চলতি বছর বাংলার হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, জাতিগত শংসাপত্র দান, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, জয় জহর, ১০০ দিনের কাজ-সহ মোট ১০টি প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সব প্রকল্পগুলি সম্পর্কে অভাব-অভিযোগ শুনতে গ্রামীণ ও পুরসভা এলাকায় শিবির করার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃতীয়বার বিপুল ভোট পেয়ে বাংলায় ফের ক্ষমতা দখলের নেপথ্যে ওই ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেকথা মাথায় রেখেই আবার ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির চালুর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।
গত ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে দুয়ারে সরকার। ওই ক্যাম্পের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্পের সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন আমজনতা। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কিন্তু তার আগে আবেদনপত্র জমা নিতে হবে। সেই আবেদনপত্র নেওয়ার জন্য ফের ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির চলছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ, জাতি শংসাপত্র-সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আগ্রহীরা আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন।
সারা রাজ্যের পাশাপাশি মঙ্গলকোটেও চলছে ওই শিবির। কয়েকদিন আগে কৈচর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনুষ্ঠিত হল দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলকোট ব্লক আধিকারিক জগদীশচন্দ্র বারুই, মঙ্গলকোট থানার আইসি পিন্টু মুখার্জী, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুফল প্রধান-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
মঙ্গলবার দুয়ারে সরকার ক্যাম্প শুরু হয়েছে মঙ্গলকোটের পিন্ডিরা হাই স্কুলে। সেই ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী ও মঙ্গলকোট ব্লকের জনসাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ মেহবুব চৌধুরী।
এছাড়া মঙ্গলকোট বিধানসভার বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরীর উদ্যোগে মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব চৌধুরী ও মঙ্গলকোট স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক জুলফিকার আলীর উপস্থিতিতে নতুনহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কয়েকটি পর্যায়ের করোণা ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে। টিকা নিতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রথম দিন থেকে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং ভ্যাকসিন নিয়ে যাতে মানুষ কোনওরকম গুজবে কান না দেয় তার জন্য মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব চৌধুরী মঙ্গলবার এই টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি গত শুক্রবার মঙ্গলকোট ব্লক প্রাঙ্গণে যে টিকাকরণ কর্মসূচী শুরু হয়েছিল সেটিও পরিদর্শন করেন।
মেহেবুব চৌধুরী সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সকলকে তিনি মাক্স পরার অনুরোধ করেন।