| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

জলঙ্গি নদী বাঁচানোর দাবিতে ভোটে প্রার্থী : দীপাঞ্জন দে

Reporter
দীপাঞ্জন দে / ৪৬৪১ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

নদিয়া জেলা তথা বাংলার পরিবেশ আন্দোলনের ক্ষেত্রে ২০২৩ সাল এক বিশেষ ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটল। জলঙ্গি নদী বাঁচানোর দাবি নিয়ে কৃষ্ণনগরের একটি পরিবেশ সংগঠন তাদের মনোনীত নির্দল প্রার্থীকে ভোটে দাঁড় করালো। কৃষ্ণনগর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে জলঙ্গি নদী। নদিয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এই জলঙ্গি। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত দূষণ এবং অসাধু মানুষদের অত্যাচারে জলঙ্গি নদী ক্রমশ মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ছে। একাধিক পরিবেশ সংগঠন জলঙ্গি নদী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনও শুরু করেছে। কৃষ্ণনগরের ‘জলঙ্গি নদী সমাজ’ তার মধ্যে অন্যতম। তারা ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জলঙ্গি নদী বাঁচানোর দাবি নিয়ে লড়াইয়ে নেমে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল।

১৫ জুন ২০২৩ (বৃহস্পতিবার) ছিল পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমার শেষ দিন। সেদিনই নদিয়া জেলা পরিষদের ২৪ নম্বর আসনের জন্য (Krishnanagar-1, ZP-24) কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। তাদের স্লোগান— ‘নদীর জন্য চাইছি ভোট’। জলঙ্গি নদী সমাজ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে তারক ঘোষ ১৫ জুন, ২০২৩ (বৃহস্পতিবার) দুপুর একটা নাগাদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি জলঙ্গি নদী পাড়ের একজন কৃষিজীবী মানুষ। বর্তমানে রঙের মিস্ত্রি হিসেবেও তিনি কাজ করেন। নদিয়া জেলার ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মায়াকোল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বিগত দিনে জলঙ্গি নদী সমাজ সংগঠিত জলঙ্গি নদী থেকে বাঁধাল তোলার আন্দোলন, জলঙ্গি নদীর ধারে ‘নদীর পাঠশালা’ (১৩ ফেব্রয়ারি ২০২২, রবিবার। স্থান: শিশু উদ্যান, কৃষ্ণনগর) প্রভৃতি কর্মসূচিতে তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। এবার জলঙ্গি নদী সমাজ মনোনীত কৃষ্ণনগর-১ জিলা পরিষদ ২৪-এ নির্দল প্রার্থী হিসাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করার জন্য তাকে নামানো হলো।

বিগত দিনে দেখা গিয়েছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি অবহেলা করেছেন। আবার কখনো কখনো পরিবেশ সংগঠনগুলির আন্দোলনের চাপে তারা পরিবেশ সচেতনতার কথা তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চারণ করতে বাধ্য হলেও, বৃহৎঅর্থে এর দ্বারা লাভ তেমন কিছুই হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি তারা নির্দ্বিধায় ভুলে গিয়েছেন। তাই এবার নদী কেন্দ্রিক জীবন জীবিকার দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামল পরিবেশ সংগঠন জলঙ্গি নদী সমাজ। জলঙ্গি নদী বাঁচানোর দাবি নিয়ে এটি তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ বললে ভুল হবে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয় যে, সরাসরি ভোট রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন হওয়ার লক্ষ্যে নয়, তাদের এই লড়াই প্রকৃতি পরিবেশের কথা মাথায় রেখে বিশেষ করে নদিয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী জলঙ্গি নদীকে বাঁচানোর দাবিতে। রাজনৈতিক দলগুলি প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেয় না। অতীত অভিজ্ঞতা এই যে প্রকৃতি পরিবেশ বিষয়ে তাদের যে কতটা দায়িত্ব রয়েছে, সে বিষয়টি প্রায় প্রত্যেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই অনুধাবন করতে ব্যর্থ। রাজনৈতিক দলগুলি জলঙ্গি নদী পাড়ের মানুষদের জীবন জীবিকার কথা, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার কথা মোটেই ভাবেন না। অগত্যা একটি পরিবেশ সংগঠনকেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে জলঙ্গি নদী ও তৎসংলগ্ন পরিবেশকে বাঁচানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হলো।

