ট্রেড লাইসেন্সের নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এখন থেকে ব্যাবসার ঠিকানা বদল হলেও পুরনো লাইসেন্স জমা করে নতুনের জন্য আবেদন করতে হবে না। পুরনো নম্বরেই পাওয়া যাবে ব্যাবসার নতুন ঠিকানার ছাড়পত্র।
প্রসঙ্গত, কলকাতা পৌরসংস্থার অন্তর্গত লাইসেন্স বিভাগ বিগত কয়েক বছরে অনেক আধুনিক হয়েছে। জনগণের প্রয়োজন মাফিক ও সব শ্রেণির নাগরিক যাতে সহজেই এই পরিষেবা পায় তার জন্য সদা তৎপর কলকাতা পুরসভা। করোনা-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বিভাগকে কেন্দ্র করে। নতুন লাইসেন্স পাবার জন্য বা পুরনো লাইসেন্স নবীকরণের জন্য এখন আর মানুষকে পুরসভায় এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্স ফি জমা করা যায়, আবার একাধিক জায়গা থেকে অফলাইনের মাধ্যমেও ফি জমা করা যায়। মানুষের সুবিধার জন্য লাইসেন্স বিভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো —
বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ওয়েবসাইটে অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে ‘রিয়েল টাইম বেসিস’-এ সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট (যা সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স নামে পরিচিত) পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে যাঁরা অনলাইন ব্যবস্থায় সড়গড় নয় তাঁরা যে কোনো ই-কলকাতা সেন্টার বা বরো অশিসের বাংলা সহায়তা কেন্দ্র থেকে সাহায্য নিতে পারেন। অনলাইনে লাইসেন্স পুনর্নবীকরন করার জন্য বিল জেনারেট এবং অনলাইন ডিজিট্যাল পেমেন্ট করার সুব্যবস্থা আছে।

একবারে ১ বছর, ৩ বছর, ৫ বছর ও ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করার সুবিধা বর্তমানে আছে। অর্থাৎ কেউ মনে করলে চলতি সালে ১ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করার পর ৩, ৫ বা ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবীকরণ বা পুনর্নবীকরণ করতে পারেন। এছাড়া আড়ত, গোডাউন, ওয়ারহাউজ, স্টোর ও স্টকিস্টের লাইসেন্স ফি-র ক্ষেত্রে ২০ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ একবারে জমা দিলে আর কোনদিন রিনিউয়াল ফি জমা দিতে হবে না। আবেদনপত্র পূরণের নিয়মাবলি ওয়েবসাইটে পর্যায়ক্রমে দেওয়া রয়েছে। কোন ব্যাবসা করতে চাওয়া হচ্ছে (ব্যাবসার প্রকৃত চয়ন) তা উল্লেখ করলেই লাইসেন্স ফি-এর পরিমাণ ওয়েবসাইটেই দেখতে পাওয়া যায়। আগে লাইসেন্স পেতে হলে ১৩টি প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হতো, এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় ফর্ম এবং অন্যান্য তথ্য সংবলিত প্রমাণপত্রের উল্লেখ করা রয়েছে। (বর্তমানে যে দুটি নথি দেখাতে হয় সেগুলির মধ্যে প্রথমটি হলো পরিচয় পত্র যেমন, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি হলো অকুপেন্সি যেমন দলিল, ট্যাক্স রসিদ, ইলেকট্রিক বিল, বিএসএনএল-এর ল্যান্ড ফোনের বিল ইত্যাদি)।
কলকাতা পুরভবনের মূল কার্যালয় ছাড়াও ইউনিট অফিসগুলিতে (কাশীপুর, হাতিবাগান, গড়িয়াহাট, সন্তোষপুর, বাঘাযতীন, বেহালা, গার্ডেনরিচ ও জোকা) এলাকাভিত্তিক এক্তিয়ার অনুসারে পরিষেবা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের সঠিক সময় সচেতন করার উদ্দেশ্যে মোবাইলের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়।
পরিষেবা সুন্দর ও সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের আইন সমূহের (বিশ্বব্যাংক, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনেই) সময়োপযোগী সংস্কার করা হয়েছে।