দেবী সরস্বতী হলেন সততা, শুভ্রতা, পবিত্রতার প্রতীক। ঋকবেদে স্বরস্বতী নামে একটি নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়। বৈদিক যুগে (আনুমানিক ১৫০০-৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) নদীর দেবী ছিলেন সরস্বতী। ঋক বৈদিক যুগে সাতটি পবিত্র নদীর মধ্যে একটি ছিল স্বরস্বতী। এই সরস্বতী নদীর তীরেই আর্য সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছিল বলে মনে করা হয়। দেবী সরস্বতীর নামেই সেই নদীর নামকরণ হয়েছিল বলে অনুমান। বাঙালিদের মধ্যে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে এক অন্য রকমের উন্মাদনা দেখতে পাওয়া যায়। বিবর্তনের ধারা বেয়ে এখন সরস্বতী পুজোকে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন ডে বলেও অভিহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, দেবী সরস্বতীর ১৬টি রূপ বা নাম রয়েছে। সেগুলি একটু দেখে নেওয়া যাক :
সরস্বতীর প্রথম রূপ : রোহিনী (এখানে দেবী চতুর্ভূজা)।

সরস্বতীর দ্বিতীয় রূপ : প্রজ্ঞপ্তি (এখানে দেবী ষড়ভুজা এবং তাঁর বাহন হাঁস। এখানে দেবীর হাতে থাকে অসি, কুঠার, চাঁদমালা ও দর্পণ)।
সরস্বতীর তৃতীয় রূপ : বজ্রশৃঙ্খলা (এখানে দেবী চতুর্ভুজা এবং তাঁর বাহন হাঁস। দেবীর হাতে থাকে পরিখ ও বৈষ্ণবাস্ত্র)।
সরস্বতীর চতুর্থ রূপ : কুলিশাঙ্কুশা (এখানে দেবী চতুর্ভুজা এবং দেবীর বাহন দ্রুতগামী সাদা ঘোড়া। ইনি ডান হাতে অসি এবং বাঁহাতে ভূষণ্ডি ধারণ করেন)।
সরস্বতীর পঞ্চম রূপ : চক্রেশ্বরী (এখানে দেবীর ১৬টি হাত এবং তাঁর বাহন গরুড়)।
সরস্বতীর ষষ্ঠ রূপ : পুরুষদত্তাভারতী (এখানে দেবী একটু পুরুষালি এবং তাঁর বাহন হাতি)।
সরস্বতীর সপ্তম রূপ : কালী (এখানে দেবী চতুর্ভুজা এবং দেবীর বাহন বৃষ)।

সরস্বতীর অষ্টম রূপ : মহাকালী (এখানে দেবী চতুর্ভুজা। দেবীর ডান হাতে একটি দন্ড এবং অন্য হাতে শতঘ্নী থাকে)।
সরস্বতীর নবম রূপ : গৌরী (এখানে দেবী চতুর্ভুজা। তাঁর ডানহাতে মঙ্গলঘট ও বাঁহাতে দন্ড থাকে)।
সরস্বতীর দশম রূপ : গান্ধারী (দেবী চতুর্ভুজা, তাঁর কোনো বাহন নেই)।
সরস্বতীর একাদশ রূপ : সর্বাস্ত্রমহাজ্বালা (এখানে দেবী অষ্টভুজা। ডানহাতে অসি, ত্রিশূল, ভল্ল ও বৈষ্ণবাস্ত্র এবং বাঁহাতে ব্রহ্মশীর অস্ত্র, তীর ও পাশ থেকে। দেবীর মাথায় উঁচু মুকুট শোভা পায়)।

সরস্বতীর দ্বাদশ রূপ : মানবী (দেবী চতুর্ভুজা। দেবীর বাহন সাপ। দেবীর দুহাতে দর্পণ থাকে। এক হাতে দন্ড, অন্য হাত বরাভয় মুদ্রায় থাকে।)
সরস্বতীর ত্রয়োদশ রূপ : বৈরাট্যা (এখানে দেবী চতুর্ভুজা। এখানেও দেবীর বাহন সাপ)।
সরস্বতীর চতুর্দশ রূপ : অচ্ছুপ্তা (দেবীর এই রূপ একেবারেই অপ্রচলিত। এটি দেবীর একেবারে দুর্লভ রূপ)।
সরস্বতীর পঞ্চদশ রূপ : মানসী (এখানে দেবীর বাহন সিংহ। দেবী চতুর্ভুজা। দেবীর ডান হাতে ভল্ল ও কুঠার এবং বাঁহাতে দর্পণ ও বিজয় ধনুক)।
সরস্বতীর ষোড়শ রূপ : মহামানবী (এখানে দেবীর বাহন ময়ূর। দেবী চতুর্ভুজা। দেবীর ডান হাতে ভল্ল এবং বাঁহাতে চক্র থাকে)।

কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজো ক্রমান্বয়ে তার কলেবর বৃদ্ধি করছে। ২০২৩ সালের সরস্বতী পুজো আড়ম্বরের দিক থেকে পূর্ববর্তী সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করে গেল বলা যায়। এবছরের পুজো একাধিক দিক থেকে বিশেষ হয়ে রইবে। করোনা অতিমারির কারণে ২০২০ সালের পুজোর পর মাঝের দু’বছর অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২২ সালে সরস্বতী পুজোর আয়োজনে যে ঘাটতি ছিল, সুদে-আসলে সব যেন মিটিয়ে নেওয়া হলো। যদিও কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজোর আয়োজনে বা বিষয় ভাবনায় এই উত্তরণ আকস্মিক নয়। ২০১৫ সালে যেমন কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজোয় দেখা গিয়েছিল পেশোয়ার কাণ্ডের প্রতিবাদ। কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের ছাত্ররা তাদের মণ্ডপসজ্জায় পেশোয়ার সেই নৃশংসতার ছবি ফুটিয়ে তুলেছিল। পেশোয়ারে নিহত শতাধিক ছাত্রের প্রতি এভাবেই তারা শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছিল। সেই বছর ঘূর্ণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সরস্বতী পুজোর প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলপনা।

কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে সেবারের থিম ছিল ‘আদ্যাশক্তি মহাসরস্বতী’। শক্তিনগর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের পুজোর থিম করেছিল যামিনী রায়। কৃষ্ণনগর এ ভি হাইস্কুলের থিম ছিল স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র বিপ্লবী বাঘা যতীনের আত্ম বলিদানের শতবর্ষ। সেবছর তাই এ ভি হাইস্কুলের পুজোয় বাঘাযতীনের জীবন, বুড়িবালামের তীরে সংঘর্ষ প্রভৃতি তুলে ধরা হয়েছিল। কৃষ্ণনগরের স্কুলের পুজোগুলির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল— খুব কম বাজেটে শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফি বছর তাদের পুজো করে থাকে। দর্শনার্থীদের অনেকেই শিক্ষার্থীদের বহুবিধ বিষয় ভাবনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত বলতে হয় কৃষ্ণনগরে সরস্বতী পুজোর ধুম দেখে অনেকে আবার বিরক্তও হচ্ছেন। তারা বলছেন— ‘জামা আমার কালো’, ‘ও টুনির মা’, ‘নাগিন নাগিন’, ‘পোলা তো নয় আগুনের গোলা’, ‘কালা চশমা’ চারিদিকে তো এসব গানই বাজছে। বিদ্যাদেবীর এ কেমন আরাধনা! যেখানে প্রকৃত ভক্তিটাই উধাও!

২০২৩ সালে কৃষ্ণনগরের সরস্বতী প্রতিমাগুলির অধিকাংশই দেবী মূর্তি এবং দেবী ডাকের সাজে সজ্জিত। আর্টের ঠাকুর তুলনায় কম দেখতে পাওয়া গেল। জগদ্ধাত্রী মূর্তির আদলে একাধিক সরস্বতী প্রতিমা গড়া হয়েছে এবং প্রতিমার বিশালতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর একসময় কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজোয় প্রতিমার বিশালতার চাইতে তার গড়ন অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একদা কৃষ্ণনগরে ওরিয়েন্টাল প্রতিমা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। ২০২৩ সালের সরস্বতী পুজো আলো, মণ্ডপ সজ্জাতেও পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। কৃষ্ণনগরে বড় বাজেটের একাধিক পুজোর হদিস মিলেছে। কোভিডের ঠিক আগে আগে ২০২০ সালেও কৃষ্ণনগরের সুউচ্চ সরস্বতী প্রতিমা নজর কেড়েছিল। পাশাপাশি একাধিক থিমের পুজো হয়েছিল। সেই বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্প, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সমাজ সংস্কার প্রভৃতি বিষয় মণ্ডপসজ্জায় দেখা গিয়েছিল।

কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের থিম ছিল ‘সম্প্রীতি’। মণ্ডপে একাধিক ধর্মের প্রতীক চিহ্ন এঁকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের থিম ছিল সময় সরণি। কৃষ্ণনগর এ ভি হাইস্কুলের থিম ছিল অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। আমিন বাজারের অভিযান ক্লাবের থিম ছিল ‘নারীর মুক্তি’। অনেকেই বলেছিলেন যে, কৃষ্ণনগরে ২০২০ সালের সরস্বতী পুজো একেবারে অন্যরকম হয়েছে। আসলে একসময় কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজো নিতান্তই সাদামাটা হতো। শিক্ষার্থীরাই মূলত সরস্বতী পুজো করত। আর এখনকার চিত্রটা পুরোটাই আলাদা। অলিতে গলিতে পুজো হচ্ছে। আড়ম্বরও বহুগুণ বেড়েছে। প্রাণ আছে কিনা জানিনা, তবে উন্মাদনা রয়েছে প্রচুর। সামাজিক গণমাধ্যমে তো ঘোষণাই করা হয়েছে— কৃষ্ণনগরের তৃতীয় বৃহৎ উৎসব হল সরস্বতী পুজো। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে ২০২৩ সালে কৃষ্ণনগরে চারশোরও বেশি পুজো হয়েছে।

ফি বছর কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে অন্য রকমের উন্মাদনা থাকে। ২০২৩ সালে তাদের সরস্বতী পুজোর বিষয়ভাবনায় ‘মুক্তি’-র দেখা মিলল। সরস্বতীর মণ্ডপসজ্জায় কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে যে, কিভাবে প্রকৃত সাধনা চেতনায় মুক্তি আনতে পারে। আর সেই মুক্তির বার্তাই তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিগত কয়েক বছর ধরে সরস্বতী পুজোর বিষয় ভাবনায় চমক দিচ্ছে। এবারেও স্কুলের শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের পুজোমণ্ডপ তৈরি করেছে। বইয়ের স্তূপের নীচে সরস্বতী প্রতিমাকে স্থাপন করা হয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, সাধারণ মানুষও দলে দলে যাচ্ছেন কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের সরস্বতী পুজোর থিম দেখতে।

সামাজিক গণমাধ্যম কিভাবে শিক্ষার্থীদের মেধা শুষে নিচ্ছে, সেটাই তাদের মণ্ডপসজ্জায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মণ্ডপের সামনে একটি খাঁচায় একজন শিক্ষার্থীকে বন্দী দেখানো হয়েছে। সে আসলে মোবাইলের প্রতি আসক্ত। তাদের সরস্বতী পুজোর থিমে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র বই। এ বছর কৃষ্ণনগর এ ভি হাইস্কুলের সরস্বতী পুজোর বিষয়ও বই। তাদের মণ্ডপসজ্জায় মানুষের গুহা জীবন থেকে আজকের ই-বুকের যুগেও বইয়ের প্রাসঙ্গিকতাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাধানগর বয়েজ ক্লাবের (মা বাগেশ্বরী) এবছরের বিশেষ আকর্ষণ ৭৫-এর স্বাধীনতার ফসল। প্রতিমার সাজ করা হয়েছে বিভিন্ন ডাল, পোস্ত, বিভিন্ন বীজ ইত্যাদি দিয়ে। চকের পাড়ার ক্লাব রোটারীর এবারের বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমার উচ্চতা ও প্রতিমা সজ্জা। আমিনবাজারের ক্লাব অগ্নির এবারের বিশেষ আকর্ষণ সহজ পাঠ। বেজিখালির ক্লাব স্বস্তিকের এবার ৪০তম বর্ষ। স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে তাদের বিশেষ আকর্ষণ ইন্ডিয়া গেট। চাষাপাড়ার ক্লাব উদয়ন বুড়িমার মণ্ডপের পাশেই (রাজমাতা), তাদের এবছরের বিশেষ আকর্ষণ চন্দ্রযান।

শক্তিনগরের ক্লাব নিউ স্টার (ভবানী মাতা), তাদের ২০২৩ সালের পুজোর বিষয় ভাবনা শুরুর পরিচয় বর্ণপরিচয়। নেদিয়ার পাড়া নতুন সংঘ (নতুন মাতা) পি কে ভট্টাচার্য রোড বিশেষ আকর্ষণ নারীকথা। অরবিন্দ সরণি পূর্বাচল পাড়ার ক্লাব প্রগতি সংঘ (প্রগতি মাতা) এবারের বিশেষ আকর্ষণ নৌকার দেশে। শক্তিনগর নতুন পাড়ার ক্লাব এস. বি. এস. (মহীয়সী মাতা), তাদের এবছরের বিশেষ আকর্ষণ কুলোর মণ্ডপ। কাঠুরিয়া পাড়ার ক্লাব উদ্যোগ, যাদের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ প্রবহমান। চকের পাড়ার ক্লাব অগ্নি মাতা। তাদের বিশেষ আকর্ষণ ছৌ নাচের দেশে, মা আসছে ছৌ নাচের বেশে। রাধানগরের ক্লাব ব্রাইট (রাধা মা) তাদের বিশেষ আকর্ষণ লজেন্সর সাজ। বৌবাজার বারোয়ারীর (মা রূপেশ্বরী) বিশেষ আকর্ষণ শঙ্খ ও ঝিনুকের সাজে সুসজ্জিত দেবী।

রাধানগরের ক্লাব আমরা প্রতিবেশীর এবারের থিম মন যা চায়। ক্লাব মাতঙ্গীর বিশেষ আকর্ষণ সহজ মানুষ। ষষ্ঠীতলা পাল বাড়ি ব্রহ্মসনাতনী। খোড়ো পাড়া বারোয়ারীর থিম ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাগ। উকিলপাড়ার ক্লাব শহর প্রতি বছর বিষয় ভাবনায় চমক দিয়ে থাকে। তাদের এবারের বিশেষ আকর্ষণ অনুগল্প, সোনাপট্টিতে সাত দিন। তাদের আরেকটি আকর্ষণ হল সবথেকে ছোট তিন ইঞ্চির সরস্বতী প্রতিমা। ক্লাব নবোদয়ের থিম সাজবো যতনে, সেখানে দেখা যায় কাঁচের চুরির সাজ। কোতোয়ালী থানার বিপরীতে ক্লাব টার্গেট এবছর থিম করেছে বিবর্তনের সরস্বতী। ক্লাব বীণাপাণি করেছে পেন্সিল দিয়ে মায়ের সাজ। সমরপল্লী বারোয়ারীর থিম ৩০ ফুট ভারতের জাতীয় পতাকা।

হাতারপাড়া (ময়ূরাক্ষী মাতা) বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমায় টুথপিকের সাজ। জওহরলাল নেহেরু জাতীয় যুব কম্পিউটার সেন্টারের এবছরের থিম অভিজ্ঞান শকুন্তলম। রাধানগরের ক্লাব রক্তজবা (মা অরুন্ধতী) এবারের থিম মাটির টানে। আনন্দময়ী তলার মহিশাল পাড়ার সৈকত জিমন্যাস্টিক ক্লাবের (বাগময়ী মা) বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমার আট ফুটের মুকুট। ঘূর্ণির পেয়াদা পাড়া নতুন সংঘ বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমায় ধানের সাজ। ক্লাব বি.জি.এস.-এর থিম মহাকাল। ক্লাব গোল্ডেন স্টারের থিম কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি। হাইস্ট্রীটের ক্লাব A to Z -এর বিশেষ আকর্ষণ স্মরণে বরণে শিল্পী বীরেন পাল। এছাড়াও কৃষ্ণনগরের বিশেষ কয়েকটি সরস্বতী পুজোর কথা বলতেই হয়। যেমন— চৌধুরীপাড়া (নীলেশ্বরী মাতা), চাষাপাড়ার ক্লাব ক্যাপিট্যাল (শুভ্রমাতা), রাজারোড ষষ্ঠীতলা বারোয়ারী (রাজ রাজেশ্বরী মাতা), কাঠুরিয়াপাড়ার ক্লাব জয়ন্তী সংঘ (জয়ন্তী মাতা), নলুয়াপাড়া বারোয়ারী (সেরা মা), কালীনগর দেশবন্ধু ক্লাব (দেবী মা), ঘূর্ণি সূর্য সংঘ (মিষ্টি মা), উত্তর কালীনগরের শুকুল মাঠ (শ্রেষ্ঠ মাতা), বিশ্বম্বর রায় রোডের রক স্টার ক্লাব (ভুবনেশ্বরী মা), ঘূর্ণি আদি ঘরামীপাড়া (মা রাজেশ্বরী), তাঁতিপাড়া বারোয়ারী (সবার মা), ষষ্ঠীতলা বারোয়ারীর (বড়মা), ছুতোরপাড়ার ক্লাব ত্রিমূর্তি (আদিমা), রাধানগর আদি বারোয়ারির ক্লাব জুপিটার (জয় মা), আর এন ঠাকুর রোডে ক্লাব সপ্তরথী (বিশ্বমাতা), গেটরোড শ্মশান কালী বাড়ি (বাগেশ্বরী মাতা), রাধানগর ক্লাব জুপিটার (জয় মা), ঘূর্ণি ভাই ভাই সংঘ (সেরা মা), নাজিরাপাড়া বয়েজ ক্লাব (বিদ্যামাতা), শক্তিনগরের ক্লাব ক্লাসিক (চন্দ্র মাতা), অঞ্জনা পাড়ার ক্লাব উজ্জয়িনী (চন্দ্রিকা মাতা), ঘোড়া পট্টির ক্লাব প্রতিজ্ঞা (মিষ্টি মা), চৌধুরীপাড়া বারোয়ারীর (স্বর্ণমাতা), কৃষ্ণনগর রোড স্টেশনের ক্লাব একতা (মিষ্টি মা), কৃষ্ণনগরের প্রান্তে কবি বিজয়লাল ইনস্টিটিউটের সম্মুখে নতুন কালিপুর (শান্তি মা), ঘূর্ণি হালদার পাড়ার ক্লাব পেট্রিয়ট (সোনামা), শক্তিনগর পাঁচমাথা মোড় বারোয়ারীর (শক্তিমাতা), প্রভাত সংঘ (জলঙ্গী মাতা)।

এছাড়াও কৃষ্ণনগরে বহু সরস্বতী পুজো হয়, যেমন— আনন্দময়ীতলা বালকেশ্বরী বারোয়ারী, হাটখোলা পাড়া বারোয়ারী, নাজিরাপাড়ার ক্লাব চৈতালী, সাপুরিয়াপাড়ার ক্লাব নবজিত, বেলেডাঙ্গা ক্ষৌণিশ পার্কের ক্লাব অরোরা, চৌধুরীপাড়ার ক্লাব ইউরেকা, ক্লাব সানসাইন, কলুপাড়ার ক্লাব প্রতিদান, কালীনগর এম এল এ রায় রোডের ক্লাব পঞ্চদ্বীপ, নগেন্দ্রনগর চতুর্থ লেনে কয়েকটি পরিবার মিলে পারিবারিক, ক্লাব ইউনিটি, ক্লাব স্বাগতম, ক্লাব যুবকবৃন্দ, রাজদূত ক্লাব, আপনজন ক্লাব, কৃষ্ণনগর রেনেসাঁস ক্লাব, পরশ পাথর ক্লাব, নাজিরাপাড়া ক্লাব ০০৭, নাজিরাপাড়া সর্ব্বশ্রী, ফেমাস ক্লাব, ক্লাব প্রতিবেশী, ক্লাব অভিরূপ, ক্লাব ক্রীড়াঙ্গন, ক্লাব ত্রিমূর্তি, ক্লাব জলসা, মানিকপাড়া ক্লাব ঋতায়ণ, ক্লাব ঘরোয়া প্রভৃতি। আগামীদিনে কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজো আরো সমৃদ্ধ হোক, তবে আড়ম্বরের সঙ্গে সঙ্গে সে যেন নিজের প্রাণবায়ু নিঃশেষ না করে — এই কামনা করি।
লেখক: আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।
খুব সুন্দর লেখা দীপাঞ্জন দাদা, দারুন news portal.
ধন্যবাদ
অসংখ্য অজানা ইতিহাস এর মুখোমুখি হতে পারলাম। এতো দিন ধরে দেবীর পূজা করেছি কিন্তু এতো ইতিহাস জানা ছিল না…. এই লেখাটির মাধ্যমে সমস্তকিছু যেনে বেশ ভালো লাগলো ???????? অসংখ্য ধন্যবাদ দীপাঞ্জন স্যার কে ☺️
তোমার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো পবন।
কৃষ্ণনগরের সরস্বতী পুজো নিয়ে এই রকম একটা তথ্য সমৃদ্ধ লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। ভবিষ্যতে আরও এরকম তথ্যসমিত্র লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
ধন্যবাদ দীপাঞ্জন দে মহাশয়কে।
ধন্যবাদ স্বরাজ। কমেন্টটি পড়তে বেশ ভালো লাগলো।