বছরের শুরুতে— জানুয়ারির এক রবিবাসরীয় সকালে নদিয়ার সদর শহর কৃষ্ণনগর এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল। মধ্যযুগে নদিয়া-রাজের আমলে নাগরিক চরিত্র পাওয়া কৃষ্ণনগরের ইতিহাস এমনিতেই বেশ সমৃদ্ধ। কৃষ্ণনগর শহরের আনাচে-কানাচে প্রাক-ঔপনিবেশিক এবং ঔপনিবেশিক আমলের একাধিক ঐতিহাসিক স্মারক এখনো দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বাংলার পর্যটন মানচিত্রে সেগুলি খুব বেশি চর্চিত নয়, বলা ভালো একপ্রকার অবহেলিতই। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণও সেগুলির গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবনে ব্যর্থ এবং সে কারণেই হয়তো সেগুলির প্রতি তারা যত্নশীল নয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা কৃষ্ণনগরে আসেন। কিন্তু সঠিক পর্যটন ব্যবস্থাপনা না থাকায় এবং কৃষ্ণনগরের আঞ্চলিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ঘাটতি থাকায় পর্যটকদের কৃষ্ণনগরের জনপ্রিয় দু-একটি বিষয়ের রস আস্বাদন করেই তৃপ্ত হতে হয়। উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে কৃষ্ণনগরের একাধিক ঐতিহাসিক স্মারক এভাবেই দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে গিয়েছে। সেগুলির মধ্যে কোনো কোনোটি আবার একেবারে জীর্ণ, তাদের ভগ্নদশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো সেগুলি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এমতাবস্থাতেও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা সাধারণ জনগণ— কারোরই ঐতিহাসিক স্মারকগুলি সংরক্ষণের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যাইহোক, শুরুতে যে ব্যতিক্রমী ঘটনার কথা বলা হচ্ছিল, সেটি হল— ২২ জানুয়ারি ২০২৩ (রবিবার) ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু একদল মানুষ কৃষ্ণনগরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির গুরুত্ব অনুধাবন করতে সরেজমিনে বেরিয়ে পড়েছিল। সেই দলে ছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা একাধিক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। কৃষ্ণনগর শহরের ঐতিহ্যগুলি ঘুরে দেখার এই সমগ্র কর্মকাণ্ডের নাম দেওয়া হয়েছিল— ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে এমন সুসংগঠিত ভাবে এই প্রথম কৃষ্ণনগর শহরে ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর মতো কোনো কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়েছিল। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো বা টোটো গাড়িতে করে তারা এদিন কৃষ্ণনগরের রাস্তায় ইতিহাসের অনুসন্ধানে ঘুরে বেড়ায়।

‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর জন্যে নির্দিষ্ট একটি রুট ম্যাপ করা হয়েছিল। সেই রুট ম্যাপ অনুসরণ করে শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি তারা পরিদর্শন করেন। ২২ জানুয়ারি ২০২৩ (রবিবার) সকাল ৮:৩০ নাগাদ কৃষ্ণনগরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে এই হেরিটেজ ওয়াক শুরু হয়। প্রথমেই যাওয়া হয় কৃষ্ণনগরের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য স্থান ঘূর্ণিতে, যেটি মৃৎশিল্পের রাজধানী হিসেবে সমগ্র দেশ এমনকি সমগ্র বিশ্বে পরিচিত। ঘূর্ণিতে গিয়ে তারা মৃৎশিল্পের নিদর্শনগুলি ঘুরে ঘুরে দেখেন। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সংক্ষেপে জানানো হয়। জলঙ্গী নদীর তীরে ঘূর্ণি অঞ্চল মৃৎশিল্পীদের আঁতুড়ঘর। মুখে মুখে একথা প্রচলিত যে, কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীদের আঙুলের ছোঁয়ায় মাটির পুতুল যেন প্রাণ পায়। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের কারিগরি দক্ষতা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঘূর্ণির মৃৎশিল্প ও মৃৎশিল্পীদের সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পর যাওয়া হয় পরবর্তী গন্তব্য— বঙ্গের গৌরব ব্যারিস্টার মনোমোহন ঘোষের নিবাস কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে। সেখানে কিছুক্ষণ পদচারণা করতে করতে জেনে নেওয়া হয় কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ইতিহাস। তিনজন ইউরোপীয় এবং দশজন ভারতীয় শিক্ষক নিয়ে ১৮৪৬ সালে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের পঠনপাঠন প্রথমে কৃষ্ণনগর কলেজে শুরু হয়েছিল। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্থাপত্যে লাল ইট দিয়ে নির্মিত স্কুলের বর্তমান সুদৃশ্য ভবনটি প্রখ্যাত ব্যারিস্টার মনোমোহন ঘোষের দান করা। স্কুলের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন স্যর ডি এল রিচার্ডসন। রামতনু লাহিড়ী, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, বেণীমাধব দাসের মতো পণ্ডিতেরা এই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে বার হয়ে যাওয়া হয় শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক ভবন কৃষ্ণনগর ব্রাহ্মসমাজে। নদিয়া-রাজ শ্রীশচন্দ্র রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কৃষ্ণনগরে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপিত হয়েছিল। হেরিটেজ ভবন হিসেবে স্বীকৃত কৃষ্ণনগর ব্রাহ্মসমাজের বর্তমান ভবনটি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৭৬৯ শকাব্দে (অর্থাৎ ১৮৪৭ খ্রি.) নির্মিত হয়। কৃষ্ণনগরের আমিনবাজার এলাকায় এটি অবস্থিত। কৃষ্ণনগরের একটি অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান হল কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি। ব্রাহ্মসমাজ দেখার পর রাজবাড়ির নহবৎখানা দেখতে যাওয়া হয়। নদিয়া-রাজের রাজধানী মাটিয়ারী থেকে কৃষ্ণনগরে স্থানান্তরের পর সেখানে রাজপ্রাসাদ, চক, নহবৎখানা নির্মিত হয়। মাটি, চুন সুরকির গাঁথনিতে ইটের তৈরি চারমিনার বিশিষ্ট তোরণরূপী এই নহবৎখানাটি রাজা রুদ্র রায়ের আমলে নির্মিত হয়েছিল। প্রসঙ্গক্রমে নদিয়া-রাজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। নদিয়া রাজবংশের সূচনা ভবানন্দ মজুমদারের সময় থেকে হয়েছিল বলে জানা যায়। রামচন্দ্র সমাদ্দারের চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ছিলেন ভবানন্দ। তিনি বাগোয়ান থেকে মাটিয়ারীতে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন। পরবর্তীতে নদিয়া-রাজ রাঘব রায় সিংহাসনে বসে মাটিয়ারী থেকে রেউই গ্রামে রাজধানী স্থানান্তর করেন। এই রেউই ছিল গোপেদের গ্রাম ছিল। সে সময় মুঘল সিংহাসনে বিরাজমান ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। মহারাজা রাঘব রায়ের পরে তাঁর পুত্র রুদ্র রায় নদিয়া-রাজের অধিপতি হন। মহারাজা রুদ্র রায়ের রাজত্বকালে (১৬৭৬-১৬৯৩ খ্রি.) রেউই থেকে কৃষ্ণনগর নামকরণ হয়। আসলে রেউই গ্রামের অধিবাসী গোপেরা ঘটা করে শ্রীকৃষ্ণের পুজো করতেন। সে কারণেই মহারাজা রুদ্র রায় রেউই গ্রামের নাম রাখেন কৃষ্ণনগর। এভাবেই মধ্যযুগের ভারতে শহর হিসেবে কৃষ্ণনগরের আবির্ভাব ঘটেছিল। সেসময় সমগ্র ভারতের অধিপতি ছিলেন মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব। নদিয়া রাজবংশের সবথেকে উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কৃষ্ণচন্দ্র রায় ছিলেন মহারাজা রুদ্র রায়ের প্রপৌত্র। তাঁর রাজত্বকালে (১৭২৮-১৭৮২ খ্রি.) কৃষ্ণনগরকে কেন্দ্র করে বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি আবর্তিত হয়েছিল এবং কৃষ্ণনগরের গরিমা, প্রতিপত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর রুট ম্যাপে একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পীরতলাকে রাখা হয়েছিল। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির সন্নিকটে অবস্থিত পীরতলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। জায়গাটি ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আলাল দোস্ত নামে রাজবাড়ির অনুগত প্রখ্যাত স্থপতির সমাধি হিসেবে জায়গাটি চিহ্নিত। ফি বছর মহরমের দিন এখানে একটি মেলা বসে। পীরতলার অনতিদূরে কৃষ্ণনগরের আনন্দময়ী তলা। সেখানে রয়েছে আনন্দময়ী মায়ের মন্দির। নদিয়া-রাজ গিরিশচন্দ্র রায় ১৮০৪ সালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির সন্নিকটে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন এবং সেখানে আনন্দময়ী কালী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণমুখী, চারচালা বিশিষ্ট এই এই মন্দিরের সামনের দেওয়ালে কিছু পঙ্খের কাজ রয়েছে। পীরতলা এবং আনন্দময়ী মন্দির দেখার পর ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর পরবর্তী গন্তব্য ছিল কৃষ্ণনগরের ভূমিপুত্র স্বনামধন্য কবি নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভিটে।

নদিয়া-রাজের দেওয়ান কার্ত্তিকেয়চন্দ্র রায়ের সুপুত্র দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে জুলাই কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মভিটের ভগ্নাাবশেষ কৃষ্ণনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এখনো দেখতে পাওয়া যায়। দ্বিজেন্দ্র জন্মভিটেতে স্থাপিত স্মৃতিফলক দেখে দ্বিজেন্দ্র স্মৃতিধন্য দ্বিজেন্দ্র পাঠাগারেও এদিন যাওয়া হয়। দ্বিজেন্দ্র পাঠাগারের সভাপতি সুজয় গোস্বামীর উপস্থিতিতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পরিবারের অন্যান্যদের সম্পর্কেও কিছু কথা জেনে নেওয়া যায়। দ্বিজেন্দ্র পাঠাগার প্রাঙ্গণে স্থাপিত কবির পরিবারের তিন প্রজন্মের মূর্তি (কার্ত্তিকেয়চন্দ্র রায়, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং দিলীপকুমার রায়) সকলকে দেখানো হয় এবং সেই তিনজন বিশিষ্ট মানুষ সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে যথাবিহিত অবহিত করানো হয়। প্রসঙ্গত বলতে হয় ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর জন্য নির্ধারিত দিনটি (২২ জানুয়ারি ২০২৩) একপ্রকার বিশেষ ছিল। প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সুরসাধক দিলীপকুমার রায়ের ১২৬তম জন্মদিবস ছিল সেদিন। দ্বিজেন্দ্র পাঠাগারে দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। এই বিশেষ দিনটিকেই ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।