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালে বাঁকুড়া বিধানসভায়। পরিবেশকর্মী অধ্যাপক স্বদেশ মণ্ডল সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পেশাগত পরিচয়ে তিনি বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের অধ্যাপক। বাঁকুড়া জেলার ২৫২ নং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সুস্থ সমাজ ও পরিবেশ গড়ার দাবি জানিয়ে তিনি ভোট যুদ্ধে লড়াই করেন। বাঁকুড়া প্রগতিশীল মঞ্চ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী ছিলেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ছিল ফাউন্টেন পেন বা ঝরণা কলমের নিব। অধ্যাপক স্বদেশ মণ্ডল তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বাঁকুড়ার কাঠ মাফিয়াদের প্রসঙ্গে, জঙ্গল লুঠের বিপক্ষে, জল সংকট নিরসনের দাবিতে, গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর নদের সুস্বাস্থ্যের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কৃষ্ণনগর ছাড়াও আরেকটি জায়গায় পরিবেশ রক্ষার দাবি নিয়ে নির্বাচনে লড়াই দেখা যাবে। “Vote for nature, Vote for future” এই শ্লোগান নিয়ে চুঁচুড়া-মগরা ব্লক ১১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী শিক্ষিকা তপতী মাইতি ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক জোড়া পাতা কুঁড়ি। তিনি দ্য গ্লোবাল গ্রীনফোর্স (হুগলী জেলা কমিটি)-এর সভানেত্রী।

পরিবেশ সংগঠন জলঙ্গি নদী সমাজ বিগত চার বছর ধরে জলঙ্গি নদী সংস্কারের বিষয়ে তাদের দাবিগুলি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সেই দাবিগুলির বাস্তবায়ন সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। তবে ইতিপূর্বে জলঙ্গি নদীকে সম্পূর্ণ বাঁধাল মুক্ত করার যে আন্দোলনে তারা নিয়োজিত হয়েছিলেন, সেখানে বেশ কিছুটা সাফল্য মিলেছিল। সার্বিকভাবে না হলেও, ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে বলা যায়, নদিয়া জেলায় জলঙ্গি নদীর গতিপথের বেশিরভাগ অংশই এখন বাঁধাল মুক্ত।

উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের এই পরিবেশ সংগঠনের আরো কিছু দাবি রয়েছে, সেগুলি হল—

১) অঞ্জনা নদীর সংস্কার।

২) জলঙ্গি নদীকে কোমর ও কচুরীপানা মুক্ত করা।

৩) নদী পাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।

৪) জলঙ্গি নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষদের জীবন জীবিকা সুরক্ষার বিষয়টি ভাবা।

৫) মৎস্যজীবীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দান এবং তাদের জীবিকার স্বার্থে সমবায় সমিতিগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা।

৬) মাত্রাতিরিক্ত দূষণের ফলে জলঙ্গি নদীর অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে। তাই জলঙ্গি নদীতে নিয়মিত মাছ ছাড়ার ব্যবস্থা করা।

৭) জলঙ্গি নদীর জল নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা।

৮) অপরিশোধিত বর্জ্যকে STP-র মাধ্যমে দূষণমুক্ত করে তবেই নদীতে ফেলার দাবি।

৯) মাটি চুরি, মাত্রাতিরিক্ত ইঁটভাটা, নদী পাড়ে অবৈধ নির্মাণ প্রভৃতির বিরোধিতা করা।

১০) অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিক প্রকল্পের কারণে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হলে, তার বিরোধিতা করা।

পাশ্চাত্যের দেশগুলির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবেশ সংগঠনগুলির বড় ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলিতে। সেখানে নির্বাচনে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নির্গমন কমানো, বৃক্ষরোপণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস প্রভৃতি বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ইউরোপ মহাদেশের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে ‘গ্রিন পার্টি’ নামে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব রয়েছে। যদিও ‘গ্রিন পার্টি’ এখনো পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রে সরাসরি ক্ষমতায় আসেনি। তবে অনেক রাষ্ট্রে তারা জোট সরকারের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ‘গ্রিন পার্টি’-র এই ভাবনাচিন্তা এবং রাজনৈতিক নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ বর্তমান যুগে খুবই প্রাসঙ্গিক। কারণ সমগ্র বিশ্ব পরিবেশ সংকট নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত। যদিও ভারতীয় উপমহাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এখানে ইউরোপের মতো কোনো ‘গ্রিন পার্টি’ নেই। রাজনৈতিক দলগুলিকেও প্রকৃতি পরিবেশ বিষয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তা করতে সচরাচর দেখা যায় না। নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলির প্রধান ইস্যুগুলির মধ্যে প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সেভাবে ঠাঁই পায় না বললেই চলে।

কৃষ্ণনগর তথা নদিয়া জেলার কোনো পরিবেশ সংগঠনের এভাবে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত একপ্রকার ঐতিহাসিক বলা চলে। নদী বাঁচানোর দাবি নিয়ে এবং নদী পাড়ের মানুষের কথা ভাবতে রাষ্ট্রপ্রধানরা যাতে বাধ্য হন, সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এই পরিবেশ সংগঠন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থী দিল। প্রথমে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা ‘নদী’ বা ‘সাঁতার কাটা’ চিহ্নের মধ্যে যেকোনো একটি চেয়েছিলেন। ২০ জুন ২০২৩ সেই প্রতীক এস.ডি.ও. অফিস থেকে ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংগঠনের পছন্দমত সেই নির্বাচনী প্রতীক শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অবশেষে পদ্ধতি মেনে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জিলা পরিষদ পদপ্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত যে নির্বাচনী প্রতীক তালিকা রয়েছে, সেখান থেকে নির্বাচন করে দলের প্রতীক নির্দিষ্ট হয়— ‘Musical Drum’ বা ‘দামামা’। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, পরিবেশকে রক্ষা করতেই তাদের এই লড়াই। আর সে কারণেই ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা নদী, পরিবেশ বাঁচানোর দাবি নিয়ে ভোটে প্রার্থী দেওয়া উচিত বলে মনে করেছেন। এর মধ্যে দিয়ে তাদের দাবি, অন্তত নদিয়ার ১০০টি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নির্বাচনী প্রচারের জন্য রাজ্যের অন্যান্য পরিবেশ সংগঠনগুলির সহযোগিতা এবং প্রচার প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করে তোলা এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করা।

নির্বাচনী প্রচারের জন্য ইতিমধ্যে তারা কিছু পরিকল্পনা নিয়েছেন। যেমন— তাদের প্রচার হবে অনেকটাই পরিবেশবান্ধব। আর সে কারণে ফ্লেক্স বর্জন করে প্রচারের জন্য কাপড়ের ব্যানার ব্যবহার করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় দেওয়াল লিখন, পোস্টারিং, টোটো গাড়ি ভাড়া করে গ্রামের মানুষদের মধ্যে প্রচার, ‘নদীর জন্য চাইছি ভোট’ শীর্ষক লিফলেট বিলি, সহযোগী পরিবেশ সংগঠনগুলির সঙ্গে সভা প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচার কর্মসূচি সারা হবে। নির্বাচনী প্রচারের জন্য তাদের প্রস্তুত শ্লোগানগুলি এইরূপ— “মৎস্যজীবী বাঁধলো জোট / নদীর জন্য চাইছি ভোট”, “চাষী মজুরও এক হও / গ্রামের নদীর হাল ফেরাও”, “দামামা ওই বাজে / দিন-বদলের পালা এল / ঝোড়ো যুগের মাঝে”, “No vote to – Enemies of the Environment”, “প্রকৃতির শত্রুদের একটি ভোটও নয়” প্রভৃতি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নদীর জন্য এই ভোট চাওয়ার ফলাফল যে শেষপর্যন্ত কী হবে, তা এই জুন মাসে ভবিষ্যৎবাণী করে ফেলা— আমার পক্ষে অসম্ভব। তবে পরিবেশের হিতাকাঙ্খী সকল মানুষকে নদী বাঁচানোর এই উদ্যোগে সামিল হতে অবশ্যই আহ্বান জানাবো। আর ‘জলঙ্গি নদী সমাজ’-সহ জেলার অন্যান্য পরিবেশকর্মীদের এই সুযোগে কুর্ণিশ জানাতেও ভুলবো না।

লেখক: সম্পাদক, ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা’।

আপনার মতামত লিখুন :

6 responses to “জলঙ্গি নদী বাঁচানোর দাবিতে ভোটে প্রার্থী : দীপাঞ্জন দে”

  1. Rejanur Mallick says:

    সত্যিই করুণ অবস্থা! আমাদের গ্রাম (নদিয়া জেলার চাপড়া থানার অন্তর্গত মহেশনগর গ্রাম) এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই জলঙ্গি নদী কতো স্মৃতি, ঐতিহ্যের সাক্ষী।। আজ নদীর এই করুণ অবস্থা দেখে হৃদয় ব্যথিত।। এই অবস্থাই নদীর সংস্কার আশু প্রয়োজনীয় ।

  2. GOUTAM BISWAS says:

    আমার প্রাণের নদী জলঙ্গী…. রাজনীতি ভুলে আমি তোর সঙ্গী ❤️

  3. পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় says:

    নদী -প্রকৃতি বাঁচানোর আন্দোলনগুলিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে রাজনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার এই ভাবনা সুচিন্তিত ও দূরপ্রসারী। এভাবে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দলীয়তার পাশাপাশি হিতজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের স্বর উঠে আসুক নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে। যে বন্ধুরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাঁদের সমর্থন জানানোর পাশাপাশি বলি, আগামী অজস্র প্রতিকূলতার মধ্যে পরিবেশের ভয়ানক সংকটগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের (পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা পর্যন্ত)আলোচনা-বিতর্কের বৃত্তে স্থাপন করার লড়াই চালিয়ে যান।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev