বর্ষশেষে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক টুকরো বাংলা উঠে এসেছে। এখানে সকলের জন্য বিশেষ আকর্ষণ গ্রাম চিনুন, পরের প্রজন্মকে চেনান। সেই সঙ্গে পসরা সংগ্ৰহ করে গ্রামের শিকর স্পর্শ করার সুযোগ। এক কথায় গ্রাম কৃষ্টি উৎসব। এই উৎসব শুরু হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ২৯ ডিসেম্বর। সকলের অবারিত দ্বার। বেলা ২টো থেকে রাত ৮টা।

এই অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান পরম্পরার জ্ঞানচর্চক, পরম্পরার স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্যতম জ্ঞানী, কুড়মালি লিপি আন্দোলনের নেতা, ঝুমুর পদ লেখক, সংগঠক নারায়ণ মাহাতকে জীবন কৃতি সম্মানে ভূষিত করল কলকাতা প্রেস ক্লাব। নারায়ণ মাহাতর হাতে ফলক তুলে দিলেন অভিনেতা-পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, নাট্যব্যক্তিত্ব অরূপশঙ্কর মৈত্র, সাংবাদিক ক্লাবকর্তা শৈবাল বিশ্বাস, কবি সংগঠক প্রসূন ভৌমিক আকাশবাণীর সহ-নির্দেশক গৌতম ঘোষ। প্রসঙ্গত, বিগত ছ-বছর ধরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক টুকরো বাংলাকে দেখার সুযোগ মিলছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে এই মনোজ্ঞ উৎসবে ১৪টি জেলার লোকশিল্পীরা তাঁদের বিশেষ পরম্পরা উপস্থাপনা করেছেন। সেই সঙ্গে নানান আকর্ষণীয় গ্রামীণ পসরা নিয়ে উপস্থিত থাকছেন হস্তশিল্পীরা।

উৎসবের দিনগুলোতে বিশেষ আকর্ষণ থাকছে ছৌ-মুখোশ, টেরাকোটার কাজ, পাটের জুতো-চটি, নকশিকাঁথা, বাটিকপ্রিন্ট, নানান গ্রামীণ গহনা ইত্যাদি। সেই সঙ্গে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে থাকছে মনোমুগ্ধকর সুরের মূর্ছনায় ও মাটির গন্ধে হাছন রাজার গান, ছৌ নৃত্য, কবিগান, রায়বেশে নৃত্য, ভাওয়াইয়া গান, ঝুমুর নাচ, শ্রীখোল বাদ্য ইত্যাদি। ১৪টি জেলার লোকশিল্পীরা অংশ নেবেন।

উল্লেখযোগ্য হল, রাসায়নিক সার ছাড়া জৈব ফসল, মশলা, হরেক মধু ও মধুর প্রসাধনী, পিঠে পুলি ও হরেক পদের আচার সকলকে আকৃষ্ট করবে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় জমে উঠেছে এই গ্ৰাম কৃষ্টি উৎসব।