সেখান থেকে যাওয়া হয় রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য রানিকুঠিতে। কৃষ্ণনগরে রবি ঠাকুরের স্মৃতিধন্য একটি হেরিটেজ ভবন হল রানিকুঠি। এটি ছিল সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীদের পৈতৃক নিবাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২৫ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন এবং এই বাড়িটিতে ৩-৪ দিন ছিলেন বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের পক্ষ থেকে এই রানিকুঠিকে ‘monument of heritage importance’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনটির ছাদ অনেকটাই ধসে পড়েছে। এহেন ঐতিহাসিক ভবনের ভগ্নপ্রায় দশা দেখে সকলেই বিস্মিত হন। পরবর্তী গন্তব্য ছিল কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রাল এবং খ্রিস্টমন্দির। নদিয়া জেলার একটি অন্যতম প্রাচীন গির্জা হল কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রাল। এটি গঠন ও নকশার দিক থেকে অন্যান্য গির্জার থেকে অনেকটাই আলাদা। গথিক, নিও-ক্লাসিক্যাল বা ভিক্টোরিয়ান নয়, একাধিক স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণে ১৮৯৯ সালে কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রালের বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয়। কয়েক বছর আগে কৃষ্ণনগর ক্যাথিড্রালের প্রায় সম্মুখে নির্মিত হয়েছে আরেকটি বিশাল স্থাপত্য। যার নাম দেওয়া হয়েছে খ্রিস্টমন্দির। এর পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে কৃষ্ণনগরের অধুনা লুপ্তপ্রায় নদী অঞ্জনা। কৃষ্ণনগরে এই নদী বর্তমানে নালায় পরিণত হয়েছে। অঞ্জনার লুপ্তপ্রায় নদীখাতও এদিন হেরিটেজ ওয়াকের সঙ্গীদের দেখানো হয়। কাজী নজরুল ইসলাম এই অঞ্জনা নদীকে নিয়ে একদা গান রচনা করেছিলেন—
“নদীর নাম সই অঞ্জনা
নাচে তীরে খঞ্জনা,
পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে
জল নিতে সখী লো,
ওই আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥”

‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর শেষ গন্তব্য ছিল গ্রেস কটেজ। কৃষ্ণনগরের এই বাড়িটিতে কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় আড়াই বছর (১৯২৬-১৯২৮ খ্রি.) সপরিবারে বসবাস করেছিলেন। নজরুলের পুত্র বুলবুলের জন্ম হয় এখানে। ‘দারিদ্র’ কবিতা, ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসের রচনা এই বাড়িতেই। এখানেই সৃষ্টি হয় প্রথম বাংলা গজল গানের। হেরিটেজ ওয়াকে অংশগ্রহণকারীরা এদিন আরেকটি ঐতিহাসিক বিষয়ের সাক্ষী থাকেন। সেটি হল— কৃষ্ণনগরের সাংস্কৃতিক সংস্থা সুজন বাসরের উদ্যোগে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেরিটেজ কমিশন’ গ্রেস কটেজের সংস্কারকার্যে হাত লাগিয়েছে। ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর থেকে পিডব্লুডি-র তত্ত্বাবধানে এই সংস্কারের কাজ চলছে। ঐতিহ্য বজায় রেখে তদানীন্তন প্রথামাফিক চুনসুরকি দিয়েই গ্রেস কটেজ সংস্কারের কাজ হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই মাস অতিক্রান্ত। হেরিটেজ ওয়াকে অংশগ্রহণকারীরা এদিন সরেজমিনে গ্রেস কটেজ পরিভ্রমণ করেন এবং চুনসুরকি দিয়ে গ্রেস কটেজের সংস্কারকার্য চাক্ষুষ করেন। এমনকি এই সংস্কারকার্যে যুক্ত অন্যতম মিস্ত্রি আকবর সরকারের মুখ থেকে তারা এদিন সংক্ষেপে গ্রেস কটেজ সংস্কার প্রক্রিয়ার সমগ্র হাল হকিকত জেনে নেওয়ারও সুযোগ পান।

গ্রেস কটেজ পরিদর্শনের মধ্যে দিয়েই প্রথম ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর পরিসমাপ্তি হয়। কৃষ্ণনগরের হেরিটেজগুলি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়েই ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পর্যটকদের অনেকেই কৃষ্ণনগরে ঘুরতে এলে কেবলমাত্র দু-একটি জায়গা দেখেই ফিরে যান। কিন্তু কৃষ্ণনগরে একাধিক ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে, যেগুলি সম্পর্কে আমরা উদাসীন। সেগুলি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই হেরিটেজ ওয়াক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর মাধ্যমে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন। সরেজমিনে ঐতিহাসিক স্মারকগুলির হাল হকিকত অনুসন্ধান করে আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রতি তাদের আগ্রহ যেন আরো বেড়ে যায়। আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী যে কেও এই কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেভাবেই ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নদিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন অংশগ্রহণকারীরা এসেছিলেন, তেমনি জেলার বাইরে থেকেও এদিন আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী মানুষদের ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এ অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। ‘হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর’-এ যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা হলেন— অঙ্কিতা সিং মুড়া, পূজা সেন, রিয়া দাস, অন্বেষা কুণ্ডু, খাদিজা খাতুন, রিয়া বণিক, সৃজা ভট্টাচার্য, বিচিত্রা মণ্ডল, আদিত্যনারায়ণ দাস, মহাফিজ বিশ্বাস, রণিতা খাতুন, সুমনা ঘোষ, মনিরা মণ্ডল, মিঠু মণ্ডল, মৌপ্রিয়া সরকার, পিংকি বিশ্বাস, শুভজিৎ সাঁতরা, শ্রেয়া বিশ্বাস, দিশা বিশ্বাস, অর্পিতা প্রামাণিক, তন্ময় মণ্ডল, অর্পিতা মোদক, অদিতি মোদক, অনন্যা মোদক, শুভজিৎ দাস এবং দীপাঞ্জন দে। এই ধরনের উদ্যোগ আগামীদিনে আরো বেশি করে হলে একদিকে যেমন আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অন্যদিকে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির প্রতি মানুষের উদাসীনতা কিছুটা হলেও কমবে। আর এভাবে আমাদের ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে বলে আশা করা যায়।
লেখক: আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।
খুব ভালো লাগলো স্যার লেখাটি পড়ে। এমন একটি উদ্যোগে সামিল হতে পেরে খুবই আনন্দিত।
তোমাদের অংশগ্রহণেই এটি সম্ভব হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই তোমাদের।
অত্যন্ত ভালো একটি পদক্ষেপ। কৃষ্ণনগরের অনেক অজানা ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে জানতে পারা গেছে। খুব ভালো একটি উদ্যোগ ছিল কৃষ্ণনগর হেরিটেজ ওয়াক্।
ধন্যবাদ তোমায়। সঙ্গে থেকো।
আমার নিজের শহর কৃষ্ণনগর, শহরটা কে এর আগে এমন ভাবে দেখা হয়নি ।কৃষ্ণনগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনুসন্ধানে আমরা ২২ জানুয়ারি ২০২৩ সকালে বার হয়েছিলাম। এই শহর এ যে এত কিছু আছে তা যানা ছিল না ।সেটা যানা বা দেখা হল ।। হেরিটেজ ওয়াক কৃষ্ণনগর এৱ মাধ্যমে এবং উদ্দেগে আমাদেৱ স্যাৱ দিপাঙ্জ্ন দে।ধন্যবাদ স্যাৱ আপনাকে
#হেরিটেজ_ওয়াক_কৃষ্ণনগর
এই হেরিটেজ ওয়াক তোমাদের ইতিহাস চেতনা বাড়াতে সক্ষম হলে, তবেই এই উদ্যোগকে সফল বলা যাবে।
খুব ভালো লাগলো স্যার ।
ইতিহাস অনুসন্ধানের প্রয়াস থামালে চলবে না।
খুব ভালো লাগলো। মনে হলো আমিও ঘুরে নিলাম তোমাদের সঙ্গে। প্রতিবছর ব্যবস্থা কোরো। নিশ্চয়ই খুব জনপ্রিয় হবে। খাবারদাবারের ব্যবস্থা থাকে তো?লেখাটিও খুব সুন্দর। অনেককিছুই জানা গেল।
অনেক ধন্যবাদ ম্যাডাম। আপনার প্রতিক্রিয়া আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইচ্ছে রইলো তোমাদের সাথী হওয়ার।
তোমায় সঙ্গে পেলে খুব ভালো লাগবে।
এ রকম কাজ করা দরকার। খুব ভালো কাজ স্যার।
ধন্যবাদ। আপনি আসলে ভালো লাগবে।