| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

গ্রেস কটেজে পরিবেশ শিবির : দীপাঞ্জন দে

Reporter
দীপাঞ্জন দে / ৩৯৬৮ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে ৩০ জুলাই ২০২৩ (রবিবার) এক পরিবেশ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১১টা থেকে এই পরিবেশ শিবিরের সূচনা হয়, যা সারা দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত হলেও, প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পরিবেশ শিবির চলে। নদিয়ার সদর শহর কৃষ্ণনগরে এই পরিবেশ শিবির বসেছিল বরিষ্ঠ বিজ্ঞান প্রচারক দীপককুমার দাঁ ও পরিবেশকর্মী দীপাঞ্জন দে-র আহ্বানে। এই কর্মযজ্ঞের আয়োজক ছিল গোবরডাঙা জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা সমিতি ও সুজন-বাসর। আর সহযোগিতায় ছিল নদিয়া পরিবেশ মঞ্চ, বিজ্ঞান অন্বেষক ও রাখী পত্রিকা। পত্রিকা প্রকাশ, গ্রন্থ প্রকাশ, জৈবসামগ্রীর প্রচার ও বিপণন এবং পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রদর্শনী ও বিপণনের ব্যবস্থা ছিল এই পরিবেশ শিবিরে।

কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় আড়াই বছর (১৯২৬ থেকে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ) সপরিবার বসবাস করেছিলেন। এই বাড়ির অনতিদূরে ছিল বর্তমানে মৃতপ্রায় অঞ্জনার ধারা। নজরুল এই অঞ্জনা নদীকে নিয়েই গান রচনা করেছিলেন—

“নদীর নাম সই অঞ্জনা

নাচে তীরে খঞ্জনা,

পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।

আমি যাব না আর অঞ্জনাতে

জল নিতে সখী লো,

ওই আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥”

কৃষ্ণনাগরিকদের লোকচক্ষুর অন্তরালে দীর্ঘদিন এই গ্রেস কটেজ বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। তারপর কিছু সংস্কৃতি সচেতন মানুষ— সুজনেরা এগিয়ে আসেন এবং তাঁদের উদ্যোগেই ২০১২ সালে এই ভবন হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি অর্জন করে। গ্রেস কটেজের ইতিহাসের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের পারিবারিক জীবন এবং তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির বহু নিদর্শন জড়িয়ে রয়েছে। এই বাড়িতেই নজরুলের দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়। এখানে বসবাসকালেই নজরুল ‘দারিদ্র্য’, ‘খালেদ’ প্রভৃতি বিখ্যাত কবিতা লেখেন। নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসও এখানেই রচিত হয়। গ্রেস কটেজে বাংলা সঙ্গীতের অন্যতম মাইলফলক বাংলা গজলেরও সৃষ্টি হয়। যদিও নজরুল-জীবনে এই কৃষ্ণনগর পর্বটি অনেকটাই অনালোচিত রয়ে গিয়েছে। যাইহোক, এহেন ঐতিহাসিক ভবন গ্রেস কটেজে ৩০ জুলাই, ২০২৩ পরিবেশ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।

গ্রেস কটেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত নজরুলের আবক্ষ মূর্তিতে ও সভাকক্ষে স্থাপিত নজরুল প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে পরিবেশ শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বিশিষ্ট জৈব কৃষি প্রচারক শৈলেন চণ্ডী নজরুল মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং বিশিষ্ট কবি তপনকুমার ভট্টাচার্য নজরুল প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। পরিবেশ শিবিরে স্বাগত ভাষণ রাখেন সুজন-বাসরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস। তিনি পরিবেশ শিবিরে অংশ নেওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে যে সকল পরিবেশ ও বিজ্ঞানকর্মীরা এসেছিলেন, তাদের কথা বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। আর পরিবেশ শিবিরের এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রারম্ভিক কথন শোনা যায় গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা দীপককুমার দাঁ-র মুখে।

পত্রিকা ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভামুখ্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দেবাশিষ মণ্ডল। এদিনের পরিবেশ শিবিরে পরিবেশ পত্রিকা ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা’ (ত্রৈমাসিক) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়। পত্রিকাটি উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লেখক দেবনারায়ণ মোদক ও নদিয়া পরিবেশ মঞ্চের আহ্বায়ক সুব্রত বিশ্বাস। এই পরিবেশ পত্রিকার প্রকাশক দীপককুমার দাঁ এবং পত্রিকার সম্পাদক দীপাঞ্জন দে পত্রিকা প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে অন্যান্য বিশিষ্টজনেরাও ছিলেন। ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা’-র চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুগ্ম সংখ্যাটি (এপ্রিল-জুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৩) এদিন প্রকাশ পায়। পরিবেশ শিবিরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট ধান সংগ্রাহক অনুপম পালের ‘স্বদেশভূমি ও সবুজ বিপ্লব’ শীর্ষক গ্রন্থটির প্রকাশ। গ্রন্থটি উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট জৈব কৃষিবিজ্ঞানী ড. পরিতোষ ভট্টাচার্য। গ্রেস কটেজ বিষয়ক একটি পুস্তিকাও এদিন প্রকাশ পায়, যা বিশেষভাবে সকলের নজর কাড়ে। পুস্তিকাকাটির প্রকাশক সুজন প্রকাশন ও এটির লেখক বিশিষ্ট কবি ইনাস উদ্দীন। ‘কাজী নজরুল গ্রেস কটেজ ও সুজন-বাসর’ শীর্ষক এই পুস্তিকাটির আবরণ উন্মোচন করেন প্রবীণ সমাজসেবী শিবনাথ চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে এদিন গ্রেস কটেজের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা শোনা যায়। আর লেখক ইনাস উদ্দীন পুস্তিকাটি কতটা যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে, সেবিষয়ে সকলকে অবগত করেন। এই পর্বে সভা পরিচালনায় ছিলেন পরিবেশ শিবিরের আহ্বায়ক দীপাঞ্জন দে।

গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষ হলে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে সভা পরিচালনা করেন বিজ্ঞানকর্মী সুব্রত বিশ্বাস। পরিবেশ শিবিরে প্রথম পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল পরিবেশ ও বিজ্ঞান সংগঠনগুলির কর্মসূচির কথা। সভামুখ্য হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক প্রকাশ দাস বিশ্বাস। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী শতাব্দী দাশ ও রাখী পত্রিকার বরিষ্ঠ সম্পাদক বিমল সরকার। আলোচক স্বপনকুমার ভৌমিক, জয়দেব দে, শৈলেন চণ্ডী, খগেন্দ্রকুমার দত্ত, ডা: যতন রায়চৌধুরী, তরুণকুমার সাহা, মমতা বিশ্বাস, তপন দত্ত, নিবেদিতা সরকার, অনুপ হালদার, সঞ্জিত কাষ্ঠ, রঘুনাথ কর্মকার, তারক মণ্ডল, দেবাশীষ পণ্ডা, তাপস বর্মন প্রমুখরা পরিবেশ শিবিরে নিজেদের সংগঠনের কথা ও তাদের সংগঠন পরিচালিত পরিবেশ ও বিজ্ঞান আন্দোলনের কথা সকলের সম্মুখে উপস্থাপন করেন। সঞ্চালক সুব্রত বিশ্বাস এদিন রাজ্যের সকল পরিবেশ সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের আশু প্রয়োজনীয়তার কথা আরেকবার সকলকে মনে করিয়ে দেন।

আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশ সচেতনতার বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করা হয়। এই পর্বে সভামুখ্য ছিলেন অধ্যাপক দেবনারায়ণ মোদক। তাঁর আলোচনা দিয়েই এই পর্বের সূচনা হয়। সভা পরিচালনায় ছিলেন দীপাঞ্জন দে। উপস্থিত বক্তারা নিজেদের মতো করে একে একে প্রকৃতি পরিবেশ বিষয়ে, দূষণ বিষয়ে, ব্রত-কুসংস্কার-ধর্মীয় উপাচার বিষয়ে, এমনকি পরিবেশ আন্দোলনের বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেন। এই পর্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্পদনারায়ণ ধর, তপনকুমার ভট্টাচার্য, রতনকুমার নাথ, সুব্রত দে, ডা: সরোজ রায়, সুজিতকুমার বিশ্বাস, মমতা বিশ্বাস, মোহর মণ্ডল, সতীনাথ ভট্টাচার্য প্রমুখরা। আলোচনা সভা শেষ হলে পরিবেশ শিবিরে সমাপ্তি ভাষণ রাখেন সুজন-বাসরের সম্পাদক কবি ইনাস উদ্দীন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এই দ্বিতীয় বার কৃষ্ণনগর শহরে এহেন পরিবেশ শিবিরের আয়োজন হতে দেখা গেল। নদিয়া জেলা, তথা রাজ্যের বহু পরিবেশকর্মী, বিজ্ঞানকর্মী, জৈব কৃষি প্রচারক এই পরিবেশ শিবিরে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন। তাদের নিয়ে সারাদিনব্যাপী আলোচনা সভা পরিচালিত হয়, একটি পরিবেশ পত্রিকা এবং দুটি গ্রন্থও এদিন প্রকাশিত হয়। একাধিক পত্র-পত্রিকা ও প্রকাশনী এদিন নিজেদের সংগঠনের প্রকাশন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। গ্রেস কটেজের দরদালান এবং সম্মুখের একটি ঘর এই প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহার করা হয়। পরিবেশ শিবিরে জৈব সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন নদিয়ার শান্তিপুরের জৈবচাষী শৈলেন চণ্ডী। তিনি জৈব চাষের প্রয়োজনীয়তার কথা এবং বিষমুক্ত খাদ্যশস্যের বাজার আরও বেশি করে কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সেই বার্তা দেন। পরিবেশ বন্ধু তরুণকুমার সাহা পরিবেশ শিবিরে ‘এক কাপ চা’ শীর্ষক একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক লিফলেট প্রচার করেন। সমাজ শুদ্ধি দর্পণ সোসাইটির পক্ষ থেকে তপন দত্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সংক্রান্ত তাদের একটি প্রচারপত্র পরিবেশকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেন। সারাদিনব্যাপী এই পরিবেশ শিবির চলে। পরিবেশ শিবিরে টিফিন ও দুপুরে আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংগঠনগুলি এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে গ্রেস কটেজের পরিবেশ শিবিরকে এক বিশেষ মাত্রা দেয়।

পরিবেশ শিবিরে আগত নদীকর্মীদের বক্তব্যে আমাদের রাজ্যের একাধিক নদী, নালা, খাল, বিল, জলাশয়ের বিবরণ এবং সেগুলির বাস্তবিক কিছু সমস্যার কথা আলোচনাক্রমে উঠে আসে। যেমন— জলাভূমি বুজিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, জলদূষণ, অবৈধ নির্মাণ প্রভৃতি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। গঙ্গা, সুরধুনী, জলঙ্গি, অঞ্জনা, ভৈরব, মাথাভাঙা, চূর্ণী, ইছামতি, চালতিয়া, বুড়িগঙ্গা, চালতেতলা খাল-সহ একাধিক জলাভূমির প্রসঙ্গ নদীকর্মীদের আলোচনায় উঠে আসে। পরিবেশ শিবিরে নদীপাড়ের ভাঙন থেকে শুরু করে আর্সেনিক দূষণ, বাগান চুরি, প্লাস্টিক দূষণ, জল সংকট, জলাভূমি সংস্কার প্রভৃতি একাধিক বিষয় নিয়ে পরিবেশকর্মীরা আলোচনা করেন।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবেশ সংগঠন ও বিজ্ঞান সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই পরিবেশ শিবিরে অংশগ্রহণের জন্য কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন। এরমধ্যে কিছু সাংস্কৃতিক সংস্থাও ছিল। পরিবেশ শিবিরে আগত কিছু সংগঠন গ্রেস কটেজ প্রাঙ্গণে নিজেদের স্টল করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেছিল। এবারে দেখে নেওয়া যাক ২০২৩ সালের এই পরিবেশ শিবিরে কারা অংশগ্রহণ করেছিলেন— নদিয়া পরিবেশ মঞ্চ, গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ, সুজন-বাসর, কৃষ্ণনগর পরিবেশ বন্ধু, আইনেস (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর নেচার এন্ড এনভারমেন্ট স্টাডি), জীকো (গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট কনজারভেটিভ অর্গানাইজেশন), বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ, গোবরডাঙা জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা সমিতি, মাথাভাঙা ও চূর্ণী নদী বাঁচাও কমিটি, সমাজ শুদ্ধি দর্পণ সোসাইটি, কাঁচরাপাড়া বিজ্ঞান দরবার, বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকা, নেচার টাচ, নদিয়া বাজার পত্রিকা, গ্রাম গ্রামান্তর পত্রিকা, শান্তিপুর সায়েন্স ক্লাব, মুর্শিদাবাদ জিলা বিজ্ঞান পরিষদ, রাখী পত্রিকা, শান্তিপুর পরিবেশ ভাবনা মঞ্চ, এবং কি কে ও কেন পত্রিকা, বহরমপুর জলাভূমি রক্ষা কমিটি, কবি হেমচন্দ্র বাগচী স্মৃতি রক্ষা সমিতি, বাদকুল্লা বিজ্ঞান পরিষদ, উড়িধান পত্রিকা, নদিয়া পরশমণি পত্রিকা, চাপড়া বাঙ্গালঝি মহাবিদ্যালয়, সবুজ কলম, জলঙ্গি নদী সমাজ, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা পত্রিকা, মুক্তধারা, শান্তিপুর জৈব কৃষি বিষমুক্ত খাবার, সেভ জলঙ্গি, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ (রানাঘাট শাখা), ইউনাইটেড রেড স্টার্স ক্লাব, কিষাণ স্বরাজ সমিতি প্রভৃতি। এদের মধ্যে অনেকেই ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেস কটেজে আয়োজিত প্রথম পরিবেশ মেলাতে অংশগ্রহণ করেছিল। আর কিছু নতুন সংগঠনও ছিল, যাদের অংশগ্রহণ এবারে প্রথম ছিল।

‘পরিবেশ মেলা ২০২২’-এর মতোই নজরুল স্মৃতিধন্য গ্রেস কটেজ ভবনে আয়োজিত ২০২৩ সালের ‘পরিবেশ শিবির’-এ সারাদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি সংঘটিত হয়। এমনকি ভাঙা সভায় সুজন বন্ধুরা নজরুলের গানও উপভোগ করেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামলে বৃষ্টিরও দেখা মেলে। পরিবেশ ও বিজ্ঞানকর্মীরা ভাঙা সভার আলাপচারিতার আমেজ নিয়ে গ্রেস কটেজ ত্যাগ করেন, আয়োজক সুজন বন্ধুরাও গ্রেস কটেজে পরিবেশ শিবিরের এই বিচিত্র ভরপুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে একে একে বাড়ি ফেরেন। কৃষ্ণনগরে কাজী নজরুলের সাময়িক বাসস্থান গ্রেস কটেজে আয়োজিত পরিবেশ শিবিরের সারাদিনব্যাপী কর্মযজ্ঞ এভাবেই পরিসমাপ্ত হয়।

লেখক: আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

6 responses to “গ্রেস কটেজে পরিবেশ শিবির : দীপাঞ্জন দে”

  1. বেশ ভালো হয়েছে ।
    জয়দেব দে

  2. খুব সুন্দর একটি মনোগ্রাহী প্রতিবেদন। তথ্যসমৃদ্ধও বটে। অভিনন্দন জানালাম।

  3. Sudin Golder says:

    ভালো লাগলো।

  4. Tarun Saha says:

    খুব ভালো হয়েছে শিবিরের high lighting.

  5. Shree says:

    পড়াশোনার চাপে অন্যরকম কিছু পড়ার সময় হয়ে ওঠেনা তবে আপনার লেখা পড়তে আসতেই হয় সে আজ হোক কি দুদিন পর। কৃষ্ণনাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এসব ঐতিহাসিক স্থান ও ঘটনা অজানা ছিল। এই আর্টিকেলগুলো পড়েই নিজের শহর কে যেন নতুন করে চিনছি। আরও লিখতে থাকুন। আরও অনেক অনেক মানুষ এটা পড়ুক আর কৃষ্ণনগর ও পরিবেশ নিয়ে আরও সচেতন হোক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev