| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো, ঐতিহ্য এবং আবেগের যুগলবন্দি : অমৃতাভ দে

Reporter
অমৃতাভ দে / ১৬৮৪ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস এবং আবেগ। বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব দুর্গাপুজো। সমগ্র বাঙালি জাতি মেতে ওঠেন এই উৎসবে। জলাঙ্গী নদীতীরের কৃষ্ণনগর শহরের আবেগ-উদ্দীপনা দুর্গাপুজো-পরবর্তী জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে।সাহিত্য-সংস্কৃতির পীঠস্থান কৃষ্ণনগর। মৃৎশিল্প- ভাস্কর্যে জগতসভায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ আসন দাবি করে এ শহর। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই একসময় এখানে শুরু হলো জগদ্ধাত্রী পুজো। ঐতিহ্য-পরম্পরা মেনে আজও কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। বহুদিন এই শহরে আছি। খুব কাছে থেকে দেখেছি এই উৎসব। প্রখ্যাত শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় জগদ্ধাত্রীর মূর্তি, বিশিষ্ট সাজশিল্পীদের তৈরি সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠেন জগদ্ধাত্রী মা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুধীর চক্রবর্তী ‘মুদ্রা’ পত্রিকার ‘মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও সমকাল’ সংখ্যায় (২০১৯) ‘জগদ্ধাত্রীর সন্ধানে’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধটি ‘কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো’ বিষয়ক একটি উল্লেখযোগ্য রচনা। প্রবন্ধটিতে লেখক তাঁর নিজের অনুভূতির কথার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজার ইতিহাস এবং শাস্ত্রে ও ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রী মূর্তি ও পূজাপদ্ধতি সম্পর্কে যেসব কথা উল্লেখিত হয়েছে। পাশাপাশি চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজা সম্পর্কেও উঠে এসেছে নানা কথা।তিনি লিখেছিলেন—“লোকমুখে শুনেছিলাম জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে এত যে জাঁক,এত গান,এত আড়ংয়ের ঘটা, তার মূলে ছিল রাজবাড়ির উৎসাহ এবং আনুকূল্য।তার অকাট্য প্রমাণ দেখতাম,বিসর্জনের সময় যখন সব পাড়ার বিগ্রহ মিছিল করে যেত শহরের দক্ষিণ প্রান্তে রাজবাড়িতে,তারপরে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে উত্তর প্রান্তের জলাঙ্গী নদীতে নিরঞ্জন হত।রাজবাড়ি যাওয়া হতো রাণীমাকে ঠাকুর দেখাতে। রাণীমা যেসব প্রতিমা দেখে খুশি হতেন তাদের দিতেন অর্থ পারিতোষিক আর তার প্রতিমাশিল্পীকে দিতেন একটা কাঁসার ঘড়া। শহরের চারিদিকে ছড়ানো বিচিত্র সব নামের পল্লী — চকেরপাড়া, নুলিয়াপাড়া, বাগদীপাড়া, তাঁতিপাড়া, মালিপাড়া, হাতারপাড়া, চাষাপাড়া, বাঘাডাঙ্গা, ধোপপাড়া, মালোপাড়া, কাঁসারিপাড়া, দর্জিপাড়া। সব পাড়াতেই হত একটা করে দৃষ্টিনন্দন জগদ্ধাত্রী পুজো ও উৎসব। নানা বিচিত্র বৃত্তিজীবীদের বসবাস ঘিরে পল্লীর বিন্যাস আমার চোখে বেশ নতুন লেগেছিল। রাজার সামন্ত ব্যবস্থার পরিকল্পনায় যে এমন নানা নামের পাড়ার উপনিবেশ গড়ে ওঠে সেই জানাটাও ছিল একেবারে আনকোরা অভিজ্ঞতা। কিশোর বয়সের কৌতূহলে ঘুরে ঘুরে দেখতাম রাজবাড়ির কাছে নতুনবাজারে, কুমোরপাড়ায় আর ঘূর্ণি অঞ্চলে শহরের মোট তিন জায়গায় গড়া হত প্রতিমা মূর্তি। এক-মেটে, দো-মেটে করে ঠাকুরের ফিনিস পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। প্রতিমাশিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। আনন্দময়ীতলা, চৌরাস্তা আর বাগদীপাড়ায় তৈরি হতো ঠাকুরের চুল,সাজসজ্জা, মুকুট ও কল্কার কারুকার্য। শহরের দক্ষিণপ্রান্তে বৈকুণ্ঠসড়কে জগদ্ধাত্রী পুজোর আগের রাতে বসত ঢোল-সানাইয়ের বাজার। বিভিন্ন পাড়ার উৎসাহী যুবকরা ধরাধরি করে নিয়ে আসত বাধ্যকারদের,কারণ খেমটা গানের সঙ্গে সঠিকভাবে সানাই না বাজালে জমবে কেন? দলে দলে এবং শয়ে শয়ে ঢাকীরা আসত মুর্শিদাবাদের গাঁ থেকে। তারপর শুরু হত একদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং তার করুণ মধুর সমাপ্ত পরের দিনে সারারাতব্যাপী বিসর্জনের আড়ংয়ে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত জগদ্ধাত্রী পুজো এই শহরের নিজস্ব উৎসব। স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল,মূর্তি-শিল্পের নন্দনমূল্যে অসামান্য জনসমাবেশ মুখরিত এবং নিরঞ্জন মিছিলের আলোকিত অনন্যতায় দৃষ্টিশোভন।”এই লেখাটি পড়তে পড়তে আমিও ফিরে যাচ্ছিলাম আমার ছোটোবেলায়। বড়ো হয়েছি কৃষ্ণনগর শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে।জলঙ্গী নদীর ধারের সেই গ্রামে একটি জগদ্ধাত্রী পুজো হত তখন।সেই পুজাকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার সীমা ছিল না। আমার বাবা আর তাঁর বন্ধুরা দীর্ঘদিন ধরে সেই পুজো পরিচালনা করতেন। সেই পুজোকে ঘিরে ছিল নাটক-যাত্রা-কবিগানের আসর, সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান। বন্যপাড়ার মাঠে বসত মেলা। তবু কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো আকর্ষণ করত কোনো এক জাদুতে। ছোটবেলায় একটা টান অনুভব করতাম কৃষ্ণনগরের এই উৎসবের প্রতি। বিসর্জনের দিন কিছুটা সময় কৃষ্ণনগর পোস্টঅফিস মোড়ে দাঁড়িয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর আড়ং দেখে আবার ফিরে যেতাম গ্রামে। সে কী উন্মাদনা। কাঁধে করে ঠাকুর নিয়ে ছুটছে কয়েকশো বেহারা। ঠাকুরের গা ভর্তি গহনা, ডাকের সাজ,শোলার সাজের অপূর্ব সব মূর্তি। ঠাকুরের মুকুট,ঠাকুরের চালি অপূর্ব কারুকার্যে ভরা। রাস্তায় মানুষের ঢল, পুলিশ প্রশাসনের ব্যস্ততা, কয়েকশো ঢাকির একসঙ্গে ছুটে যাওয়া, দুই পাড়ার ঠাকুরের মুখোমুখি হওয়ার সময় চরম গন্ডগোল — এসব দেখতে দেখতে শিহরিত হতাম। বাবা বলতেন গোলমাল শুরু হলো বলে, চলো ফিরি। ফিরে চলা গ্রামের পথে, অনেক অনেক ছবির কোলাজ নিয়ে। তারপর এই শহর হল আমার ঠিকানা। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় কাটছে এই শহরে। বাসা বদল হয়েছে অনেকবার। প্রথমে কেটেছে মাটির পুতুলের দেশে, ঘূর্ণিতে, প্রতিমাশিল্পীদের আঁতুরঘরে। ষষ্ঠীতলার পালপাড়ায় কেটেছে অনেকদিন পরবর্তী সময়ে। চোখের সামনে তৈরি হতো জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। সাজশিল্পীরা তৈরি করতেন ঠাকুরের সাজ, মুকুট। সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির সামনে অক্ষয় পালের মূর্তি গড়া দেখতাম। দেখতাম ষষ্ঠীতলার নিমাই পালের তৈরি ঠাকুর, অলোক পালের তৈরি অসামান্য মাটির সাজ। পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণি হল আমার স্থায়ী ঠিকানা। ঘূর্ণির প্রখ্যাত শিল্পীরা হয়ে উঠলেন আমার প্রতিবেশী। একসময় ঘূর্ণি শিব তলা বাড়ির প্রতিমা তৈরি করতেন প্রখ্যাত শিল্পী শ্রদ্ধেয় বীরেন পাল। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আমার বড্ড কাছের শিল্পী সুবীর পাল তৈরি করেন শিবতলা বারোয়ারির অসামান্য জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। বাড়ির পাশেই শিল্পী বুড়ো পাল এবং তাঁর ছেলে জুয়ান পাল তৈরি করেন জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। একটু এগোলেই শংকর পালের স্টুডিও। তাঁর হাতের তৈরি জগদ্ধাত্রী প্রতিমার খ্যাতি তো সারা দেশ জুড়েই। সুতরাং জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে আমার এই পাড়া মেতে থাকে অনেক আগে থেকেই। প্রসঙ্গত একটি বিষয় মনে রাখা দরকার সেটি হল কৃষ্ণনগরের সমস্ত বারোয়ারির প্রতিমাই বারোয়ারি মণ্ডপেই তৈরি হয়। শিল্পীরা কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রতিমার সাজসজ্জা পর্যন্ত পুরোটাই করেন মণ্ডপে।

কৃষ্ণনগরের প্রতিটি মানুষের কাছে জগদ্ধাত্রী পুজো সবচেয়ে বড়ো উৎসব। সমগ্র কৃষ্ণনগর মেতে ওঠে এই উৎসবে। দুর্গা পুজোকে ঘিরে কৃষ্ণনগরে মাতামাতি অনেকটাই কম। মাত্র একদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো হলেও তাকে ঘিরে কৃষ্ণনাগরিকদের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যদিও মনে রাখতে হবে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো আর এখন এক দিনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, রীতি মেনে পুজো হয় একদিনে কিন্তু তার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সাজো সাজো রব শহরজুড়ে। আলোকমালায় সেজে ওঠে রাস্তাঘাট। দোকানপাটের পসরা বসে যায় রাস্তাজুড়ে। সমগ্র নদিয়া জেলা তথা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এখানে। বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি ক্লাব,সংগঠনও আয়োজন করে জগদ্ধাত্রী পুজোর। বাড়ির পুজোর সংখ্যাও কম নয়। সাবেকিয়ানা বজায় রেখে পুজো হয় বেশিরভাগ বারোয়ারিতে। থিমের প্যাণ্ডেল মন ছুঁলেও, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমার রূপ মুগ্ধ করে,প্রতিমার সাজও মন ছুঁয়ে যায়। ডাকের সাজ, শোলার সাজ, মাটির সাজের প্রতিমা বিশ্ববাসীর কাছে বিশেষভাবে ধরা দিয়েছে। ঘটবিসর্জন (বিভিন্ন ধরনের মডেল প্রদর্শন), প্রতিমা নিরঞ্জনের বিশেষ ধরণ (আড়ং/শোভাযাত্রা/গাড়িতে কিংবা বেহারেদের কাঁধে) কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। চাষাপাড়ার বুড়িমা, কাঁঠালপোতার ছোটো মা বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। চাষাপাড়ার বুড়িমাকে ঘিরে ভক্তদের ঢল নামে। সোনার গহনায় সারা শরীর ভরে থাকে বুড়িমার। বহু ভক্তের মানত থাকে সেখানে। নুড়িপাড়া বারোয়ারিতে একমাত্র পুজো হয় চার দিন। হাতারপাড়া বারোয়ারি, কলেজস্ট্রিট বারোয়ারি, উকিলপাড়া, বারোয়ারি আনন্দময়ীতলা বারোয়ারি, বাগদিপাড়া বারোয়ারি, শিবতলা বারোয়ারি, ঘূর্ণি বারোয়ারি, চকেরপাড়া বারোয়ারি, গোলাপট্টি বারোয়ারি, মালোপাড়া বারোয়ারি প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে পুজো করে থাকে আজও।এই পুজাকে ঘিরে প্রত্যেকের এক নস্টালজিক অনুভূতি। অতীতের পুজোর সাথে এসময় পুজোর পার্থক্য হয়তো অনেকখনি কিন্তু পুরনো অ্যালবাম ওল্টালেও চোখে পড়ে এসময় পুজোকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনার স্থিরচিত্র। আসলে জৌলুস বাড়ে, আড়ম্বর বারে হয়তো অনেকখানি, কিন্তু সবটা পাল্টে যায় না। গোলাপট্টি বারোয়ারির সানাইবাদ্য, মালোপাড়া বারোয়ারির বিশেষ যজ্ঞ,পায়েস বিতরণ,বুড়িমার ভোগ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন — আজও একইরকম আছে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক গবেষক সুধীর চক্রবর্তী ‘জগদ্ধাত্রী সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন — “সমারোহে, সজ্জায়, প্রতিমাশিল্পে, আড়ং-এর জাঁকে, নাচে-বাদ্যে, ঢাকের জৌলুশে আর কোন্ পাড়ার পুজো কত পুরোনো তা জানান দিতে যা সব কান্ড-কারখানা চলে তা ভাবলে ভারি মজা লাগে। আর একটা নতুন উঠেছে কোন্ প্রতিমাকে কত গয়না আর সোনার টিপ পরানো যায়। কোন্ দেবী কত জাগ্রত। আগে জনগণকে দেওয়া হতো মায়ের খিচুড়িভোগ আর এখন পোলাও। আগে ছিল ডাকের সাজ,এখন শোলার সাজ। আগে ছিল কার্বাইডের স্নিগ্ধ বহুমুখী আলো, এখন জমকালো উজ্জ্বল বিদ্যুৎপ্রভা। আগে ছিল ঢোল সানাইয়ের সাথে খ্যামটা নাচ আর এখন ঢাক- বাদ্যির জমকালো আর বিসর্জনের ব্যাঞ্জো-বাজনা। তবে সেই সঙ্গে যে দ্রুতগামী উদ্দাম নাচের আলোড়ন যুবসমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে রক্ষণশীল কেউ কেউ ভয় পাচ্ছেন।…. কেউ কেউ নাকি দুর্গাপুজোয় নতুন প্যান্টশার্ট শাড়ি কিনে তুলে রাখে জগদ্ধাত্রী পুজোয় পরবে বলে। এখন আবার মায়ের কত রকমের নামকরণ হয়েছে — বুড়িমা, আদিমা, খুড়িমা, চারদিনিমা, বালকেশ্বরী, আলোকেশ্বরী, স্বপ্না মনেও পড়ে না।”

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দেবব্রত মিত্র সম্পাদিত ‘লিপি নাগরিক’ পত্রিকার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছিল। বিষয় ছিল — ‘জগদ্ধাত্রী পুজো কৃষ্ণনগর বনাম চন্দননগর’। জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রাক্কালে ‘লিপি নাগরিক’-এর প্রতিনিধি মুখোমুখি হয়েছিল নদিয়া রাজবংশের উনচল্লিশতম পুরুষ ও মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নবম বংশধর সৌমীশচন্দ্র রায়ের। সৈকত মুখোপাধ্যায়কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে অনেক অজানা কথা উঠে এসেছে। “জগদ্ধাত্রী পুজার সূচনা নিয়ে বিতর্ক সর্বজনবিদিত — এ বিষয়ে বিতর্ক নিষ্প্রয়োজন। বিতর্কিতভাবে নদিয়া রাজবংশের ৩০তম পুরুষ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র এ-পুজোর সূচনা করেন। নিজেদের প্রয়োজনে গরিমালাভের ইচ্ছায় কেউ হয়তো এ বিতর্কে আগ্রহী। ১৭৫৪ সালে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজস্ব দিতে না পারায় তৎকালীন বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁ তাঁকে মুঙ্গেরে কারাগারে বন্দি করে রাখেন। সময়টা ছিল দুর্গাপুজোর ঠিক আগে। স্বপ্ন-সম্বন্ধে দ্বিমত আছে। কেউ বলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র বন্দিদশায় স্বপ্নাদেশ পান। আবার কেউ বলেন, রাজস্ব মিটিয়ে মহারাজা যখন ছাড়া পান তখন দুর্গা নবমী প্রায় শেষ। কৃষ্ণনগরে ফেরার সময় ক্লান্ত রাজা নৌকাতে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের ভিতর তিনি স্বপ্নাদেশ পান — কৃষ্ণনগরে ফিরে দেবীর পুজো করার। রাজা স্বপ্নে দেবীকে কুমারী রূপিনী দেখেন। সিংহবাহনা, রক্তিম বস্ত্র পরিহিতা, চতুর্ভূজা, শঙ্খ-চক্র-ধনু-বাণ-ধারিণী-কুমারীরূপিনী দেবী স্বপ্নে আবির্ভূত হয়েছিলেন। রাজগুরু ছিলেন বৈষ্ণবাচার্য। তিনি যদি শক্তি পূজায় মত না দেন বা বাধা দেন তাই তিনি মেড়তলার তান্ত্রিকাচার্য কালিশঙ্কর মৈত্র-র কাছে যান। উনি ব্যাখ্যা করে বোঝান যে এই কুমারী দেবী হলেন সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী। তারপর পণ্ডিতরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন শুক্লা-নবমীতে এই দেবীর পুজো করার। উনি পুজোর দায়িত্ব পুত্র শিবচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়ের হাতে অর্পণ করে চন্দননগরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর কাছে গেলেন। ওর উদ্দেশ্য ছিল পুজোর দিন একবারে উপোস করে চন্দননগর থেকে ফিরে অঞ্জলি দিলে পুজোর সময় বৈষ্ণবাচর্য রাজগুরু অথবা অন্যান্য বৈষ্ণবাচার্যদের সঙ্গে শক্তিপুজো নিয়ে বাক্-বিতণ্ডা এড়ানো যাবে। চন্দননগরে তৎকালীন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র বন্ধুবর ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীকে এই স্বপ্নাদেশ, দেবীর রূপ এবং পূজাপদ্ধতির কথা বলেন।” এই আসলে ইতিহাস।

আমার শিক্ষক বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক কবি বিদ্যুৎ হালদার তাঁর একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “আমাদের ছোটোবেলায় জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে আজকের মতো কৃষ্ণনগর তেমন হইচই ছিল বলে মনে পড়ে না। ছ’য়ের দশকের শেষ দিক থেকে সাতের দশক পর্যন্ত শহরের উপর দিয়ে ভয়ঙ্করভাবে বয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ঝঞ্ঝা এর একটা কারণ হতে পারে। যদিও বড়োদের কাছে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে ছোটোবেলাতেই অনেক উন্মাদনার গল্প শুনেছি। আগে নাকি দলে দলে গরুর গাড়ি চেপে গ্রাম-গঞ্জ থেকে লোক আসত, সারারাত জেগে জগদ্ধাত্রী পুজোর আড়ং অর্থাৎ বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখতে। সাতের দশকের ঝড়ঝঞ্জা স্তিমিত হয়ে এলে আমরাও দেখেছি, জগদ্ধাত্রী পুজার বিসর্জনের দিন ঠাকুমার ঘরের মেঝেতে দু-তিনটে বিছানা পাতা হত। ছোটো কেউ নয়, চারপাশের গ্রামগঞ্জ থেকে বেশ বয়স্ক কয়েকজন আসত আড়ং দেখতে। তারা ঠাকুমার সম্পর্কে লতায়-পাতায় কেউ হত। সারা বিকেল-সন্ধে ঠাকুমার সঙ্গে বসে বসে তারা সুখ-দুঃখের গল্প করতো। বাড়ির বড়োরা বা ছোটোরা কেউই বিসর্জনের দিন রাত জেগে ঐ শোভাযাত্রা দেখতে যেতাম না। শুধু মারামারি নয়, তবে মারামারি ভয় তো একটা ছিলই। দুটো পাড়ার শোভাযাত্রা মুখোমুখি হলে অথবা একটা পাড়া শোভাযাত্রা অন্য পাড়ার শোভাযাত্রাকে জোর করে অতিক্রম করতে গেলে কখনো মারামারি বেধে যেত। তবে একটু বড় হলে আমি কিন্তু যতক্ষণ না পাড়ার প্রতিমা কাঁধে নিয়ে সুবিশাল মিছিল বেশ কতগুলো ঢাকাসহ দৌড়াতে দৌড়াতে পারা ছেড়ে বেরিয়ে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত সিংহাসন থেকে নামিয়ে সাঙ-বাঁশের উপর প্রতিমার বাঁধা-ছাঁদা এবং চারপাশের মানুষগুলোর মধ্যে আলো-আঁধারি থমথমে যুদ্ধপ্রস্তুতি ভাব ঘুরে ঘুরে দেখতাম। দেখে রোমাঞ্চ জাগত মনে।” বিদ্যুৎবাবুর এই লেখা পড়তে পড়তে আমারও মনে পড়ে যাচ্ছে বহু কথা। আসলে ‘বেহারাদের কাঁধে চেপে গ্যাস বাতির নরম আলোয় আলোকিত হয়ে টানা টানা অশ্রুসজল চোখ নিয়ে’ প্রতিমা আজও হইহই করে এগিয়ে আসে। প্রতিমার সামনে বিশাল মিছিলের ভেতর কোনো কোনো দুঃসাহসীর মুখের কেরোসিন তাদের হাতের জ্বলন্ত মশালের উপর পড়ে হঠাৎই শব্দ করে গাঢ় আগুন লাফিয়ে ঠেলে ওঠে ওপরে। ‘সত্যিই যুদ্ধ করতে যাওয়া যেন।’ আজও কৃষ্ণনগর শহরের প্রতিটি বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে আত্মীয় স্বজনেরা আসেন। বুড়িমার কাছে অঞ্জলি দেওয়ার ভিড় আজও একই রকম। কালিনগর রেনবো ক্লাবের মাঠে, ঘূর্ণি ভাই ভাই সংঘের মাঠে, শক্তিনগর এনএমবির মাঠে, ঘূর্ণি একতা ক্লাবের মাঠে, রাধানগর প্রতিভা ক্লাবের মাঠে বিরাট বড় মেলা বসে। হাজারো দোকান, নাগরদোলা, ফুচকা, ভেলপুরি, পানের স্টল, চায়ের স্টল, বেলুনওয়ালা গল্প হয়ে ওঠে। চাষাপাড়ার রাস্তা জুড়ে বুড়িমার ফটোর দোকান, তিলেখাজা, নতুন গ্রামের শিল্পীদের তৈরি কাঠের পেঁচা, কাঠের পুতুল টুকরো টুকরো কবিতা হয়ে ওঠে। এই জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে কত মানুষের স্বপ্ন… কিছু উপার্জনের আশা। অসংখ্য ঢাকি ছুটে আসে এই শহরে এই পুজোর সময়। নতুন জামা অথবা নতুন গামছা, আর পেট ভরে কদিন খাওয়া আর কিছু অর্থ। জগদ্ধাত্রী মাকে কাঁধে করে নিয়ে যাবার জন্য হাজার হাজার বেহারার ভিড় বিসর্জনের দিন, কষ্ট হলেও মনে থাকে অদ্ভুত এক আনন্দ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঠাকুরকে কাঁধে করে নিয়ে যাবার জন্য ছুটে আসে এরা। সাঙের বাঁশ বাধার রীতি একেবারেই অন্যরকম। বিশেষভাবে বাঁধা হয় সাঙ, বেশ পরিশ্রমের কাজ। পেট ভরে টিফিন তারপর ঘাটে বিসর্জনের পর পেট-পুরে খাওয়া, কিছু অর্থ নিয়ে বাড়ি ফেরে তারা। যে সমস্ত পুজো কমিটি সাঙে করে ঠাকুর নিয়ে যান তাঁদের এর জন্য একটা বিরাট অঙ্কের বাজেট ধার্য করা থাকে। ঘট বিসর্জনে তৈরি হয় বিভিন্ন মডেল, সেই মডেলের জন্য অনেকেই সাজিয়ে গুছিয়ে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন গাড়িতে। একদিকে বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তোলার প্রয়াস চালান বিভিন্ন পূজা কমিটি, পাশাপাশি এই ঘট বিসর্জনকে কেন্দ্র করে অনেকের কিছু উপার্জনও হয়। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এখন হয়ে গেছে থিম-নির্ভর যদিও সাবেকিয়ানা বজায় আছে অনেকটাই। বিভিন্ন পুজোউদ্যোক্তা অনেকদিন আগে থেকেই থিম নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের জগৎজোড়া খ্যাতি,তাই চিন্তাভাবনায় থাকে অভিনবত্বের ছাপ। কিন্তু সব ছাপিয়ে যায় কৃষ্ণনগরের প্রতিমাশিল্প। দুর্গার পরেই লক্ষ্মী, কালী, কার্তিক, জগদ্ধাত্রী, সরস্বতী। নানারূপে সেজে ওঠে প্রতিমা, পুতুলনগরী কৃষ্ণনগরের প্রতিমাশিল্প এবং সাজশিল্প যে বাংলার অহংকার। একসময় কৃষ্ণনগর শহরেও শুধু জার্মানি থেকে এসে পৌঁছতো রাংতা। সেই রাংতাকে বলতো জামির। ডাকযোগে আসতো বলে নাম ডাকের সাজ। সেই রাংতার উপর বসানো হতো জরি চুমকি। সেই চুমকি হত মেটালিক-সোনা কিংবা রুপোর। থাকতো জরির কাজ। কী সুন্দর তার নাম! বুলান, সলমা প্রভৃতি। তৈরি হতো অসামান্য সব মুকুট। অনেক মূল্য তার। তবু সেই ডাকের সাজেই সেজে উঠত কৃষ্ণনগরের প্রতিমা। সেসব দিন গেছে। ডাকের সাজ বলে আজ যা আছে, তাতে বদল ঘটেছে অনেক। কোথায় সেই রাংতা, কোথায় সেই সোনা বা রূপোর চুমকি। এখন ব্যবহার করা হয় প্লাস্টিকের চুমকি। মুকুটের শোভা বৃদ্ধি পায় ঠিকই, শাড়ির আঁচলের চকমকি ভাবও বেড়েছে ঠিকই, নানা ধরণের মেটালিক আলোয় প্রতিমার শরীর থেকে নানান আলোর রশ্মি ঠিকরে বেরোলেও সাবেকিয়ানা চোখে পড়ে না। তবুও আছে ডাকের সাজ ভিন্নভাবে ভিন্নরূপে এটাই সান্ত্বনার। কৃষ্ণনগর শহরের বাগদীপাড়া, রথতলা, চকেরপাড়া, তাঁতিপাড়ার অনেক শিল্পী ডাকের সাজ তৈরি করেন, তাতে নাই বা থাকল সোনা বা রূপোর চুমকি! কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমার সাজ সত্যিই মুগ্ধ করে। বিভিন্ন বারোয়ারির প্রতিমার সাজ বিভিন্ন। সবচেয়ে আকর্ষণ করে ঠাকুরের মুকুট। সেসব মুকুটের মূল্যও অনেক। আকর্ষণ করে প্রতিমার চালি। কত না সূক্ষ্ম কাজ তাতে।

কবি দেবদাস আচার্যের ভাষায় — “কৃষ্ণনগরের পুজো মানে জগদ্ধাত্রী পুজো। কী যে তার উন্মাদনা, কী যে তার জৌলুস, — সে বলে বোঝানো যাবে না। অনেক অনেক বর্ণনা করেও না। … সাত বছর বয়স থেকে কৃষ্ণনগরে আছি। তাই ঐ বয়স থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো দেখছি।অর্থাৎ দেখা জগদ্ধাত্রী পুজোর সেকাল-একাল বলতে প্রায় ষাট বছরের রূপান্তরের ইতিহাসও। বলা ভালো, বহিরঙ্গে বিবর্তনের ইতিহাস। সে ছিল গ্যাসবাতির যুগ, এখন হয়েছে জেনারেটরের যুগ। সে ছিল রং-বেরং-এর সঙ-তামাসার, পাড়ায়-পাড়ায় টক্করের যুগ হয়েছে। এখন হয়েছে ঘটবিসর্জনের সময় থিম-চর্চার অলৌকিক নাটকীয়, দৃষ্টিনন্দন, জীবন্ত বিষয়ের উপস্থাপনার চলন্ত প্রদর্শনীর যুগ। অভিনব সব বিষয়ের নাট্যরূপ ও অভিনয়সহ চলন্ত প্রদর্শনী ভূভারতে আছে কিনা, আমার জানা নেই। শুধু এই প্রদর্শনী দেখার জন্য আমি বহিরাগতদের কাছে আহ্বান জানিয়ে রাখলাম। এরপর প্রতিমা। শুধুই কি প্রতিমা? — এ তো প্রাণবন্ত শিল্প। কী করে যে মানুষ বুক বেঁধে প্রতিমা জলে ভাসিয়ে দেয়, বুঝে পাই না! ভুবনখ্যাত সব শিল্পীর রচনাএ প্রতিমা — এক-একটা মহান সৃষ্টি। এ মূর্তি দেখার জন্য আমি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়ে রাখলাম। এবার আসা যাক আলোর জৌলুসে। — এ কথা ঠিক যে চন্দননগরকে টেক্কা দেওয়া মুশকিল। তবে কিনা চুঁচড়ো-চন্দননগর থেকে আলোকশিল্পীরা চলে এসে আলোকসজ্জাকেও বর্তমানে তুল্য-মূল্য করে তুলেছে। এ হল একালের কথা।মণ্ডপ-সজ্জাতেই এসেছে ‘থিমের’ হাওয়া। — কিন্তু সেই বহুমুখী গ্যাসবাতি যুগের জৌলুসও কি কম ছিল কিছু? সে ছিল এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। দু’পাশে বহুমুখী গ্যাসবাতির মিছিল। প্রতিমার সামনে। তার স্নিগ্ধ আলোর লহরি লকলকে জিভগুলি কাঁপিয়ে এগিয়ে এগিয়ে আসছে।সামনে শতাধিক ঢাকের — ‘চল প্রতিমা জলে চল’ বাদ্য। বুক ডিব ডিব করত।”

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোরগুলির মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় রাজবাড়ির পুজোর কথা। মা জগদ্ধাত্রীর বাহন ঘটকমুখী সিংহ। তারপর আসে রায়বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা। রাজবাড়ির সূত্রেই এ বাড়িতে পুজো শুরু হয়েছিল। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দ্বিতীয় পুত্র ভৈরবচন্দ্রের তিন কন্যার বিবাহ হয়েছিল রায়বাড়ির তিনটি পরিবারে। পারিবারিক ইতিহাস থেকে জানা যায় পুজো শুরু হয় আনুমানিক ২৫০ বছরেরও আগে। প্রাচীন প্রথা মেনেই এখনও এখানে পুজো হয়। বড়ো, মেজো এবং ছোটো তিন তরফই একত্রে ঠাকুরদালানে এই পুজো করেন। মা জগদ্ধাত্রীকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়।

বিশেষভাবে তো উল্লেখ করতেই হয় চাষাপাড়ার ‘বুড়িমা’র জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা। অমল অধিকারী তাঁর একটি লেখায় লিখেছেন — “১৭৭২ সালে চাষাপাড়ায় কিছু প্রজা ঘট ও পটে জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু করে। ১৭৯০ সালে গোবিন্দ ঘোষ পটের পরিবর্তে প্রতিমা নিয়ে আসেন।”

এছাড়া কৃষ্ণনগরের উল্লেখযোগ্য বারোয়ারিগুলো হলো — কাঁঠালপাতো, আমিনবাজার, বাগদীপাড়া, নুড়িপাড়া, চৌরাস্তা, চকের পাড়া, তাঁতিপাড়া, কাঁসারিপাড়া, সাপুড়িয়াপাড়া, নতুন বাজার, মল্লিকপাড়া, দর্জিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, রাজারোড ষষ্ঠীতলা, সেগুনবাগান, পাঁচমাথা মোড়, ঘূর্ণি শিবতলা, রাধানগর নতুন বারোয়ারি, শিবমন্দির বারোয়ারি, রাধানগর আদি বারোয়ারি, গোলাপট্টি বারোয়ারি, কাঠুরিয়াপাড়া বারোয়ারি, কুর্চিপোতা, নেদিয়ারপাড়া, রায়পাড়ামালিপাড়া, আনন্দময়ীতলা, পল্লীশ্রী, বেজিখালি, নতুনপল্লী, বৌবাজার, বেলেডাঙ্গা, গোবিন্দসড়ক, বনশ্রীপাড়া, বাঘাডাঙ্গা, হাতারপাড়া, আদি ঘরামিপাড়া, নাজিরাপাড়া, মল্লিকপাড়া, ঘূর্ণি দাসপাড়া, কলেজস্ট্রিট, মালোপাড়া, গেটরোড, কদমতলা ইত্যাদি।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন বারোয়ারির জগদ্ধাত্রী প্রতিমা খুব সুন্দর সুন্দর নামে চিহ্নিত হয়েছেন। যেমন — মালোপাড়া বারোয়ারি (মা জলেশ্বরী), চাষাপাড়া বারোয়ারি (বুড়িমা), চকেরপাড়া বারোয়ারী (আদিমা), আনন্দময়ীতলা বালকেশ্বরী (প্রাচীন মা), তাঁতিপাড়া বারোয়ারি (বড় মা), নেদিয়ারপাড়া বারোয়ারি (জগৎ মাতা), কাঁঠালপোতা বারোয়ারি (ছোট মা), বাঘাডঙা বারোয়ারি (বাঘা মা), নুড়িপাড়া বারোয়ারি (চারদিনি মা), কলেজস্ট্রিট বারোয়ারি (মেজো মা), বৌবাজার বারোয়ারি (মা মহেশ্বরী) গোলাপট্টি বারোয়ারী (তাসের রাণী), উকিলপাড়া বারোয়ারি (মা সর্বমঙ্গলা), কাঠুরিয়াপাড়া বারোয়ারি (সোনা মা), শিবতলা বারোয়ারি (সুন্দরী মা), ঘূর্ণি বারোয়ারি (ঘূর্ণি মাতা), বনশ্রীপাড়া বারোয়ারি (দেবী মা) প্রভাত সংঘ (মা শেরাবালী), হাতারপাড়া বারোয়ারি (মা মধ্যমণি)। কৃষ্ণনগরের উল্লেখযোগ্য ক্লাবের পুজোগুলো হলো — একতা ক্লাব, নবারুণ সংঘ, শক্তিনগর আমরা কজন, ক্লাব সংহতি, ঘূর্ণি ভাই ভাই সংঘ, ক্লাব প্রতিভা, প্রীতি সম্মিলনী, বিশ্বরূপা, স্বীকৃতি ক্লাব, যুবগোষ্ঠী, রাজদূত ক্লাব, এসবিসি, কালিনগর রেনবো, ভেনাস, অনন্যা, শক্তিনগর এমএনবি, ঘূর্ণির স্মৃতি সংঘ, ঘূর্ণি উদয়ন সংঘ। আসলে ক্লাব-বারোয়ারি এবং বাড়ির পুজো মিলিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

সদ্য কলেজ-পেরোনো তরুণ দেবাশ্রিত বিশ্বাস ছোটো থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য পাগল।ওর কথায় — “ফেসবুক স্ট্যাটাস আর পোস্ট থেকে বর্তমানে একটা চলতি হাওয়ার আভাস স্পষ্ট যে — “কলকাতায় বিসর্জন আর কৃষ্ণনগরে আগমন”, মা জগদ্ধাত্রীর আগমন। এককথায় কৃষ্ণনগরের আবেগ, ঐতিহ্য, বুনোট, প্রতীক, অপেক্ষা ইত্যাদি ইত্যাদি। সময় গড়িয়েছে কালের হাওয়ায়। আদি প্রজন্মের হাত থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে নবপ্রজন্ম। কিন্তু রীতিনীতি, আবেগ বদলায়নি বরং বেড়েছে। জ্ঞান হওয়া থেকে মোটামোটি বিশ বছরের অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলছে। বছরের আর কখনো হোক না হোক, এখনো বিজয়া দশমীর তারিখ পার হলেই প্রতিটি পাড়ায় তরুণ থেকে যুবকদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়ে যায় কোথায় কোন থিম, ঘট বিসর্জনের মডেল কী? কোন পাড়ায় ঢাক কত? কোন পাড়ার বেহারা কোথাকার, ঢাক কোথাকার ইত্যাদি ইত্যাদি। জলঙ্গী জনপদের শহরের পুজো একদিনের ‘ওয়ান-ডে’। পুজোর আগের দিন থেকে গমগম করে ওঠে রাজপথ। রাতভর হুল্লোড় আর ঠাকুর দেখা, মাঝরাতে পাড়ার সবার হঠাৎ বেরিয়ে পান্থতীর্থের চায়ের দোকানে অস্থায়ী ঠেক আর সন্ধ্যে থেকে পাড়ার ঢাকীর প্রায় ১০০-২০০ জনের দল নিয়ে রাজপথে বেরিয়ে ঢক্কা মহড়ার শক্তি প্রদর্শন। পুজোর দিন অপরাহ্ন পুজোর পর শোভাযাত্রা সহকারে চিনি-ঘট নিয়ে নিকটবর্তী কালীমন্দিরে যাওয়া, সবকিছুতেই জড়িয়ে সেই সুদীর্ঘ ২৫০ বছরের প্রথা, আবেগ বজায় রাখার শক্তি। বিসর্জনের দিন হঠাৎই সুসজ্জিত আলোকসজ্জায় মোড়া শহরের বুক থেকে রাতারাতি উধাও আলোকসজ্জার গেট। ধীরে ধীরে শুরু হয় ঘট বিসর্জন। সুসজ্জিত ট্যাবলো আর ঢাকের বোলে কল্ললিত হয় রাজপথ। চাঁদ উঠলে শুরু হয় ঐতিহাসিক রাজবাড়ি প্রদক্ষিণের মাধ্যমে ঐতিহ্যময় সাং-বহণে প্রতিমা নিরঞ্জন। শতাধিক ঢাক, প্রতিমা কাঁধে বেহারাদের ছুট, সামনে পাড়ার অগণিত সমর্থকদের রাজপথ-কাঁপানো দৌড় আর সুবিখ্যাত শক্তি প্রদর্শনকারী ডায়ালগ-“আসছে কারা সেরার সেরা…” ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রথম বিসর্জন যখন শেষ হয় তখন হেমন্তের দিকসূর্য অনেকটা উদিত হয়। ক্লান্ত শহর তার পরানের শেষ কোহিনুর রাজরাণি বুড়িমাকে বিসর্জন দেয় জলাঙ্গী গর্ভে। সরাসরি সামনাসামনি না হলেও আট থেকে আশি সকলেরই বুকটা করে ওঠে। এক অদ্ভুত শূন্যতা গ্রাস করে শহরটাকে। আবার এক বছরের প্রতীক্ষায়।”

সুদূর নিউজার্সি থেকে কৃষ্ণনগরের এক উজ্জ্বল তরুণ, রসায়নের গবেষক কবি সোহম চক্রবর্তী তার অনুভবের কথা আমাকে শোনায়। তার মর্মস্পর্শী সেই লেখা দিয়েই শেষ করি এই নিবন্ধ — “…আপামর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আদিগন্ত জমক-জৌলুস, গাঁ-গঞ্জ-শহর-মফস্বলে অনির্বাণ প্রদীপের মতো জেগে ওঠা লক্ষ্মীপূর্ণিমার ছোট ছোট ঘর-গেরস্থালি, কালীপুজো-দীপাবলির হিমেল রাত্রিবেলা মোম-টুনি-আতসবাজিতে ঝলমলিয়ে ওঠা আলোক-রোশনাই — সবটুকু পার ক’রে সারারাজ্য, সারাদেশ তথা সারাটি পৃথিবীর বাঙালি যখন বছরভর উদযাপনের দেউটি নেভায়, তখনই ঠিক — পলাতকা হেমন্তের আঁচল-বিছানো মৃদুমন্দ শীতে — বৃহত্তম উৎসবে তার জেগে ওঠে আমাদের ছোট্ট জনপদ। জলাঙ্গী-তীরের শহর — তার সব পাড়ায়-পাড়ায়, অলিতে-গলিতে উদাত্ত মাইকেরা ঘোষণা ক’রে চলে ‘কৃষ্ণনগরের শারদোৎসব’, জগদ্ধাত্রীপুজো — সমাসন্ন আজ। ‘কৃষ্ণনগরের শারদোৎসব’ — এহেন দৃপ্ত, সাহসী, ব্যতিক্রমী শব্দবন্ধ এ-শহরের সমুন্নত স্বাতন্ত্র্যবাহী সগর্ব অনুভবে-বোধে আমাকে উদ্বেল ক’রে এসেছে একেবারে শুরুর শৈশব থেকেই। যে-দুর্গাপুজোয় গোটা বিশ্বের বাঙালি তার সর্বস্ব উজাড় করে যথাসাধ্য উদযাপনে, যে-কালীপুজো-দীপাবলির রাত আকাশকে নিভতে দেয় না — এমনতর আলোয় ঝিকমিক, আমার এই ছোট্ট জনপদের কোণায়-কোণায় তখন যেন প্রবল সংযম, অল্প-অল্প আলো-অন্ধকার; ক’দিন পরেই আগল ভেঙে উপচে পড়বে লাগামছাড়া আনন্দজল — তারই যেন এক নিবিড় প্রস্তুতি, সঞ্চয়, প্রতীক্ষমাণতা। ইতিহাস যখনও কিছুই জানি না, তখনই এই দীপ্ত ব্যতিক্রম আমার মধ্যে বপন করেছে নিজস্ব জনপদ ঘিরে আশ্চর্য এক অস্মিতার বীজ। দুর্গাপুজো-কালীপুজোয় মোটের উপর অন্ধকার থাকা সমস্ত অলিগলি এই যে আলোয় নতুন ক’রে ভ’রে উঠছে আজ, মাইকে-মাইকে ক্লাব-বারোয়ারী-কর্মকর্তাদল সগৌরবে জানান দিচ্ছে অনর্গল দর্শনার্থীর ভিড়, দু’-দিনের বিসর্জন ঘিরে এই যে পাগলপ্রায় উদ্দীপনার ঢেউ ধাক্কা দিচ্ছে আমার শহরে — এই সমস্তটাই যে অন্য সব জনপদের থেকে সম্পূর্ণ এক আলাদা বৈশিষ্ট্যে উন্নীত করছে আমাদের, এ-গর্ব আমার চিরকালীন। ক্রমে ক্রমে পরে ইতিহাস জেনেছি। জগদ্ধাত্রীপুজো ঘিরে আপন শহরের অস্মিতার বোধ আরও দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে তাতে। কৃষ্ণনগর-চন্দননগরের ঝগড়ায় গলা ফাটিয়ে জানিয়ে দিয়েছি সগর্বে, বারবার — আমরাই প্রাচীন, আমরাই সনাতন, এ-উৎসবের আমরাই প্রকৃত ধারক ও বাহক। কৃষ্ণনগর — আঠেরো শতকের অখণ্ড বাংলার সাংস্কৃতিক রাজধানী; সনাতন বাঙালি কৃষ্টি-সংস্কৃতি-রীতি-ঐতিহ্য-বিশুদ্ধতার আধুনিকতম নবজাগরণের সূতিকাগৃহ — অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর নবরত্ন সভাকে কেন্দ্র ক’রে যেখানে স্বপ্ন দেখছেন সমুন্নত সাংস্কৃতিক এক পুনর্জাগৃতির। প্রকৃত প্রস্তাবে জগদ্ধাত্রীপুজো আমার শহরের সেই সুপ্রাচীন স্বতন্ত্র সংস্কৃতিরই সাক্ষ্যবাহী অমল জাগরণ। বহু-বহু পুজো ঘিরে এত-এত কাহিনী-উপকথা, এত-অজস্র ঋদ্ধ লোকাচার, জনশ্রুতি, প্রগাঢ় বিশ্বাস — আসলে তা তুলে ধরে প্রাচীন এ-শহরের সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র আঞ্চলিক ইতিহাসের কৌলীন্যকেই। অন্য সকলের থেকে আমাদের — কৃষ্ণনাগরিকদের — এই যে সগর্ব তফাত, এই যে স্বাতন্ত্র্য — জগদ্ধাত্রীপুজো তারই এক সমুজ্জ্বল স্বাক্ষর। ব্যক্তিগতভাবে জগদ্ধাত্রীপুজোকে আমি আমার এই প্রাণপ্রিয় আপন জনপদের এহেন এক জ্বাজল্যমান ‘কালচারাল সিগনেচার’ হিসেবেই দেখি, প্রবল গৌরবে দেখি।…”

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev