়ীদের জরিমানা ব্যতীত লাইসেন্স ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ সম্পর্কে সঠিক সময় সচেতন করার উদ্দেশ্যে মোবাইলের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়।
পরিষেবা সুন্দর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সংশ্লষ্ট বিভাগের আইন সমূহের (বিশ্বব্যাংক, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনেই) সময়োপযোগী সংস্কার সাধিত হয়েছে।
সারা বছর পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের ১৫টি টিম শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বকেয়া লাইসেন্স ফি আদায়ের চেষ্টা করছে।
এই সব ব্যবস্থার ফলে নানা সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এক দরজা পদ্ধতির মাধ্যমে সরলীকরণ করে লাইসেন্স বিভাগকে নবরূপে সাজানোর ফলে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই জন্য কলকাতাবাসী সাধুবাদ জানাচ্ছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে।